জনগণের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতেই সমৃদ্ধ-আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নির্মাণ করব

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতেই আমরা একটি সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নির্মাণ করব।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে তিনি এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, আমি মহান জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, দেশের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী, তরুণ, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রবাসী এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক সংস্কারের সাহসী উদ্যোগ এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যয় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সুযোগের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, উদ্যোগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে, পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে যাবে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং জনগণের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতেই আমরা একটি সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের শক্তি, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই শক্তিকে বিকশিত করার মধ্য দিয়েই আমরা গণমানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সমস্যার সমাধান করতে চাই, এবং সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে তুলতে চাই গণআকাঙ্ক্ষার এক স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।




ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

রাজধানী ঢাকা থেকে বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া ভবিষ্যৎ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় মুন্সীগঞ্জ সেতু, তৃতীয় ভৈরব সেতুও নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রনিক টোল আদায় ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল, নিরাপদ ও আধুনিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, মহাসড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একটি মাল্টিমোডাল পরিবহন হাব গড়ে তোলার কাজ চলছে। সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বর্তমানে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের কার্যক্রমও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু এবং পেশাজীবী চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সম্ভাব্য করিডোর চিহ্নিত করার কাজও চলছে।




প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’

প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা সহজে নিতে পারবেন প্রবাসীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া এবং নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতর শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

 

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসেই, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের এ শক্তিশালী প্রবাহ গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। সরকার আশা করছে, ভবিষ্যতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রবাস আয় আরও বাড়াতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে এবং বৈধ পথে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে সরকার।




ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাতের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রাখছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে এ প্রস্তাব করেন।

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে। এ বাজেট বাস্তবায়নে মোট দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।

 

বাজেট ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ক্ষেত্রে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। যদিও এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নির্ধারিত এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার তুলনায় কিছুটা কম, তবুও সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে ব্যাংক খাতই থাকছে।

অন্যদিকে, ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরে এ উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার বা জিডিপি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আবারও উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।




জাতীয় সংসদের দেশের ৫৫তম বাজেট উপস্থাপন

দেশের ইতিহাসের রেকর্ড ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার নিট ঘাটতি ও ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় নতুন সরকারের হয়ে প্রথম এবং দেশের ৫৫তম এ মেগা বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বিশাল বাজেটে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে ৫ বছরের ঐতিহাসিক আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণার পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর কাঠামোয় বড় ধরনের ওলটপালট আনা হচ্ছে এ মহাপরিকল্পনায়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট উপস্থাপন। সংসদে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই বাজেট উত্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেয়।




দিল্লির হোটেলে আগুনে দগ্ধ বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হাউজ রানি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বিঅ্যান্ডবি) হোটেলে লাগা আগুনে দগ্ধ এ বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার (১০ জুন) তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি ছিলেন। তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়।

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) অনন্ত মিত্তাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩ জুন দিল্লির ওই হোটেলে আগুন লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই ২১ জনের মৃত্যু হয়। আর ৪৯ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রোববার আরেকজনের মৃত্যু হয়। আর গতকাল বুধবার মৃত্যু হয় বাংলাদেশি নারীর। এতে নিহতের সংখ্যা ২৩ জনে পৌঁছিয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস




০ রানেই ৩ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার

০ রানেই ৩ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার! স্কোরকার্ডে চোখ রাখলে মনে হবে আপনি ভুল কিছু দেখছেন হয়তো। তবে পাঠক, আপনি ঠিকই দেখছেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব।

প্রথম ওভারে তাসকিনের আঘাতের পর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজের জোড়া আঘাত। তাতেই লজ্জার ইতিহাসে নাম উঠল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার।

ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া মাত্র চতুর্থ দল হিসেবে ইনিংসের প্রথম ৩ উইকেট হারাল কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল মাত্র তিনবার। আগের তিন ঘটনার সর্বশেষটি ছিল আবার বাংলাদেশের। ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে পরপর তিন বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পেসার চামিন্দা ভাস। ম্যাচের প্রথম তিন বলেই হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।

প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের পর আজ সিরিজ নিশ্চিতের লক্ষ্য মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল। যদিও যথারীতি দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস হেরেছেন স্বাগতিক অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে টস ভাগ্যের আক্ষেপটা অবশ্য বেশিক্ষণ থাকল না।

টস জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে যেন দুঃস্বপ্নের মতো শুরুটা হলো অস্ট্রেলিয়ার। প্রথম ওভারে তাসকিনের শিকার হলেন ম্যাথু শর্ট। আগের ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে গিয়েছিলেন ম্যাথু শর্ট। আজ হলেন ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে। বোলার ও ব্যাটার একই। আউটের ধরনও একই।

পরের ওভারে জোড়া উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই আউট হন কনোলি। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বার দুই ওপেনারই ‘ডাক’ মারলেন। এরপর ম্যাট রেন শ উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ধরা পড়েছেন। যদিও আম্পায়ার শুরুতে আউট দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে সাফল্য পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও তানভীর ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: জশ ইংলিস (অধিনায়ক), জাভিয়ের বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কপার কনলি, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, লিয়াম স্কট, ম্যাট শর্ট ও অ্যাডাম জাম্পা।




তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু : ৫৫ বছরে কে দিলেন কত বাজেট

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল অত্যন্ত সীমিত। মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার এক যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে শুরু হয়েছিল আমাদের পথচলা। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ব্যবধানে সেই বাংলাদেশ আজ এক অনন্য উচ্চতায় এসে দাঁড়িয়েছে।

১১ জুন (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট হিসেবে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।

এবারের বাজেটের মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা। ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’— এই সম্ভাব্য প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করবেন।

বাজেট ইতিহাসের পথপরিক্রমা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭২ সালে তিনি ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য দেশের প্রথম বাজেট পেশ করেন। এর আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। প্রথম তিনটি বাজেটই ছিল তার হাত দিয়ে তৈরি। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বলছে, এরও আগে ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনালগ্নে মুজিবনগর সরকার দৈনন্দিন ও অপরিহার্য ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করেছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন মেয়াদে বাজেট পেশ করেছেন। ১১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হবেন বাংলাদেশের বাজেট পেশকারী ১৫তম ব্যক্তি।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে উপস্থাপিত প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৫৫ বছরের ব্যবধানে দেশের বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১,৩০৩ গুণ।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিল, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগের বছরের তুলনায় ছোট আকারের বাজেট উপস্থাপিত হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এটি ছিল টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট।

এর আগে টানা পাঁচটি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার পূর্বসূরি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করে একটি অনন্য রেকর্ড গড়েন। এর আগে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া টানা ছয়টি বাজেট পেশ করেছিলেন।

তবে, মোট বাজেট উপস্থাপনের সংখ্যার বিবেচনায় আবুল মাল আবদুল মুহিত ও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১০টি বাজেট ছাড়াও এরশাদ সরকারের সময়ে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের দুটি বাজেট পেশ করেছিলেন। ফলে তার উপস্থাপিত মোট বাজেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২টি। একইভাবে এম সাইফুর রহমানও বিভিন্ন মেয়াদে মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন, যা দেশের বাজেট ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড।

স্বাধীনতার পর যত বাজেট: একনজরে পরিসংখ্যান

স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি অর্থবছরের বাজেট ঘোষক, প্রস্তাবিত এবং সংশোধিত বাজেটের আকারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো—

১৯৭২-৭৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৭১৯.৪০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬৮৭.৮০ কোটি টাকা।

১৯৭৩-৭৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৮২০.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৮২৮.২ কোটি টাকা।

১৯৭৪-৭৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৯৯৫.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১০৫৬.১ কোটি টাকা।

১৯৭৫-৭৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী ড. আজিজুর রহমান মল্লিক। প্রস্তাবিত বাজেট ১,৫৪৯.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১,৫৩৩.৭ কোটি টাকা।

১৯৭৬-৭৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১,৯০৮.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১,৮৫৭.৬ কোটি টাকা।

১৯৭৭-৭৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি ও অর্থমন্ত্রী লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২,০৯৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,২৮৮.২ কোটি টাকা।

১৯৭৮-৭৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২,৪৯৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৭৭৬ কোটি টাকা।

১৯৭৯-৮০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী ড. এম এন হুদা। প্রস্তাবিত বাজেট ৩,৩১৭.৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,৭৬৮.৯ কোটি টাকা।

১৯৮০-৮১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,২২৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,৯৫৫.৮ কোটি টাকা।

১৯৮১-৮২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৭৮৮.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৭২৫.৩ কোটি টাকা।

১৯৮২-৮৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৮৫৪.১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৮৫৪.১ কোটি টাকা।

১৯৮৩-৮৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৬,০৫৬.৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,১৩৬ কোটি টাকা।

১৯৮৪-৮৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ৬,৯৩৩.৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,৬৪৫.৪ কোটি টাকা।

১৯৮৫-৮৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ৭,২৬৮.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭,৬৫৯.৫ কোটি টাকা।

১৯৮৬-৮৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ৯,১১২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯,২৭৬.৪ কোটি টাকা।

১৯৮৭-৮৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ১০,৩০০.৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১০,৩১৯.৬ কোটি টাকা।

১৯৮৮-৮৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মুনিম। প্রস্তাবিত বাজেট ১১,০৬০.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১১,৪৭৯.৭ কোটি টাকা।

১৯৮৯-৯০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হক। প্রস্তাবিত বাজেট ১৩,৪৬২.৩০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১২,৮৭২.৫ কোটি টাকা।

১৯৯০-৯১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মুনিম। প্রস্তাবিত বাজেট ১৩,৯৮৯.৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৫,৭৭২.১ কোটি টাকা।

১৯৯১-৯২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১৬,৩৭৩.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৬,৬৪৩.৩ কোটি টাকা।

১৯৯২-৯৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১৮,২৮৬.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৮,০১৬ কোটি টাকা।

১৯৯৩-৯৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১৯,৯৫২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২১,৩১৯ কোটি টাকা।

১৯৯৪-৯৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২১,৭৩৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৩,০৮৯ কোটি টাকা।

১৯৯৫-৯৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২৪,৭০৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৩,৬৫৩ কোটি টাকা।

১৯৯৬-৯৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ২৫,২৫৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৫,০১১ কোটি টাকা।

১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ২৭,৭৮৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৭,০০৭ কোটি টাকা।

১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৩০,০৯৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩০,২০৬ কোটি টাকা।

১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৩৬,১৭৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩৭,৯৫৩ কোটি টাকা।

২০০০-০১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৪২,৮৫৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪১,৯৯৫ কোটি টাকা।

২০০১-০২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৪৪,৭৬৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩৯,৪৯৫ কোটি টাকা।

২০০২-০৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৪৪,৮৫৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪৪,৯০৪ কোটি টাকা।

২০০৩-০৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৫১,৯৮০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪৯,৩৬৭ কোটি টাকা।

২০০৪-০৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৫৭,২৪৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫৫,৬৩২ কোটি টাকা।

২০০৫-০৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৬৪,৩৮৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬১,০৫৮ কোটি টাকা।

২০০৬-০৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৬৯,৭৪০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬৬,৮৩৬ কোটি টাকা।

২০০৭-০৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। প্রস্তাবিত বাজেট ৮৭,১৩৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯৩,৬০৮ কোটি টাকা।

২০০৮-০৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। প্রস্তাবিত বাজেট ৯৯,৯৬২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯৪,১৪০ কোটি টাকা।

২০০৯-১০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ১০ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।

২০১০-১১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৩০ হাজার ১১ কোটি টাকা।

২০১১-১২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা।

২০১২-১৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

২০১৩-১৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২ লাখ ১৬ হাজার ২২২ কোটি টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৩৯,৬৬৮ কোটি টাকা।

২০১৫-১৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ২,৯৫,১০০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৬৪,৫৬৫ কোটি টাকা।

২০১৬-১৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,১৭,১৭৪ কোটি টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৬৪,৫৭৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৪২,৫৪১ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৫,২৩,১৯০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫,৯৩,৫০০ কোটি টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,৬০,৫০৭ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। প্রস্তাবিত বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং চলমান অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।

আয়-ব্যয় ও ঘাটতির চিত্র

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বা নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

 

বড় অঙ্কের এই ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাংক ঋণের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

• বাংলাদেশের বাজেট ১৯৭২-২০২৫। তথ্যসূত্র: ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)