২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলো চসিক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এই বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাজেট বক্তৃতায় চসিক মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে আগামী অর্থবছরে ১০ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হকার সমস্যা সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মেয়র।

নগরবাসীর অভিযোগ জানতে ও সেবা সহজ করতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ চালুর কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়। অ্যাপের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।

মেয়র বলেন, বিএফআইডিসি রোডে চসিকের ৮ একর জমিতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে চসিকের অনুমোদিত জনবল ৪ হাজার ২২৬ জন, যা প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত নয়। এজন্য নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদনের উদ্যোগ চলছে। ইতোমধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। মেয়রের ভাষ্য, এতে অনিয়ম কমবে এবং নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে দেড় লাখেরও কম। এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চসিক।

নগরীর স্মার্ট সিটি উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৫ হাজার ৫০০টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ৫৩টি মোড়ে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সোলার স্ট্রিট লাইট ও ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

পরিচ্ছন্নতা খাতে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং মশক নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম জোরদারের কথা উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের ৮১ শতাংশ বর্তমানে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় চসিকের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় করপোরেশনের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ৩৮০ কোটিতে নেমে এসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ এবং অবসরপ্রাপ্তদের আনুতোষিক নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।




শিল্প-উৎপাদন চাঙা করতে বড় উদ্যোগ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিসুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে অর্থনীতির গতি ফেরাতে শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে। শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এসময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।

 

গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে ওঠা মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে তা এখরো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের কাঠামোগত সমস্যা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সারের সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আইএফআরএস-৯ ভিত্তিক এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) কাঠামো বাস্তবায়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (আরবিএস) জোরদার এবং নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ ও ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ডামা) প্রণয়ন এবং অর্থঋণ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে আন্তঃপরিচালনযোগ্য ‌‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজ ও নির্বিঘ্ন ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ এবং নতুন প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।




১ টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে: আইনমন্ত্রী

১ টাকায় আইন ও বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব নয়, এমনটা হলে দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য ২,১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করেন। এরপর বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের নানা সংকট তুলে ধরেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও পদোন্নতি ও বদলিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেন।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বিচার বিভাগের জন্য এই বরাদ্দকে ‘অত্যন্ত অপ্রতুল’ উল্লেখ করে বলেন, দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং। কিন্তু বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট স্থাপন বা পেপারলেস জুডিশিয়ারি করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কেরামত আলী থানা ও পুলিশের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম।

তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলাজটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্যদের এসব প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, অন্য দাবির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই যুক্তি দিয়েছেন, তবে এই দাবির ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তারা পোশাক পরিহিত আইনজীবী হায়ার করে এনেছেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর স্ববিরোধিতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে দুই ধরনের দাবি এসেছে। একজন বলছেন বরাদ্দ বেশি হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক, আরেকজন বলছেন বরাদ্দ অনেক কম হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক! ১ টাকা দিয়ে যদি আইন বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের দরকার নাই, এটা একটা পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাক।

সংসদ সদস্যদের দাবিগুলোকে ‘জনপ্রিয়’ কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির পরিপন্থি (মিসকনসিভড) বলে আখ্যায়িত করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১ টাকা দিয়ে কীভাবে গোটা বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব, তার কোনো বিকল্প নীতি ছাঁটাই প্রস্তাবে দেওয়া হয়নি।

 

বর্তমান বাস্তবতায় এই বরাদ্দ বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও আপাতত এর কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে আইনমন্ত্রী ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সংসদের কাছে আহ্বান জানান।




কাল ব্যাংক হলিডে, বন্ধ থাকবে সব ধরনের লেনদেন

আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফশিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক সমাপনী উপলক্ষে ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়। এ সময় ব্যাংকগুলো জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে এবং অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে।

ফলে এদিন কোনো ব্যাংক শাখা থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া চেক নিষ্পত্তি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডারসহ শাখাভিত্তিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে গ্রাহকরা এটিএম বুথ, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) সেবা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। যদিও আন্তঃব্যাংক নিষ্পত্তিনির্ভর কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়। ব্যাংকগুলো এ দুই দিনে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ রেখে অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে।




শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বদলি হলো ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই সেকমো

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জরুরি বিভাগের কর্মরত দুই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারকে (সেকমো) অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ গত ২৯ জুন এক আদেশে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) মোহাম্মদ মফিজুর রহমানকে গৌরীপুর উপজেলার বাড়িঝুরি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং মো. মিজানুর রহমানকে একই উপজেলার শাহনাটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করেন। তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বদলির আদেশের চিঠি ই-মেইলে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। আদেশে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শৃঙ্খলাজনিত কারণে এ বদলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ‘ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেকমোদের দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী গত ২৩ মে জরুরি বিভাগের ইনচার্জ রুবেল মিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অনন্ত কুমার বিশ্বাসকে নতুন ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেন।

একই দিন পৃথক এক আদেশে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক) ডা. মো. আব্দুল মুন্নাফকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১৩ দিন ধরে সরেজমিন তদন্ত, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং অফিসের নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে গত ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিভিল সার্জন দুই সেকমোকে বদলির আদেশ দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকৃত দুই সেকমোর বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়, রেজিস্টার খাতায় সিরিয়াল নম্বরের ক্রম পরিবর্তন, একই নম্বর একাধিক রোগীর নামে ব্যবহার, ভুয়া নম্বর সংযোজন এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া সাবেক ইনচার্জ রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার স্টেরিলাইজেশন মেশিন ব্যবহারে অবহেলার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বদলির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী।

এদিকে মো. সাব্বির হোসেন নামে আরও এক সেকমোকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া ও বদলির দাবি জানানো হচ্ছে।




তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অন্য কোনো দেশের কনসার্নের সুযোগ নেই : তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব উত্তরাঞ্চলের মানুষকে চরম সংকটে ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ করা। এই কাজে চীনের বিপুল দক্ষতা (এক্সপার্টিজ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

প্রকল্পটি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জণগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।’

বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শুধু একটি নয়, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করব।’

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার-প্রচারণায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল আচরণ, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের স্বাধীন ভূমিকা এবং খুব দ্রুতই নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও নীতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।