যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের খোঁজ নিলেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা

হৃদরোগে আক্রান্ত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার, দপ্তর সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যাত্রী অধিকার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। তারা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং দেশবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন করা হয়েছে হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।




রাজশাহীতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু, হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত রোগী

মাঝ আষাঢ়েও রাজশাহীতে বৃষ্টির দাপট সেই অর্থে নেই। মাঝেমধ্যে আকাশে মেঘের ভেলা ভাসলেও তা বৃষ্টি নামাতে পারেনি। বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা না হলেও এর মধ্যে নগরীতে ডেঙ্গুবাহক এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন ডেঙ্গু রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে, নগরীতে এডিস মশার ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও চারজন ডেঙ্গু রোগী।

রামেক হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, জুন মাসের শেষ ২০ দিন ও জুলাই মাসের প্রথম দুই দিনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই দিন হাসপাতালটিতে আরও দুইজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ জুন থেকে ১২ জুন নতুন ডেঙ্গু রোগী না থাকলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। এ ছাড়াও ১৩ ও ২৪ জুন একজন রোগী ভর্তি হন। ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন নতুন রোগী ভর্তি না হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। ১৮ ও ১৯ জুন রোগী ভর্তি না হলেও ২০ জুন একজন ভর্তি হন। ২১ জুন রোগী ভর্তি না হলেও ২২ জুন একজন নতুন রোগী ভর্তি হন। পরের দিন ২৩ জুন তিনজন এবং ২৪ জুন দুইজন ভর্তি হয়েছেন। এতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচজনে।

২৫ জুন দুইজন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ছাড়া পেয়েছেন দুইজন। ২৪ জুন ভর্তি না থাকলেও ২৭ জুন একজন ভর্তি হয়েছেন। এদিন একজন ছুটি পেয়েছেন। ২৮ জুন নতুন রোগী না থাকলেও ২৯ জুন একজন ভর্তি হন। এদিন ছুটি হয় দুইজনের। ৩০ জুন নতুন করে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন থাকেন তিনজন। ১ জুলাই নতুন একজন রোগী ভর্তি হলেও ছাড়া পেয়েছেন দুইজন, চিকিৎসাধীন থাকেন দুইজন। সবশেষ ২ জুলাই নতুন করে দুইজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন রামেক হাসপাতালে।

বিষয়টি নিয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকরকে বিশ্বাসের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত মে মাসে পরিচালিত জরিপে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই সূচক ২০ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জরিপে নগরীর ৭৫টি বাড়ির ১৫টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে বিশ শতাংশ। একই সঙ্গে পরীক্ষা করা ৫২টি পানিধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটিতে এবং প্রায় অর্ধেক পানিধারণকারী পাত্রে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব স্থানে আরও পানি জমলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নগরীতে লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক এডিস মশার উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

রাজশাহী জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা জানান, এডিস মশা এখন শুধু প্রচলিত পানির উৎসে নয়, মানুষের অসচেতনতার কারণেও বংশবিস্তার করছে। জরিপে ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র, শিশুদের খেলনা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ নানা ধরনের পানিধারণকারী সামগ্রীতে লার্ভা পাওয়া গেছে।

রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, বর্ষা সামনে রেখে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে।




এসএসসির পর ভর্তি না হওয়ার হার উদ্বেগজনক: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হরে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘‘আগে এসএসসির পর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত। কিন্তু এবার মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমাদের জন্য বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু কারণ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এবার অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণই করেনি। সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে সেটি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর না ঘটে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমাদের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনাদের প্রতিবেদন আমরা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করি এবং সেগুলোর ভিত্তিতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে আপিল বিভাগের রায়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি মামলায় রাষ্ট্রের করা আপিল মঞ্জুর করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মামলাটি সরকারের পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের অন্যান্য শূন্য পদ পূরণেও দ্রুত অগ্রগতি হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, আদালতের রায়ের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর হয়েছে। এখন দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যাবে। প্রধান শিক্ষক পদে বদলি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ জন সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট শূন্য পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে। বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষক সমাজে কর্মোদ্দীপনা বাড়বে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালে জাতীয়করণ হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৬৩ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। তারা ২০১৩ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী কার্যকর চাকরিকালের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন-স্কেল এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধা দাবি করেন। পরে হাইকোর্ট আংশিকভাবে রুল অ্যাবসোলিউট করে নিয়োগবিধির একটি বিধানকে বেআইনি ঘোষণা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্ট্যাটাস কো বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এর ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০টি প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা, পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে দায়িত্ব চালাতে হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আদালতের রায়ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা কীভাবে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রিকুইজিশন পেলেই আইনগতভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।’’

তিনি জানান, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন দ্রুত প্রস্তুত করে পিএসসিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘শুধু প্রাথমিক শিক্ষা নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়েও আরও প্রায় চার হাজার শিক্ষক প্রয়োজন। এই সংকট সাম্প্রতিক সময়ের নয়, দীর্ঘদিনের। আমরা দ্রুত এসব শূন্যপদ পূরণে কাজ করছি।’’

বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদেরই প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নই প্রধান লক্ষ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া এবং কিন্ডারগার্টেনমুখী হওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়ানো। আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিক শিক্ষা ও বিতর্কচর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’’




কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অপু গ্রেফতার

গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ইথানের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে আবু হানিফ অপুকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে অপুকে গ্রেফতার করা হয়

কুমিল্লা নগরীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্কুলছাত্র আহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবু হানিফ অপুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গতকাল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন নগরীর কাটাবিল এলাকায় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে গোলাগুলির সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরো কয়েকজন।

ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ইথানের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে আবু হানিফ অপুকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে অপুকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের আরো জানায়, আবু হানিফ অপু একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি অস্ত্র মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে দশমিক ৫৮ শতাংশ

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, চলমান যুদ্ধ ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ব্যাহত করায় রপ্তানিতে এ পতন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের পণ্য রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। আয় হয়েছেল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগে ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য সরকার ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে ইপিবি।




শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

আবারও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এভসেক ও কাস্টমস হাউস সহ বিভিন্ন সংস্থা।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ওই ফ্লাইট থেকে এসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

সূত্র জানায়, ডিজিএফআইয়ের একটি চৌকস দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানের কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এভসেকের সহায়তায় ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

 

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের একটি ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল।




১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো ৩৫৭ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫২৮ টাকা। জুন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৮৮৫ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নতুন এ দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে এ দর। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার পর থেকেই বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম নিম্নমুখী।

বিইআরসি জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসে অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা।

 

এদিকে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।




কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।

তিনি বলেন,  ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন,  যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ,  সামাজিক দর্শন  ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা  ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের  জীবনের সকল পর্যায়েই তাঁর প্রভাব অপরিসীম।’

আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে  তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।’

তিনি বলেন,  ‘পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য,  বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত,  ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান  অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত,  প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ,  কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ ।’

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের।’

তিনি বলেন, ‘অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।  তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,  ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।’

তিনি বলেন, ‘শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু হয়েছে।’

তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,’ আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাগণ, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণ যারা  অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন।’

তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন,  ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।’

নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’

তিনি বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন  ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।’

এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুল প্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।

পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-ু২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

ছবি: পিএমও

ছবি: পিএমও

সংস্কৃতি মন্ত্রী  নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,  তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।




গোপন কায়দায় আনা ১৮ কেজিরও বেশি স্বর্ণ জব্দ শাহজালালে

আবারও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার, এভসেক ও কাস্টমস হাউসসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ করা হয়েছে।

দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট থেকে এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, ডিজি এফ আই য়ের একটি চৌকস দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানের কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এসময় এভসেকের সহায়তায় ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের একটি ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল।