তিন সাবসিডিয়ারিকে অধিগ্রহণ করবে ডরিন পাওয়ার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড তার তিনটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানি তিনটি হচ্ছে-চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড, ঢাকা নর্দার্ন পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড ও ঢাকা সাউদার্ন পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড।

আজ রোববার (৭ জুন) অনুষ্ঠিত ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অধিগ্রহন সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, আলোচিত অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড, ঢাকা নর্দার্ন পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড ও ঢাকা সাউদার্ন পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেডের সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডাররের সঙ্গে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের কোনো শেয়ার বিনিময় হবে না। অর্থাৎ কোম্পানি তিনটির সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডাররা ডরিন পাওয়ারের কোনো শেয়ার পাবেন না। তাদেরকে নিজ নিজ কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। এ কারণে অধিগ্রহণের পরও ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের মূলধন কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসবে না, সহজ কথায় কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ও শেয়ার সংখ্যা বাড়বে না।

ডরিন পাওয়ারের ভাষ্য অনুসারে, একীভূতকরনের মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা ও মনিটরিং বাড়বে, কমবে প্রশাসনিক ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত ব্যয়। তাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে।

একীভূতকরণের এই সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডার, কোম্পানির পাওনাদার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতি এবং হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।




রেলের ঘড়িতে চলে না ‘তিতাস’

​রেলওয়ের চরম অব্যবস্থাপনা আর নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নরসিংদী রেলস্টেশনে সাধারণ রেলযাত্রীদের ক্ষোভ এখন চরমে। বিশেষ করে ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনটির ভয়াবহ সময় বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিদিন যাতায়াত করা শত শত সাধারণ যাত্রী।
​ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কোনো তোয়াক্কাই করছে না। রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটির দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে নরসিংদী রেলস্টেশনে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই ট্রেনটি এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে স্টেশনে আসে।
​গতকালের চিত্র উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ এক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিট হলেও ট্রেনটি নরসিংদী এসে পৌঁছায় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি স্টেশনে আসে। এখানেই শেষ নয়, নরসিংদী থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে ট্রেনটি সময় নেয় বিকেল ৫টা। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের এই পথটুকু পাড়ি দিতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
​আসন কেটেও দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রীদের:
নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা জানান, ট্রেন দীর্ঘ সময় বিলম্বে আসায় স্টেশনে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রী জমা হয়। ফলে ট্রেন আসার সাথে সাথেই বগিতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেক যাত্রী আগে থেকে বৈধ টিকিট কেটে আসন (সিট) বরাদ্দ পাওয়ার পরও ভিড়ের কারণে নিজেদের নির্ধারিত আসনের কাছে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও প্রকট রূপ নেয়।
​যাত্রীদের দাবি:
স্টেশনে অপেক্ষমাণ ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রেলের টাইম মেন্টেনেন্স নেই। তিতাস কমিউটার বেশিরভাগ সময়ই শিডিউল মেলাতে পারে না। যদি ট্রেনটি ঠিক সময়ে আসতো, তাহলে স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী জমা হতো না এবং আমাদের এই চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো না।”
​সাধারণ যাত্রীদের একটাই দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে তিতাস কমিউটারের এই দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয় দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করে।




রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা

দেশের ১৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।

রোববার (৭ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছার দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




সরকারের দুই মাসে গণপিটুনিতে ৬৯, মব সহিংসতায় ৮০ জনের মৃত্যু: টিআইবি

বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২ মাসে ৬০৫ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, গণপিটুনেতে ৬৯ ও মব সহিংসতায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে একটি।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

মার্চ ও এপ্রিল মাসের তথ্য পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ পুলিশ, হিউময়ান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এসব তথ্য তুলে ধরেছে।

এছাড়াও, প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে অপরাধ ও মানবাধিকার চিত্র নিয়ে বলা হয়েছে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডাকাতি হয়েছে ৯০টি, ছিনতাই ২৯৪টি, দাঙ্গা ৩টি, অপহরণ ১৯৬টি, পুলিশের ওপর হামলা ১২৯টি, চুরি ২ হাজার ২১৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৩ হাজার ৪৯৬টি, ধর্ষণের ঘটনা ৭৮-১০২ টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ৩০-৩৬টি, শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪৯-৭১টি।




নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে এ অধিবেশন শুরু হয়। এটি নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির পর সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অধিবেশনটি যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন আহ্বান করেন। এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস করার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর জুন মাসে জাতীয় বাজেট পেশ ও এর ওপর আলোচনার জন্য সংসদ অধিবেশন বসে, যা বাজেট অধিবেশন হিসেবে পরিচিত। বাজেটের ওপর সংসদ সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন।

এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। যা শেষ হয় গত ৩০ এপ্রিল।




রামিসা ধর্ষণ-হত্যায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। যত দ্রুত রায় কার্যকর চাই।’

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এরপর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপাকালে এসব কথা বলেন রামিসার বাবা।

রামিসার বাবা বলেন, আমরা প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। এই রায়ে আমাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা মিটবে। রায়ে আমি শতভাগ খুশি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। বিচারপতি, পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ দেশের সব মানুষ যারা আমার এবং আমার পরিবারের বিপদের সময়ে পাশে ছিলেন আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে হত্যার যে রায় আজ আদালত দিয়েছেন সেই রাই আমরা দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই। যত দ্রুত সম্ভব আমরা রায় কার্যকর হোক দেখতে চাই।




ঈদুল আজহায় সড়কে নিহত ৪০২, আহত ১২৯৪

ঈদুল আজহার সময় সারা দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাছাড়া নৌ-পথে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ জন। মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও ১৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী থেকে সারা দেশে যাতায়াত করে। ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারের ১০/১২ দিনের তৎপরতা নয় বরং ঈদযাত্রায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে, যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেয়া তথ্যানুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন।

২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। দুই ঈদুল আজহায় তুলনা করলে সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ও আহত ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেয়ার ঘটনা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে ও ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে সংগঠিত হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়।

এছাড়া সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।




উচ্চ আদালতে রামিসার মামলার শুনানি এগিয়ে আনতে সুপারিশ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে উচ্চ আদালতের শুনানি এগিয়ে আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, চার্জশিট এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিবেচনা করে শুনানির সিরিয়াল এগিয়ে আনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হবে।

এ সময় পুলিশ বাহিনীর মনোবল বাড়াতে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ভারতের নয়াদিল্লিতে কাল থেকে বিজিবি এবং বিএসএফ-এর ডিজি পর্যায়ের বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলো কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধীরা যাতে আইনের কোনো ফাঁকফোকরে জামিন না পায়, সেজন্য আইনি সংস্কার করা হচ্ছে।




বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানকে বিদায়ী চেয়ারম্যানের অভিনন্দন

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মাসুদ খানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সংস্থাটির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। একইসঙ্গে দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

 

রোববার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এ তথ্য জানান।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ জানান, বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মাসুদ খানকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তার সফলতা কামনা করছি। ২০২৪ সালের আগস্টে শেয়ারবাজার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম একটি অকার্যকর অবস্থায় ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গত সময়ে কমিশন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্কার, নীতিমালা সহজীকরণ, বাজারে বিধি-পরিপালন নিশ্চিতকরণ, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিনিয়োগকারী শিক্ষা কার্যক্রম পুনর্গঠনে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে বর্তমানে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। নতুন আইপিও বিধিমালা ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বাজার এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তার বিশ্বাস, মাসুদ খানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

 

বার্তায় তিনি আরও বলেছেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে আমি সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত আছি। আপনার প্রয়োজন হলে যেকোনো তথ্য বা সহযোগিতা দিতে আমি প্রস্তুত থাকব।

গত ৪ জুন সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।

এরপর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খান ও কমিশনার হিসেবে ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি মো. নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। একই দিনে তারা বিএসইসিতে যোগদান করেন।




সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন, ১৯৬টি অপহরণ: টিআইবি

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির তথ্যমতে, এ সময়ে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

টিআইবির প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনা এবং ২ হাজার ২১৪টি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন। গণধর্ষণের শিকার ছিলেন ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ছিল ৪৯ থেকে ৭১ জন।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও অরাজকতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




কেনাকাটা নয়: বাংলাদেশকে সোর্সিং হাব হিসেবে দেখছে আলিবাবা, রপ্তানিকারকদের যুক্ত করছে ক্রেতাদের সঙ্গে

স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য অনলাইন শপিংয়ের পরিবর্তে আলিবাবা তার বৈশ্বিক বি-টু-বি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি কারখানা ও সরবরাহকারীদের ১৯০টিরও বেশি দেশের বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করে।

 

অনেক বাংলাদেশির কাছে আলিবাবা গ্রুপ আমাজন বা আলীএক্সপ্রেসের মতো একটি বিশাল চীনা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। তাই যখন তারা জানতে পারেন, আলিবাবার বাংলাদেশেও একটি ক্রমবর্ধমান ব্যবসা রয়েছে এবং তারা পণ্য অর্ডার করার জন্য ওয়েবসাইটটি ভিজিট করেন, তখন তারা বিস্মিত হন—কারণ তারা এখানে কেনাকাটা করতে পারেন না!

আলিবাবা ডটকম-এ অধিকাংশ পণ্য—যেমন পোশাক, ইলেকট্রনিকস বা গৃহস্থালির সামগ্রী বড় পরিমাণে মূলত পাইকারি ক্রেতা, আমদানিকারক এবং আন্তর্জাতিক সোর্সিং কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য অনলাইন শপিংয়ের পরিবর্তে আলিবাবা তার বৈশ্বিক বি-টু-বি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি কারখানা ও সরবরাহকারীদের ১৯০টিরও বেশি দেশের বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর আলিবাবা ডটকম–এর মাধ্যমে বাংলাদেশি সরবরাহকারীরা প্রায় ১ কোটি ডলারের রপ্তানি ব্যবসা করেছে। সেখানে পোশাক ও হোম টেক্সটাইল থেকে শুরু করে পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী এবং কৃষিপণ্য পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে চারটি স্থানীয় চ্যানেল পার্টনারের মাধ্যমে ৩০০-এরও বেশি বাংলাদেশি সরবরাহকারীর সঙ্গে কাজ করছে। প্রচলিত ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসের মতো আলিবাবা ডটকম বাংলাদেশে কোনো গুদাম, ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বা স্থানীয় শপিং সেবা পরিচালনা করে না।

আলিবাবা ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র চ্যানেল অপারেশন স্পেশালিস্ট ওয়াং কুইলিং ভ্যানিয়া দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “বাংলাদেশ মূলত আলিবাবা ডটকম–এর জন্য একটি কৌশলগত বৈশ্বিক সোর্সিং হাব।”

কোম্পানিটি ‘প্ল্যাটফর্ম-প্লাস-লোকাল-পার্টনার’ মডেলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আলিবাবা ডটকম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বৈশ্বিক ক্রেতা নেটওয়ার্ক সরবরাহ করে; আর স্থানীয় পার্টনাররা রপ্তানিকারকদের অনবোর্ডিং, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করে।

কোম্পানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের স্থানীয় পার্টনারদের মধ্যে রয়েছে ট্রেডশি, মেইদাও, স্কাইটেক এবং ম্যাক্সিমো। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা অনলাইন স্টোরফ্রন্ট তৈরি করতে পারেন, বিভিন্ন ভাষায় পণ্য প্রদর্শন করতে পারেন, ক্রেতাদের অনুসন্ধান গ্রহণ করতে পারেন এবং আলিবাবার ‘রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ)’ সিস্টেম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অর্ডারের জন্য বিড করতে পারেন।

কোম্পানিটি ডিজিটাল রপ্তানি, পণ্য উপস্থাপন, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনলাইন বিক্রয় কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণও প্রদান করে।

বাংলাদেশে কার্যক্রম বাড়লেও আলিবাবা ডটকম জানিয়েছে, দেশটিতে ভোক্তা শপিং, ডেলিভারি সেবা বা লজিস্টিক হাব চালুর কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা তাদের নেই।

বরং কোম্পানিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য সংগঠন এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকায় একটি ছোট প্রতিনিধি অফিস খোলার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ওয়াং বলেন, “আমাদের বিনিয়োগ মূলত মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিনির্ভর, অবকাঠামোগতভাবে ভারী নয়।”

বিশ্বব্যাপী আলিবাবা ডটকম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বি-টু-বি সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম এবং এটি অ্যামাজন বিজনেস এবং ইন্ডিয়ামার্ট-এর মতো পাইকারি মার্কেটপ্লেসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে।

শক্তিশালী উৎপাদন খাত ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটি বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে দেখে। তবে কর্মকর্তারা মনে করেন, ডিজিটাল রপ্তানিতে দেশটি এখনও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

বিধিনিষেধ, ব্যাংকিং প্রক্রিয়া বড় চ্যালেঞ্জ

আলিবাবা ইন্টারন্যাশনাল–এর বাংলাদেশ বিষয়ক ডোমেস্টিক চ্যানেল ম্যানেজার সোনোবার মাইরা বলেন, বাংলাদেশে বি-টু-বি ই-এক্সপোর্টের প্রবেশ হার ১৫ শতাংশের নিচে, যেখানে ভিয়েতনাম ও ভারতে এটি ৩০ শতাংশের বেশি।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ বিধি ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ছোট রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। “পেমেন্ট কনফার্মেশনে বিলম্ব এবং পুরনো ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রায়ই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ছোট রপ্তানি লেনদেনে সমস্যা তৈরি করে।”

এই সমস্যার সমাধানে মাইরা জানান, তারা স্থানীয় পেমেন্ট সমাধানের পাইলট প্রকল্প চালাচ্ছে এবং ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে (যার মধ্যে বিকাশও রয়েছে) অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করছে।

তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো— সীমান্ত পারাপারের লেনদেন সহজ করা এবং লেনদেনের দক্ষতা বাড়ানো, বিশেষ করে ১,০০০ ডলারের নিচের ছোট রপ্তানি অর্ডারের ক্ষেত্রে।

মাইরা বলেন, “আমরা বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা ও সেটেলমেন্ট বিলম্ব সমস্যার সমাধানে স্থানীয়কৃত পেমেন্ট সমাধানের পাইলট চালাচ্ছি। এই উদ্যোগ ট্রেড অ্যাসিউরেন্স সেবা শক্তিশালী করা এবং ছোট রপ্তানিকারকদের সহায়তা করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।”

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য

সোনোবার মাইরা আরও জানান, আগামী তিন বছরে ১,০০০-এরও বেশি বাংলাদেশি রপ্তানিকারককে বৈশ্বিক বাজারে ডিজিটালি সক্রিয় করতে সহায়তা করাই আলিবাবার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

কোম্পানিটি সম্প্রতি বাংলাদেশের একাধিক ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি। এসব সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে— রপ্তানিকারক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, অনবোর্ডিং সহায়তা এবং ক্রেতা-ম্যাচমেকিং ইভেন্ট।

মাইরা বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতারা সোর্সিং গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনছে এবং অনলাইন প্রোকিউরমেন্ট সিস্টেমের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে—এই কারণে ডিজিটাল সোর্সিং প্ল্যাটফর্মগুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল বৈশ্বিক ডিজিটাল বাণিজ্য বাজারের পূর্ণ সুবিধা নিতে বাংলাদেশকে দ্রুততর বৈদেশিক মুদ্রা অনুমোদন, স্পষ্ট ডিজিটাল বাণিজ্য বিধিমালা এবং আরও দক্ষ রপ্তানি পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।




৪৪ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, তালিকায় ভালো ব্যাংকগুলোও

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনও হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক,  প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

মাত্র তিন মাসে এই ৪৪ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক হিসাবে, মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত বকেয়া ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৫.৫৭ লাখ কোটি টাকা (৩০.৬০ শতাংশ)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ডিসেম্বর প্রান্তিকে অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ কম দেখিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে পরে অনেক গোপন খেলাপি ঋণ উদঘাটিত হয়েছে। এছাড়া নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য চাপে থাকায় ঋণ আদায় ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: ছয়টির মধ্যে চারটিরই আরও অবনতি

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৪৫.৮৫ শতাংশ।

গত তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জনতা ব্যাংকে।

২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশ।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ৬৮৮ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৮৪ কোটি টাকা ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ১১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাপে বেসরকারি ব্যাংকগুলো

গত তিন মাসে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে। মার্চ প্রান্তিক শেষে ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৬ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ৩০.১১ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের ৪৩টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৪টিতেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা অনেক ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় (মোট ঋণের ৬৩ শতাংশ)। এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের বেড়েছে ৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

মূলধন সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এ সময়ে সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪২২ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ৬৬২ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ৪০৬ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ৩৯২ কোটি টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি বেড়েছে ২১৬ কোটি টাকা।

এছাড়া আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৯১৭ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭২৬ কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংকের ৪৫৩ কোটি টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২১৮ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ২১১ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৯৩ কোটি টাকা, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩১ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ১৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

কেবল বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, মার্চ প্রান্তিকে বিশেষায়িত তিন ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তিন মাসে কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৩৪ কোটি টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯৯ কোটি টাকা।

এছাড়া বিদেশি এইচএসবিসি বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ ও স্টেট ব্যাংক অভ ইন্ডিয়ারও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে ব্যবসার প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে কিছু বড় ঋণগ্রহীতা ক্রমবর্ধমানভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তৌহিদুল আলম খান খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে পাঁচটি মূল কারণ চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, কঠোর নজরদারির কারণে আগে গোপন রাখা খেলাপি ঋণগুলো এখন প্রকাশ্যে আসছে। একইসঙ্গে ঋণ স্থগিতাদেশ ও বিলম্বে পরিশোধ সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো চাপে থাকা হিসাবগুলোকে আবার শ্রেণিকরণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার কারণে নগদ প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ঋণ মূল্যায়ন ও জামানতের অবমূল্যায়নের ক্ষেত্রে সুশাসনের দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। তাছাড়া ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




প্রবাসীদের চাহিদায় ফল রপ্তানিতে রেকর্ড, ১১ মাসে আয় ১২.৩ কোটি ডলার

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের ফল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ফল রপ্তানি করে বাংলাদেশ ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এর পুরো বছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে ফল রপ্তানি থেকে আয় ৮২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ফল রপ্তানি থেকে দেশের সর্বোচ্চ আয়।

গত তিন অর্থবছর ধরে এ খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ফল মূলত মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমাদের অধিকাংশ রপ্তানি প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদা পূরণ করে। আমরা এখনও আন্তর্জাতিক মূলধারার ফলের বাজারে প্রবেশ করতে পারিনি, কারণ বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মান-অনুবর্তিতা, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।”

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে উন্নতি, রপ্তানিমুখী ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ ফল রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ‘বাদাম, তাজা বা শুকনো’ শ্রেণির পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২১ ডলারে। তাজা ফলের রপ্তানিও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্ম মৌসুমে আম এখনো দেশের প্রধান রপ্তানি ফল। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।

উন্নত মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে পেয়ারা ও কাঁঠালও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি আনারস, লিচু, কলাসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ফল সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানি হচ্ছে।

ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে ফল চাষে, বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে, উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে এক ধরনের ফল বিপ্লব ঘটছে। ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো ফসলের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।”

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত সহায়তা বাড়ানো গেলে ফল রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তার ভাষ্য, “প্যাকিং শেড, ফসলোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা গেলে রপ্তানিকারকেরা আন্তর্জাতিক বাজারের আরও বেশি সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।”

ইপিবির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ফল রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখে, কারণ এ খাত মূলত দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, “অন্যান্য অনেক খাতের মতো ফল উৎপাদনে আমদানিনির্ভর উপকরণের প্রয়োজন খুব বেশি হয় না।”

তিনি আরও জানান, রপ্তানি বাজারে আরও বেশি কৃষক ও উদ্যোক্তাকে যুক্ত করতে কাজ করছে ইপিবি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা, আধুনিক প্যাকেজিং সুবিধা এবং উন্নত ফসলোত্তর ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের ফলে পণ্যের মান ও সংরক্ষণক্ষমতা বেড়েছে।

তারা আরও বলেন, রপ্তানিযোগ্য মানের ফলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তিভিত্তিক চাষের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে।

লজিস্টিকস এখনো বড় চ্যালেঞ্জ

ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ এবং পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ (ট্রেসেবিলিটি) ব্যবস্থা চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে।

তবে রপ্তানিকারকদের মতে, লজিস্টিকস-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে। উচ্চ বিমান ভাড়া, মৌসুমে কার্গো পরিবহনের সীমিত সুযোগ, পর্যাপ্ত শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব এবং শুল্ক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা রপ্তানি বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ বলেন, গত বছর জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার টন আম রপ্তানি হয়েছে। চলতি মৌসুমে এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, “কোয়ারেন্টিন সনদ প্রদান ও প্যাকেজিং সুবিধাসহ অধিকাংশ রপ্তানিসংশ্লিষ্ট সেবা ঢাকাকেন্দ্রিক। এসব সুবিধা বিভাগীয় পর্যায়ে থাকলে রপ্তানি আরও সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী হতো।”

তিনি আরও বলেন, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে ফল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, আম রপ্তানির মৌসুম পুরোদমে চলতে থাকায় অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ফল রপ্তানি থেকে আয় আরও বাড়বে।