এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কর প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা আহসান হাবিব। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সোমবার (২৯ জুন) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন, তবে এখনও পর্যন্ত তিনি নিয়োগের আদেশ হাতে পানি।

আহসান হাবিব ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া বিসিএস পরীক্ষায়ও নিজের ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে সিআইসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কর ফাঁকি, অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রশংসা অর্জন করেন।

অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম উল্কাগেমস–এর বিপুল পরিমাণ বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কর প্রশাসনে দক্ষতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজস্ব আহরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি পরিচিত।

বর্তমানে তিনি বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আহসান হাবিবের নিয়োগকে রাজস্ব প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজস্ব আহরণে আরও গতি আসবে।




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামবাসীর তুমুল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে খাদিম মিয়া নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

রোববার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত খাদেম মোল্লা ধরন্তি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সরাইলের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়া একই ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে পাটি বিক্রির এক লাখ টাকা পাওনা ছিল।

রোববার সন্ধ্যায় মোশারফ মিয়া ধরন্তি গ্রামের আলাল ও আশিকে কাছে পাওনা টাকা ফেরত চায়। এ সময় তারা মোশারফকে জানায় খাদিম মিয়া টাকা দিতে বারণ করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকেই উভয় গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

পরে রাতে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে সংঘর্ষ চালিয়ে যায়। এ সময় ইট পাটকেল নিক্ষেপ আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকায় জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়।

আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের কারণে বেশ কিছু সময় সরাইল নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে একজন নিহতের খবর পেয়েছি। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




পরকীয়ার জেরে ফতুল্লায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর পরকীয়ার জের ধরে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেলপাড়া মির্জাবাড়ি মোড় (চানাচুর ফ্যাক্টরি সংলগ্ন) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪২)। অভিযুক্ত তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে জনিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা, হাতের রগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নি নিজেই আশপাশের লোকজনকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানিয়েছেন বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।




বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে: বিএফইউজে মহাসচিব

দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

এ সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসেরও কোনো সুযোগ নেই।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বগল সম্পাদক’ এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।

তিনি আরও বলেন, যা ইচ্ছা তা লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হয়। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে।

ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএফইউজের এই মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।




চিকিৎসা শেষে দীপু মনিকে ফের কারাগারে পাঠানো হলো

আজ সকালে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। দ্রুত তাকে মুন্সিগঞ্জের কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ৮টার দিকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো্. ফজলু কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গরমের কারণে জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার এক্স-রে ও ইসিজি করা হয়েছে। তেমন কোনো বড় ধরনের রোগ নির্ণয় করা যায়নি। মোটামুটি সুস্থ আছেন তিনি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে আবার কারাগারে নেওয়া হয় তাকে।




৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

 

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।




‘জীবনবান্ধব বাজেট’ মানুষের জন্য, সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের বাজেটকে ‌‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই বাজেট কোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের কারণে বাজেট ঘোষণার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। সরকার কোনো সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না; বরং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে অর্থনীতিকে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছে। এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কোনো প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটি নয়; বরং মানুষের জীবনে তার প্রকৃত প্রভাব কতটা, সেটিই হবে মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ গড়তে নতুন শিল্প স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা হিসেবে মান্দারিন (চাইনিজ), জাপানিজ ও ফ্রেঞ্চ ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ক্যান্সারের ওষুধসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হবে। এতে হার্টের স্টেন্ট প্রতিস্থাপনের ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে সম্পত্তি নিবন্ধনে টিন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহারেরও সুপারিশ করেছেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতীতের দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে এরইমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই হয়েছে।

এছাড়া ভোলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে শিল্প পার্ক গড়ে তোলা, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রীড়া উন্নয়ন, মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং প্রবাসীদের সেবা সম্প্রসারণেও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।




দুর্নীতির দায়ে শাস্তি পেলেন ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের দুই কর্মচারী

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং অপরজনকে বেতন গ্রেডে এক ধাপ অবনমিত করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অসদাচরণ ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখতে ভূমি মন্ত্রণালয় কঠোর ভূমিকা পালন করছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৫/২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলায় রংপুর সদরের সাবেক কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী (বর্তমান কর্মস্থল: উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস, বেড়া, পাবনা) মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ২৪/২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের রেকর্ড কিপার রেজভীন আখতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বেতন গ্রেডের এক ধাপ নিম্নে অবনমিত করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় বলেছে, ভূমি সেবাকে হয়রানিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও আরও জনকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।