দৈনিক বাংলা, টাইমস ও বিচিত্রা পুনরায় চালু করতে হবে: মির্জা ফখরুল

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনামলে বৈষম্যের কারণে বেকার হয়ে পড়া সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক বাংলা’, ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ পুনর্গঠন করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ ও প্রযুক্তির অনেক কিছু পাল্টালেও আমাদের সকল সাংবাদিক ভাইয়ের কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের একজন যোগ্য তথ্যমন্ত্রী আছেন। আমি আশা করব তিনি এই ঐতিহ্যবাহী বন্ধ মিডিয়া হাউসগুলো চালু করতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা চালাবেন।

প্রয়োজনে অংশীজনদের সাথে নিয়ে নতুন নতুন গণমাধ্যমের ক্ষেত্র তৈরি করে সাংবাদিকদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায় না।

১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশালের সময়ও যায়নি, আর বিগত ১৫ বছরের ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরের সেই ভয়াবহ দুঃশাসনের ওপর এখনো কোনো যৌথ বা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সংবলিত বই প্রকাশ পায়নি। তিনি সাংবাদিক ও গবেষকদের এই বিষয়ে দ্রুত কাজ করার এবং তথ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে তদারকি করার অনুরোধ জানান।

বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রচেষ্টা চালালেও অন্যদিকে কিছু কর্পোরেট মিডিয়া হাউসের মালিকরা অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমাদের প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে সম্পাদকের (কালের কণ্ঠ) পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এটি কোনো সভ্যতার মধ্যে পড়ে না। আমি এই অন্যায়ের তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং সাংবাদিক সমাজকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক বা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি সবসময় ভিন্নমত সহ্য করার রাজনীতি করে। ফলে এটিই দেশের সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল, যেখানে সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবীরা সবসময় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারেন। অতীতে বিএনপি যখনই সরকারে এসেছে, দেশে সাংবাদিক নির্যাতন সবচেয়ে কম হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধের যে কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তা যেন আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে আর কখনো ফিরে না আসে, আজকের দিনে সেটিই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সহসভাপতি খায়রুল বাশার, এ কে এম মহসিন, সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ প্রমুখ।




এবার শাহজালালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং করতে চায় সুইজারল্যান্ড

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য ও তুষস্কের পর এবার আগ্রহের কথা জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। এসময় তিনি এ আগ্রহের কথা জানান।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গতিশীল ও বহুমাত্রিকভাবে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের বিমান খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে সুইস প্রতিষ্ঠান সুইসপোর্ট-এর আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরেন দেশটির রাষ্ট্রদূত।

 

জবাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সুইসপোর্টকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আগ্রহের কথা জানায় যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক।




বার্জার পেইন্টসের লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৭৬ টাকা ৮৩ পয়সা। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪০০ টাকা ২৪ পয়সা।

বার্জার পেইন্টসের ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ আগস্ট সকাল ১০ টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট আগামী ৭ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।




চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের ৬ পুরস্কার অর্জন

দশম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে ‘Outstanding Exhibition Organizer’ হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পক্ষে ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন এবং উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। এসময় কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাদেশ এ বছর ৪টি ক্যাটাগরিতে ৬টি পুরস্কার অর্জন করে। বাংলাদেশের ৩টি প্রতিষ্ঠান আড়ং, সাসটেইনেবল বাংলাদেশ এবং ক্লে ইমেজকে বেস্ট অ্যাক্সিবিটর হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া বেস্ট প্যাভিলিয়ন ও বেস্ট বুথ ডিজাইন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পুরস্কৃত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন এবং পুরস্কার দেন ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের উপ-মহাপরিচালক সুন মিং।

 

জানা গেছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট এর সহযোগিতায় চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের Dianchi International Convention & Exhibition Centre এ গত ১১ জুন মেলা ও থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো।

এসময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, খালেদ হোসেন মাহবুব, সুলতানা জেসমিন, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, কুনমিং এ নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকতা এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মেলার সাইড লাইন ইভেন্ট ‘Big Market for all: Export to China’ এ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ চীনে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে কী নোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য দেন।

 

এ বছর বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি মেলায় অংশগ্রহণ করে।

এ মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশ থেকে ২৩০০ এক্সিবিটর অংশগ্রহণ করছে। বাণিজ্য মেলার দ্বিতীয় দিনে Bangladesh Day পালন করা হয়।




ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বাস উল্টে আহত ১০, একজনের কব্জি বিচ্ছিন্ন

বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক যাত্রীর ডান কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ঘোগা ব্রিজ এলাকার ইউটার্নে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহ ফতেহ আলী বাসটি ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথে ঘোগা ব্রিজ এলাকার ইউটার্নে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল বলেন, দুর্ঘটনায় ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।




নিউইয়র্কের প‌থে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে যোগ দিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকা‌লে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উ‌দ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে‌ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা প্রতিমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ করার তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন। তি‌নি জানান, প্রতিমন্ত্রী আজ সকা‌লে নিউইয়র্কের উ‌দ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে‌ছেন।

১৭ থেকে ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। সেগমেন্টে বাংলাদেশের প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের নেতৃত্ব দে‌বেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সেগমেন্টে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ২০ জুন নিউইয়র্ক থেকে প্রতিমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘে স্পেনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হেক্টর গোমেজ এবারের সেগমেন্টে চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবেন।

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট হলো-বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ সহায়তার সমন্বয় সাধনের জন্য একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রতি বছর সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘ সংস্থা এবং দাতা দেশগুলোকে একত্রিত করে একটি সর্বসম্মত মানবিক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় সেগমেন্টে।

সেগমেন্টে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ও জটিল মানবিক জরুরি অবস্থাগুলো মোকাবিলায় সম্মিলিত বৈশ্বিক সাড়াদান, মানবিক সহায়তা জোরদার, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রয়োগ এবং জলবায়ু সংকটের মানবিক প্রভাবের মতো বিষয়গুলোতে আলোচনা হয় এবং এসব বিষয়ে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

জাতিসংঘ সদস্য দেশ, মানবিক সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাবিদ এবং সংকট-কবলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করে থাকেন।




সংবাদকর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে জামায়াত : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবাদপত্রের উৎকর্ষ ও সংবাদকর্মীদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করবে তার দল।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে জামায়াতকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে দেশে বাক-স্বাধীনতা রক্ষা, সংবাদপত্রের উৎকর্ষ সাধন এবং সংবাদকর্মীদের স্বার্থরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের লক্ষ্যে বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১৬ জুন মাত্র চারটি সংবাদপত্র (দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ অবজারভার) সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বাতিল করা হয়। এর মাধ্যমে সংবাদপত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত।

তিনি বলেন, সে সময় হাজার হাজার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়েছিলেন। বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে তাদের পরিবার-পরিজনকে চরম অনাহার ও অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকারও গণমাধ্যমের ওপর দমন-নিপীড়ন অব্যাহত রাখে। তাদের ১৫ বছরের শাসনামলে দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, সিএসবি টিভি, ইসলামিক টিভির সম্প্রচার এবং বহু অনলাইন নিউজ পোর্টাল অন্যায়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে আবারও হাজার হাজার সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েন।

বিবৃতিতে পরওয়ার বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে নিবর্তনমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপের মুখে সরকার ২০২৩ সালে আইওয়াশ হিসেবে নাম পরিবর্তন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে আরেকটি কালাকানুন তৈরি করে। এই আইনের মাধ্যমে বহু সাংবাদিক ও মুক্তচিন্তার মানুষকে বছরের পর বছর বিনাবিচারে জেলে আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত অন্তর্বর্তী সরকার এই কালো আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল করেছে এবং বন্ধ হওয়া দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি ও ইসলামিক টিভি চালুর অনুমতি দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আধুনিক বিশ্বে সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশবাসীর প্রত্যাশা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।




ইরানের সঙ্গে ‘ইলেকট্রনিক্যালি’ চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত সমঝোতা চুক্তিটি ডিজিটাল মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি ৭-এর সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, “চুক্তিটি ইলেকট্রনিক্যালি স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে। এখন শুধু কাগজে কলমে স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। আগামী ১৯ জুন জেনেভায় সেটি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে (মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট) জে ডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে নতুন এই চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছিলেন, “আমরা একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানের কাছে পাঠিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই একটা মীমাংসায় আমরা পৌঁছাতে পারব।”

যুক্তরাষ্ট্র খসড়া পাঠানোর পর সেটির ব্যাপারে ইরানকে রাজি করাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান এবং কাতার। দুই দেশের ব্যাপক তৎপরতার ফলেই প্রায় দেড় মাস পর চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয় ইরান।

ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং নামের এই চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্য প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ।

চুক্তির খসড়ার বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরান। ফলে প্রস্তাবিত চুক্তির ১৪টি পয়েন্টে কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়ার পয়েন্টগুলো সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পেয়েছে এএফপি। এ পয়েন্টগুলো হলো—

ক) যাবতীয় হামলা-সহিংসতা (চুক্তি স্বাক্ষরের পর) তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে।

খ) (চুক্তি স্বাক্ষরের পর) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।

গ) ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

ঘ) সমঝোতা চুক্তির পর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের যে সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে এই সময়কালে ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

ঙ) ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেগুলো সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।

চ) সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ক আলোচনা শুরু হবে, এই আলোচনার মেয়াদকাল হবে ৬০ দিন।

ছ) বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের অর্থ ফ্রিজড অবস্থায় আছে, সেগুলো মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জ) ইরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ থামাতে হবে এবং পরমাণু প্রকল্প সংক্রান্ত স্থাপনার সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।

ঝ) মূল শান্তি চুক্তির জন্য যে ৬০ দিনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে, এই মেয়াদকালের মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আলোচনা হবে এবং এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঞ) মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট)যুদ্ধের কারণে ইরানের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্গঠন সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হবে।

ঠ) চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হবে।

ড) ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষরের পর ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পুনর্গঠন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিংকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

একই দিন সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকার জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, “১৯ জুন জেনেভায় যে চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে, সেটি এক থেকে দেড় পৃষ্ঠার একটি সমঝোতাপত্র। চুক্তি স্বাক্ষরের দু’দিনের মধ্যে এটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে।”

সূত্র : রয়টার্স, জিও টিভি




জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলা এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, শাস্তি পেলেন আরও ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৪ থেকে ১৭ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মদদদাতার সঙ্গে জড়িত থাকায় এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর ও ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলার অভিযোগ ছিল।

রাতভর সভা শেষে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

উপাচার্য জানান, ১৯ জন শিক্ষক ও দুজন কর্মকর্তাসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, নয়জন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে পদাবনতি ও বেতন অবনমন, দুজন শিক্ষককে সতর্কীকরণ করা হয়েছে৷ বাকি সাতজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদ আখতারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

আরও যারা শাস্তি পেলেন 

উপাচার্য জানান, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে প্রভাষক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করে নিম্নতর বেতনস্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। সাবেক প্রক্টর ও পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আলমগীর কবিরের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দিয়ে দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য তাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে সতর্কীকরণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে।

উপাচার্য কামরুল আহসান আরও বলেন, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দিয়ে দুই বছর পর গ্রেড উন্নয়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই বছর পর পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিক দুজন কর্মকর্তার মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে এবং দুই বছর পর পুনরায় পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক আশিকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ব্যাংকটির নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। রোববার তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।

আশিকুর রহমান ১৯৯৯ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং সুপারভিশন, সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট (সিবিএসপি), ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও এসএমই বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এলায়েন্স ফর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসনের (এএফআই) জেন্ডার ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স কমিটিতে ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে ‘ভাইস চেয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আশিকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত দক্ষতার অংশ হিসেবে তিনি ‘দি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স  বাংলাদেশ থেকে ডিএআইবিবি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট থেকে কম্পিউটার এপ্লিকেশন্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী গ্রামে তার জন্ম।




১৬ বছর পর সেই ‘জ্বালাময়ী সত্য’ নিয়ে মুখ খুললেন প্রভা

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমাগত ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। এতদিন বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও এবার নিজের ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রভা বুলিংকারীদের মানসিকতা, সাইবার অপরাধ এবং ভিকটিম ব্লেমিংয়ের সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

ভিডিওর শুরুতেই তিনি বলেন, তিনি এতদিন অনেক বিষয় নিয়ে নীরব ছিলেন, তবে এখন মনে করছেন কিছু “জ্বালাময়ী সত্য” বলা প্রয়োজন। নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বিষয়টি সামনে আনছেন বলেও উল্লেখ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিংকারীদের মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রভা বলেন, অনেকেই নিজের নিরাপত্তাহীনতা, যোগ্যতা বা ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি থেকেই অন্যদের আক্রমণ ও ট্রল করেন। তার মতে, যারা নিয়মিতভাবে সেলিব্রেটি বা আর্টিস্টদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করেন, তারা অনেক সময় নিজের ভেতরের অসন্তোষ থেকেই এমন আচরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি নিজেও নিয়মিত বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এই ধরনের আচরণকে তিনি “মানসিকভাবে পীড়াদায়ক” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, অনেকে এটি উপভোগ করেন বলেও মনে হয়।

প্রভা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবর্তে অপরাধীদের শনাক্ত ও সমালোচনা না করে বরং ভিকটিমকেই বারবার আক্রমণের মুখে ফেলা হয়। তার মতে, এটি একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, যারা অন্যের ক্ষতি করে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে বা কারও সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে, তাদেরও কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা উচিত।

সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রভা বলেন, অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

ভিডিও বার্তাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




দিল্লির বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, তাকে সেখানে আটক রাখা হয়নি। বরং একটি স্থানে বসতে দেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে আন্তরিকভাবে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) তথ্য অধিদফতরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দিল্লিতে হেনস্তার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাকে কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাকে শুধু একটি জায়গায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল, কোনো রুমে আটকে রাখা হয়েছে—এ ধরনের দাবি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।

ভারতের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় ভুল স্বীকার করা উচিত কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে যে প্রটোকল পাওয়ার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। পরিস্থিতি আরও জটিল না করতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং পুরো প্রতিনিধি দল প্রত্যাহার না করার কথাও উল্লেখ করেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ভবিষ্যতে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি আবারও ভারতে যেতে আগ্রহী।

এর আগে তিনি ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ হাইকমিশন ১২ জুন দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানায়। তবে ১৪ জুন সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে এবং দেশে প্রবেশের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এ অবস্থায় তিনি নিজেই পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে পরিস্থিতি অনুকূল না দেখে তিনি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন।