বন্ধ এমারেল্ড অয়েলে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, ব্যাখ্যা দেয়নি ডিএসইর চিঠির

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদনসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটি দুই বছরের বেশি সময় ধরে আর্থিক হিসাব প্রকাশ করছে না। সম্প্রতি এই কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিটিকে চিঠি দিলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি।

 

বুধবার (৩ জুন) ডিএসই এ তথ্য জানিয়েছে।

এক্সচেঞ্জটি জানায়, গত ২৪ মে কোম্পানিটির কাছে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি।

কোম্পানির শেয়ারদর ওঠানামার চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৪ মে এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সায়, যা ২ জুন লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ছয় টাকা ৬০ পয়সা বা ৪৭ শতাংশ।

 

এই দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। ফলে কোম্পানিটির দর বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, কয়েক বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের। এছাড়া ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে আর্থিক হিসাব প্রকাশ করছে না কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।

 

আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটি ২০২৩ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রাপ্তিও বাদ হয়ে গেছে। এ কোম্পানিটি থেকে সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি ১ টাকা বা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।




আইএমএফের কাছে নতুন করে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আবেদন করেছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি বিবেচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইভো ক্রজনার বলেন, ‘‘২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় চলমান কর্মসূচিগুলো একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে নতুন বাস্তবতার আলোকে আরও গভীর ও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’’

আইএমএফের বিবৃতিতে ‘‘ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং নিম্ন রাজস্ব আহরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’’

সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘‘নতুন কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের আবেদন আইএমএফ ও সরকারের মধ্যে এমন একটি নতুন কাঠামো তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করবে এবং সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করবে।’’

‘‘তবে সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির অনুমোদন দেশের বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন, শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার পরিকল্পনা এবং আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে’’, বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নের জন্য শিগগিরই একটি আইএমএফ স্টাফ মিশন ঢাকা সফর করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই সফরের পর সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির আকার, অর্থায়নের পরিমাণ এবং সংস্কারসংক্রান্ত শর্তাবলি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

বিবৃতিতে আইএমএফ বাংলাদেশের প্রতি তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ‘‘টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাবে।’’

অন্যদিকে, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের শীর্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোংয়ের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিভিন্ন শিল্প খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মিতসুইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, বৃহৎ ভোক্তা বাজার এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সম্ভাবনার প্রশংসা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আইএমএফের নতুন সহায়তা কর্মসূচির উদ্যোগ এবং অন্যদিকে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৮ দিন বন্ধ থাকার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপ এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বন্দরের সকল ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিলো। তবে এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ খোলা ছিল।

তিনি আরও জানান, ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।




পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বেড়েছে ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া খুচরো পর্যায়ের ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর একটি প্রতিনিধিদল।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

মিতসুই বৈশ্বিক পর্যায়ে লজিস্টিকস, অবকাঠামো, ধাতু, জ্বালানি ও খাদ্য বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বৈঠকে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সরকার প্রতিনিধিদলকে জানায়, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।

পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সেবা ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। এর ফলে বিনিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

মিতসুই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান।

 




দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাজেট ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের খারাপ সময়, ভঙ্গুর অর্থনীতি তার মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেছি, সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

সরকারের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, সবদিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও এই অবস্থার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া চেষ্টা করেছি। কারণ বাজেটের এই অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত করতে পারি এবং অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যায় সেগুলো মাথায় রেখে প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা খুব একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে আছি। বিগত সরকারগুলো থেকে আশা করি এটা একটা ভালো শুরু হবে। একটু সময় দিতে হবে। শুরুটা আশা করি ভালো হবে। এখান থেকে আমরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।

গত দুই বছর মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ একেবারেই শূন্য ছিল, এখন আপনাদের সরকারের তিন মাস পার হলো। বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আশ্বাস রয়েছেন কিনা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি। টাকা ছাপিয়ে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে ঋণাত্মক একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমাদের এই ঋণের সুদের বাজেট একটা বিরাট অংশ চলে যায়। বাংলাদেশকে যে ঋণ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে আগামী দিনে ফিরে আসার জন্য যে পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট দরকার, আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ক্রমান্বয়ে ঋণ ওপর নির্ভর কম করে বিনিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আমাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, বিনিয়োগ বেশি বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং যে উন্নয়নের স্বপ্ন আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে আমরা যাচ্ছি। সেটা যাতে বাস্তবায়ন হতে পারে। সেই চেষ্টা করছি।




বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ মোট ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২ জুন) ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাব উত্থাপন করে।

খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাব অনুযায়ী এসব দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (United States Trade Representative বা USTR) জানায়, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য মার্কিন বাণিজ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করছে—এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন শুল্ক কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে বাংলাদেশ ছাড়াও কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের নাম রয়েছে।

USTR-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে তদন্তাধীন আরও ৪৫টি দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের ধারা ৩০১ (Section 301) এর আওতায় পরিচালিত একটি তদন্তের সর্বশেষ ফলাফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের।

এদিকে প্রস্তাবটি এমন সময় সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন তাদের জরুরি শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে আগের শুল্ক ব্যবস্থার কিছু অংশ বাতিল হওয়ার পর নতুন করে নীতি নির্ধারণের কাজ শুরু হয়।