সিলেটে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি-র অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন সকল আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক ও দ্বিতীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ৬ জুন ২০২৬ তারিখ, শনিবার ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা-২০২৬ রেইনবো গেস্ট হাউজ, সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এ এফ এম মতিউর রহমান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী ও মহাব্যবস্থাপক মো: আমিরুল ইসলাম। সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক খালেদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের আইন, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মনোজ রায়।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে গুণগত ঋণ বিতরণ ও টেকসই উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সিলেট বিভাগাীয় কার্যালয়ের আওতাধীন শাখাসমূহের ব্যবসায়িক সকল সূচকের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৃহীত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঋণ আদায়ের হার ও ঋণস্থিতি বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত, খেলাপি ঋণ এবং অবলোপনকৃত ঋণ আদায় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে প্রধান কার্যালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দুর্নীতির বোঝা এখনো বহন করতে হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের প্রভাব এখনও দেশের অর্থনীতি ও সরকারি ব্যবস্থাপনাকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করছে।

শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি প্রেস ব্রিফিং তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে এখনও প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তবে দেশের অর্থনীতি থেকে অতীতে যে পরিমাণ অর্থ পাচার ও লুটপাট হয়েছে, তার তুলনায় এই ভর্তুকির পরিমাণ খুব বড় নয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ঘিরে দীর্ঘ এক থেকে দেড় দশক ধরে যে দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সময় লাগবে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতিরই ফল।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে একইসঙ্গে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও স্বনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যমান সংকটগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণের বিস্তার এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বড় আকার বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করেছে। এসব অপরাধের মাধ্যমে যারা বিপুল কালো টাকার মালিক হয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডের বোঝা এখন রাষ্ট্রকে বহন করতে হচ্ছে।

সরকারের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাদের প্রতিটি কাজের জবাবদিহি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করব। গণমাধ্যম যেমন জনগণকে সচেতন রাখছে, তেমনি দেশের বাস্তব সমস্যাগুলোও মানুষের সামনে তুলে ধরছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা খাতগুলোকে ধীরে ধীরে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

মন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের কার্যক্রম ও গণমাধ্যমের প্রশ্ন উভয়ের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর সেই প্রত্যাশা প্রতিফলিত হচ্ছে।