ব্যবসা পরিচালনা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এ অবস্থা উত্তরণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাস, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অটোমেশন প্রবর্তন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ করাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে ধানমন্ডি কনভেনশন হলে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ওই এলাকার ১৫টি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও প্রায় শতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ নীতি বিভাগ) মাহমুদুন নবী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) নুসরাত ফারজানা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (পশ্চিম) অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম বিভাগ) মো. তারেক জুবায়ের এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের বিক্রয় বা টার্নওভার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। যা সামগ্রিক ব্যবসা প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে, রাজস্ব আহরণে বড় লক্ষ্যমাত্রা এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করছে যা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে জানান তাসকীন আহমেদ।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বলেন, ট্যাক্স লাইসেন্সসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য সেবা প্রাপ্তিতে জনগণের হয়রানি কমাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় রোধ হবে।

তিনি জানান, ডিসিসিআই’র প্রস্তাবের ভিত্তিতে শিগগিরই দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সপ্তাহ ঢাকা চেম্বারে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যা উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা কার্যক্রম আরও সহজতর হবে। তবে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য ফি সময়মতো পরিশোধে নগরবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

 

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তারেক জুবায়ের বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকাকে চলমান রাখতে উদ্যোক্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। চাঁদাবাজির হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ হতে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যানজট নিরসনে রাজধানীর বেশকয়েকটি সড়কে এরই মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নগরবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সারা ঢাকা শহরে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিতে ‘স্মার্ট পুলিশিং-স্মার্ট সিটি’ বিষয়ক একটি প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক সাপ্লাইচেইনে অস্থিরতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কিছুটা মন্থর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে ৩ মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন প্রদানের গৃহীত উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায় মূলধন বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তিনি মত প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে এগিয়ে আসার ওপর তিনি জোরারোপ করেন।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) নুসরাত ফারজানা বলেন, কর আহরণ ও কর বিষয়ক প্রণোদনা প্রদান দুটোই সরকারের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও এনবিআর দুটোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণের জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে| সম্প্রতি পাস হওয়া অর্থ আইন ২০২৬-এ ব্যবসা পরিচালন প্রক্রিয়া সহজীকরণে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল দেশের উদ্যোক্তারা অতিদ্রুত লাভ করতে পারবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে শর্তসাপেক্ষে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভার মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা চশমা খাতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানি সহজীকরণে নীতিমালা প্রণয়ন, রিয়েল এস্টেট খাতে সাইনিং মানির ওপর আরোপিত কর হার হ্রাস, ফ্রিলেন্সার প্রমোটার এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন, ঢাকা আইডিসি কনটেইনার ডিপোতে নিয়মিত ভিত্তিতে বন্দর থেকে কনটেইনার ওয়াগন আনা ও দ্রুততার সঙ্গে খালাস প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নতুন উদ্যোক্তাদের এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও সহযোগিতা মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা, নারী উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে প্রণোদনা প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নবায়নের সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিআই’র সদস্যপদ প্রদান করা হয় ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে ডিসিসিআই’র মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট হস্তান্তর করেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালেম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি ৭ নির্দেশনা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে সাতটি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

শনিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরী ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ যুক্ত ছিলেন।

এছাড়াও সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), সকল বিভাগীয় পরিচালক, সকল জেলার সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচাল অনুমোদনক্রমে ৭টি সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন মনোয়ন প্রদান করতে হবে।

 

ফোকাল পারসন কন্ট্রোল রুম এবং অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করবেন। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ফোকাল পারসনের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সরবরাহ করতে হবে।

বন্যা দুর্গত জনগোষ্ঠীর জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সদস্যদের সমন্বয়ে বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে।

 

বন্যা দুর্গতদের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যক্রম সম্পর্কে ফোকাল পারসন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং, প্রেস নোট প্রদানের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন। রবিবার (১২ জুলাই) তারিখে বন্যা দুর্গতদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করণের জন্য জরুরী প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য সকল প্রকার জরুরি ঔষধ, ওআরএস/স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এর পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রাখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রযোজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা এবং জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য সকল কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।




শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের বাতিঘর : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের বাতিঘর। এই বাতিঘর থেকে জ্ঞানের আলো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। আর শিক্ষকরা হলেন সেই আলোর বাহক।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সমাজ উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী আজ সকাল ১০টায় গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত শিক্ষা হলো মুক্ত চিন্তার শিক্ষা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘সুনাগরিক তৈরি করতে পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান করতে হবে।’

পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও দলগত কাজের মানসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল কাজে লাগাতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তথ্যমন্ত্রী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলমের সভাপতিত্বে বরিশাল শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন, নলচিড়া স্কুলের সাবেক সভাপতি আব্দুল ছাত্তার মৃধা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আল মামুন স্বপন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে কার্যকর নীতি ও মানসিকতার পরিবর্তনের তাগিদ

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গড়ে তুলতে শুধু বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তন, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১১ জুলাই) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফেসবুক লাইভে অনুষ্ঠিত ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা বলেন তারা। ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: স্লোগান অর আনট্যাপড পটেনশিয়াল’ শীর্ষক এ আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য জিডিপিতে এ খাতের অবদান বাড়ানো, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চলচ্চিত্র, সংগীত, প্রকাশনা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ডিজাইনসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সৃজনশীল খাতগুলো প্রতিভানির্ভর হলেও এগুলোকে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নীতিগত সহায়তার পরিবর্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ভালোবাসার ওপর নির্ভর করেই অধিকাংশ ক্ষেত্র এগিয়েছে। একই সঙ্গে করনীতি, কপিরাইট, প্রকাশনা ও ওটিটি-সংক্রান্ত নীতিমালার সীমাবদ্ধতাও এ খাতের বিকাশে বাধা হয়ে রয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তা তানিম নূর বলেন, সৃজনশীল শিল্পের জন্য পৃথক করনীতি প্রণয়ন করা হলে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পে কর অব্যাহতি দিলে দেশীয় সিনেমায় নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে সাধারণ করপোরেট কাঠামোর আওতায় কর দিচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো একই ধরনের কর কাঠামোর মধ্যে নেই। এতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর ও লাইসেন্সিং নীতির সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে সৃজনশীল প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সেই প্রতিভাকে বিকাশ ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠেনি। এ জন্য সরকারকে কাঠামোগত সংস্কার এবং শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীবাহিনীর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল বলেন, নাটক ও শিল্পকলাকে এখনো অর্থনৈতিক মূল্যসম্পন্ন খাত হিসেবে দেখা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ব্যক্তিগত ভালোবাসার জায়গা থেকে পরিচালিত হয়। বিনা পারিশ্রমিকের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় একটি পেশাদার ও টেকসই শিল্পখাত গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশনা শিল্প দেশের অন্যতম অবহেলিত খাত। জাতীয় গ্রন্থনীতি হালনাগাদ না হওয়া এবং কপিরাইট আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে প্রকাশনা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডিজিটাল ও মুদ্রণ পাইরেসিকেও তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের (সিএইচপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে মান সনদ, কমপ্লায়েন্স এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতি, টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব। করনীতি, রয়্যালটি বণ্টন, কপিরাইট সুরক্ষা ও লাইসেন্সিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের আগ্রহ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এখন টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করে সৃজনশীল অর্থনীতির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।




পর্যটন শিল্পের বিকাশে ঢাকায় হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট

আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং বৈশ্বিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংযোগ সম্প্রসারণে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড মার্কেটপ্লেস বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের (বিটিএম) আয়োজন হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) উদ্যোগে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই ট্রাভেল মার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রদর্শক, শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।

 

শনিবার (১১ জুলাই) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বর্তমানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ জানান, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও আন্তরিক আতিথেয়তা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে ক্রমেই আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে বোটোয়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট আয়োজন করছে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের এ আয়োজন দেশের পর্যটন, ভ্রমণ ও এভিয়েশন শিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি মূলত দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও একই সঙ্গে ইনবাউন্ড পর্যটনের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসিন ইকবাল জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট-২০২৬ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে, যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টে প্রথমবারের মতো বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) এবং বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বিটুসি) কার্যক্রম পৃথক দুটি প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের ট্রাভেল ফেয়ারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রদর্শকদের মধ্যে নির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠকের ব্যবস্থা থাকবে।

আয়োজকদের মতে, বিটুবি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বায়ার-সেলার মিটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ, সীমান্ত-অতিক্রমী পর্যটন সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, বিটুসি প্ল্যাটফর্মে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সেবা, বিভিন্ন গন্তব্য-সংক্রান্ত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভ্রমণ অফার সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও সেবা নিতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহসিন ইকবাল, সহ-সভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানসহ সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।