বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে মাইকিং

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পাহাড়সংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতেও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকায় এবং টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ এলাকায় তদারকি করছেন।

তিনি বলেন, আকবরশাহ এলাকার ঝিল-১, ঝিল-২ ও ঝিল-৩, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় এবং বেলতলীঘোনা পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, সমসাময়িক গৃহ নির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এসব এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগানসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তর হালিশহর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায়ও মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এর মধ্যে রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার পর চট্টগ্রামেও সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও ঢালের নিচে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




বিশ্বের ১০ জনবহুল দেশের ৮টিই নেই বিশ্বকাপে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ১৭ জুনের এক ম্যাচে যখন আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করেন, তখন ঢাকার এক জনাকীর্ণ উন্মুক্ত দর্শক সমাবেশে শুরু হয় উন্মাতাল উদযাপন। কিন্তু সেখানে একজনও আর্জেন্টাইন ছিলেন না। আকাশি-সাদা বিখ্যাত আলবিসেলেস্তে জার্সি পরে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে উদযাপন করা হাজারো সমর্থক ছিলেন বাংলাদেশের মানুষ। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই রকম পথের ধারে আবেগঘন দর্শক সমাবেশ দেখা গেছে। মেসি ও তার সতীর্থদের এসব দেশের সমর্থকরা যেন নিজেদের দল হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। এর একটি বড় কারণ হলো, তাদের নিজ নিজ দেশ বারবারই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ১০টি দেশের মধ্যে বর্তমান বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পেরেছে মাত্র দুটি। তারা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। অন্য দুটি দেশ রাশিয়া ও নাইজেরিয়া আগের একাধিক বিশ্বকাপে খেলেছে। চীন ও ইন্দোনেশিয়া ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নিয়েছে মাত্র একবার করে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত, পাশাপাশি বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও পাকিস্তান এখনো বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নই দেখে। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, তবে টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাসেরও কম সময় আগে তারা নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশের ফুটবলের দৈন্যদশাও তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের খ্যাতিমান অভিনেতা, লেখক ও ফুটবলপ্রেমী অদিতি করিম বলেন, লাখো-লাখো ফুটবল সমর্থকের একটি দেশ ফুটবলে এতটা পিছিয়ে থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে জনসংখ্যা কেন ফুটবল সাফল্যের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক নয়? তাত্ত্বিকভাবে কোনো দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, সম্ভাব্য খেলোয়াড়ের সংখ্যাও তত বেশি হওয়ার কথা। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতা আটটি দেশের মধ্যে সাতটি হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেন। তারা তুলনামূলকভাবে বড় জনসংখ্যার দেশ। একমাত্র ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। যদিও তার ব্যাখ্যা পরে আসছে।

তবে বৃটিশ শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা ফুটবল সাফল্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্র একটি। বেস্টসেলার বই ‘সকারনমিকস’-এর সহ-লেখক সিজমানস্কি বলেন, ফুটবল অনেকটা জাতীয় অর্থনীতির মতো। উন্নতি করতে মানুষের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাশাপাশি মূলধন ও অবকাঠামোও দরকার। তিনি বলেন, ফুটবলের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রতিভা খুঁজে বের করার সক্ষমতা। সিজমানস্কির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ সফল ফুটবল দেশের আরেকটি মিল হলো তারা ধনী দেশ। ‘সকারনমিকস’ বইয়ে সিজমানস্কি ও তার সহ-লেখক সাইমন কুপার দেখিয়েছেন, কোনো দেশের বড় শিরোপা জিততে সাধারণত মাথাপিছু বার্ষিক গড় আয় কমপক্ষে ১৫ হাজার ডলার হওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মাথাপিছু আয় এই সীমার অনেক নিচে হলেও তারা দু’দেশ মিলিয়ে আটটি বিশ্বকাপ জিতেছে। সিজমানস্কির মতে, এটিই তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটির গুরুত্ব প্রমাণ করে- অভিজ্ঞতা ও ফুটবল-জ্ঞান। তিনি বলেন, এটি আসে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে। যেসব দেশ আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছে, তারা প্রায় ১০০ বছর আগেই ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, যখন উপনিবেশবাদ শেষ হয়নি।

অন্যদের জন্য দীর্ঘ পথ
সহজভাবে বললে, যেসব দেশ নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেয় এবং সফল হয়, তারা ইতিহাসজুড়ে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ অঞ্চলে। এ কারণেই মাত্র ৩৫ লাখ জনসংখ্যার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে দুটি বিশ্বকাপ জিততে পেরেছিল। উরুগুয়ের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ১৯০২ সালে, যেখানে তারা আর্জেন্টিনার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল। সেটি ছিল ব্রাজিলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেরও ১২ বছর আগে। অন্যদিকে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অনেক পরে আত্মপ্রকাশ করেছে, অথবা সেখানে ফুটবলের বিকাশ হয়েছে আরও পরে। ফলে তাদের অনেক বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কিছু দেশ অবশ্য ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে।

১৯৫৬ সালে স্পেন ও ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়া মরক্কো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান দেশ হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ চারে থাকা একমাত্র এশীয় দেশ। কিন্তু সিজমানস্কি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশসহ আরও কিছু দেশকে আমরা এখনো এগিয়ে আসতে দেখছি না। তার মতে, এসব দেশ সম্পদ ও দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি বিনিয়োগ বাড়লেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে থাকবে।

ইথিওপিয়া কখনোই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তারা ১৯৬২ সালে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জিতেছিল। তবে বিশ্বকাপে ওঠার সবচেয়ে বড় সুযোগ এসেছিল ২০১৪ সালের বাছাইপর্বে। শেষ ধাপে উঠলেও দুই লেগ মিলিয়ে নাইজেরিয়ার কাছে হেরে যায়। বর্তমানে দেশটির ফুটবল স্থানীয় গণমাধ্যমের ভাষায় তীব্র বিনিয়োগ সংকটে ভুগছে। এর একটি উদাহরণ হলো, চলমান পেশাদার লিগে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের অভাবে ৩৮০টিরও বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিফলে সাইফে ২৭ জুন দ্য রিপোর্টার পত্রিকাকে বলেন, এই মৌসুমে আমরা মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়াম ব্যবহার করে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ আয়োজন করেছি। স্টেডিয়ামের এই সংকটের কারণে জাতীয় দলকেও আফ্রিকান বাছাইপর্বে নিজেদের হোম ম্যাচ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট-বাধা, নাকি অজুহাত?

কিছু দেশ অন্য খেলায় সাফল্যের কারণেও ফুটবলে পিছিয়ে পড়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট দেশ এবং তাদের পেশাদার লিগ আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগ। ভারতের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, এর ফলে ফুটবলে খেলোয়াড় সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আইপিএলের সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটের দিকে বেশি উৎসাহিত করছেন। থাপা বলেন, তাদের বোঝা উচিত, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। তবে অদিতি করিম মনে করেন, ক্রিকেটকে দায়ী করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেটের শক্তিধর দেশ হয়েও ফুটবলে উন্নতি করছে এবং বিশ্বকাপে খেলছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে দায়ী করা নিছক অজুহাত। তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপে খেলার মতো প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত প্রণালি আমাদের নেই।News

চীন কি ঘুমন্ত দৈত্য?

চীনের পরিস্থিতি আরও রহস্যময়। কয়েক দশকে অলিম্পিকে তারা বিশ্বের অন্যতম সফল দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু পুরুষ ফুটবলে সেই সাফল্যের প্রতিফলন ঘটেনি। বেইজিংভিত্তিক চীনা ফুটবল বিশেষজ্ঞ মার্ক ড্রেয়ার বলেন, তাত্ত্বিকভাবে বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি করতে না পারার কোনো কারণ চীনের নেই। তার মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, চীনে সবকিছু রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে এবং সিদ্ধান্ত আসে ওপর থেকে। ফুটবল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ফুটবল বোঝেন এমন মানুষের, কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনেক বেশি। ২০১০-এর দশক থেকে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি। সেই বিনিয়োগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বহু খ্যাতনামা খেলোয়াড়কে চীনা লিগে আনা হয়েছিল, যাতে স্থানীয় ফুটবলের মান উন্নত হয়। চীনের মতো ইন্দোনেশিয়াও একবার বিশ্বকাপে খেলেছিল ১৯৩৮ সালে। তখন দেশটি নেদারল্যান্ডসের উপনিবেশ ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ নামে অংশ নিয়েছিল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা শেষ রাউন্ড পর্যন্ত উঠেছিল। বিবিসির ইন্দোনেশিয়ান বিভাগের নিউজ এডিটর জেরোম উইরাওয়ানের মতে, এর পেছনে মূল কারণ ছিল স্থানীয় খেলোয়াড় নয়, বরং ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি বলেন, অনেক সময় ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট কিংবা নয়জনই ইউরোপে জন্ম নেয়া খেলোয়াড় ছিলেন।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এশিয়ান বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচে কোনো জয় ছাড়াই গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এদিকে পাকিস্তানের ফুটবল ফেডারেশনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনবার দেশটিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

তবুও উৎসবের আনন্দ

তাই বহু দেশের ফুটবল সমর্থকের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো অনেক দূরের।
তবে অদিতি করিমের মতে, আপাতত সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো এই বৈশ্বিক উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা। তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবুও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্তের আনন্দ উপভোগ করতে চাইবেন। উৎস: মানবজমিন।




বিশ্বমানের হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়তে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির সভা

দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, আধুনিক ট্রেনিং সেন্টার এবং বিশেষায়িত মোটিভেশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ।

গত রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এ সভায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির প্রকল্প উপদেষ্টা এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই নিউজ (DUAN 1986)-এর সম্পাদক মো. নিয়ামত আলী।

বক্তারা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আধুনিক ক্যান্সার ও জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক ও নার্স তৈরির লক্ষ্যে মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যসেবা, ইতিবাচক মানসিকতা ও সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষায়িত মোটিভেশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়ার উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস মিজান, ছাতক সিমেন্ট কারখানার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাঈদ, বিটাক (BITAC)-এর সাবেক পরিচালক মো. শফিকুর রহমান, আইএমইডি (IMED)-এর কনসালটেন্ট প্রকৌশলী ইলিয়াস আহমেদ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসাইন তালুকদার।

এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদরা সভায় অংশ নেন।

আলোচনা শেষে উপস্থিত অতিথিরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উল্লেখ করে প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।




এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে যদি অর্থনীতি-বান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাণিজ্যের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কেবল তাত্ত্বিক তর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে। যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনাকে জনগণের কল্যাণে রূপান্তর করতে হলে একটি রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।

আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ (র‌্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর দেশের সামনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা কমবে না; বরং বাড়বে। সরকার ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এই উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ জানিয়েছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো এই বর্ধিত সময়কে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে আমাদের বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ হয়তো কম, কিন্তু অন্যান্য রফতানি গন্তব্যে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই বর্ধিত তিন বছরের মধ্যে আমাদের নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা পথনকশা তৈরি করতে হবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’র ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের মানবসম্পদকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কল্যাণে রাজনীতির অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামত করা।

র‌্যাপিডের এই কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামতসমূহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।

র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।

কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা অংশগ্রহণ করেন।




শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) এর মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম (প্রসব কক্ষ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রসূতি মায়ের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে মানসম্মত লেবার রুম থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের ঝুঁকি আছে কি না, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে সরকার হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিতে সফল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

 




বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাইকা প্রেসিডেন্টের

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো পাঁচদিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। এ সফরে তিনি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সোমবার (৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরের শুরুতে ড. তানাকা ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত ‘দশম বার্ষিক স্মরণসভা’তে অংশ নেন। সেসময় তিনি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এসময় জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া, পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

ড. তানাকা সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সফরের অংশ হিসেবে ড. তানাকা জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন একাধিক প্রকল্প পরিদর্শন করেন। গত ১ জুলাই তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। চালু হলে নতুন এ টার্মিনাল দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে যাত্রীসেবা, বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশের একটি আধুনিক রূপ তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি ৩ জুলাই মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আওতায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর ঘুরে দেখেন। এসব প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন। এ উদ্যোগ জাপানের ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ ভিশনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানান।

ড. তানাকা ৪ জুলাই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার কেন্দ্র, ইউএনএইচসিআর-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইওএম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জাইকার সহায়তায় পরিচালিত জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও চলমান সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন।
আরও পড়ুন
জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: বাড়ছে বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা

একই দিনে তিনি জাইকার অনুদান সহায়তায় নির্মাণাধীন কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার এবং উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়নাধীন মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সফরের শেষ দিনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ উদ্যোগ পরিদর্শন করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে জাইকার সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

সফর শেষে ড. তানাকা আকিহিকো বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী বছরগুলোতেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, সেবা পৌঁছাতে বাড়াতে হবে জনসচেতনতা: অর্থমন্ত্রী

বর্তমানে অনেক সরকারি ও আর্থিক সেবা ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে জানাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নিতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে সময়ের সদ্ব্যবহার এবং জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশের সব শ্রেণির মানুষকে ধীরে ধীরে ডিজিটাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঘরে বসে সেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের সময় ও অর্থ; দুই-ই সাশ্রয় হবে। শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে সরাসরি গিয়ে সেবা নেয়ার পরিবর্তে মানুষ যাতে অনলাইনে সহজেই সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।




ট্যারিফের কারণে বিল বাড়ছে, মিটারের ত্রুটিতে নয়: বিদ্যুৎ বিভাগ

জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিল বাড়ার মূল কারণ মিটারের ত্রুটি নয়; নতুন ট্যারিফ, বেশি ব্যবহার এবং উচ্চ স্ল্যাবে বিল গণনা।

সোমবার বিদ্যুৎ ভবনে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ লিখিত বক্তব্যে এ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জুন থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় একই পরিমাণ টাকা রিচার্জে আগের তুলনায় কম ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রিপেইড গ্রাহকদের আগের চেয়ে ঘন ঘন রিচার্জ করতে হচ্ছে, যা অনেকের কাছে ‘অস্বাভাবিক অর্থ কর্তন’ মনে হতে পারে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “বিল বৃদ্ধির মূল কারণ মিটারের ত্রুটি নয়, বরং নতুন ট্যারিফ হারের প্রভাব।”

তবে জুনে মোট কত গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, কতটি অভিযোগ যাচাই হয়েছে, কতটিতে বিল সংশোধন হয়েছে এবং কতজন কর্মকর্তার অবহেলা পাওয়া গেছে, সে তথ্য দেয়নি বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, অভিযোগের ‘সিংহভাগ’ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। অবহেলা বা গ্রাহক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বেশি বিলের ব্যাখ্যায় গরম, ঈদ, বিশ্বকাপ

বিল বাড়ার পেছনে নতুন ট্যারিফের পাশাপাশি জুন মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ার যুক্তি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

তাদের বক্তব্য, কম বৃষ্টিপাত, গরম, ঈদুল আজহা, ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কারণ, এসি, ফ্যান, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও বেড়েছে।

গ্রামাঞ্চলে ফ্রিজ, টিভি, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

আবাসিক গ্রাহকদের ব্যবহার বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হয়। প্রিপেইড গ্রাহকদের অনেকে মাসের শেষ দিকে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারের ষষ্ঠ ধাপে পৌঁছে যাওয়ায় বেশি হারে বিল কাটা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

যারা একই ব্যবহারে আগের চেয়ে বেশি বিল আসার অভিযোগ করছেন, তাদের বিষয়ে বিভাগের যুক্তি, মিটারগুলো আগের মাসেও একই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিমাপ করেছে। নতুন ট্যারিফ কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ মিটারের ত্রুটি শুরু হওয়ার সুযোগ নেই।

‘করণিক ভুল’ স্বীকার

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ‘করণিক’ বা ছোটখাট ভুল পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলো পরীক্ষা করে প্রতিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিল নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনর্যাচাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি মিটার ভাড়া নিয়েও গ্রাহকদের অসন্তোষের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে।

বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যারা কিস্তিতে মিটার নেন, তাদের সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য মাসে ২৫০ টাকা দিতে হয়। যারা এককালীন মূল্য পরিশোধ করেন, তাদের কাছ থেকে কিস্তি নেওয়া হয় না।

চারটি বিতরণ সংস্থা গ্রাহকদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে খোলা বাজারে প্রিপেইড মিটার কেনার সুযোগ দেয় বলেও জানানো হয়েছে।

মিটার ভাড়া বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “এ বিষয়ে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, আগে বিলম্বের জন্য প্রতি মাসে ২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মাশুল নেওয়া হত।

এখন বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী মোট বিদ্যুৎ বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে এককালীন একবারের জন্য বিলম্ব মাশুল নেওয়া হয়।

বক্তব্যে সাংবাদিক ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিল, মিটার ভাড়া ও বিধিবিধান যাচাই করে প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষতি না করার অনুরোধ জানিয়ে বিভাগ বলেছে, এতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে।




ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফের কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকরা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করেছে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও দাবি করেন তারা।

গ্রাহক ফোরাম তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের বিভিন্ন শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গ্রাহক মহাসমাবেশ।