চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে সারা দেশে ‘রোল মডেল’ করতে চান রফিকুল ইসলাম বিপুল

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, অন্যায়মুক্ত এবং শতভাগ শিক্ষিত আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম বিপুল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করে তিনি তাঁর এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানান।

​নির্বাচনী প্রস্তুতি ও গণসংযোগকালে রফিকুল ইসলাম বিপুল বলেন,

​”এলাকাবাসী যদি আল্লাহর রহমতে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তবে চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে এমনভাবে সাজাবো যা সারা বাংলাদেশের জন্য একটি রোল মডেল বা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

​দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড কৃষকদের অধিকার ও উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি—কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে।” চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে চরমান্দালীয়ার কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সরকারি যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা রয়েছে, তার শতভাগ যেন সাধারণ কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা হবে। ইনশাআল্লাহ, ইউনিয়নে কোনো অভাব-অনটন বা ফসলি সংকট থাকবে না।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুরো বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ না থাকলেও নিজের জন্মভূমি চরমান্দালীয়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি বদ্ধপরিকর। রফিকুল ইসলাম বিপুল বলেন,

​”আমার ইউনিয়নে কোনো ধরনের অন্যায়, অনাচার বা অত্যাচার বরদাশত করা হবে না। কোনো শিশু-কিশোর যেন অবহেলিত না থাকে এবং ঝরে না পড়ে, সেই লক্ষ্যে কাজ করব। পাশাপাশি চরমান্দালীয়া ইউনিয়নের শিক্ষার মান শতভাগ নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

​একটি শোষণমুক্ত, শিক্ষিত ও উন্নত চরমান্দালীয়া ইউনিয়ন গঠনে তিনি দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দোয়া প্রার্থনা করেছেন।




৯২% ইসরায়েলি মনে করেন যুদ্ধে ‘বিজয়ী ইরান

ইসরায়েলে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা ঘিরে জনমতের চিত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ইসরায়েলি মনে করেন, ইরানই এই সংঘাতের কৌশলগত বিজয়ী।

হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আগাম ইনস্টিটিউট পরিচালিত ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ৯২.১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধ ও পরবর্তী চুক্তির ফলে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

একইসঙ্গে, ৮২.৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই সামরিক অভিযান ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে এবং ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ৭২.৫ শতাংশ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সেই দাবির প্রতি আস্থা রাখেন না, যেখানে তিনি বলেছিলেন—ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে এবং একটি অস্তিত্বগত হুমকি দূর করেছে।

পাশাপাশি ৮৭.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসরায়েল হয় তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো ‘আংশিকভাবে সফল’ হয়েছে।

নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়েও জনমত বিভক্ত ও সমালোচনামুখর। জরিপ অনুযায়ী, ৫৬.৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সামরিক অভিযানের ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ছিল দুর্বল বা ব্যর্থ।

অন্যদিকে, দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা নীতির ভবিষ্যৎ দিক নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৪৮.২ শতাংশ ইসরায়েলি, হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান সমর্থন করেন, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ঝুঁকি থাকলেও।




যেভাবে গুম করা হয়েছিল বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক সহকর্মী ও সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস।

রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিলের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ওই দিন তিনি র‍্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ ও সাইফ স্যারের সঙ্গে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তখন তিনি জানতেন না কার বিষয়ে বা কী উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া হচ্ছে। গাড়িতে থাকা অবস্থায় জিয়াউল আহসান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে “টার্গেট” কখন আসবেন তা জানতে চান। পরে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যান এবং তিনি জিয়াউলকে তার বাসায় নামিয়ে দেন।

পরদিন তিনি ৯ দিনের ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকাকালেই ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী মহাখালী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দিলে তিনি পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সকাল ৯টায় রোল কল হলেও ১৮ এপ্রিলের পর থেকে তা সকাল ৭টায় শুরু হয় এবং জিয়াউল আহসান নিয়মিতই সকালে অফিসে আসতেন।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, একদিন ফোনে কথা বলার সময় জিয়াউলের কাছে আরেকটি কল আসে। তখন তিনি বলেন, “তুই রাখ, তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।” পরে জিয়াউল ও ওই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা হয়। এক পর্যায়ে জিয়াউল নাকি বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এভাবে করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ, তাহলে আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিন।” তিনি আরও দাবি করেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়।

রোববার সকালে মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দেন এই সাক্ষী।




মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, মালয়েশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীন সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশ (মালয়েশিয়া ও চীন) সফরের আগে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরে শ্রম বাজারকে ‘এক নম্বর এজেন্ডায়’ রাখা হয়েছে। কুয়ালামপুরের এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা তুলে ধরে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সফরের প্রথম দিন ২১ জুন প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন ২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক এবং পরে উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।

মালয়েশিয়ায় দু’দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।




বাজেটে নিম্ন আয়ের মানুষের করদায় সাড়ে ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে : সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আয়কর–কাঠামোতে বড় বৈষম্য দেখা গেছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

 

তারা বলেছে, নতুন করকাঠামোয় তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ছে। এই শ্রেণির করদাতাদের করদায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। কিন্তু ৩০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় করা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই করের দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক অনেক কম।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠানে এ কথা বলে সিপিডি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

 

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বাড়ার অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের (শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য) বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় হয় কমছে কিংবা স্থবির আছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী ইপিজেড, জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী বড় প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বলে জানান তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এই বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবলই ‘রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

সরকার বাজেট প্রস্তাবে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণে করা হয়েছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নতুন সরকারের নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অতি আশাবাদী। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এই বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।