ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) এবং অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা ও নগরীর স্বাভাবিক জনজীবনেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

সতর্কবার্তাটি আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক পরিচালকের পক্ষে স্বাক্ষর করে প্রকাশ করেন।




জনগণ পাশে থাকলে দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধাই মানবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

আজ সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনও কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।’

বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।’

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।’

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলে থাকি, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি সেখানে ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।




সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেন তদন্তের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তদন্ত পরিচালনা করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ জুলাই) বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।কমিশন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের আচরণ লক্ষ করেছে কমিশন। এর পরিপ্রক্ষিতে ডিএসইকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের জন্য বিএসইসি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা টার্মস অব রেফারেন্স নির্ধারণ করে দিয়েছে। এগুলো হলো সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে কোনো ধরনের সমন্বিত, কারসাজিমূলক বা কৃত্রিম লেনদেন হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করা। পাশাপাশি অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ ইনসাইডার ট্রেডিং বা ভেতরের কেউ সুবিধা নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে মার্জিন রুলস এবং কমিশনের অন্যান্য নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন সঠিকভাবে পরিপালন করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করেও দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার হাউজ ও তাদের প্রতিনিধিদের ভূমিকা বা দায়িত্ব নিরূপণ করা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

 

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে গত ২২ জুন সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ৬৫ টাকা ৮০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটির দর ৭৯ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। শেয়ারদরের পাশাপাশি এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিঠিতে বিএসইসি আরও উল্লেখ করেছে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন রোধে ব্রোকার হাউজের প্রধান নির্বাহী, কমপ্লায়েন্স অফিসার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে ডিএসইকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকেও এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।




এনসিটি-সিসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। সংগঠনটির দাবি, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দেশের অন্যতম কৌশলগত এই দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংসদে আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা উচিত।

সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।

নেতারা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চাইলেও দেশব্যাপী গণপ্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনমতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে শুধু এনসিটি নয়, সিসিটিও ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতদিন আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। তবে এখন এনসিটির পাশাপাশি সিসিটিও ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের খবর জনমনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি নবনির্বাচিত সরকারের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক কাজ থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত অবকাঠামো। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল কয়েকজন মন্ত্রী বা আমলার অনুমোদনের বিষয় হতে পারে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ এবং সর্বোপরি জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নেতারা অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দেশের কৌশলগত সম্পদ নিয়ে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে দেশপ্রেমিক জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং ইতিহাসে এমন চুক্তি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, কমরেড মো. শাহ আলম, বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু, অ্যাডভোকেট মনিরুল আলম, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, শ্রমিকনেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ অন্যান্য নেতারা।




কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ২শ’ মেগাওয়াট

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২শ’ মেগাওয়াট।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার বেলা ১১ টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বাসস’কে বলেন, গতকাল রোববার পর্যন্ত লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল এর নীচে থাকলেও আজ সোমবার সকাল হতে লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। সেই সাথে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২শ’ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

 

তিনি জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ছিল ১০০.৬০ ফুট মিন সি লেভেল। যেখানে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯.১৫ ফুট মিন সি লেভেল।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২শ’ ৬ মেগাওয়াট। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।

এদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বাসস’কে জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১ নং, ৩ নং, ৪ নং এবং ৫ নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ১শ’ ৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নং ইউনিট হতে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫টি ইউনিট এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই লেকে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে। পানি সংকটের কারণে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সচল থাকার পরও কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু করা সম্ভব হয়নি।

তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন আরও বাড়বে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এসময় রুলকার্ভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকার কথা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল)। বর্তমানে পানি আছে ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট এমএসএল। লেকে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

উল্রেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ প্রকৃতির উপর নির্ভর। কাপ্তাই লেকে পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু থাকলে ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।




সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।