১৩ জুলাই বরিশাল সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের ৪ মাসের মাথায় প্রথমবারের মত বরিশাল বিভাগীয় সদরে সরকারি সফরে আসছেন ১৩ জুলাই।

ঐদিন বরিশাল পৌঁছে মহানগরীর পাশে বহমান কির্তনখোলা নদীর অপর পাড়ে চরকাউয়া এলাকায় সদ্য পুণঃ খননকৃত একটি খালের দু ধারে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরেই বরিশালের বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে সরকারী নির্দেশনা এসেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরের পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে পূর্ব নির্ধারিত এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় সদ্য যোগদানকৃত জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পরে রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রথমবারের মত তারেক রহমান বরিশাল বিভাগীয় সদরে আসছেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি গত ফ্রেুব্রয়ারির প্রথম সপ্তাহে বরিশালের বেলপার্ক ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

. ১৯৭৮ সালে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে চরকাউয়া এলাকার এখালটি খনন করেছিলেন। এরপরে দীর্ঘদিন কোন ধরনের সংস্কার না হওয়ায় খালটি মজে গিয়ে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি করছিল।

গত অক্টোবরে বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরে বরিশালের তৎকালীন জেলার প্রশাসক মোঃ দেলওয়ার হোসেন সরেজমিনে মজে যাওয়া খালটি পরিদর্শন করে বিএডিসি’র একটি প্রকল্পের আওতায় পুণঃ খননের নির্দেশ দেন। প্রায় ২ হাজার ৭শ মিটার দৈর্ঘ এবং ১০ মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার গভীর এ খালটি খনন করতে গিয়ে প্রায় ১২ লাখ ঘন মিটার পলি ও মাটি অপসারন করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ জুলাই বরিশাল সফরকালে সদ্য পুণঃ খননকৃত খালটি পরিদর্শন সহ এর দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।




প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল এবং তাঁর টিমের সঙ্গে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছিলেন, আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনেছেন। কিছু বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রী কোনো বিশেষ বার্তা দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, কিছু বলেছেন। তবে এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তিনি আমাদের পুরো টিমের কাজের প্রশংসা করেছেন।”

এদিকে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, সিটি করপোরেশন এবং মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী কমিটিকে এক মাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিন সদস্যের এ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেলা পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন, উন্নত সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা আরও কার্যকর করার দাবিও জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমস্যা থাকবেই। কিন্তু সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও পিছিয়ে ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভেজালবিরোধী অভিযান এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং আইন প্রয়োগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর শান্ত, ধৈর্যশীল ও পেশাদার আচরণ মাঠপর্যায়ের অভিযানে ইতিবাচকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।




লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইওদের নিয়ে সভা ডেকেছে বিআইএ

দেশের বীমা শিল্পের চলমান সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) নিয়ে উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)।

আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিআইএর সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক (এনডিসি) স্বাক্ষরিত ৫ জুলাইয়ের এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বীমা শিল্পের চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ।

বিআইএ সভাটিকে বীমা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে কোনো কারণে চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকতে অপারগ হলে কোম্পানির ভাইস-চেয়ারম্যান অথবা পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যকে অবশ্যই সভায় অংশ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির চেয়ারম্যানকে যথাযথভাবে অবহিত করার জন্যও সিইওদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বীমা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, অনিষ্পন্ন দাবি নিষ্পত্তি, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিআইএর এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নতুন কমিটি

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-এর ৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য গঠিত এই কমিটি দেশের গণপরিবহনে যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠা, হয়রানি প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের অঙ্গীকার করেছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন ২০২৬ সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। পরে ২৫ জুন ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষ আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান কমিটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। কমিটির মেয়াদ ২০ জুন ২০২৬ থেকে ১৯ জুন ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কামারুন নাহার, সাধারণ সম্পাদক সায়মুন নাহার জিদনী, অর্থ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের, দপ্তর সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক মোক্তার হোসেন এবং দুর্ঘটনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. আবদুল মতিন চৌধুরী।
নবনির্বাচিত নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংগঠনের সাধারণ পরিষদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণে নতুন কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণেরও ঘোষণা দেন তারা।
সংগঠনের নেতাদের মতে, যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করাই হবে নতুন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।




ইউসিবির ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির ৭৭৫ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহে রাইটস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১ হাজার ১৯তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইউসিবি কর্তৃপক্ষের রাইটস শেয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ টাকা মূল্যের ৭৭ কোটি ৫১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির বিদ্যমান দুটি শেয়ারের বিপরীতে নতুন করে একটি শেয়ার ইস্যু করা হবে।

বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা প্রতি ২টি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইটস শেয়ার (১ : ২ অনুপাতে) কেনার সুযোগ পাবেন। এই শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটি শেয়ার বাজার থেকে মোট ৭৭৫ কোটি ১৮ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে।

ইউসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাইটস শেয়ার ইস্যু থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে।

 




স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছে সরকার : ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান আজ বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের অধিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আজ রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিদ্যমান ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আমরা তরুণদের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের সুযোগ দিতে পারি, যাতে তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। এজন্য তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংযুক্ত করতে হবে, বলেন তিনি।

তিনি উদ্ভাবন বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে শিখবে এবং শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে এবং তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া শুধু ব্যবসা শুরু করা বা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণের বিষয় নয়; বরং স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান এবং শৃঙ্খলার প্রয়োগ ঘটিয়ে মানুষের বাস্তব জীবনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

স্বাস্থ্যসেবার আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করে। ফলে, বাংলাদেশে অসুস্থতা দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতার অভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। আমরা এখন সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি এবং প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, বয়স্ক জনগোষ্ঠী, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দ্রুত নগরায়ন।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য নতুন চিন্তাভাবনা এবং আরো শক্তিশালী অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।




ভারি বৃষ্টিতে ধসে পড়ল চট্টগ্রামের আউটার রিং রোডের একাংশ

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে পতেঙ্গা এলাকায় আউটার রিং রোডের একাংশ ধসে পড়েছে। এ কারণে সড়কটির এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে অন্য পাশ দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্সসংলগ্ন অংশে এ ধসের ঘটনা ঘটে।

এই সড়কটি চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী যানবাহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। ফলে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ না হলে বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং বিমানবন্দরগামী যান চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য ওই বাইপাস সড়কটি তৈরি করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টিতে গতকাল রাতে সড়কটি ভেঙে যায়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল জানান, পতেঙ্গায় আউটার রিং রোডের সঙ্গে একটি উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ চলছে। এ জন্য একটি বাইপাস সড়ক করা হয়েছিল। সেটি ভেঙে গেছে। তবে এখন মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, সড়কের এক পাশে ধস হওয়ায় অন্য পাশ দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল করানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।




বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ-পদক্ষেপ জানাবে ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপ : ডিএসসিসি প্রশাসক

‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম

নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটি উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ ও এর বিপরীতে নেওয়া পদক্ষেপ জনগণ জানতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

​এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর অ্যাপে লাইভ ট্র্যাক বা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া অভিযোগের বিপরীতে নেওয়া পদক্ষেপে নাগরিকরা তাদের সন্তুষ্টির প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। এই সেবা পেতে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপ ডাউনলোড করে মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন-ইন করতে হবে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্বের উন্নত নগরীগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডাটা অ্যানালিটিক্সভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে।

তিনি বলেন, এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় কী ধরনের বর্জ্য বেশি সৃষ্টি হচ্ছে এবং কোথায় অতিরিক্ত জনবল বা যানবাহন প্রয়োজন— তা নির্ণয় করে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণ কার্যক্রম আরও সমন্বিত, কার্যকর এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

​ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ আরও দক্ষতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ, সমন্বয় ও মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও গতি বৃদ্ধি পাবে, যা একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও স্মার্ট ঢাকা বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার।