ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সুশাসনের ভিত্তি

বাংলাদেশে ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি মৌলিক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেছেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ১২তম আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ১৫ থেকে ১৭ জুলাই তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ইন অ্যাকশন : ক্যাশলেস ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. তৌহিদুল আলম খান।

এছাড়া টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. মো. তৌহিদুল আলম খানকে ‘এসডিসি-২০২৬’ এর সায়েন্টিফিক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

প্রবন্ধে ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ। নিরাপদ, সহজলভ্য ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়, এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণের বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে কলম্বিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, ফিজি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।




ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিসিএফএ আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস
ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভূ-রাজনীতি নয়, বরং আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলোই বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে চীন।’

আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। সংগত কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বহুলাংশে চীন নির্ভর। আমাদের মোট এফডিআই (সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ) স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়।’

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। তবে বাংলাদেশের এই রপ্তানি সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য চীন সরকারের আগ্রহ রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আমাদের অর্থনীতির গতিকে আরও বেগবান করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তার আলোকে চীন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে।

যোগাযোগ ছাড়া কোনো অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সফর সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহাসিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে একমত হয়েছে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, দীর্ঘদিনের কিছু জটিলতা কাটিয়ে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে এই উদ্যোগে ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশকে স্বাগত জানানো হবে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী উত্তরণে চীনের পক্ষ থেকে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা আমাদের সরকার প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি বাস্তবসম্মত নীতিতে বিশ্বাসী। ভূ-রাজনীতি আমাদের প্রধান লক্ষ্য নয়, আমাদের অগ্রাধিকার হলো অর্থনীতি। আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আয় করি। এই অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। চীন আমাদের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।’

তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই মৈত্রী ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমকে আরও ফলপ্রসূ ও গতিশীল করতে চীনা রাষ্ট্রদূতকে এই সম্পর্কের অন্যতম রূপকার বলেও মন্তব্য করেন।




আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্বে বদিউর রহমান ও সেলিম রহমান

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বদিউর রহমান এবং নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে সেলিম রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৬৪তম (জরুরি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সফলভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড এবং হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ দেশে-বিদেশের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বদিউর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরবর্তীতে আমার দায়িত্বের ৮ বছরে আমরা এই ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হই। বর্তমানে ২০২৬ সালে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে আবারও যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তেমনই কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পুনরায় পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবো। ইনশাল্লাহ, অতীতের মতো অচিরেই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম রহমান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি।

এর আগে তিনি ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দুই মেয়াদে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।