বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, ১০ মাসে ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার

আমদানির ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি রপ্তানি আয়। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের বৈদেশিক পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বাড়ায় দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২১ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮২৩ কোটি (১৮.২৩ বিলিয়ন) ডলার।

সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে ৫ হাজার ৮২২ কোটি (৫৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে প্রথম ১০ মাসে আমদানি হয়েছিল ৫৪ দশ‌মিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

অন্যদিকে আলোচিত সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স)

চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন সামান্য ঋণাত্মক আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে এপ্রিল শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৬৪ কোটি ডলার।

ওভারঅল ব্যালান্স

সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। আলোচিত সময় সামগ্রিক লেনেদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৪ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছর একই সময় (ঋণাত্মক) ৬৫ কোটি ডলার ঘাট‌তি ছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২ হাজার ৯৩২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ২৪৫৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

এফডিআই

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-‌এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা ১১৪ কোটি ডলারে হয়েছে।

ত‌বে আলোচিত দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থায় নেমেছে। অর্থবছরে প্রথম ১০ মা‌সে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল তার চেয়ে ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ১২ কোটি ৪০ ডলার।




বাংলাদে‌শিদের জন্য মরিশাসের বন্ধ শ্রমবাজার খুলছে

মরিশাসে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন ২০২৬-এর সাইডলাইনে সোমবার (৮ জুন) সকালে জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রম মন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ক‌রেন।

বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

মরিশাসে জনবল রপ্তানির বিষয়ে দুই দেশ দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

​বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশ থেকে মরিশাসে জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে মরিশাস সরকারকে অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, টেক্সটাইল শিল্প ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স এবং অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনশক্তি মরিশাসে পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত।

তিনি মরিশাসের শ্রম মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

​বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মরিশাসের শ্রম মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ব্যাপারে মরিশাস সরকার অত্যন্ত আগ্রহী, বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য প্রচুর দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।

পুনরায় শ্রমবাজার চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া শিগ‌গিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে মরিশাস সরকারের বিনিয়োগের গভীর আগ্রহের কথাও তিনি বৈঠকে প্রকাশ করেন।




বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘হালাল অর্থনীতি’

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার প্রচলিত পণ্য বাণিজ্যের বাইরে এবার নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে ‘হালাল অর্থনীতি’।

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, হালাল অর্থায়ন ও পর্যটনসহ নানা খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি।

আজ (সোমবার) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ও ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হালাল অর্থনীতি শুধু হালাল খাদ্য বা মাংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন এবং পর্যটনের মতো বিস্তৃত খাত অন্তর্ভুক্ত। এসব খাতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

তিনি জানান, আগামী ৮ থেকে ১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’। এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল এক্সপোতে অংশ নেবে। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’ নিয়ে উপস্থাপনা করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্সের (কেএনইকেএস) ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিতে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করতে পারে।

তার উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্সে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। হালাল খাদ্য খাতে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান চতুর্থ এবং ফ্যাশন ও পোশাক খাতে ষষ্ঠ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হালাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হলো হালাল খাদ্য। ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে হালাল পোশাক খাতে ব্যয় ছিল ২৭৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি এবং এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ভুক্ত দেশগুলো কীভাবে তাদের বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে হালাল পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জানার অন্যতম সুযোগ এই এক্সপো। পাশাপাশি বাংলাদেশের হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও এটি সহায়ক হতে পারে।

এর আগে সভায় স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাণিজ্যের ভারসাম্যে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। তিনি মনে করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী হবে এবং হালাল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল যাতে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে এফবিসিসিআই আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।




পোশাকখাতের ৪  উদ্যোক্তা বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় বিজিএমইএর অভিনন্দন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে পরিচালক পদে পোশাকখাতের চার উদ্যোক্তা জয়ী হয়েছেন।

তারা হলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক ও ফ্যাশন ওয়াচের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম, চৈতী গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান এবং আলফা প্যাটার্নসের পরিচালক (অপারেশন) ইসরাফিল খসরু।

 

এই চারজনসহ বিসিবির নবনির্বাচিত সব পরিচালককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে বিজিএমইএ। সোমবার (৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ তথ্য জানায়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক বিশেষ বার্তায় পোশাকখাত থেকে নবনির্বাচিত পরিচালকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিসিবি নির্বাচনে তাদের এই গৌরবোজ্জ্বল জয় পুরো বিজিএমইএ পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা যেভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ঠিক তেমনিভাবে তারা তাদের সুদীর্ঘ করপোরেট অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।’

বিজিএমইএ নবনির্বাচিত সব বিসিবি পরিচালক এবং পুরো পর্ষদের সার্বিক সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।




রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চায় দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি

দেশের সব দোকান, বিপণিবিতান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে দোকান খোলার সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

রোববার (৮ জুন) সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এতে দোকান ও শপিংমলগুলোকে প্রতিদিন দুপুর ১২টা বা সরকার নির্ধারিত সময় থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির মতে, দেশের খুচরা ব্যবসা অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন প্রায় ৭০ লাখ দোকানমালিক, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শহর, মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকাজুড়ে অসংখ্য দোকান, বাজার ও শপিংমলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক চাপে পড়েছেন। একই সঙ্গে অধিকাংশ ক্রেতা দিনের বেলায় কর্মব্যস্ত থাকায় বিকেল ও সন্ধ্যার পর কেনাকাটার জন্য বাজারে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কারণে দোকান আগে বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য বিক্রির সুযোগ হারান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দোকান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত সময় ক্রেতাদের সেবা দিতে পারবেন। এতে বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।




আগামী অর্থবছরে ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য সরকারের

আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার (০৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নূরুল হক নূর জানান, যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে।




পুশইন ঠেকাতে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শক্তভাবে প্রতিহত করছে। পাশাপাশি পুশইন বন্ধে ভারত সরকারকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত করছে। নিয়ম না মেনে পুশইনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। পুশইন বন্ধে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে ভারতকে।

তিনি বলেন, ইলিগ্যাল (অবৈধ) যারা আছে তাদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আছে। সেটা মেনেই ভারতকে কাজ করতে হবে।

পুশইন দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) শিশু, নারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের ২৬ জেলার সীমান্তে বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চার পালায় ২৪ ঘণ্টা তারা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লোকজনও তাদের সহযোগিতা করছেন।

ভারত থেকে পুশইনের মধ্যে সোমবার থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সম্মেলনে অবৈধ পুশইন, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।




টিআইবির রিপোর্ট পেপার কাটিং: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সংঘটিত হতাকাণ্ড-ধর্ষণ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পেপার কাটিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না, সেই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে রোববার (৭ জুন) টিআইবি এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হতাকাণ্ড ঘটেছে। ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু।

টিআইবির এই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার সামনে সেই রিপোর্টটা (টিআইবি) নেই। আমরা মাস ভিত্তিতে অপরাধের স্টেটমেন্ট করে থাকি। ডাকাতি, খুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ তালিকাভুক্ত করা হয়। কয়েকদিন আগে আমার কাছে আরেকটি রিপোর্ট এসেছিল, সেখানে দেখেছি ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধের চিত্র বর্তমান সরকারের সময়ে অনেক বেশি উন্নতি লাভ করেছে, অনেক অপরাধ কম।

টিআইবি বলছে বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আপনারা তাদের মূল্যায়ন নিচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, টিআইবি সরকারি সংস্থা না, টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিংয়ে, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে তারপর কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না। আমাদের সামনে রয়েছে পুলিশের অপরাধের তথ্য। জেলা থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করি, এটাই প্রকৃত তথ্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পত্রিকায় অনেক খবর প্রকাশিত হয়, সেগুলো আমরাও নজরে আনি। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রত্যেকেটটি ঘটনা যে সঠিক সে রকম বলা যাবে না। পত্রিকার লেখার স্বাধীনতা আছে, সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠাই। সব পত্রিকার কাটিংগুলো সকালে না দেখতে পারলেও সারাদিনের মধ্যে দেখি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে পাঠাই। টিআইবি রিপোর্ট শুধু পেপার কাটিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাত্র ছয় হাজার টাকা পান। ভবিষ্যতে আপনারা তদন্তের টাকা বৃদ্ধি করবেন কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের এই আর্থিক শঙ্কট আছে। আশা করি সামনের দিনে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও পুলিশি টহলের ক্ষেত্রে যেন বরাদ্দ পায়, সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করবো।

আইনে রয়েছে পুলিশের কেউ ৬০ দিনের অধিক পলাতক থাকলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে, সেই উদ্যোগ আপনারা নেবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এগুলো তদন্তের পর রিপোর্ট করে কর্মকর্তাভেদে প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হয়। সেগুলো চালু রয়েছে। যাদের কথা আপনারা (সাংবাদিক) ইশারা-ইঙ্গিতে বলেছেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। সেগুলো চলমান। কারোটা হয়তো সমাপ্তির পর্যায়ে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আইসিটি আদালতে মামলা আছে। সেই মামলায় আইন মাফিক বিচারের সম্মুখীন হবে।

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ভাবমূর্তি আপনারা (সাংবাদিক) ও জনগণ বিচার করবে। পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধন বাহিনী হিসেবে রূপান্তর করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। নৈতিকভাবে পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করা দরকার যেন পুলিশ বাহিনী জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী, আইনের শাসন অনুযায়ী কাজ করে। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার। বাস্তবে সেটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।




ঈদের ১০ম দিনে যমুনা সেতুতে টোল আদায় ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহার ১০ম দিনেও যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে একদিকে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কারণে সেতুতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলাচল করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর দুই প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৮২০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৭ জুন) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে অর্থাৎ উত্তরবঙ্গমুখী লেনে ১৪ হাজার ৫৬০টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে অর্থাৎ ঢাকামুখী লেনে পারাপার হয়েছে ১৬ হাজার ২৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩০ হাজার ৮২০টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনো অনেক মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। ফলে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে। তবে, আগের কয়েক দিনগুলোর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কমেছে।

প্রসঙ্গত, দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতু। ঈদ উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে সেতুতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।




ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, আহত ১২৯ জন

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১২৯ জন। সোমবার স্থানীয় সময় ভোরে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ ফিলিপাইন।

স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের পরিচালক রদ্রিগো সোসমেনিয়ার জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১২ জন সোক্সারগেন অঞ্চলের বাসিন্দা। আর দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে মারা গেছে তিনজন।

সান্তোস শহরের পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট ড্যাগন বলেন, ‘ভুমিকম্পে অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা উদ্ধারকাজ করছি।’

আফটারশকের আশঙ্কায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বা অন্যান্য অবকাঠামোয় প্রবেশ না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করে দিয়েছে।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাওয়ের জেনারেল সান্তোস শহর থেকে ৮ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ৬ দশমিক ২ মাইল। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮।

ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরেই প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানায়, ফিলিপাইনের কিছু উপকূলে ১০ ফুট এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু উপকূলে এক মিটার পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে। সুনামি ঝুঁকি নেই বলে পরবর্তীতে জানানো হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।




এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই-লোন’ এর উদ্বোধন

এবি ব্যাংক পিএলসি. সম্প্রতি ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্‌ম এবি ডিরেক্ট অ্যাপ-এ সংযুক্ত ফ্লেক্সক্রেড পরিচালিত এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই-লোন’-এর পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফিনটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি ফিল্পস লিমিটেড-এর সহযোগিতায় তৈরি এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজ, ঝামেলামুক্ত ও তাৎক্ষণিকভাবে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ ব্যবস্থায় ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং অনুমোদিত ঋণের অর্থ এবি ডিরেক্ট অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাবে জমা হবে।

এবি ব্যাংকের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন উপলক্ষ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মহাদেব সরকার সুমন এফসিএ, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব জেড এম বাবর খান, ফিল্পস লিমিটেড, ইউএই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জনাব ড্যানিয়েল শ্রেষ্ঠা এবং ফিল্পস লিমিটেড এর কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ) জনাব তুষার হাসান।




মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এর নতুন আধুনিক সুবিধা ‘এমটিবি ট্রেড এক্স’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) সম্প্রতি এমটিবি ট্রেড এক্স-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে। এটি একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ওয়েব পোর্টাল, যা ট্রেড লেনদেনের অনুরোধ জমা দেওয়া এবং তার স্বীকৃতি প্রক্রিয়াকে সুগম করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই মাইলফলকটি এমটিবি’র এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল ট্রেড রূপান্তরের যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

এমটিবি ট্রেড এক্স হলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি দেশের প্রথম কার্যকর ও অর্থবহ একটি সমাধান। এমটিবি ট্রেড এক্স-এর মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রচলিত, কাগজ-ভিত্তিক ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াকরণ থেকে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের ট্রেড গ্রাহকরা এখন যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে রিয়েল টাইমে তাদের ট্রেড লেনদেন শুরু করতে এবং তার গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারবেন, যার ফলে কাগজের নথিপত্র এবং শাখায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি ট্রেড সমূহকে আরও বেশি দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সুবিধা প্রদান করে। এটি একটি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্ভাবন, যা এমটিবি’র ডিজিটাল ব্যাংকিং বিভাগ বিজনেস এবং ট্রেড অপারেশনস টিমের সাথে নিবিড় সহযোগিতায় পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করেছে।

অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এই ডিজিটাল সমাধানটি গ্রাহকদের উন্নত সেবা, দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণ এবং নির্বিঘ্ন ট্র্যাকিং সুবিধা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে এখনও ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ETRs) সংক্রান্ত বিধিমালা পুরোপুরি গ্রহণ করা না হলেও, এমটিবি ট্রেড এক্স-এর মাধ্যমে আমাদের ব্যাংক কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বাণিজ্য শুরুর পর থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশের জন্য ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ (Plug-and-Play) হিসেবে প্রস্তুত থাকল।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার চৌধুরী আখতার আসিফ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রেজারি প্রধান মো. শামসুল ইসলাম এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ট্রেড অপারেশনস বিভাগের প্রধানগণসহ ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তারা দেশের ক্রমবর্ধমান ট্রেড ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গঠনে “এমটিবি ট্রেড এক্স”-এর কৌশলগত গুরুত্ব ও দূরদর্শী ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।




শিগগিরই দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠে যাচ্ছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস (শেয়ারদরের সর্বনিম্ন সীমা) শিগগিরই তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের গতি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় পর এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার অথবা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিশেষ কমিশন সভা আয়োজন করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ১১০ দশমিক ১০ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস ৩২ দশমিক ৬০ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘শিগগিরই দুই কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হবে। সেটি আজ সোমবার বা মঙ্গলবারও হতে পারে।’

এদিকে রোববার (৭ জুন) বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। ওই বৈঠকে তিনি জানান, শেয়ারবাজারে আর কোনো ফ্লোর প্রাইস রাখা হবে না; শিগগিরই তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে।

ফ্লোর প্রাইস হলো শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা, যার নিচে কোনো শেয়ারের দাম নামতে পারে না। করোনা মহামারির শুরুতে শেয়ারদরের অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতে এ ব্যবস্থা চালু করে বিএসইসি। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হলেও ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্ষেত্রে তা বহাল ছিল। তবে সোমবারের বিশেষ কমিশন সভায় এ দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।