ফ্রি ওয়াইফাই ও ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’সহ শিক্ষায় ব্যাপক রূপান্তরের ঘোষণা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বৈষম্য নিরসনে সরকারের নেওয়া নানামুখী মহাপরিকল্পনার কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ প্রকল্প এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধে অর্থমন্ত্রী দ্রুততম সময়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং আগামী জুলাই মাসের মধ্যে বাকি সব টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিকল্পনার কথা জানান।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় এখন এক ব্যাপক পরিকল্পনা ও রূপান্তর চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে। এই ট্যাবের মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লাস লেসন প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সব বিষয়ে সার্বক্ষণিক আপডেট ও অবগত থাকবেন। এই ট্যাবের সমন্বয়ে দেশে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ‘ইউনিক এডুকেশন আইডি’ চালু করার ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সনাতন জিপিএ-নির্ভর পড়াশোনার বাইরে নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু খাতা কলম নিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার সেই সোনার হরিণের পিছনে ছুটে বেড়াক, প্রধানমন্ত্রী তা চান না। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ৩০০ শিক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া উন্নত বিশ্বের সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বারের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশে যদি জন্ম নিবন্ধনের পর থেকেই ন্যাশনাল আইডি বা ভোটার আইডির মতো একটি স্থায়ী নম্বর দেওয়া যেত, তবে স্কুল সিস্টেমে নতুন করে এই আইডি চালু করার প্রয়োজন হতো না।

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. মিলন বলেন, দেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে এবং এই পরিকল্পনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেস অনুষ্ঠান আগামীকাল বিকেল দুইটায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে সারাদেশে ২৪ হাজার করে বিএনসিসি ক্যাডেট তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

বক্তব্যে বান্দরবানের এক দুর্গম এলাকার প্রধান শিক্ষকের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, থানচির রেমাক্রি নদীপথের দুর্গম এলাকায় ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘হিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষক বাম খিয়াং মিলান এক ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালাচ্ছেন। ৬৫ জন শিক্ষার্থীর অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা ঠিকমতো বেতন দিতে পারেন না। এই শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট মোকাবিলায় প্রধান শিক্ষক নিজে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক আনা নেওয়া করেন। সেখান থেকে আয় হওয়া ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকাই তিনি স্কুলের পেছনে খরচ করেছেন। এই স্কুলটি টিকিয়ে রাখার জন্য করা একটি আবেদন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তিন্দু এলাকার ওই স্কুলটিকে জাতীয়করণ করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে মাদ্রাসায় প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বাজেট সংকটের কারণে এই মাসে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ১০০ কোটি টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আগামী জুলাই মাসে বাকি সব টাকা পরিশোধের কথা দিয়েছেন।

সবশেষে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা কেউই এখন পর্যন্ত কোনো অবসরভাতা বা কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাচ্ছেন না।




নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার কমায় আয় বৈষম্য বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে গত ১২-১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম তৈরি হয়েছে। যারা আগে থেকেই শিল্প-কারখানার মালিক ছিলেন, তারাই মূলত আরও বড় হয়েছেন। আর এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল গ্যাসের অপ্রতুলতা।

রোববার (২৭ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এসএমই ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০-১৫ বছরে সেই অনুপাত ড্রাস্টিক্যালি (তীব্রভাবে) কমে এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবাহ নির্দিষ্ট কিছু হাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এটি আয় বৈষম্য বাড়ার একটি প্রধান রেসিপি এবং আমরা সেটিই অনুসরণ করেছি। যার ফলে ১৫-২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে আয় বৈষম্য অনেক বেড়েছে।

আয় বৈষম্যের বৈশ্বিক সূচকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনকাম ডিসপারিটির স্কেল শূন্য থেকে এক পর্যন্ত। সূচক যত ওপরের দিকে যায়, বৈষম্য তত বাড়ে। আমাদের এখানে এই বৈষম্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এমনকি ভারত-পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ২০ শতাংশ। আমরা এটাকে আরও বাড়াতে চাই। কারণ অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ গতিশীল রাখতে এমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি ব্রড-বেইজড (সুদূরপ্রসারী) প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরও পার্ক করা হবে।’

গ্যাস সংকট ও শিল্পায়ন নিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা কম জ্বালানি কনজিউম করা শিল্পের দিকে বেশি নজর দেব। আর বর্তমানে যেসব কল-কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে সংকট সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।

এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি : আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ বিষয়ে মন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উইম্যান অন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম।




আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা সংসদে প্রকাশ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং চিকিৎসার নামে রোগীদের জীবন বিপন্ন করার এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সম্প্রতি হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি, সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে একই দিনে ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার বিবরণ দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে সমস্ত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কীভাবে বাণিজ্যিক বেকারি কারখানা ও বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ গড়ে তোলা হয়েছে, তা সংসদের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রী। চিকিৎসা সেবার আড়ালে হাসপাতালের ভেতরে গড়ে ওঠা এমন বাণিজ্যিক মানসিকতাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা খাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অবহেলা সরকার বরদাস্ত করবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত মে মাসে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চরম অবহেলা এবং অসতর্কতার কারণে ছয়টি মায়ের বুক খালি হয়েছে। হাইপারক্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যখন শিশুগুলোর হাত-পা কাঁপছিল, তখন সেখানে এসি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কোনো সচল জানালা ছিল না এবং ছিল না কোনো জরুরি অক্সিজেন সাপোর্ট। ১৬ থেকে ১৭ জন মা যখন তাদের সন্তানদের বাঁচানোর জন্য চত্বরে কাঁদতে কাঁদতে ছুটাছুটি করছিলেন, তখন সেখানে কোনো অন-ডিউটি ডাক্তার পাওয়া যায়নি, এমনকি নার্সরাও ডাকলে সাড়া দেননি। কার্বন ডাই অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে করতে নিরীহ শিশুগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ঘটনার পর দিনই নিজে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এই গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পেয়েছেন বলে সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম ঘটনার পরও হাসপাতালের মালিক পক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো বা সান্ত্বনা দেওয়ার ন্যূনতম নৈতিক সৌজন্যতা দেখাননি।

হাসপাতালের ভেতরের মূল অব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক শয়তানির চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আদ্-দ্বীনের বাণিজ্যিক আকাঙ্ক্ষা এতটাই অনৈতিক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, ডাক্তার ও রোগী অবস্থান করছেন, সেখানে তারা হাসপাতালের ভেতরেই একটি বেকারি কারখানা গড়ে তুলেছে। এই বেকারি কারখানার ময়লা, স্তূপীকৃত প্লাস্টিক বর্জ্য এবং আশপাশের জমা জলবদ্ধতার কারণে পুরো হাসপাতালের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে, যা থেকে নির্গত গ্যাস ও দূষণ শিশুদের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যেভাবে দাহ্য প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে যেকোনো সময় একটি ছোট আগুন লাগলে সেখানে থাকা কোনো রোগী কিংবা তাদের অভিভাবক প্রাণ নিয়ে বের হতে পারবেন না। এই চরম অব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত করেছে এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সেখানে সরকারি তদারকিতে নতুন চিফ এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই কঠোর আইনি পদক্ষেপকে দলীয়করণ বা মাথা কেটে ফেলার সঙ্গে তুলনা না করার জন্য বিরোধী বেঞ্চের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কারও দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের ক্ষতি বা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সমর্থন করা যায় না। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে কঠোর শৃঙ্খলার আওতায় আনতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

সংসদে বিরোধী দলের এক সদস্যের বক্তব্যের জেরে পবিত্র কোরআনের সূরা নজমের আয়াত উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রাসুল যা বলেন তা ওহীর ভিত্তিতেই বলেন, নিজের থেকে বলেন না। কিন্তু রাজনীতিতে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে, এমন কথা যারা ছড়ান, তারা চরম শিরক করছেন এবং এজন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বাজেটের রাজস্ব আদায় নিয়ে বিরোধীদের সংশয়ের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী জীবন ছেড়ে ঢাকায় পা রেখেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জন্য তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এই বাজেটের মূল চালিকাশক্তিই হলো প্রধানমন্ত্রীর সেই অর্থনৈতিক দর্শন, যা বোঝার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা সবার নেই। অতীতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে যখন প্রথম ভ্যাট (মূসক) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, তখনো এই সংসদেই তুফান তোলা হয়েছিল যে মানুষের পকেট কাটা হবে। আজ ভ্যাট ছাড়া অর্থনীতির চাকা চলে না, তেমনি আজকের রেভিনিউ বাজেটের অন্তর্নিহিত মূল্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই ভালো বোঝেন।

এই বাজেটের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষায় এই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড এবং স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চিতে হেলথ কার্ডের মতো যুগান্তকারী উদ্ভাবন নিয়ে আসা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প স্থাপনে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সব অনুমোদন পেয়ে যাবেন।
এছাড়াও ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পদ্ধতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা প্রস্তুত পাবেন, শুধু যাবেন আর শিল্প উৎপাদন শুরু করবেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্যারিস কনফারেন্সে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ অর্থাৎ প্রতি শিশুর জন্য একটি করে চারা গাছ লাগানোর চমৎকার পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের পকেটের চিকিৎসা খরচ (আউট অফ পকেট এক্সপেন্সেস) কমাতে এবারের বাজেটে ওষুধের ৫২টি কাঁচামাল বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই), ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিসের যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয়েছে।

ডেফিসিট বা ঘাটতি বাজেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে অর্থনীতিবিদদের সূত্র টেনে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনো দেশই ঘাটতি বাজেট ছাড়া উন্নয়ন বাজেট প্রণয়ন করতে পারে না, কারণ এটিই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।




শিক্ষায় খাতে মামলাজট নিরসনের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষা খাতে বিদ্যমান মামলাজট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের আইনি জটিলতা ও মামলাজটের কারণে অনেক সময় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এই অচলাবস্থা নিরসন করে শিক্ষাঙ্গনে একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

রোববার (২৮ জুন) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো এবারও কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আইনগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ, নমুনা উত্তরপত্র পর্যালোচনা, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রপ্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করলেন শিক্ষার্থীরা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের আয়োজনে জাতীয় সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং দর্শনার্থীরা।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে আসা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ২১ জন এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ১৬ জন মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারপ্রধানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, এসব শিক্ষার্থী সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ, সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন, উত্তর প্লাজায় ফটোসেশন এবং সংসদ অধিবেশন কক্ষে সংসদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

 




এবারের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মান অত্যন্ত ভালো : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এবারের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ব্যবহৃত ক্যাপসুলের মান অত্যন্ত ভালো। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে গুণগত মান যাচাইয়ের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে উন্নতমানের ক্যাপসুলগুলো দেশে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে এই উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেশে আনা হয়েছে। আমাদের টিকার মান অত্যন্ত ভালো।

আজ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের বিষয়ে আমরা ইউনিসেফের সঙ্গে একটি কনফারেন্স করেছি। আন্তর্জাতিক টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উন্নতমানের এই টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই আমরা আশ্বস্ত, দেশের শিশুদের সর্বোচ্চ মানের টিকাই খাওয়ানো হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে দেশের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে লাল ও নীল রঙের মোট ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল মজুত রয়েছে।

ক্যাম্পেইনের সময়সীমা ও কার্যকারিতা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারাদেশে একযোগে এই কার্যক্রম চলছে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্বিতীয় দিন খাবে, এভাবে পর্যায়ক্রমে চতুর্থ দিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

শিশুদের অন্ধত্ব ও হামের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে এই ক্যাম্পেইন সফল করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ নয়। এর পাশাপাশি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করতে জন্মের পরপরই মায়ের শালদুধ পান করানো, বয়স অনুযায়ী নিরাপদ পানি, সুষম খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।

জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের শালদুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শালদুধই শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় ভিটামিন এ-এর প্রাকৃতিক উৎস। তাই এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এরপর বয়স অনুযায়ী পুষ্টিকর সম্পূরক খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত মায়ের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা খুব একটা আমলে নিচ্ছি না : সড়কমন্ত্রী

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ঘাটতি বাজেট নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্য তুলে ধরেন।

 

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের উপরে বরাদ্দ রেখেছেন। সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থাৎ অর্থের বরাদ্দের অনুপাতটা তিনি চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন। মানবসম্পদ উন্নয়নের জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ, যোগ্য হিসেবে তৈরি করা। সেক্ষেত্রে তিনি যে বরাদ্দ রেখেছেন যথেষ্ট বরাদ্দ রেখেছেন, সময়োপযোগী বরাদ্দ রেখেছেন, ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ। এই দক্ষ মানবসম্পদ যখন রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করবে। অনগ্রসর জাতিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রেখেছেন, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

রবিউল আলম বলেন, আহরিত অর্থের দুই ধরনের ব্যয় রাষ্ট্র করে। একটি হচ্ছে অনুন্নয়ন ব্যয়, আরেকটি হচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়। অনুন্নয়ন ব্যয় মানে হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়। রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থমন্ত্রী যেটা গত অর্থবছরে ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ করা অর্থের, সেখান থেকে কমিয়ে তিনি নিয়ে এসেছেন ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে। তার মানে অপচয় রোধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছেন না। তিনি উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়েছেন। যে উন্নয়ন ব্যয় গত অর্থবছরে ছিল অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, সেটি ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সেটাকে তিনি বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছেন। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রয়োজন, দীর্ঘদিনের বিধ্বস্ত বাংলাদেশ, অবকাঠামো উন্নয়ন, এডিপির বরাদ্দ তিন লাখ কোটি টাকার উপরে, এডিপি ছাড়াও আরো ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় রেখেছেন। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।

তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে আমি খুব সমালোচনা শুনিনি সংসদে। কিছু শঙ্কা শুনেছি। এই বাজেট নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কোথায় করেছেন? সেটি হচ্ছে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হতে পারে। রাজস্ব আয়ের ঘাটতি হবে না। কারণ ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। কর অব্যাহতি হ্রাস করা হবে। রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণ করা হবে এবং ভ্যাট কাঠামোতে নতুন বিন্যাস করা হবে। অতএব রাজস্ব ঘাটতি আমি দেখছি না। আর আমাদের রাজস্ব আরোহণ কর অনুপাতে যদি বলেন, সেটা যদি হয় নয় শতাংশের কাছাকাছি, নেপাল-ভুটানও ১৩-১৪ শতাংশ করে। আমাদের ওখানে যেতে হবে। সেজন্য অর্থমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে, ব্যাংক ঋণও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবার করা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। আমার মনে হচ্ছে, যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। অতএব ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি কিন্তু হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয়, রাজস্ব ঠিকমত যদি আহরিত হয়, ব্যাংক থেকে যদি লোনটা যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে পাওয়া যাবে, ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বাজেটে পাঁচ দশমিক ৫ জিডিপির ঘাটতি বাজেট। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। আপনি চীনে যান, সেখানেও চার শতাংশ জিডিপির ঘাটতি বাজেট। অতএব এই ঘাটতি বাজেট আমাদের এই দুরবস্থার মধ্যে আমরা সক্ষম হবো এটা মিটআপ এবং অ্যাচিভ করতে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ছয় দশমিক ৫ শতাংশ। যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনো হন নাই। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




শাহবাগে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ গ্রেফতার ৪

রাজধানীর শাহবাগ থেকে ৪০ লাখ জাল টাকাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির শাহবাগ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো-নাফিজ আহম্মেদ (২৬), মো. রহমত উল্লাহ (২৬), ইয়াকুব আলী চৌধুরী (৩৯) ও রুবেল (৪২)।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিয়াজ মেহেদী বলেন, শনিবার (২৭ জুন) রাত ৭টার পর শাহবাগ থানাধীন মোতালিব প্লাজায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শাহবাগ থানার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শনিবার রাতে শাহবাগ থানাধীন মোতালিব প্লাজা ৫ তলায় একটি দোকানে কতিপয় ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের হেফাজত হতে ৪০ লাখ টাকার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার ব্যবসার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।