অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে যেসব বিষয়ে পাঠ্যক্রম ও বিষয়বস্তু অভিন্ন, সেসব বিষয়েও একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এছাড়া আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব বলে আশা করছি। তিনি মাদরাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বেতন না পাওয়ার বিষয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা ভাগ্যবান, তারেক রহমানের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। আমার এই বয়সে বিশ্বপরিমণ্ডলে তারেক রহমানের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী দেখেছি বলে মনে হয় না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী কেক কেটে, পায়রা উড়িয়ে এবং বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার ও অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।




আনোয়ার ইব্রাহিমের দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আজ সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাসভবনে এই মধ্যাহ্নভাজের আয়োজন করা হয়। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

 

মধ্যাহ্ন ভোজকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মালয়েশিয়ার শিল্পীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’ গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশ করে। দুই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁদের সহধর্মিণীরা এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

 

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান ভবন থেকে নেমে আসলে প্রবেশ পথের দুই পাশে মালয়েশিয়ার শিশু-কিশোররা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে উভয়কে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান শিশুদের সাথে কথা বলেন। তাঁরা বাচ্চাদের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মূল ফটকে গাড়ির সামনে এসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে বিদায় জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরে শাংগ্রিলা হোটেলে ফিরে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে।




সিংড়ায় ২০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, একজনের কারাদণ্ড

নাটোরের সিংড়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। এ অভিযানে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ জাল মজুদ ও ব্যবহার করার অপরাধে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড এবং একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সিংড়া পৌর শহরের সরকারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মৎস্য সুরক্ষা আইন অমান্য করে বাড়িতে চায়না দুয়ারি জাল মজুদ ও এসব জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও একাক্বর (৩৭) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শহিদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে একাক্বরকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানে জব্দ করা প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন, সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন,চায়না দুয়ারি জাল বিলের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী ধ্বংস করছে, যা চলনবিলের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। অবৈধ এ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।তিনি আরও বলেন,মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগতো, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

 

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।

ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রসার এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সঙ্গে সরকার সম্পূর্ণ একমত। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জন ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।




আ. লীগের তৎপরতা ঘিরে ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২২ জুন (সোমবার) থেকে ৩০ জুন (মঙ্গলবার) পর্যন্ত এই মোতায়েন কার্যকর থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা ছাড়াও যেসব জেলা ও মহানগর এলাকায় সেনা মোতায়েন থাকবে সেগুলো হলো— নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও চট্টগ্রাম।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মিছিল, শোডাউন এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পাশাপাশি জানমালের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের জানমাল সুরক্ষার স্বার্থে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ ৯ বিষয়ে একমত দুই দেশের সরকারপ্রধান : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ ৯টি বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধান একমত হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় যৌথ ব্রিফিংয়ের পর তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে আলোচনায় শ্রমবাজার খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বানও জানান তিনি।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মালয়েশিয়া কীভাবে সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন।

বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশের শীর্ষ নেতা ইতিবাচক আলোচনা করেছেন।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘এ সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তারেক রহমানের প্রথম এই মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’




রাজধানীতে সমাবেশের ডাক ১১ দলীয় জোটের

আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট। গণহত্যার বিচারে ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে এ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।

আজ সোমবার জোটের পক্ষ থেকে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয় নগরে এই সমাবেশ হবে।

সমাবেশে জামায়াত আমিরসহ জোটের দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানান হামিদুর রহমান।

তিনি জানান, ‎একই দাবিতে ৪ জুলাই জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল হবে।

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, সামনে আমাদের বৈঠক আছে। সেখানে কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত হবে।




আইটিএফসি থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির অর্থ জোগাতে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) কাছ থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই অর্থায়ন নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় ২১ থেকে ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সভায় আলোচনা করবে বাংলাদেশ ও আইটিএফসি।

বৈঠকে চূড়ান্ত অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানিয়েছে।

 

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তার সঙ্গে থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ।

জ্বালানি আমদানিতে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন
ইআরডি সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তুতি সভায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার, পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানির জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সার আমদানির জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন চাইবে।

বিপিসি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে তাদের প্রয়োজন ছিল ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এরই মধ্যে ছাড় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আগামী অর্থবছরের জন্য বেশি অর্থায়ন সীমা চেয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া আইটিএফসির অর্থায়নে কেনা জ্বালানি এবং সরাসরি স্পট মার্কেট থেকে কেনা জ্বালানির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেন ভবিষ্যৎ দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থনীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং দেশীয় গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের কারণে অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমেছিল।

তবে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিকল্প উৎস ও স্পট মার্কেটের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলা বিদ্যমান চুক্তির আওতায় অনুমোদিত ৬০০ মিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থায়ন ব্যবহার করতে চায়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাতার এনার্জি, ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেড পার্টনারশিপসহ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে।

ফলে বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

 

পেট্রোবাংলা জুন ২০২৬-এ অন্তত দুটি এলএনজি কার্গো কেনার জন্য এই অর্থায়ন ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে।

সার আমদানিতে অর্থায়নের শর্ত শিথিল চায় বিএডিসি
ইআরডি সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিএডিসির জন্য আইটিএফসি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিত এবং ৩০০ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা হিসেবে রাখা হয়েছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সার আমদানির জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আইটিএফসি সাময়িকভাবে অর্থ ছাড় স্থগিত করেছে।

বিএডিসি জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ আইটিএফসির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে প্রথম পর্যায়ের ১০০ মিলিয়ন ডলার শুধু সৌদি আরব থেকে সার আমদানির জন্য নির্ধারিত থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সংস্থাটি চায়, ভবিষ্যৎ অর্থায়ন চুক্তিতে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ওপর আমদানির শর্ত না রেখে বিশ্বের যেকোনও দেশ থেকে সার আমদানির সুযোগ রাখা হোক।

৩.৫ বিলিয়ন ডলারে বাড়তে পারে অর্থায়ন সীমা
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইটিএফসি প্রতিনিধি দল দেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও অর্থায়ন সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার আইটিএফসির কাছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট অর্থায়ন সীমা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ রাখতে এই অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।

আইটিএফসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও অর্থায়ন প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে আইটিএফসির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা
সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক আইটিএফসি ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৭ সাল থেকে আইএসডিবি বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে।

১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জ্বালানি তেল আমদানিতে অর্থায়ন শুরু করে সংস্থাটি। ২০০৮ সালের পর থেকে এই সহায়তা আইটিএফসির মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আইটিএফসি প্রায় ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

বাংলাদেশ আবুধাবির এডিএনওসি থেকে মুরবান ক্রুড এবং সৌদি আরবের আরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড আমদানি করে। এসব আমদানির অর্থ পরিশোধে আইটিএফসি অর্থায়ন দিয়ে থাকে।

এলএনজি আমদানির জন্য ২০২৪ সালে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী জেদ্দা বৈঠকে এই অর্থায়ন প্রস্তাবই প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।

সূত্র : টিবিএস




ঢাবিতে মেসিদের খেলা দেখবে আর্জেন্টিনা থেকে আসা প্রতিনিধি দল

বিশ্বকাপ ঘিরে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির প্রতি ভক্তদের উন্মাদনা দেখতে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন দেশটির ভ্রমণ লেখক ও কনটেন্ট নির্মাতা ড্যান লান্দে। সোমবার (২২ জুন) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের মাঠে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচ উপভোগ করার কথা রয়েছে লান্দে ও তার টিমের। এ সময় তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

ড্যান লান্দে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ভ্রমণ লেখক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংস্কৃতিক দূত। তিনি রুলো নামেও ব্যাপক পরিচিত। গতকাল রোববার সকালে লান্দে ও তার টিম ঢাকায় আসে। ২৯ জুন পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা রয়েছে।

সফরকালে ড্যান লান্দে ও তার দল বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে বড় পর্দায় আগামী ২২ ও ২৮ জুন আর্জেন্টিনার খেলা দেখবেন। এর মধ্যে আজ রাতে মুহসিন হলের মাঠে উপস্থিত থেকে ডালাসে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার খেলা দেখবেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাবি আর্জেন্টিনা ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, আমি ঢাবি আর্জেন্টিনা ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে তাদের সাথে দেখা করেছি। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলা দেখতে আসতে চাচ্ছেন। তবে এটা নির্ভর করছে আজকের পরিবেশ এবং আবহাওয়ার ওপর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মুহসিন হলের মাঠে তারা আর্জেন্টিনার খেলা দেখবেন।

এর আগে রোববার আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি দল ও দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন নাহিদুজ্জামান শিপন। তিনি জানান, ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা গ্রাউন্ড তৈরি হয়েছিল আর্জেন্টাইন ফ্যানদের। ২০২৬ সালেও একইরকম একটা পরিবেশ ও আবহ তৈরি হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে খেলা দেখতে চেয়েছে।

এদিকে আগামী ২৪ জুন দুপুর ২টায় লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ফ্ল্যাশমব আয়োজন করছে ঢাবি আর্জেন্টিনা ঐক্য পরিষদ। সেই আয়োজনেও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি দলের।

ঢাকার আর্জেন্টিনা দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষের কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তাদের এই বাংলাদেশ সফর। সফরকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে সময় কাটানো, বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস এবং বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতা জানার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ড্যান লান্দের সঙ্গে এসেছেন আর্জেন্টিনার সৃজনশীল পেশাজীবী ম্যানুয়েল হাভিয়ের এসকেরা রামোন, মার্তিন দে এসকালাদা, মার্তিনা জয়ে গন্ডেল ও সান্তিয়াগো কন্দে।

সফরসূচি অনুযায়ী, লান্দে ও তার দলের পুরান ঢাকার অলিগলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, আমিনবাজার এবং মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এসব জায়গায় তারা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সময় কাটাবেন। এছাড়া আগামী ২৪ জুন লিওনেল মেসির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

প্রসঙ্গত, ২০২২ বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে পরিচিতি পান ড্যান লান্দে। এসময় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি আর্জেন্টাইনদের সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালান, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ও বন্ধুত্বে নতুন মাত্রা যোগ করে।




মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দিতে, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়ার এবং আরও বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর। আমি মান্যবর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি যেন আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হয়।’

তারেক রহমান অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলোও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং সাশ্রয়ী; যেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পাবে। এসব বিষয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন।

বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগসংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই দলিলগুলো বিনিময় করেন।

পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান এবং আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দ্বিপাক্ষিক পরামর্শসহ বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি।’

তিনি জানান, আলোচনায় আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন উচ্চ-মূল্যের খাত স্থান পেয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’র আলোচনা এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি শক্তিশালী ম্যান্ডেট লাভ করেছে।

তিনি বলেন, ‘জনগণের বিপুল সমর্থনে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মালয়েশিয়া যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, তারা আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ চায় এবং ‘আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এছাড়া বাংলাদেশ আরসিইপি-তে  যোগ দিতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন।

উভয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় আমি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’

দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। আমরা আঞ্চলিক শান্তি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে উন্মুখ।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করেছিল এবং দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এছাড়া ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সফর বন্ধুত্বকে আরও গভীর এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বিস্তৃত করেছিল।

তারেক রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথম যেসব ফোনকল পেয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কল।

তিনি বলেন, ‘তিনি (ইব্রাহিম) আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে এখানে আসতে পেরে আমি ও আমার স্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত।’

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে তিনি মালয়েশীয় সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন ‘সেরি পারদানা কমপ্লেক্স’-এ রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন। সেখানে মালয়েশীয় শিল্পীরা বাংলা ও মালয় উভয় ভাষায় গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘পারদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মালয়েশীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। গার্ড অব অনার পরিদর্শন শেষে উভয় প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রিসভার সদস্য ও কর্মকর্তাদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত রবিবার রাতে কুয়ালালামপুর পৌঁছান।




বাগানে পচছে আম, খরচ তুলতেই হিমশিম চাষি

সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির হাড়িভাঙা আমের বাগানে পাকা আম ঝরে পড়ছে। কিন্তু ক্রেতা নেই।

স্থানীয় আড়তেও মিলছে না আশানুরূপ দাম। ৪৮ কেজিতে এক মণ ধরে বিক্রি, পরিবহন ও শ্রম খরচ মিলিয়ে লাভ তো দূরের কথা, পুঁজি ফেরত নিয়েও শঙ্কায় পড়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম। শুধু তিনি নন, ভরা মৌসুমে একই সংকটে উপজেলার অধিকাংশ আমচাষি।

আম চাষি আব্দুল ওয়াহাব জানান, পাঁচ বিঘায় ভালো ফলন হলেও তিন লাখ টাকার বাগান বিক্রি করতে হয়েছে দেড় লাখ টাকায়। পরিচর্যাতেই ব্যয় হয়েছে এক লাখ টাকা। তিনি বলেন, ‘জমি লিজ দিলেও যে টাকা পাওয়া যায়, আম চাষ করে এখন তার চেয়েও কম আয় হচ্ছে।’

নাটোরের সবচেয়ে বড় আহমেদপুর আমবাজার ঘুরে দেখা গেছে, হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকা, আম্রপালি এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা এবং হাড়িভাঙা এক হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বেশি হলেও বাজারে চাহিদা নেই।

ব্যবসায়ী হাসেম আলী বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাগান করেছি। ১০ মন আম্রপালি এনেছিলাম আড়তে বিক্রি করতে। শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ টাকা মণে আম বিক্রি করেছি। ২ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পারলে টাকা উঠে আসত। এখন লাভ দূরের কথা আসল টাকাই উঠবে না।

আড়তদার মোশারফ হোসেন মিঠু বলেন, ‘রাত পর্যন্ত আড়তের সামনে প্রায় ৫০০ মণ আম অবিক্রি পড়ে থাকে। গত বছর একই সময়ে প্রতিদিন এক হাজার মণ আম বিক্রি হতো। বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে মূলধনই উঠে আসবে না।’

তবে কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে লালপুরে আমবাগানের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২২ ও ২০২৩ সালে উপজেলায় ১ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান ছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮১০ হেক্টরে। চলতি ২০২৬ মৌসুমে বাগানের পরিমাণ আবার কমে ১ হাজার ৮০৫ হেক্টরে নেমেছে। গত বছর ২২ হাজার ৯২৩ টন আম উৎপাদন হলেও চলতি বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৬৬০ টন। সরকারি হিসাবে এক বছরে বাগান কমেছে মাত্র পাঁচ হেক্টর বা প্রায় ৩৭ বিঘা। তবে স্থানীয় চাষিদের দাবি, টানা লোকসানের কারণে শুধু এ বছরই ১০০ বিঘার বেশি আমবাগান কেটে ফেলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত জরিপ ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে আগের তথ্যের ভিত্তিতে উৎপাদন ও বাগানের হিসাব নির্ধারণ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। ভবিষ্যতে সংরক্ষণাগার নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে এবং কৃষকদের প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কৃষি বিপণন কর্মকর্তা  মিজানুর রহমান বলেন, ভরা মৌসুমে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমের দাম কমেছে। তবে আমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ‘পোস্ট হারভেস্ট ম্যানেজমেন্ট’-এর দুর্বলতাকে দায়ী করেন। তাঁর ভাষায়, সঠিক সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নাটোরে ১০টি ব্যাচে ১৫০ জন কৃষককে আধুনিক পোস্ট হারভেস্ট ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি কৃষকদের কাঁচা আম বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অনলাইনে বিপণনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেশি তাপমাত্রার কারণে এ বছর একসঙ্গে বেশি আম পেকেছে। একই সঙ্গে একজাতের আমের আধিক্য ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, নিরাপদ উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ও রপ্তানিযোগ্য মান নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের লোকসান অনেকটাই কমানো সম্ভব।




বিমাসহ চাকরি দেবে ওয়ালটন, পাবেন প্রভিডেন্ট ফান্ডও

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক্সিকিউটিভ/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গতকাল ২১ জুন থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এক নজরে ওয়ালটনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি
চাকরির ধরন
প্রকাশের তারিখ
২১ জুন ২০২৬
পদ সংখ্যা
১টি
লোকবল নিয়োগ
নির্ধারিত নয়
চাকরির খবর
আবেদন করার মাধ্যম
অনলাইন
আবেদন শুরুর তারিখ
২১ জুন ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ
২৭ জুন ২০২৬
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
আবেদন করার লিংক
অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

প্রতিষ্ঠানের নাম: ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি
পদের নাম: এক্সিকিউটিভ/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ
বিভাগ: বিটুবি, লিফট সেলস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা: ক্লায়েন্ট এবং অভ্যন্তরীণ স্টেকহোল্ডারদের সাথে কার্যকরভাবে সমন্বয়ে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২-৫ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: টিএ/ডিএ, মোবাইল বিল, মুনাফার অংশ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বিমা, সেবা সুবিধা, উৎসব বোনাস।

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আবেদনের শেষ সময়: ২৭ জুন ২০২৬




ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসলাবাদ সমঝোতা চুক্তির আওতায় ইরানের তেলের পর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের আলোচনায় এ সংক্রান্ত একটি নথির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।

সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্য হোসেইন ঘোরবানজাদেহ তাসনিক নিউজকে বলেছেন, “ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত একটি নথির খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।”

বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে ইরানের যে অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের আদেশে ফ্রিজড অবস্থায় আছে, সেসব অবমুক্ত করতে ইরানি প্রতিনিধিরা মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তির একটি অন্যতম শর্ত ছিল যে ইরানি তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র; তবে এই প্রত্যাহারের মেয়াদ থাকবে ৬০ দিন। এর মধ্যে যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হয়, তাহলে ৬০ দিন পর নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর হবে।

তবে ইসলামবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত অনুসারে, এই চুক্তি যতদিন কার্যকর থাকবে, ততদিন ইরানের ফ্রিজড অর্থ অবমুক্তির সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, কেবল স্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই ইরানের ফ্রিজড অর্থ অবমুক্তির আশা আছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ এমওইউ মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তি। এটির মেয়াদ থাকবে ৬০ দিন এবং এই ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি প্রস্তুত ও স্বাক্ষর করতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিদের।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন, ইসলামাবাদ চুক্তিতে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে যদি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর না হয় তাহলে ৬০ দিন পর ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি




স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ল ইরান

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি চিঠি রেখে গেছে ইরান ফুটবল দল। তাদের এই কাজটিকে হয়তো স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যেত। তবে যে দলটিকে ম্যাচ খেলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকোয় যেতে হয়, তাদের এমন কাজে কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হতে পারে। নিজেদের ইতিহাস এবং ভেন্যু কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকদের জন্য কৃতজ্ঞতার বার্তা বহন করছে ইরানের সেই চিঠি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুসারে খেলার পরই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় ইরানি ফুটবল দলকে। এর আগে তারা সোফি স্টেডিয়ামের লকার রুমে একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে যায়। পরে সেই চিঠির একটি ছবি প্রকাশ করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তারা লিখেছে, ‘হাজার হাজার বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের চেতনা জীবন্ত ও অটল রয়েছে।’

‘ধন্যবাদ লস অ্যাঞ্জেলেস, আপনাদের আতিথেয়তার জন্য। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম গর্ব নিয়ে, সম্মানের সঙ্গে লড়েছি এবং এখন মর্যাদা নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছি।’ এ ছাড়া সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি সকল দেশে শান্তি বজায় রাখার সূক্ষ্ম বার্তা রয়েছে ইরানের চিঠিতে, ‘প্রত্যেক ইরানিয়ানকে ধন্যবাদ, যারা তাদের হৃদয়, আওয়াজ এবং প্রাণ দিয়ে ১৮০ মিনিট আমাদের সমর্থন দিয়েছে। প্রত্যেক দেশের মাঝে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’

ওই চিঠিতে লাল কালিতে ‘৭৬৮’ এবং ‘মিনাব’ও উল্লেখ করে ইরান। মিনাব স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় প্রায় ১৭০ শিশু প্রাণ হারিয়েছিল। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে থেকেই রাজনৈতিক বৈরিতা চলছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের। যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি সেখানে গিয়ে খেলা নিয়েও আপত্তি জানিয়ে আসছিল। শেষমেষ তাতে সফল না হলেও ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, তবে তাদের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত হলেও বেসক্যাম্প করছে মেক্সিকোর তিজুয়ানায়।

dhakapost

অবাক করা বিষয়– ম্যাচের আগেরদিন ভেন্যু শহরে গিয়ে খেলা শেষেই তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হয়। বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল (রোববার) দিবাগত রাতে ইরান মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়ামের। যেখানে ইউরোপীয় জায়ান্টদের বিপক্ষে তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে বেলজিয়ামকে আরেকটি ড্রয়ের হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে। এদিকে, টানা দুই ম্যাচ ড্র করে বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে খেলার আশা টিকিয়ে রেখেছে ইরানও। বেলজিয়ামকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল ইরান। সকালে মিসর-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ শেষে তারা অবস্থান হারিয়েছে। মিসর ৩-১ গোলে জিতে উঠেছে টেবিলের শীর্ষে। এর আগে ইরানের ঐতিহাসিক ড্র ও মূল্যবান ১ পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বেইরানভান্দের বীরত্বগাথা পারফরম্যান্স। বেলজিয়াম ম্যাচজুড়ে ইরানকে কোণঠাসা করতে চাইলেও গোলপোস্টে ছিলেন অটল ও নির্ভীক এক প্রহরী।




বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছি। অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত যে, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, যা মধ্যস্থতাকারী কমিয়ে শ্রমিকদের খরচ হ্রাস করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফর এটি। আমার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছিল এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমার মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন।

তিনি বলেন, তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করেছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

তারেক রহমান আরও বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানাই এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।

তিনি বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ—উভয়েরই উপকারে আসে।

তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে আগ্রহী। আমরা রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-তে যোগ দিতেও আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক একীকরণ প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করে।

তারেক রহমান বলেন,আমি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় করেছি। আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় আমি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি।