সীমান্তে ২.২১ কোটি টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক

গত ২৬ জুন ২০২৬: যশোর–বেনাপোল মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের ১৩টি স্বর্ণবারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণবারগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।

আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।




র‍্যালি ও আলোচনা সভায় কুমিল্লায় মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি

গত ২৬ জুন ২০২৬ বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান

জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইউমুল হক রিঙ্কু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাফর সাদিক চৌধুরী, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, অজিতগুহ কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন।




ভোলায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত, সচেতনতার আহ্বান

গত ২৬ জুন ২০২৬ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং উপস্থিত অতিথিরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার, মাদকমুক্ত পরিবার”—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই মাদককে ‘না’ বলার এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে আমি দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি এবং সেই স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। এ সফরে যদি ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে সেটি বাংলাদেশের অর্জন। এটি দেশের মানুষের অর্জন।

আজ শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৬তম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য উত্থাপিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন। গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে তাঁর প্রথম সরকারি ছয় দিনের সফর সফলভাবে শেষ করেন।

জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফল রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য তাঁকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘যে কারণে সংসদের পক্ষ থেকে আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, সে জন্য আমি সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি সেটি হলো, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদের সব সদস্যকে, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতাকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনিও দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।’

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে প্রস্তাবটি সংসদে বিস্তারিত আলোচনার পর কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সফরটিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

আলোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুনের দুই দেশ সফরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আলোচনাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।’




যাত্রাবাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

গত ২৬ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী দক্ষিণ থানার উদ্যোগে এবং ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

থানা আমীর নওশেদ আলম ফারুক-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, জনসেবামূলক এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।




বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সব শিশুর জন্য বিশেষ প্রকল্প নিচ্ছে সরকার  : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের গ্রাম ও শহরের সব বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে একটি বিশেষ ও সমন্বিত প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে সরকার। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই বিশেষ শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই বড় প্রকল্প প্রস্তুত ও প্রণয়ন করেছে।

আগামী ৩০ জুনে পাস হতে যাওয়া নতুন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ ও হ্রাসের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ অর্থনৈতিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ‘সিএসএফ সেন্টার’-এর সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এসব তথ্য জানান।

‘প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনার বিকাশে প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রটি তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে।

সমাজের প্রতিটি পিছিয়ে পড়া মানুষের মানবিক উন্নয়ন ও সম-অধিকার নিশ্চিত করাই আসল অগ্রগতি বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তার নীতি প্রণয়ন, বাজেট এবং ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এনে দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষকে অন্য সব নাগরিকের সমতুল্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক সময় উন্নয়ন বলতে বুঝি অনেক টাকা হওয়া কিংবা বড় বড় বিল্ডিং বানানো। কিন্তু শুধু বিল্ডিং দিয়ে তো সমাজের আসল উন্নয়ন হবে না, মানবিক উন্নয়ন হবে না। মানুষ হিসেবে যদি আমরা উন্নত হতে চাই, তবে সমাজে যে মানুষটির সামান্য অসুবিধা বা প্রতিবন্ধিতা আছে, তার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ থাকতে হবে। অন্যথায় কেবল ইটের দালানকোঠার উন্নয়ন হবে, সমাজের প্রকৃত রূপান্তর ঘটবে না।

বর্তমান সরকারকে অত্যন্ত ‘মানবিক সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, জন্মগতভাবে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত শিশুরা যাতে অবহেলায় হারিয়ে না যায় এবং সমাজের মূলস্রোতে মিশে লেখাপড়া, কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্র তার কাঠামোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রণীত এই সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যার মূল লক্ষ্য হলো শহর, নগর কিংবা দূরবর্তী গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি বিশেষ শিশু যেন সরাসরি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসে।

একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে সম-অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা যাতে অন্য সব স্বাভাবিক শিশুদের মতোই সমান মর্যাদা নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়, সেজন্য শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই স্কুলগুলোর পরিবেশ ও অবকাঠামো বিশেষ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কড়াইল বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান এই কড়াইলে এসে যে ‌‘শিশু স্বর্গ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন, সেই মানবিক উদ্যোগটি বছরব্যাপী সচল থাকবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত এই সিএসএফ সেন্টারে এসে প্রান্তিক শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং সিএসএফ সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারী আবু ঈসা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন।




অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা ১ লাখ টাকা

গত ২৫ জুন ২০২৬ শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া খিলগাঁও এলাকায় অবস্থিত মেসার্স খান ব্রিকস ফিল্ড-০১ নামের একটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আংশিকভাবে ভেঙে অকার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ইটভাটাটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে ইটভাটার অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, শরীয়তপুরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান

অভিযান পরিচালনায় জেলা পুলিশ, শরীয়তপুর, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




তাজিয়া মিছিলে লাঠি-সোটা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ: আরপিএমপি

রংপুর, গত ২১ জুন ২০২৬ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাজিয়া মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে।

রোববার দুপুরে আরপিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা। সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাজিয়া মিছিল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা বহন, পটকা বা আতশবাজি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা হবে।

সভায় বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ কর্মসূচির সময়সূচি ও রুট সম্পর্কে অবহিত করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাজিয়া মিছিল আয়োজনের আশ্বাস দেন। পুলিশ জানায়, নির্ধারিত নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সমন্বয়ের অভাব বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে রুট পারমিট দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মিছিল শুরু ও শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় বক্তারা পবিত্র আশুরা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে পালনের আহ্বান জানান। আরপিএমপি জানায়, মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সকল ইউনিট সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।




দুই প্রকল্পে বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্ব বাজারে সার ও জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে ১১০ কোটি (১.১ বিলিয়ন) ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক জানাল, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে খাদ্য, সার এবং জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং সংকুচিত রাজস্ব ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। এর বড় প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র চাষি এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ওপর। এই পরিস্থিতিতে চাল উৎপাদন সচল রাখতে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষের খানা বা পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং কর্মসংস্থান ও জরুরি সেবা চালু রাখতে বিশ্ব ব্যাংক এই জরুরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।

অনুমোদিত তহবিলের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ বা খাদ্য নিরাপত্তা জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় মিলবে ৩০ কোটি ডলার। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। বাংলাদেশ তার চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি সার আমদানি করে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন জরুরি সার আমদানি করা সম্ভব হবে, যার অর্ধেকই হবে ইউরিয়া সার। এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের অধীনে থাকা প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান চাষ নিশ্চিত হবে।

 

বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সারের সরবরাহে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা কেবল খাদ্য নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং দারিদ্র্য বাড়িয়ে তুলবে এবং বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে।

অন্যদিকে, ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ বা আপদকালীন জরুরি সাড়াদান প্রকল্পের আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সংকটকালীন সময়ে মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা এবং চাকরি টিকিয়ে রাখা। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য দ্রুত নগদ অর্থ স্থানান্তর ও জীবিকা নির্বাহের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ এবং পানির মতো জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে জ্বালানি ও শক্তি সরবরাহের পেছনেও এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই এই প্রকল্পের অর্থ ছাড় করার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তাদের ক্রাইসিস প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টুলকিট বা সংকটকালীন প্রস্তুতি তহবিলের আওতায় এই অর্থ দ্রুত ছাড় করা হচ্ছে। মূলত চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ দিয়ে এই নতুন তহবিলের সংস্থান করা হয়েছে, যাতে সংকটের মুহূর্তে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে সরাসরি সম্পদ বণ্টন করা যায় এবং মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের ধাক্কা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।




মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, আসছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত ২৬ জুন ২০২৬ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনে অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো, কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র প্রদান, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইন জুয়া, সাইবারভিত্তিক মাদক পাচার এবং অর্থপাচার রোধে আইন আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও নতুন আইনে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী নয়, বরং রোগী হিসেবে বিবেচনা করে বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণ এবং কাউন্সেলিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও স্মারক উন্মোচন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।




খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

গত ২৬ জুন ২০২৬, ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী সমাধান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য মানববন্ধন ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান, পিপিএম (সেবা)

কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সচেতনতামূলক চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। তারা যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।




নিজস্ব বাগানের কাঁঠাল বিতরণ করল দিনাজপুর জেলা কারাগার

দিনাজপুর জেলা কারাগারের নিজস্ব বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি কাঁঠাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আত্মনির্ভরশীলতা, সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।




মাদকবিরোধী দিবসে নোয়াখালীতে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

গত ২৬ জুন ২০২৬ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকের ভয়াবহতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর পর্দা উঠল আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে

গত ২৬ জুন ২০২৬ দেশের বেসবল অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ

“বেসবলের শক্তি, তারুণ্যের অঙ্গীকার; ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের নিজস্ব মাঠ না থাকায় প্রতিযোগিতাটি বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, দেশের যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে বেসবলের মতো আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খেলাধুলার আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির তৃণমূলভিত্তিক সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বেসবলের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং এটি যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ক্রীড়ার উন্নয়নে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্পৃক্ততা তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং ক্রীড়াবান্ধব অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই খেলাটি বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, সম্মিলিত উদ্যোগে ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ এবং বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। এ সময় বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে বেসবলের বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে খেলাটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।




আপিল মঞ্জুর, ডেন্টাল ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন সনদ ইস্যু ও তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালিয়ে যাওয়ার অনুমতির নির্দেশ–সংবলিত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

১০ বছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এ রায় দেন। ফলে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, রেজিস্ট্রেশন সনদ ইস্যুসহ ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি প্রদানে পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০১৭ সালে আপিল করে। এই আপিল সমর্থন করে বিডিএস পাস করা ডেন্টিস্টদের পক্ষে একজন চিকিৎসক বিবাদী হিসেবে যুক্ত হন। শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে বুধবার রায় দেওয়া হয়।

আদালতে মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল আলম। বিডিএস পাস করা ডেন্টিস্টদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) দিতে বিএমডিসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতির নির্দেশ ছিল। আপিল বিভাগ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন। হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়েছে। ফলে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।