পাচার করা অর্থের সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন : অর্থমন্ত্রী

দেশে বা বিদেশে সঠিক, পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদনের অভাবে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে তার প্রকৃত ও সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন লিখিত প্রশ্ন টেবিলে উত্থাপিত হয়। বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের বৈঠকে এই পর্যায়ে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

নেত্রকোনা-৫ সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অবৈধভাবে পাচারকৃত টাকার মোট পরিমাণ কত? কী পরিমাণ টাকা ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তা কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে?

উত্তরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিভিন্ন জটিল পদ্ধতি অবলম্বন করে বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকে এবং এই বিষয়ে দেশে বা বিদেশে সঠিক, পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদনের অভাবে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে তার প্রকৃত ও সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। এই অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ বাংলাদেশের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, রফতানি ও রেমিট্যান্স আয়ের এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ, বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয়ের প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ, নীট বৈদেশিক সহায়তা এবং এফডিআই প্রবাহের প্রায় দ্বিগুণ।”




নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ পরিবর্তন করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পেলে, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।

এসময় ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।




বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ৩টা ৩৫ মিনিটে (স্থানীয় সময় ৫টা ৩৫ মিনিট) বেইজিং পৌঁছান।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় (স্থানীয় সময় দুপুর ২টা) দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ অংশ নেন। এ সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের এক হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

গ্রীষ্মকালীন দাভোসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সেরা অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।




শ্রমিক অসন্তোষে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের কারখানা বন্ধ

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে কারখানা লে-অফ বা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানিয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ মৌখিকভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। লে-অফের ফলে কারখানার প্রায় পাঁচ হাজার কর্মচারী ও শ্রমিক সাময়িকভাবে কাজ থেকে বিরত থাকবেন। সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, চাকরি-সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের অবৈধ ও অযৌক্তিক প্রত্যাশার কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থাই শ্রমিক অসন্তোষের মূল কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানা লে-অফ বহাল থাকবে বলেও জানান কর্তৃপক্ষ।

নিয়মিত ভালো ব্যবসা ও গত কয়েক বছর ধরে ২০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে এপেক্স স্পিনিং। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ আট কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৪৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।

মঙ্গলবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ টাকা ৭০ পয়সায়। কারখানা বন্ধের খবরে আজ (বুধবার) শেয়ারটির দাম প্রায় ২৯ টাকা কমে ৩৩০ টাকায় লেনদেন শুরু হয়েছে।




এক দশক পর রিয়েল-টাইম নজরদারিতে শেয়ারবাজার

প্রায় এক দশক পর আবারও রিয়েল-টাইম সার্ভেইল্যান্স বা তাৎক্ষণিক নজরদারির আওতায় শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার কার্যক্রম শুরু করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাজারে কোনো শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা গেলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তনের কারণ দেখিয়ে দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করে ডিএসই। পরদিন এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেন আবার চালুও করা হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতে তাৎক্ষণিক শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার এই চর্চা প্রায় ১০ বছর পর আবারো ফেরালো ডিএসই। এতদিন শেয়ারদর অস্বাভাবিক ওঠানামা করলে কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে সতর্ক বার্তা প্রকাশ করতো স্টক এক্সচেঞ্জ। এখন সন্দেহজনক লেনদেন হলে সতর্ক বার্তা প্রকাশের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে শেয়ার লেনদেন স্থগিতও করা হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের জন্য আগাম সতর্কবার্তা দেবে, যা আস্থা ফেরাতে সহায়তা করবে। তাছাড়া এটি সন্দেহজনক লেনদেন বিরত থাকতে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মিডওয়ে সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশিকুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, যে শেয়ারগুলোর ওপরে লেনদেন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ডিএসইতে যে সাড়ে ৩শ’ কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে, তার বড় একটা অংশই এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হয়। এর মধ্যে অনেকগুলোর কারখানা বন্ধ। এসব কোম্পানিতে না বুঝেই বিনিয়োগ করছেন অনেক বিনিয়োগকারী। এখানে এটি স্পষ্ট যে, বন্ধ যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, ওই কোম্পানিগুলোতে একটা ‘খেলা’ হচ্ছে। কিন্তু, বিনিয়োগকারী যখন না বুঝে বিনিয়োগ করে ফেঁসে যায়, তখন ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই দোষারোপ করে। এজন্য সতর্কতা হিসেবে লেনদেন স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি ভালো উদ্যোগ।

তবে লেনদেন স্থগিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে বলেন, কোন পরিস্থিতিতে, কতটুকু ভলিউম বা কী পরিমাণ দাম বাড়লে ডিএসই সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে একটি স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা জরুরি। এতে অসাধু চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকানো সহজ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, মাত্র এক দিনের জন্য লেনদেন স্থগিত করা যথেষ্ট নয়। বছরের পর বছর উৎপাদন বন্ধ থাকা যেসব কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিকভাবে দরবৃদ্ধি হয়, স্থায়ীভাবে সেগুলোর লেনদেন স্থগিত হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে এই ধরনের চর্চা রয়েছে এবং সেখানে দীর্ঘ সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত তালিকাচ্যুতও করা হয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে।

তার মতে, কোনো কোম্পানি টানা তিন বছর উৎপাদনের বাইরে থাকলে সেটিকে পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করা উচিত। যদিও তালিকাভুক্তির বিধিমালা অনুযায়ী এই বিধানটি বিদ্যমান রয়েছে। তবে অতীতে বিনিয়োগকারীদের তীব্র বিরোধিতার কারণে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তালিকাচ্যুত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ডিএসইর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এই উদ্যোগ নেবে- এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওইসব কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা না হলে বাজারে বছরের পর বছর দুর্বল ও অকার্যকর কোম্পানির আধিপত্য বজায় থাকবে। যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতির কারণ হওয়ার পাশাপাশি বাজারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

শেয়ারবাজারে রিয়েল-টাইম নজরদারির ইতিহাস

১৯৯৮ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যখন স্ক্রিনিং ও অটোমেটেড ট্রেডিং শুরু হয়, তখন সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারি ব্যবস্থা ছিল মূলত প্রাথমিক সফটওয়্যার-নির্ভর। ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পর বাজারের নজরদারি ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা ধরা পড়ে। এরপরই স্টক এক্সচেঞ্জে একটি আন্তর্জাতিকমানের ‘রিয়েল-টাইম সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ বা তাৎক্ষণিক লেনদেন তদারকি ব্যবস্থা স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএসইতে নাসডাক-এর ‘এসএমএআরটিএস’ মার্কেট সার্ভেইল্যান্স সফটওয়্যার বসানো হয়, এখনো এই সার্ভেইল্যান্সের অধীনে বাজারে নজরদারি করা হয়।

ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ২০১৫ সালে বাজারে রিয়েল-টাইমে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ভলিউম বা লেনদেনের অসংগতি ধরতে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা বা ‘অ্যালার্ট’ তৈরির ব্যবস্থা চালু হয়। এই পদ্ধতিতে ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত ‘অস্বাভাবিক দর ওঠানামা’র কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অনেকগুলো কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সাময়িক স্থগিত বা ‘হল্ট’ করার রেওয়াজ চালু থাকে। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বের সময়ে ২০১৭ সাল থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের এই ‘হল্ট’ করার ক্ষমতায় লাগাম টানা হয়। সেই থেকে প্রায় ১০ বছর রিয়েল-টাইম নজরদারি বন্ধ রাখে স্টক এক্সচেঞ্জ।

নতুন করে আবারো এই উদ্যোগ কেন

বিগত বছরগুলোতে শেয়ারবাজারকে কারসাজি করার জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে ড. এম খাইরুল হোসেন ও অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের দুই মেয়াদকালে প্রায় ১৪ বছরে দেশের শেয়ারবাজারকে জুয়ার প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সময়ে বিগত বছরগুলোর কারসাজি চিহ্নিত করে শাস্তি হিসেবে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হলেও কারসাজি বন্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তবে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে চলতি মাসের শুরুতে বিএসইসির দায়িত্ব গ্রহণ করেই নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন।

গত ৪ জুন বিএসইসিতে দায়িত্ব গ্রহণের দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং কিংবা অন্যান্য কারসাজি দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারসাজি সন্দেহ হলে আমরা রিয়েল টাইম মনিটরিং করে রিয়েল টাইম অ্যাকশনে যাব। কারণ দর্শানোর জন্য ৭ দিন-১৪ দিন অপেক্ষা করব না। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক লেনদেন স্থগিত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, যেখানে ইনসাইডার ট্রেডিং, কারসাজি বা তথ্য ফাঁস কিংবা গুরুতর ক্ষেত্রে যৌক্তিক সন্দেহ দেখা যাবে, সেখানে বিএসইসির তত্ত্বাবধানে স্টক এক্সচেঞ্জকে তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। যার মধ্যে প্রয়োজনে ওই সন্দেহাতীত কোম্পানির লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমি একটি বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমাদের উদ্দেশ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য বাজারের স্বাভাবিক উত্থান-পতন ঠেকানোও নয়। আমাদের উদ্দেশ্য ফেয়ার প্রাইস বা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তথ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।

তার ভাষায়, মূল্য নির্ধারণ করবে বাজার, কারসাজিকারী নয়। সৎ বিনিয়োগকারী এবং সৎ ব্যবসায়ীদের ভয় করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু যারা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করবে, অথবা কারসাজি করবে কিংবা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করবে তাদেরকে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমরা বাজার শৃঙ্খলা, বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সিকিউরিটিজ আইনের যথাযথ প্রয়োগে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সিডিবিএলের সমন্বয়ে একটি আধুনিক বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা তথা সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম গড়ে তুলবো। যেখানে রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা থাকবে। যদিও পুরো বাজারের উপরই তদারকি পরিচালিত হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যানের ওই ঘোষণার পরপরই কয়েকদিনের মধ্যে ডিএসইকে রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের ক্ষমতা পুনরায় দেওয়া হয় বলে স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে। আর ওই ক্ষমতা পাওয়ার পর ডিএসই এরইমধ্যে দুটি কোম্পানির ওপর রিয়েল-টাইম অ্যাকশন নিয়েছে। পরে বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তানভীর হাবিব রহমান গত রোববার (২১ জুন) ডিএসইর সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে শেয়ারবাজার কারসাজি রোধে রিয়েল-টাইম নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান তার ছেলের স্নাতক শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

যে দুই কোম্পানির লেনদেন স্থগিত হলো

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে কারসাজি সন্দেহে তাৎক্ষণিক শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা দুটি কোম্পানিই শেয়ারবাজারের ‘জেড’ শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ার এক মাসে ৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৩৯ টাকায় পৌঁছায়। আর লেনদেন স্থগিতের পর সেটির দাম গত সোমবার পর্যন্ত ৩২ শতাংশের বেশি কমে ১৬২ টাকায় নেমে আসে। তবে মঙ্গলবার শেয়ারটির দর আবারো বেড়ে যায়।

একইভাবে সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারদর এক মাসের ব্যবধানে ৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়, অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। লেনদেন স্থগিতের পর এই শেয়ারটির দাম গত সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১৪ শতাংশ কমে ৭৫ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোনো শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন) আছে কি না, যা দামের পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। এরপরও সন্দেহ দূর না হলে লেনদেনের ধরণ বিশ্লেষণ করে সাময়িক এই স্থগিত আদেশ দেওয়া হচ্ছে। তবে, পরে ওইসব শেয়ারের সম্ভাব্য কারসাজি বা অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করা হবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

ডিএসই ও বিএসইসির শীর্ষ কর্তারা যা বলছেন

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন, বহু বছর ধরে এ ধরনের লেনদেন স্থগিতের চর্চা না থাকায় বিষয়টি নতুন বা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এমন পদক্ষেপ নেব।

তিনি বলেন, বাজারে বিকৃতি বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রিয়েল-টাইম নজরদারি একটি কার্যকর পদ্ধতি। এ ধরনের নজরদারির জন্য ডিএসইর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থারও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, এই ধরনের লেনদেন স্থগিতাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আগাম সতর্ক সংকেত। অতীতে সন্দেহজনক লেনদেনের তদন্ত শেষ হতে অনেক সময় লাগত। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট শেয়ার কিনে ক্ষতির মুখে পড়তেন। এখন তারা আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবেন।




বিকেলে শেষ হচ্ছে দরপত্র জমার সময় ফেব্রিক্সসহ ৩৭ লট পণ্য নিলামে তুলেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসবিহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কন্টেইনার অপসারণে ৩৭ লট পণ্য নিয়ে বিশেষ অনলাইন নিলামের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগ্রহীরা দরপত্র জমা দিতে পারবেন। এর আগে গত ২ জুন সকাল ৯টা থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়েছিল।

কাস্টমসের নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, নিলামে তোলা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স, হার্ড উড ক্র্যাফট, ভেজিটেবল কাটার, কি-রিং, মেটাল হ্যাঙ্গার, ব্রিকস, নাইফ, রাবার চিপস, ইউপিভিসি ফিটিংস, পিভিসি ওয়াটার পাইপ, সুইমিং পুল পাম্প, ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেল, রিলিফ গুডস, কোটেড ডুপ্লেক্স বোর্ড, বিয়ারিং, সার্জিক্যাল মাস্ক ও চেস্ট ফ্রিজারসহ বিভিন্ন পণ্য।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দরে জমে থাকা খালাস না করা পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য ও অনলাইন উভয় ধরনের নিলামের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পচনশীল পণ্য দ্রুত নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থায়ী আদেশ জারি করলেও অতীতে তা কার্যকর বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল। ফলে অনেক খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ধ্বংস করতে হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ধ্বংসে অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করেছে। তবে বর্তমানে পচনশীলসহ নিলামযোগ্য পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, “নিলাম কাস্টমসের একটি চলমান কার্যক্রম। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নিলাম কার্যক্রমের গতি বাড়িয়েছি। এর মাধ্যমে খালাসবিহীন পণ্য বিক্রি করে সরকার রাজস্ব আয় করছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৩৭ লট পণ্য অনলাইন নিলামে তোলা হয়েছে।”

নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে খালাসের পর ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে তা গ্রহণ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে কাস্টমস নোটিশ দেয়। নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যেও পণ্য গ্রহণ না করলে কিংবা মিথ্যা ঘোষণার কারণে জব্দ হওয়া পণ্য হলে তা নিলামে তোলার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে বন্দরে কন্টেনার জট সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ সময় পণ্য পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশিত চার্জ আদায় করতে পারে না।




নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ পরিবর্তন করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পেলে, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।

এসময় ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।




লিবিয়ায় দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির জেনারেল কমান্ডের সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট জেনারেল খাইরি আল-তামিমির সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।

সম্প্রতি লিবিয়ার বেনগাজি সফরে রাষ্ট্রদূত এ বৈঠক করেন বলে জানিয়েছে ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

বৈঠকে বেনগাজিসহ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

এছাড়া, বেনগাজিসহ লিবিয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্পে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন।




চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিউ মার্কেটে আগুন, ৬ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নিউ মার্কেটের দোতলায় এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মার্কেটের একটি দোকানে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত ‘রাজশাহী স্টোর’ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের আরও ৩ থেকে ৪টি কাপড়ের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট, পরে শিবগঞ্জ থেকে ২টি ও নাচোল থেকে আরও ১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। প্রায় ২ ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. সাঈদ হাসান শুভ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক  শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলাম বলেন, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আমরা আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পারি। তারপর প্রাথমিকভাবে ৩টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলা থেকে আরও ৩টি ইউনিট যোগ দেয়। প্রায় ১ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। তবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করছি।