উখিয়ায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহেতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই ১২-১৩ বছর বয়সী কিশোরী। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

এর আগে ঘটনার পরপর তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় চলা উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা।

হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন বলছে, ওই মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় অনেকে বেরিয়ে যায়। তবে একেবারেই পাহাড়-লাগোয়া একটি কক্ষে হঠাৎ মাটি এসে পড়ে। ফলে ওই কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে এবং মাটিচাপা পড়ে। যাদের অধিকাংশই মারা গেছে।

ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার সময় বাকি ছিল আর কয়েক মিনিট, এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারান ৮ জন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণের ফলে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।




চিকিৎসা সহায়তায় বাকপ্রতিবন্ধীর পাশে তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাকপ্রতিবন্ধী মো. বায়েজীদ মিয়ার (১৩) চিকিৎসা সহায়তায় পাশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বায়েজীদ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়া উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুরনগর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার পুত্র। সে আয়েশা ছফির উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।

সম্প্রতি বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়া ফুটবল খেলতে গিয়ে পাকস্থলীর এক পাশে ছিঁড়ে যায়। পরিবারের আর্থিক সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা নিতে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়ার চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেন।

প্রতিমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন,তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম,মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম সহ প্রমুখ।

বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়ার পিতা আবুল কাশেম বলেন- আমার দু:সময়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা কখনও তার সহযোগিতার কথা ভুলবনা।




হামলার পর এবার সাংবাদিক ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

গাজীপুরে সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া দৈনিক নয়া দিগন্তের জয়দেবপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে এবার আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় শুধু সাংবাদিকই নন, তার বৃদ্ধ বাবা মো. আব্দুর রব ও মা ছকিনা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। এর আগে সাংবাদিকের দায়ের করা হামলা ও অপহরণের চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি আরাফাত হোসেন রাসেল আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এ মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, আরাফাত হোসেন রাসেল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ (দ্বিতীয়) ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৫ জুন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করলে স্থানীয় লোকজন তা উদ্ধার করেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসা শেষে জয়দেবপুর থানায় হামলা ও অপহরণের চেষ্টা মামলা দায়ের করলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছেন।

আব্দুল আজিজের ভাষ্য, রাষ্ট্রের খাসজমি ও বন বিভাগের সংরক্ষিত সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন। এ কারণে প্রথমে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। পরে তার পকেটে টাকা ঢুকিয়ে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে চাঁদাবাজির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে অপহরণেরও চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলা ও অপহরণ চেষ্টার মামলা দায়েরের পরও আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন এবং রাজি না হলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার পাশাপাশি তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। আব্দুল আজিজ বলেন, “আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু আমাকে ভয় দেখানো, মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধ করতেই তাদের আসামি করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে আরাফাত হোসেন রাসেল বলেন, তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং রড-সিমেন্ট ব্যবসা ও ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত। তার দাবি, বন বিভাগের সীমানা-সংক্রান্ত একটি নির্মাণকাজ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার জন্য সাংবাদিক আব্দুল আজিজ তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। পরে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভিডিও ধারণ করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন রাসেল। তিনি বলেন, “আমরা কেউ তাকে মারধর করিনি। তিনি নিজেই সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে যান। পরে হাসপাতালে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।”
এর আগে সরকারি খাসজমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল আজিজ জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আরাফাত হোসেন রাসেলকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিককে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর হামলা এবং পরে পাল্টা মামলা—পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উভয় মামলার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর সদস্য ও সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো সাংবাদিক অপরাধ করলে অবশ্যই তার আইনগত বিচার হবে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে যদি সাংবাদিক বা তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়ে থাকে, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। হামলার অভিযোগ, পাল্টা মামলা এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভয়ভীতি বা হয়রানির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার কোনো অপচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয়।”




প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, দেশের সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

শিক্ষা খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদ উন্নয়নে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কৃষি খাত নিয়ে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি সনাতনী কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল রপ্তানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশের পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে ইতিবাচক অবস্থায় ফিরছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




তাজিকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ই-ভিসা ও সরাসরি ফ্লাইট চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ই-ভিসা সুবিধা, ব্যাংকিং সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিমান চলাচল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইএস-বিসিসিআই)।

বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশে সফররত তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার ও তার সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিআইএস-বিসিসিআইয়ের সভাপতি যাদব দেবনাথ ও তার পরিচালনা পর্ষদের ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে দুদেশের চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যও হয়েছে।

সিআইএস-বিসিসিআই সভাপতি যাদব দেবনাথের নেতৃত্বে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এতে অংশ নেন।

সিআইএস-বিসিসিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সিআইএস-বিসিসিআই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ, দ্রুত এবং ব্যবসাবান্ধব ই-ভিসা সুবিধা চালুর জন্য তাজিকিস্তান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে তাজিকিস্তানের ব্যাংকসমূহের শাখা বা প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সংযোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া সিআইএস-বিসিসিআই তাজিকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুরও প্রস্তাব দেয়। এতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মতপ্রকাশ করা হয়।

পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিআইএস-বিসিসিআই এবং তাজিকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হন।

যাদব দেবনাথ বলেন, বাংলাদেশে সিআইএসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করা একমাত্র চেম্বার হলো সিআইএস-বিসিসিআই।

তিনি পর্যটন, ওষুধ শিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, হসপিটালিটি, জ্বালানি, তুলা এবং কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের খাতে তাজিকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণে চেম্বারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাজিকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস. এম. মাহবুবুল আলম, সিআইএস-বিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌহিদা সুলতানা, উপদেষ্টা মাহবুব ইসলাম রুনু ও এম. এস. সিদ্দিকীসহ সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




মোংলায় চীন-বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনে.. ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলাকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিতে শুরু করেছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ বন্দরকে যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানিতে ইতিবাচক আলোচনা সফল হওয়ার পর চীন সফর করেন তিনি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে পারষ্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দেয় চীন।

চীন সরকারের সাথে মোংলা বন্দর নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ। গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে জানানো হয় মোংলা বন্দরের পাশে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে চীন সরকার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা করবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের চুক্তি অনুযায়ী মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসময় ভারতের জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১১০ একর জমি এবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একই জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করতে না পারায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির বরাদ্দ বাতিল করে।

মোংলা বন্দরের উর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (এসডিএম) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, চীন সরকারের এ পদক্ষেপ আমাদেশ দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলে নতুন দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এতে মোংলা বন্দর আরো গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জানা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক লজিস্টিকস হাব নির্মাণে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারি হিসাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক রপ্তানি, কোল্ড-চেইন, গুদামজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




জেড ক্যাটাগরিতে সিঙ্গার বাংলাদেশ ও ইনটেক

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত আরও দুই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কোম্পানি দুইটি হলো— সিঙ্গার বাংলাদেশ পিএলসি এবং ইনটেক লিমিটেড। এই নিয়ে এক্সচেঞ্জটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এই ক্যাটাগরিতে ১২৭টি কোম্পানি নেমে আসলো।

বুধবার (৮ জুলাই) নতুন করে সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং ইনটেক লিমিটেডকে জেড ক্যাটাগরিতে নামানো হয়।

ডিএসই জানিয়েছে, কোম্পানি দুইটির সংরক্ষিত মুনাফা (রিটেইনড আর্নিংস) ঋণাত্মক হয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিঙ্গার বাংলাদেশকে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে এবং ইনটেক লিমিটেডকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন এ শ্রেণিবিন্যাস বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

ডিএসইর তালিকাভুক্তি বিধি অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির সংরক্ষিত মুনাফা ঋণাত্মক হলে সেটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। এই ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ফলে কোম্পানি দুইটির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আর মার্জিন ঋণের সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ডিএসই নিয়মিতভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও বিধি পরিপালনের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি পুনর্নির্ধারণ করে থাকে।




প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর ও গৌরবময় সাফল্য উৎসব করেছে ন্যাশনাল লাইফ

দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি ‘প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর ও গৌরবময় সাফল্য উৎসব’ উদযাপন করেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত ন্যাশনাল লাইফের প্রায় দুই হাজার সফল উন্নয়নকর্মী, বীমা শিল্প ও আর্থিক খাতের সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ এমপি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন। এছাড়া কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ ও নির্বাহীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসা উন্নয়নে কর্মকর্তাদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দাবি পরিশোধ, করপোরেট সুশাসন পরিপালন এবং বীমা শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য অর্জিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার নিয়ে প্রধান অতিথিসহ সবাই উৎসব ও ফটোসেশনে অংশ নেন।
এছাড়া ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বীমা দাবির চেক হস্তান্তরের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ এরিয়া ও জোন প্রধানসহ সফল বীমাকর্মীদের মধ্যে গোল্ড মেডেল ও বিশেষ প্রণোদনা পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সারা দেশের উন্নয়ন কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে, যা কোম্পানির ব্যবসা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




উৎপাদনে ফিরছে এমারেল্ড অয়েল

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানায় পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, কারখানার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে কোম্পানিটি।

 

বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানিটি।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানা পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার কাজের অনুমোদন দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোম্পানির ব্যবস্থাপনাকে।

ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এরইমধ্যে একটি নতুন বয়লার, একটি ট্রান্সফরমার এবং একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি রিফাইনারি ইউনিটসহ পুরো কারখানার প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

 

কোম্পানির তথ্যমতে, নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও কারখানার সংস্কার-রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ১০ কোটি টাকা হতে পারে। এসব কাজ শেষ হলে উৎপাদন পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করবেন কাল: পরিবেশমন্ত্রী

আগামীকাল (৯ জুলাই) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ কথা জানিয়েছেন।

আজ (বুধবার) সচিবালয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার আগামী ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করতে সম্মতি দিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ধারাবাহিকতায় বনায়ন কার্যক্রমকে এক নতুন ও আধুনিক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তারেক রহমান। তাঁর গতিশীল ও ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম প্রবেশ করেছে ‘স্মার্ট’ ফরেস্ট্রির আধুনিক যুগে। সেখানে প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মেলবন্ধন এক নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা ও ‘স্মার্ট ফরেস্ট্রি’-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এসব কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হল: স্যাটেলাইটভিত্তিক পর্যবেক্ষণ। জিআইএস (GIS) এবং রিমোট সেনসিং (Remote Sensing) প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপণ করা চারাগাছসমূহের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ সারাদেশে রোপণ করা বৃক্ষের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ট্রি মনিটরিং সিস্টেম (Tree Monitoring System) চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি গাছের টিকে থাকার হার ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, ফোনে প্রযুক্তির ব্যবহার করে দুর্গম চরাঞ্চল বা উপকূলীয় অঞ্চল এবং বনাঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল ঘন সৃজন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে এই বনায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ৩.৫ লক্ষাধিক নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ (Green Jobs) সৃষ্টি হবে। এতে করে গ্রামীণ নারী ও যুবসমাজ নার্সারি ব্যবসা এবং রক্ষনাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা।




যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

 

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সংকোচন দেখা গেছে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ীও রপ্তানিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, যা পুরো অর্থবছর জুড়েই নিটওয়্যারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবণতা ধরে রেখেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 




জুলাইয়ের  প্রথম ছয় দিনে এলো ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে দেশে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫৮৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে নাহিদ রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন নাহিদ রহমান। সম্প্রতি তিনি এ পদে পদোন্নতি পান।

এর আগে তিনি প্রেষণে দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

নাহিদ রহমান ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে এমকম (ফাইন্যান্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে প্রেষণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) থেকে এমবিএম ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া জাপান সরকারের জেডিএস স্কলারশিপের আওতায় জাপানের রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তামাদি হিসাব নিয়ে নতুন নির্দেশনা

নাহিদ রহমান ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের একজন ডিপ্লোমেইড অ্যাসোসিয়েট। পাশাপাশি ডিএফআই ও দ্য ফ্লেচার স্কুল অ্যাট টাফটস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সিডিএফপি বিষয়ে উচ্চতর পেশাগত সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি পেশাগত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

খুলনা জেলায় জন্ম নেওয়া নাহিদ রহমানের বাবা আতিকুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এবং মা সেলিমা রহমান গৃহিণী। তার স্বামী মো. আলমগীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের জননী।