সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনেও কাটছে জটিলতা

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা সহজীকরণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এসএসসি বা সমমানের পাবলিক পরীক্ষার সনদের ওপর ভিত্তি করে মাঠ পর্যায় থেকেই সরাসরি জন্ম তারিখ সংশোধন করা যাবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার জটিলতা নিরসনে বিদ্যমান দুই ধাপের তদন্ত প্রক্রিয়া কমিয়ে এক ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব এনআইডি সংক্রান্ত সংস্কার উদ্যোগের কথা জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সচিব জানান, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ডেলিগেশন বা ক্ষমতা হস্তান্তরের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদ দিয়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করলে তা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে মাঠ পর্যায় থেকেই নিষ্পত্তি করা হবে।

এ ছাড়া, এনআইডি স্থানান্তর বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেখানে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ সাপেক্ষে নাগরিকরা সেবা পাবেন। ১৫ বছর পর পর এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রে পারিবারিক তথ্যের সঠিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হবে, যেখানে আবেদনকারীকে তার ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক পরিচয়ের তথ্য দিতে হবে।

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার কথা জানান সচিব। তিনি উল্লেখ করেন, আগে প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক ও আবেদন পাওয়ার পর দেশে তদন্তে পাঠানো হতো এবং তদন্ত প্রতিবেদন পজিটিভ আসলে তা সিস্টেমে আপলোড করা হতো। নতুন নিয়মে প্রবাসীরা বায়োমেট্রিক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা অনলাইনে আপলোড হয়ে যাবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে তথ্যের সঠিকতা মিললেই এনআইডির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে অতিরিক্ত একটি ধাপ কমে গিয়ে প্রবাসীদের এনআইডি পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত ও সহজ হবে।

অনলাইনে ও মাঠ পর্যায়ে এই সেবাদান কাঠামোর পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা পরিবর্তনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কমিশন আলোচনা করেছে। সচিব জানান, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের এনআইডি ও ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় সক্রিয় হয়। এই তথ্য সংগ্রহের সময়সীমা আরও কমিয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়ে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কমিশন সভায় এনআইডি সেবার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের একাধিক প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শীঘ্রই পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, এনআইডি নবায়ন ও সংশোধন পদ্ধতিগুলো আরও বেশি নাগরিকবান্ধব ও পরিশোধিত করতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ও সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।




সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশক (২০২১-২০৩০)-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ।

সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

তিনি সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকবো: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। তাই আসুন আগামীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।’ খবর বাসস

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে শরিক দলের নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশ ভোজের আগে দেওয়া বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

জোট নেতাদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ছোট ভাই হিসেবে আপনাদের বলবো আমাদের সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, আমাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সকলে মিলে জনগণের প্রত্যাশার জায়গাগুলো আগে খুঁজে বের করে তা পূরণ করার চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো কোনো জায়গায় দ্বিমত হতে পারে, তবে আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। ভুল বুঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় শক্তি হচ্ছে এই দেশের জনগণ। জনগণের সমর্থন বিএনপিসহ সকল যুগপথ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আছে। তাই আমাদের শক্তি, জোর ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ জনগণের সমর্থন আমাদের সাথে থাকবে। এবং সেটা আল্লাহর রহমতে আমাদের সাথে আছে। কাজেই আমাদের মধ্যে যদি কোনো বিভেদ না থাকে, আমরা নিশ্চয়ই আমাদের ৩১ দফার আলোকেই হোক কিংবা জুলাই সনদের আলোকে হোক ইনশাআল্লাহ সকলে মিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

একটি বিশেষ দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। অথচ আজকে অনেকেই এই সংগ্রামের দাবিদার হতে চায়। আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। তবে যাদেরকে একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষ তাদেরকে চেনে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তারা কোথায় ছিল, এদেরকে আমরা অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। তবে তাদের কিন্তু রাজপথে না পেলেও যারা এই দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের সাথে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। অথচ ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে এই গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। কাজেই আসুন এসব গুপ্তদের হাত থেকে এ দেশকে রক্ষা করতে, দেশের মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে তা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ হই।’

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমরা এখানে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একসাথে বসে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ টি দফা উপস্থাপন করেছিলাম বাংলাদেশের মানুষের সামনে। আমরা যখন এটি উপস্থাপন করেছিলাম তখন বাংলাদেশের অন্য অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা তখন সংস্কারের বিষয়ে কিছু বলতে শুনিনি। কিন্তু আজকে আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি, একত্রে আমরা কিন্তু তখন স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে অপেক্ষা করে রাষ্ট্রের সংস্কারের দফা গুলো আমরা দিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, কাজেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, যে ৩১ দফা আমরা সকলে মিলে বসে রচনা করেছিলাম, সেই ৩১ দফার পক্ষে বাংলাদেশের জনগণ রায় দিয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে। কাজেই এটি বাস্তবায়নে আমরা সমমনা যারা আছি, সকলে মিলে কাজ করতে হবে।

ক্ষমতা গ্রহণের পরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কী ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া পুরো দেশ ছিলো বিধ্বস্ত। ইকোনমি, জ্বালানি, বিদুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রত্যেকটি ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। এই অবস্থায় আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। তারপরেও আমরা রাতদিন পরিশ্রম করার মাধ্যমে চেষ্টা করেছি কীভাবে দেশের মানুষকে একটু স্বস্তি দেওয়া যায়। শতভাগ পেরেছি কিনা জানি না, তবে আমরা চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। শতভাগ না হলেও নিশ্চয়ই কেউ অস্বীকার করবে না-একদম নতুন একটি সরকার হিসেবে যেভাবে কাজ করছি, তাতে মানুষজনকে কিছুটা হলেও আমরা কমফোর্ট দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে সরকার পরিচালনায় সকলকে আহ্বান জানাবো আমাদের পাশে থাকার।’

এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শরিক দল ও জোট নেতাদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

কুশল বিনিয়ম পর্বের পর নেতাদের নিয়ে রাতে খাবার টেবিলে বসেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে। কোরআন তেলোয়াত করেন ইসলামী ঐক্যজোটের শওকত আমিন।

শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বুফে দাঁড়িয়ে শরিক নেতাদের সাথে খাবার নেন এবং শরিক নেতাদের সাথে এক টেবিলে খাবার খান। এ টেবিলে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।

জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের নুরুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবুল কাসেম, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের মহিউদ্দিন কাদরি শওকত, খোকন চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকী, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ-এর নুরুল আমিন ব্যাপারি, গণ দলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল, গণফোরামের মিজানুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, ফারুক হাসান, আম জনতা দলের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মিয়া মসিউজ্জামান, আম জনতার দলের তারেক রহমান, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌধুরী, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির আমিনুল ইসলাম, খন্দকার আহসান হাবিব, জনতার অধিকার পার্টির তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, এম এ আর রাজা রহমান, এনডিপির একাংশের কেএস আবু তাহের, অপর অংশের আবদুল্লাহ আল হারুন, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিএনপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, রেদোয়ান আহমেদসহ ৪১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজ পালনের জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত এ দুই প্যাকেজের মধ্যে সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) হজের প্যাকেজ দুটির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর আওতায় থাকা হজযাত্রীরা মক্কায় পবিত্র হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে আবাসন সুবিধা পাবেন। মদিনায় তাদের থাকার ব্যবস্থা হবে মারকাজিয়া এলাকায়। এছাড়া মিনায় জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে এবং মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সেবার পাশাপাশি মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

এ প্যাকেজের হজযাত্রীরা সাধারণত সৌদি আরবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন অবস্থান করবেন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেডেশন এবং স্বল্পমেয়াদি বা শর্ট প্যাকেজ সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। এ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

অন্যদিকে, ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’ তুলনামূলক কম খরচের একটি প্যাকেজ। এ প্যাকেজে মক্কায় হজযাত্রীদের আবাসন হবে হারাম শরীফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

সাশ্রয়ী প্যাকেজের হজযাত্রীদের জন্য মিনায় জোন-৫-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেল হারাম শরীফ থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের সুবিধা দেওয়া হবে।

সরকার নির্ধারিত এ সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত প্যাকেজগুলোর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তুলনামূলক উন্নত ও সুশৃঙ্খল সেবা পাবেন এবং হজ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।




আমানত ফেরতের রোডম্যাপ চাইলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা

আমানতের ওপর ঘোষিত ‘হেয়ারকাট’ ব্যবস্থা দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাতিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীন একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস, এমটিডিআরসহ সব ধরনের আমানত মুনাফাসহ ফেরতের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন আমানতকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় হেয়ারকাট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি। পাশাপাশি আমানতের মুনাফা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবও বাতিল করে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমানতকারীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে তারা নিজেদের অর্থ তুলতে পারছেন না। ফলে চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন অনেক পরিবার।

 

তারা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দ্রুত আমানত ফেরতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে প্রোভিশন করা অর্থ সম্পূর্ণভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, তাদের দাবি বাস্তবায়ন হলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন করবেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন প্রায় ৭৬ লাখ গ্রাহক ও তাদের প্রায় তিন কোটি পরিবারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।




জামায়াত এমপির ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই তরুণী ও তার বাবা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন ওই তরুণী, তাঁর বাবা এবং এমপি নিজেও।

ভিডিওতে থাকা তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন বলে জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডি সে ন্ট। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, গত ১৭ জুন তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁর মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে।

মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে রাজধানীর মগবাজারে তাঁর অফিসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর শ্যালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি তাঁর অফিসে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

মরিয়ম খাতুনও দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বৈধ স্বামী। তিনি বলেন, “আমাদের বিয়ে হয়েছে। সেদিন ঘুরতে গিয়ে আমরা বাবার অফিসে কিছু সময় বিশ্রাম নিচ্ছিলাম।” তিনি আরও জানান, তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, এমপি তাঁদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে, তা দল খতিয়ে দেখছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

এমপির দাবি, ওই সময় তাঁর গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গাজী নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, পরে তাঁর ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়িটিও আটকে রেখে ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে কয়েক দফায় আরও অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এমপির ভাষ্য, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই পুরো ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।




ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৯০৪ কোটি টাকা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে গত এক বছরে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে প্রায় ৯০৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে কোম্পানিটি।

আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির সমন্বিত জীবন বিমা তহবিলের (লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফান্ড) স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১০২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময় শেষে এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৯০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় থেকে মোট ব্যয় ও দাবি (ক্লেইম) পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত (সারপ্লাস) দাঁড়িয়েছে ২০৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ উদ্বৃত্ত ছিল ১৬৯ কোটি ৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির মোট আয় থেকে মোট ব্যয় ও দাবি পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত হয়েছে ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে যা ছিল ২০১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এছাড়া, ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২৩ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ টাকা ১৯ পয়সা।




আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি।

তিনি দেশে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন জেলার জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিপুল সংখ্যক মামলার চাপ সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর একটি বিরাট বোঝা সৃষ্টি করেছে।

তাই প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলা নেমে এসেছে ১ হাজার ৭৪৪টিতে। অর্থাৎ মামলার সংখ্যা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে।

একইভাবে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ২৪টি থেকে কমে ১৮টিতে নেমেছে এবং সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৬৭ শতাংশ হ্রাস।

স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রি-এম্পশন সংক্রান্ত মামলা ১৭টি থেকে কমে মাত্র ২টিতে এসেছে, যা ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাসের নজির সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনের মামলায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস ও পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের মামলায় প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাসের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে যেখানে ৫ হাজার ৬০৫টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১০টিতে। অর্থাৎ ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ মামলা কমেছে, যা বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের কার্যকারিতার একটি বড় প্রমাণ।

মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পাওয়া গেছে। এটি বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে ও আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে প্রতিদিন নতুন করে যে বিপুলসংখ্যক মামলা আদালতে জমা হচ্ছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়েই মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কিংবা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পরও যদি সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়, তাহলে বিচারপ্রার্থী জনগণের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষ শুধু মানসিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।’

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত এই মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে।

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যত বেশি জানবে, তত বেশি মানুষ আদালতের বাইরে আইনি উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ গ্রহণ করবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু মামলাই কমাতে চায় না, সরকার অসহায়, দরিদ্র ও বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশেও দাঁড়াতে চায়। তাদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তাই গণমাধ্যমকে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচারে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি কক্সবাজার জেলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে সেখানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

এ সময় আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজ দেশের ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়া বিচারব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কিন্তু বর্তমান উদ্যোগের ইতিবাচক ফলাফল বিশ্লেষণ করে, সরকার দ্রুত এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি মামলা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

এ সময় মহাপরিচালক আরও বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে দ্রুত, সুষম ও টেকসই বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই কার্যক্রম আরও সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল— এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।




১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ব্যবসায় অর্জিত মুনাফার বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ লভ্যাংশের ঘোষণা দেয় বিমা কোম্পানিটি।

ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ আগস্ট।

এদিকে আজ ডিএসইর মাধ্যমে কোম্পানির চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির জীবন বিমা হিসাবে (দাবি পরিশোধসহ) ১৫ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঘাটতি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, শুধুমাত্র দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির জীবন বিমা হিসাবে (দাবি পরিশোধসহ) হিসাবে ৮ কোটি ১১ লাখ টাকার ঘাটতি হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের একই সময়ে কোম্পানিটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার উদ্বৃত্ত অর্জন করেছিল।

এদিকে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে যা ছিল ৪৭৯ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিল ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার। সোমবার (২০ জুলাই) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৯০ টাকা ৬০ পয়সা।