সরকারি ফি ‌‌‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্টে নেওয়ার আহ্বান গভর্নরের

‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহারে সরকারি ফি ও চার্জ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, সারা দেশে একক কিউআরভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গভর্নরকে আহ্বায়ক করে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর।

সভায় গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে, ফলে টাকা ছাপানো ও পরিবহনের ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকরা সহজে ও সুবিধামতো বিভিন্ন বিল, ফি ও চার্জ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ডিজিটাল সেবার সুবিধা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে যাবে।

তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ফি ও চার্জ নেওয়ার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই সীমিত পরিসরে বাংলা কিউআর চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও জানান গভর্নর।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক (আইটি) মুহাম্মদ জাকির হোসেন, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান, নির্বাহী পরিচালক সরওয়ার হোসেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।




চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার তদারকি ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. ফজলে হুদার টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ মজুতদার ও বাজার অস্থিতিশীল করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সঠিক সময়ে বিতরণ নিশ্চিত করতে খাদ্যবান্ধব ডাটাবেজের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চাল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।




মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত খুলবে, আশা তথ্য উপদেষ্টার

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত খুলবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সফরের পর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার খুলছে কিনা- জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এই ব্যাপারটা আসলে আমার পক্ষে জবাব দেওয়া কঠিন। এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেবেন কারণ তারা মিটিংয়ে ছিলেন। কিন্তু আমরা এখান থেকে যেটা বুঝতে পারছি, এই ব্যাপারটা ভালোভাবে আলোচনা হয়েছে এবং আমি কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তার ক্ষেত্রে খেয়াল করেছি, আমার কাছে মনে হলো—আমি এটাও আবারও বলছি, খুব নিশ্চিতভাবে বলছি না—এটা খুব দ্রুতই উন্মুক্ত হবে। আমরা এটা আশা করতে পারি, নিশ্চয়ই।

গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, এ বিষয়ে আগে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সেটির সব সুপারিশের সঙ্গে সরকার শতভাগ একমত নয়। আরও বিস্তৃত আলোচনা ও নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে সময় নেওয়া হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সরাসরি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আগের কমিশনের প্রতিবেদনটি যোগ্য ব্যক্তিদের পরিশ্রমের ফল এবং সেখানে স্টেকহোল্ডারদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের নিজস্ব কিছু ভাবনা রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে কিছু ঘাটতিও রয়েছে বলে সরকারের কাছে মনে হয়েছে। তাই বিভিন্ন পক্ষের মতামত এবং নতুন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, এটি তার পোস্ট ছিল না। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‌‘কোনো একটা ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বলেছে, তার মানে এটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তা না। আবার অন্যভাবে নেবেন না প্লিজ। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব আমাদের সমাজে এখন তৈরি হয়েছে। কিন্তু একটা রাষ্ট্র কাজ করবে তার মতো করে। আপনি যে কথাটা বললেন, এটা যদি সত্য হয়, একটা রাষ্ট্র কারো ওপরে কোনো অন্যায়-অবিচার করবে না। কোনোভাবেই করবে না। যে ছাত্রের কথা বলছেন, এটা যদি এ রকম হয়ে থাকে যে এটা আসলেই এডিট করা ছিল, এখন কেউ একজন বলেছে—সেটাকে ভিত্তি করে আসলে রাষ্ট্র কাজ করবে না। এটা মনে রাখতে হবে। রাষ্ট্রের মেকানিজম আছে, সেটা চেক করার মতো এক্সপার্টিজ আছে। এই যে স্ক্রিনশটের কথা বলছেন, সেটা যদি ফেইক হয়ে থাকে, সেটাকে দেখে সেটার ভিত্তিতে কাজ করে ব্যবস্থা নেবে। এতে কোনো রকম কোনো সমস্যার কিছু নাই।’

তিনি বলেন, একজন জাইমা রহমান (প্রধানমন্ত্রীর কন্যা) আর একজন অন্য কোনো রহমান, বা অন্য কোনো নারী এই সমাজে—রাষ্ট্রের কাছে সমান অধিকার প্রাপ্য। আমি আবারও বলছি। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা, তার স্ত্রী, অথবা একজন সাধারণ মানুষ আমরা যারা আছি বা যে কেউ—অত্যন্ত প্রান্তিক কোনো নারী, কারো কন্যা, কারো স্ত্রী—রাষ্ট্রের কাছে সমান অধিকার রাখেন।

‘আমরা কিন্তু কিছু ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করছি। এই ধরনের কুৎসা, নোংরা কথা এই সরকার সহ্য করবে না। নারী হলেই কতগুলো এক্সট্রা নোংরা কথা এসে হাজির হয়। এটা পুরুষদের ফেস করতে হয় না। নারী হলে কতগুলো বীভৎস, বীভৎস কথাবার্তা নিয়ে হাজির হওয়া হয়—এগুলো আমরা থামাবো। আমরা এগুলো কগনিজেন্সে নেব এবং নিশ্চিত করব, আপনি যেটা বলছেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ—যিনি জড়িত নন—অবশ্যই তিনি কোনো সমস্যায় পড়বেন না।’

উপদেষ্টা বলেন, নারীর প্রতি অনলাইন কুৎসা, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে এটা নিয়ে কথা বলেছি। তিনি শুধু একজন কন্যার বাবা সেজন্য না, একজন প্রধানমন্ত্রী আসলে এই রাষ্ট্রের যত নারী আছে তাদের এই নিরাপত্তার দায়িত্বেও থাকেন। উনি অত্যন্ত সিরিয়াস। আমরা এটা খুব সিরিয়াসলি নেব। এই কথাটা সবাই যেন মন দিয়ে শোনেন সেটা আবেদন করছি। এটা যে একটা মারাত্মক ক্রাইম, এই ক্রাইমটা যে করা যাবে না, এটা তাদের মনে রাখতে হবে।’

অনলাইনে অপতথ্য ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে নেপথ্যে কাজ হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজে এটাকে চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব দ্রুত করা যায়। আমি আপনাদের জানিয়েছি, আবারও বলি, আমাদের একটা লয়ার্স প্যানেল তৈরি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটা তৈরি হয়ে গেলেই আমরা খুব দ্রুত এসব ব্যাপারে স্টেপ নেওয়া শুরু করব। তারা লিগ্যাল নোটিশ থেকে শুরু করে আইনি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারব।

‘ডিসইনফরমেশন করা যাবে না, এগুলো মারাত্মক ক্রাইম। এগুলোর ব্যাপারে আমি আবারও বলছি চার মাস গেলো, এখনো খুব বেশি সময় চলে গেছে তা না। আমাদের প্রস্তুতি শেষ হলে আপনারা আমাদের পদক্ষেপ দেখবেন।’

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে বদলির বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বলা হচ্ছে মাজারের অর্থের স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মাজারে তার একটা পদক্ষেপকে রিলেট করার কথা বলছেন। এটা কেউ কেউ করছে অনলাইনে। এটাকে আমরা এভাবে কেন বলব? মানে ঘটনাটা এটার পরে ঘটেছে বলে এই ধরনের একটা পারসেপশন তৈরির চেষ্টা হয়তো আছে।

তিনি বলেন, আমাদের মাজারগুলোতে কি হয়, কী কেমনভাবে হয় এটা নিয়েও একটা গ্রুপ আছে যারা, ইভেন আমরা ইন্টারিমের সময়ে দেখেছি রীতিমতো মাজারে হামলা হয়েছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। তো একটা গোষ্ঠীও আছে যারা এটাকে এভাবে ফ্রেম করতে চেষ্টা করবে।

‘সরকারের ট্রান্সপারেন্সি যেমন থাকবে, সরকার তার জুরিসডিকশনের মধ্যে করা কিছু কাজ সবসময় আসলে তার জায়গা থেকে ব্যাখ্যাও দেবে না। এটাই নিয়ম। কিছু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা থাকতে পারে। আর এই ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলাই হয়েছে, বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি আসলে আর কিছু বলার থাকবে না।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, স্পেকুলেশন নানান রকম করতে পারে। এই যে বললাম না, আমরা যখন যাই করি, যাই ঘটাই না কেন নানান স্পেকুলেশন ঘটতে থাকে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে নানান রকম ইন্টারেস্ট গ্রুপ আছে। আর সরকারের বক্তব্য যেটা, সেটাই আপাতত এখানে বলবৎ থাকবে।




এমডির অপসারণ দাবির পর রূপালী ব্যাংকে জিয়া পরিষদের তিন নেতা বদলি

রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের অপসারণ দাবি করে স্মারকলিপি দেওয়ার পর জাতীয়তাবাদী ঘরানার সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’-এর শীর্ষ তিন নেতাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংগঠনটির সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া স্মারকলিপি এবং তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন নেতার বদলির আদেশ জারি করে।

বদলিকৃত নেতারা হলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার, যাকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এস এম নিয়াজ মোর্শেদকে ময়মনসিংহে এবং সদস্যসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে।

জিয়া পরিষদের অভিযোগ, একই আদেশে মোট ১১ জন কর্মকর্তার বদলি করা হলেও অন্যদের অবমুক্তির সময়সীমা ১৮ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটির এই তিন নেতাকে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, একই বদলি আদেশে স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক মীর আবু নাসের জয়কে ঢাকার মতিঝিল করপোরেট শাখায় পদায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৪ জুন অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনে জিয়া পরিষদ। একইসঙ্গে তার অপসারণের দাবিও জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করা হয়, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের ব্যয়, পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

তবে এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।




ফার্মগেটে বিএসটিআই’র ভ্রাম্যমাণ আদালত: সিএম লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় পরিচালিত বিএসটিআই’র ভ্রাম্যমাণ আদালতে সিএম লাইসেন্সবিহীনভাবে পণ্য বিপণনের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৯ জুন ২০২৬) বিএসটিআই’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানমের নেতৃত্বে এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর সহায়তায় ঢাকা মহানগরীর তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে বিএসটিআই’র প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা মো. শহিদুল আলম, ফিল্ড অফিসার (সিএম) এবং পরীক্ষক (মেট্রোলজি) সোহানুর রহমান অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ‘টেক্স পয়েন্ট মার্ট’ নামীয় প্রতিষ্ঠানে টেক্সটাইল কালার ফাস্টনেস রেটিংয়ের সিএম লাইসেন্স যাচাই করা হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে কোনো বৈধ সিএম লাইসেন্স নেই। এ অপরাধে বিএসটিআই আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সিএম লাইসেন্স গ্রহণের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যথায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

জনস্বার্থে মাননিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা সুরক্ষায় বিএসটিআই’র এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




ভোলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ১,৪৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, জরিমানা ৫ হাজার টাকা

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ হাজার ৪৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লালমোহন উপজেলার সদর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তোতা মিয়া প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের কর্মকর্তারা।

মোবাইল কোর্টে হাসান বেকারির স্বত্বাধিকারী মো. শাহিন হোসেনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ মজুদ, বিক্রয় ও প্রদর্শনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে তার প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৪৮০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)’র মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, মদ ও মোটরসাইকেল জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ গাঁজা, মদ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ৬৭ দশমিক ৫ কেজি ভারতীয় অবৈধ গাঁজা, ৪ বোতল মদ এবং ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৫০ টাকা।

সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এসব মাদকদ্রব্য ও সামগ্রী জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন জানায়, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।




বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আয়োজনে পালিত হলো ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপিত হয়েছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল— “Transforming How Ocean Data is Shared” (সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন)।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বানৌজা ঢাকার মাল্টিপারপাস হলে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

সেমিনারে সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার, নিরাপদ নৌ-চলাচল, ব্লু ইকোনোমির বিকাশ এবং আধুনিক সামুদ্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য-উপাত্তের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ সময় দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন এবং সামুদ্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বক্তারা বলেন, সঠিক ও আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য নিরাপদ নৌ-পরিবহন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৮৩ সাল থেকে দেশের সমুদ্র অঞ্চল এবং সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন নদীপথে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নটিক্যাল চার্ট প্রকাশের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-চলাচল এবং জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।




শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে মেন্টর তৈরির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষক (মেন্টর) তৈরির প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, মাদক প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার কৌশল এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেন্টররা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং শিক্ষার্থীদের মাদকের কুফল সম্পর্কে অবহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা।




পানি সংকট মোকাবেলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ পানি সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এশিয়ার সব দেশকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

আজ জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এশিয়া ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলি ওয়াটার কনসালটেটিভ বোর্ডের (এএডব্লিউসি) জেনারেল সেক্রেটারি হা সাং জে এর নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্পিকার বলেন, পানি সমস্যা এতটাই তীব্র যে, বাংলাদেশসহ কোনো কোনো দেশের জন্য এটি জীবন-মরণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এ সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে স্বাধীনতার পর থেকেই আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

হা সাং জে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যদেরকে এএডব্লিউসি’র সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে বৈশ্বিক পানি সংকট সমস্যা সমাধানে স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন। ২০২৬ সালে লাওসে অনুষ্ঠেয় এএডব্লিউসি’র বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান করার জন্য তিনি স্পিকারকে আমন্ত্রণ জানান।

এএডব্লিউসি একটি আইনী কাঠামোর মাধ্যমে পানি সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৯ সাল থেকে যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সেজন্য সংগঠনটির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান স্পিকার।

এএডব্লিউসি পানি সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর জাতীয় সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে যে লেজিসলেটিভ কার্যক্রম শুরু করেছে, সে উদ্যোগে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদেরকে যুক্ত হওয়ার জন্য স্পিকার সুপারিশ করবেন বলে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করা হয়। এছাড়া এএডব্লিউসি’র লাওসে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ থাকবে বলে স্পিকার প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন।

উল্লেখ্য, এএডব্লিউসি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের একটি আন্তঃসংসদীয় প্ল্যাটফর্ম, যা পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক আইনী ও নীতিগত সহযোগিতা জোরদার করতে কাজ করে।

সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।




ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ১৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩০ টাকা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হলেও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।




পাকিস্তানের সৌর বিপ্লব থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে: সিপিডি

পাকিস্তানের মতো সৌরবিদ্যুৎ খাতে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করতে হলে বাংলাদেশকে নীতিগত সংস্কার, কর-শুল্ক কমানো এবং সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, তবে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ সংলাপের আয়োজন করে।

 

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব চলছে এবং তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিভিন্ন ধরনের কর ও রাজস্ব সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ খাত নয়, বিদ্যুতায়িত অন্যান্য খাত, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং ব্যাটারি শিল্পের জন্যও প্রণোদনা রাখা হয়েছে। তবে কৃষি খাতে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

 

মোয়াজ্জেম বলেন, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির অগ্রগতিও জানতে হবে। সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তার ভাষ্যে, ‌‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে বাংলাদেশকে বড় পথ পাড়ি দিতে হবে। এই জায়গায় আমাদের মনে হয় পাকিস্তানের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে’।

তিনি বলেন, পাকিস্তান দেখিয়েছে কীভাবে একটি সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া যায়। অল্প সময়ের মধ্যে দেশটিতে রুফটপ সোলারের বিস্তার ঘটেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪১ শতাংশ আসে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে থেকে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ জলবিদ্যুৎ, ৯ শতাংশ পারমাণবিক এবং ৭ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে।

 

সংলাপে ‘সোলার রাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের রিনিউএবল ফার্স্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের নতুন এক রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে পাকিস্তানে কয়েক বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের বিস্ফোরণধর্মী প্রবৃদ্ধি বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিয়েছে, অন্যদিকে, বাংলাদেশে অফ-গ্রিড সোলার হোম সিস্টেম থেকে অন-গ্রিড রুফটপ সোলারে রূপান্তর শুরু হয়েছে।

তারমতে, উচ্চ কর, অর্থায়নের সংকট এবং নীতিগত জটিলতা এ রূপান্তরের পথে বড় বাধা।

বাসিত জানান, ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে সৌর প্যানেল আমদানি ১৭ দশমিক ৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট ইউটিলিটি-স্কেল গ্রিড সক্ষমতার চেয়েও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে আনুমানিক ২৮ থেকে ৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে, যার প্রায় ৯৮ শতাংশই বিতরণভিত্তিক পর্যায়ে।

 

তিনি বলেন, ২০২৩ সালে পাকিস্তানে এ খাতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৭৩ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ পরিবার গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত।

তার ভাষ্য, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, গ্রিড ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা এবং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর মাধ্যম হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার পাকিস্তানের ‘সোলার রাশ’-এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি আরও জানান, চীনে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এক বছরে সৌর প্যানেলের দাম ৪৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তার সম্ভব হয়েছে। দেশটিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগই ভোক্তারা নিজেরা করেছেন।

 

তার তথ্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের কারণে ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন এড়ানো গেছে এবং প্রায় পাঁচ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটি ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি তেল ও গ্যাস আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই ধরনের বিদ্যুৎ সক্ষমতা সংকটের মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশে ১১ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক সৌরবিদ্যুতের বিস্তারকে ধীর করেছে।

সংলাপে ‘ফ্রম অফ-গ্রিড টু অন-গ্রিড: সোলার হোম সিস্টেম টু রুফটপ সোলার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট আতিকুজ্জামান সাজিদ।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি দুই কোটির বেশি মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় এনেছিল এবং এটি একসময় বিশ্বের বৃহত্তম অফ-গ্রিড সৌর কর্মসূচি ছিল। তবে ২০১৩ সালে বছরে ৮ লাখ ৫৩ হাজার সিস্টেম স্থাপনের রেকর্ডের পর ২০১৮ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৩ হাজার ৪৫৫টিতে।

সাজিদ বলেন, সিপিডির ২০২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে দেশে স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের প্রায় ৪৭ শতাংশ অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৫১টি নেট-মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা রয়েছে, যার মোট সক্ষমতা ২১৩ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। শুধু ২০২৫ সালেই ১ হাজার ৫৩১টি নতুন স্থাপনা যুক্ত হয়েছে। দেশের মোট রুফটপ সৌরবিদ্যুতের ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ ঢাকা বিভাগে কেন্দ্রীভূত। তার মতে, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর ২৭ দশমিক ৫ থেকে ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কর ও শুল্ক আরোপ বিনিয়োগ ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র গ্রাহকদের জন্য সহজ অর্থায়নের অভাব, নেট মিটারিং অনুমোদনে জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এ খাতের সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হয়েছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক কর-সুবিধা দিয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের সব সেচ পাম্পকে ধীরে ধীরে সৌরশক্তিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।




হরমুজ পাড়ি দিলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ চার মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। বর্তমানে জ্বালানি বা বাংকারিং নেওয়ার জন্য জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।

বিএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরেই আটকে পড়ে।

পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করলেও ১০ এপ্রিল হরমুজ পাড়ি দিতে গিয়ে পুনরায় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে। নিরুপায় হয়ে জাহাজটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি আজ রাতে হরমুজ প্রণালী পার হতে সমর্থ হয়।

২০১৮ সালে নির্মিত ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে কর্মরত ৩১ জন ক্রু-এর সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমাদের নাবিকদের সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এক চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে তারা যে অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্ব মেরিটাইম খাতে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।

কমডোর মালেক জানান, দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পুরো সংকটকালীন সময়ে জাহাজের ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের মনোবল সমুন্নত রাখতে বিএসসির পক্ষ থেকে সব ধরণের আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহে কখনোই কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য বিশেষ ‘ওয়ার ওয়েজ’ (War Wage) প্রদান করা হয়েছে।