হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৫৫১৩৩ হাজি, মারা গেছেন ৫১

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৫ হাজার ১৩৩ জন বাংলাদেশি হাজি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ৮২০ জন হাজি।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর হজ পালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫১ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩৪ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। স্থানভিত্তিক হিসেবে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ২৬৫ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস ১৯ হাজার ৬৮৫ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৩৮০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ৩ হাজার ৮০৩ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

এ পর্যন্ত মোট ১৩১টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৬১টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪৯টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজ চলাকালীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে ৬৩ হাজার ৪২৭টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৮১০টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ৩০ জুন।

 




গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কিনা-ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।’

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত দুইটার সময় কারো নির্দেশ বা প্ররোচনা ছাড়াই ৩৬ বছর বয়সের একজন বাঙালি মেজর একটি প্রতিষ্ঠিত সামরিক শক্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেবল নিজের সততা, মূল্যবোধ, চেতনা ও দেশপ্রেমের ওপর ভর করে তিনি ক্যান্টনমেন্ট ও দেশবাসীর সামনে সংকটকালীন সময়ের সমাধানের পুরুষ হিসেবে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, যারা ইতিহাস সম্পর্কে অবগত তারা জানেন, ২৫ মার্চের সেই রাতে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে জাতি দিকনির্দেশনাহীন থাকতো। একইভাবে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা যদি তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে না আসতো, তবে দেশে শান্তির ছায়া নেমে আসতো না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মনোজগৎ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করেছে তিনি একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ওপর হওয়া অসম্মানজনক আচরণকে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রনায়কের মতো হজম করেছেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভর করে দেশের সকল ভিন্ন মতের জন্য সমালোচনা করার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়া বঞ্চিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতির মাঠে এনে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি চতুর্থ সংশোধনীর সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে দিয়ে কবর দেওয়া পার্লামেন্টকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং বহুমাত্রিক চিন্তার মধ্য দিয়ে উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করাই ছিল তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত বৈশিষ্ট্য।

গণমাধ্যম সম্পর্কে শহীদ জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো নেতাই জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হতে পারেন না, যদি না তিনি গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা করেন। শহীদ জিয়া শুধু গণমাধ্যমকে অবকাঠামোগত বা আর্থিক সুবিধাই দেননি, বরং গণমাধ্যম যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের পরিচ্ছন্ন আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে-সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁর সেই অবদানের কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্র জনগণের কাছে সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।




ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, নগদ টাকার সংকট এবং চলমান আস্থার চাপে পড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, ব্যাংকটির শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্কে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক তারল্য চাপ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের নগদ উত্তোলন এবং দৈনন্দিন লেনদেন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন, গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়েছে এবং নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কেন তারল্য সহায়তা

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি মূলত দেউলিয়াত্বের সংকট নয়; বরং নগদ অর্থের সাময়িক সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ। কোনও ব্যাংকের সম্পদ বা বিনিয়োগ পর্যাপ্ত থাকলেও স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক টাকা তুলতে এলে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে।

ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিতর্ক, গ্রাহকদের আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজবের কারণে অনেক আমানতকারী টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে ব্যাংকটির ওপর নগদ অর্থের চাপ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যাংকটি থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তা কী

বিশ্লেষকদের মতে, দুই হাজার কোটি টাকার এই সহায়তা শুধু ইসলামী ব্যাংকের জন্য অর্থ জোগান নয়, বরং আমানতকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখাতে চায় যে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমর্থন রয়েছে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতেও বিভিন্ন ব্যাংককে রেপো, বিশেষ তারল্য সহায়তা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংক খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়মিত বড় অঙ্কের সহায়তা দিতে হয়েছে।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু তারল্য সহায়তা দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। যদি আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত থাকে এবং অর্থ উত্তোলনের চাপ চলতে থাকে, তাহলে ব্যাংকটিকে আরও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সহায়তার ফলে স্বল্পমেয়াদে শাখা ও এটিএমে নগদ অর্থ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা কাঠামো, সুশাসন এবং গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো আগামী দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংক। ফলে এর স্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; বরং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের আস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপকে অনেকেই প্রতিরোধমূলক এবং আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

 




গণমাধ্যমের বড় অংশ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছে : মির্জা ফখরুল

দেশের গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ এখন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মির্জা ফখরুল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, রাষ্ট্রদর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা নিয়ে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল রাতে আমার জ্বর হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তবুও আপনাদের দেখতে ভালো লাগে। বয়সের কারণে নয়, মনের টান থেকেই এখানে এসেছি।

গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মিডিয়া এখন আর শুধু মিডিয়া নেই। অনেক ক্ষেত্রেই তা বিজনেস হাউজের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। চাটুকারিতা কাকে বলে, তা সাম্প্রতিক সময়ের কিছু গণমাধ্যমের আচরণ দেখলেই বোঝা যায়। আমরা আশা করি, সাংবাদিক সমাজ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণার ঘাটতির কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যতটা গবেষণা হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। এটি ইতিহাসের প্রতিই এক ধরনের অবিচার। তরুণ গবেষকদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা। আমি একজন বাংলাদেশি—এই পরিচয়কে তিনি রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি মনে করি, এটি তার অন্যতম বড় অবদান।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন গণতন্ত্রই সবচেয়ে উত্তম শাসনব্যবস্থা। ১৯৭৫-পরবর্তী অস্থির সময়ে তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একত্রিত করার উদ্যোগ নেন।

বিএনপির আদর্শিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা রেজিমেন্টের দল নয়। এটি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।

অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, রেমিট্যান্স অর্থনীতি, তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষি গবেষণা ও উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তার দূরদর্শী উদ্যোগ দেশের উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে।

কুষ্টিয়ার একটি সফরের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ। তিনি একটি গ্রামের বৃদ্ধার কাছ থেকে পানি ও পেয়ারা চাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এই ছোট্ট ঘটনাই প্রমাণ করে, তিনি মানুষের কতটা কাছের ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর তার জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, লাখো মানুষের নীরব অশ্রু ও উপস্থিতি প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান কত গভীর ছিল।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার দূরদর্শিতা আজও স্মরণীয়।

সমালোচনার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে, কিন্তু ইতিহাস এরই মধ্যে তাকে সম্মানিত করেছে। ইতিহাসে তার অবস্থান অমলিন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যে স্বপ্ন বিএনপি ধারণ করে, তার ভিত্তি রচিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।




গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়াই: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কিনা-ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।’

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত দুইটার সময় কারো নির্দেশ বা প্ররোচনা ছাড়াই ৩৬ বছর বয়সের একজন বাঙালি মেজর একটি প্রতিষ্ঠিত সামরিক শক্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেবল নিজের সততা, মূল্যবোধ, চেতনা ও দেশপ্রেমের ওপর ভর করে তিনি ক্যান্টনমেন্ট ও দেশবাসীর সামনে সংকটকালীন সময়ের সমাধানের পুরুষ হিসেবে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, যারা ইতিহাস সম্পর্কে অবগত তারা জানেন, ২৫ মার্চের সেই রাতে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে জাতি দিকনির্দেশনাহীন থাকতো। একইভাবে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা যদি তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে না আসতো, তবে দেশে শান্তির ছায়া নেমে আসতো না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মনোজগৎ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করেছে তিনি একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ওপর হওয়া অসম্মানজনক আচরণকে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রনায়কের মতো হজম করেছেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভর করে দেশের সকল ভিন্ন মতের জন্য সমালোচনা করার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়া বঞ্চিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতির মাঠে এনে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি চতুর্থ সংশোধনীর সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে দিয়ে কবর দেওয়া পার্লামেন্টকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং বহুমাত্রিক চিন্তার মধ্য দিয়ে উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করাই ছিল তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত বৈশিষ্ট্য।

গণমাধ্যম সম্পর্কে শহীদ জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো নেতাই জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হতে পারেন না, যদি না তিনি গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা করেন। শহীদ জিয়া শুধু গণমাধ্যমকে অবকাঠামোগত বা আর্থিক সুবিধাই দেননি, বরং গণমাধ্যম যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের পরিচ্ছন্ন আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে-সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁর সেই অবদানের কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্র জনগণের কাছে সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।




‘শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বদলি প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে বড় সংস্কার’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার একটি নতুন বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা চালু করেছে। অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত ভেলিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর এনালাইসিস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যারা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বসে বদলির আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের কমিটি উপজেলা পর্যায়ের আবেদন যাচাই-বাছাই করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বদলির আদেশ জারি করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে জেলা, বিভাগীয় এবং সিটি করপোরেশন পর্যায়ে ৫ অথবা ৬ সদস্যের কমিটি থাকবে যারা সংশ্লিষ্ট বদলি আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি আদেশ জারি করবে। সিটি করপোরেশন, বিভাগীয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটিতে যথাক্রমে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর), বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক সভাপতি থাকবেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।




ঝুলে আছে ৬০ বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন বেআইনিভাবে আটকে রেখেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি আইডিআরএ। উল্টো সংশোধিত বিধিমালার আলোকে আরোপিত ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে বর্ধিত নবায়ন ফি আদায়ের নির্দেশনা চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

২০২৬ সালের ফি নির্ধারণের সুবিধার্থে সংশোধিত বিধিমালা নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব চাওয়ার প্রেক্ষিতে ৩ জুন আইডিআরএ এ চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, “ইতিমধ্যে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করে নিয়েছে।
এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”

যদিও এর আগে কয়েক দফায় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন হলে সরকারি গেজেট সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে খাতের অংশীজনদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমূহূর্তে তাড়াহুড়ো করে আইডিআরএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের প্রস্তাবে নবায়ন ফি বাড়িয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধি ৩(২) এ ২০২৬ সাল থেকে ২০৩২ ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ফি বর্ধিত করার বিধান যুক্ত করা রয়েছে।

তবে সংশোধিত ওই বর্ধিত ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। নতুন করে আরোপ করা বর্ধিত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি।

বিরোধের মূল কোথায়: বীমা আইন অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ও ফি জমা দিতে হয় আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। সে অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেয়।
তবে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় নবায়ন ফি বাড়িয়ে প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এই নতুন হারই এখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।

বীমা কোম্পানিগুলোর যুক্তি যে সময় তারা ফি জমা দিয়েছে, তখন পুরনো বিধিমালাই কার্যকর ছিল। তাই পরবর্তীতে সংশোধিত হার প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ফি দাবি করা আইনসম্মত নয়। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকেও চিঠিতে আইন লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বীমা আইন, ২০১০ এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট বছরের লাইসেন্স নবায়নের জন্য পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। একই আইনের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, আবেদন ও ফি গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন করতে বাধ্য।

অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৩০ নভেম্বর ২০২৫) নিবন্ধন ফি জমা দেয়ার পরও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে লেখা আইডিআরএ’র চিঠিতেই স্পষ্ট হয়েছে- চিঠিরে একাংশে বলা হয়েছে-
“সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। ”

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন- কোনো সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সেবা স্থগিত রাখা কতটা আইনসম্মত। আইন সংশোধন হওয়ার আগেই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজস্ব স্বার্থে কোনোভাবেই বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করতে পারে কি না? বিষয়টি মূলত- রেট্রোস্পেকটিভ অ্যাপ্লিকেশন’ বা পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন বিধান প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

যেখানে আইডিআরএ নিজেই বলেছে-প্রায় সকল বীমাকারী আইনের উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ (এক) টাকা হারে নবায়ন ফি পরিশোধ করে ২০২৬ সনের জন্য নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করেছে। তবে ফি নির্ধারণে বিলম্ব ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির সংশোধনী বাতিল এবং ২০১৮ সালের ফি কাঠামো বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ মূলত “রেট্রোস্পেকটিভ প্রয়োগ” (পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন আইন প্রয়োগ) নিয়ে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার পর নতুন হার চাপিয়ে দেওয়া হলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তারা আরও বলছেন, দ্রুত সমাধান না এলে বীমা খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

আইডিআরএ’র চিঠিতে যা আছে:
দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন -বিআইএ এই বর্ধিত ফি ছাড়াই লাইসেন্স নবায়ন করে দিতে আইডিআরএকে চিঠি দিলেও তা রক্ষা করেনি। বরং সংশোধিনীর আলোকে বর্ধিত ফি নিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা চেয়ে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। গত ৩ জুন আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে উপপরিচালক (নন লাইফ) মোঃ সোলায়মান সচিব বরাবর এই চিঠি দিয়েছেন।

নন-লাইফ ও লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন প্রসঙ্গে দেয়া ওই চিঠিতে বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করার পর বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রোক্ত স্মারকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয় হতে সকল ব্যয় মিটাতে হয়। বীমাকারী লাইসেন্স নবায়ন ফি এ সংস্থার আয়ের প্রধান উৎস। বীমা আইন, ২০১০ এর এতদসংক্রান্ত ধারা ১১(২) এর রেফারেন্সে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ জারী করা হয় এবং এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ৩.৫০ টাকা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সনে হঠাৎ করে এ লাইসেন্স নবায়ন ফি উক্ত ৩.৫০ টাকা হতে কমিয়ে ১.০০ টাকায় নামিয়ে আনলে এ সংস্থার আয় দারুণভাবে কমে যাওয়ায় ব্যয় নির্বাহ কষ্টকর হয়ে পড়ে।

২. তাছাড়া ২০২৫ সনে এ সংস্থার জনবল বৃদ্ধি, কমপ্লিট ডিজিটাইজেশন, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন, বাংলাদেশ একচ্যুয়ারিয়াল ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি যুগোপযোগী সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক (Consultation) সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। সর্বশেষ সংশোধিত এ বিধিমালায় ২০২৬, ২০২৭ এবং ২০২৮ সনের বীমা ব্যবসার নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

৩. ইতিমধ্যে গত ০৮-০৩-২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ৪. ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করে
নিয়েছে।

৫. এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”




বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কুয়েতকে বিনিয়োগের অনুরোধ

কুয়েত আমিরি দিওয়ানবিষয়ক মন্ত্রী শেখ হামাদ জাবের আল-আলী আল-সাবাহ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।

 

সম্প্রতি হওয়া এই সাক্ষাৎ নিয়ে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করা হয়।

তারা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী নিয়েও মতবিনিময় করেন এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারের লক্ষ্যে গৃহীত প্রচেষ্টার প্রতি উভয় পক্ষের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও সংহতির বন্ধনের ওপর জোর দেন এবং ১৯৭৪ সালে বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের একীভূতকরণে কুয়েতের মূল্যবান সমর্থনের কথা স্মরণ করেন। তিনি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং সিরামিক পণ্যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন।

 

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কগুলোতে কুয়েতের বৃহত্তর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেন। তিনি কুয়েতের উন্নয়ন চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নার্সসহ দক্ষ পেশাজীবীদের সরবরাহে জোর দেন।

কুয়েতের মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে দেশটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ইতিবাচক অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি ১৯৯১ সালে কুয়েতের মুক্তির সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বাংলাদেশ সামরিক কন্টিনজেন্টের অব্যাহত পেশাগত সহায়তার কথাও স্মরণ করেন।

তিনি বাংলাদেশের প্রতি কুয়েতের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।




গণমাধ্যম এখন বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থাকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমগুলো এখন আর স্বাধীনভাবে কাজ করছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির মতো আচরণ করছে।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “মিডিয়ার সমস্যা এখন বিশাল। মিডিয়া আর আগের মতো মিডিয়া নেই। চাটুকারিতার সংস্কৃতি এখন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিগত সময়ে গণমাধ্যমে অতিরিক্ত অনুগত আচরণ দেখা গেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সাংবাদিকদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকাও তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জিয়াউর রহমান কাজ করেছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।




প্রবাসীদের নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রবাসীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা যেন দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন, সে জন্য নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারা দেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে পারবেন এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শুধু ব্লু-কলার নয়, হোয়াইট-কলার পেশার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থান শুরু হয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়, এবং পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে এটি আরও বিস্তৃত হয়। তার ভাষায়, অভিবাসন এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী কমানো এবং বাজার বহুমুখীকরণ অন্যতম।

প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন বাজার খোঁজা এবং নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও সেবাদান আরও সহজ হবে।

ভিসা ও শিক্ষা সনদকে ডিজিটাল ও কিউআর কোডভিত্তিক করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যাতে প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অনুসরণযোগ্য হয়।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের বিদেশে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা ভাষা শিক্ষার জন্য ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

সব মিলিয়ে, সরকারের লক্ষ্য হলো অভিবাসনকে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করা, যেখানে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, ভাষাগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈশ্বিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যাবে।