তথ্য গোপন করে এসএসসির অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়ন : ৩ পরীক্ষককে শোকজ

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে তথ্য গোপন ও নিয়ম-বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খাতা নেওয়ার অভিযোগে ৩ পরীক্ষককে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে। একইসঙ্গে বোর্ডের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা আলাদা তিনটি চিঠির মাধ্যমে এ নোটিশ জারি করা হয়।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পরীক্ষকদের মধ্যে রাজবাড়ীর কালুখালীর লাড়ীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা ২য় পত্রের (বিষয় কোড-১০২) পরীক্ষক খোরশেদ আলম একজন পরীক্ষকের জন্য নির্ধারিত ৩০০টি উত্তরপত্রের স্থলে অনৈতিকভাবে তথ্য গোপন করে ৯০০টি উত্তরপত্র গ্রহণ করেন।

অন্য দুই পরীক্ষক হলেন নরসিংদীর মাধবদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ১ম পত্রের (বিষয় কোড-১০৭) পরীক্ষক মনির হোসেন এবং নরসিংদী বিয়াম জিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একই বিষয়ের পরীক্ষক মশিউর রহমান। তারা দুজনেই নির্ধারিত ৩০০টি খাতার বিপরীতে ৪৫০টি করে উত্তরপত্র গ্রহণ ও মূল্যায়ন করেছেন।

বোর্ডের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকেরা বোর্ডের নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কাজ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক খাতা মূল্যায়নের বিষয়টি বোর্ডের শৃঙ্খলা পরিপন্থি।

একইসঙ্গে এই অনৈতিক কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত জবাব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানোর জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




নিলামে উঠছে ফ্রিজার ও জেনারেটরসহ ১০২ কনটেইনার পণ্য

ফ্রিজার, জেনারেটর ও ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন পণ্যের ১০২ কনটেইনার পণ্য অনলাইন নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালের মাধ্যমে মোট ৪৪টি লটে ১০২ কনটেইনার পণ্যের নিলামে অংশ নেওয়া যাবে ঘরে বসেই।

মঙ্গলবার (২ জুন) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার জট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার অংশ হিসেবে অখালাস করা ও নিলামযোগ্য বিভিন্ন পণ্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চলতি জুন মাসে ১০২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশন বা অনলাইন নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ই-অকশন-৬/২০২৬’ এর আওতায় মোট ৪৪টি লটে এই ১০২ কনটেইনার পণ্য বিক্রি করা হবে। নিলামে ওঠা পণ্যের মধ্যে রয়েছে-বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ,কাগজ, ফেব্রিক্স ও গৃহস্থালি পণ্য, ফ্রিজার, জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার ও লাইম স্টোন ও কোয়ার্টজ পাউডার ইত্যাদি।

আর নিলাম কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এই নিলাম পরিচালিত হবে। বিডারদের (দরদাতা) সুবিধার্থে সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শন করে অনলাইনে বিড করার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে (http://auction.nbr.gov.bd/auction/301) নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে অনলাইনের পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার ও প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে দাখিল করতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’ এর প্রযোজ্য শর্তাবলি মেনে পণ্য খালাস করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ১৮ জুন বেলা ১১টায় ‘ই-অকশন-৬/২০২৬’ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম সংক্রান্ত যেকোনো বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীদের কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টাল ভিজিট করার অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর।




নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ গড়ে তোলা। যেন দেশের সব মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। একইসঙ্গে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারেন। এজন্য নিয়ন্ত্রণমূলক অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে এসে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত দেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসা। কেননা বাংলাদেশের বাজেটে নিম্ন আয়ের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন। তাই আমরা বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।

তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ব্যাংকগুলো আন্ডার ক্যাপিটালাইজড। ব্যাংকের টাকা সব লুটে নিয়ে গেছে। ভঙ্গুর এ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে সরকার।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় দারিদ্র্য আরও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমানে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করছেন মানুষ। এ কারণে ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ প্রদান, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে। কেননা জিডিপি শুধু শিল্প-কারখানা থেকে আসে না। সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কারুশিল্পসহ সৃজনশীল খাতও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।




চলতি মৌসুমেই মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তাজা আম

সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি আম মৌসুমেই মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের তাজা আম। এই লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আগামী ৭ থেকে ১৩ জুন বাংলাদেশ সফর করবে। তারা দেশের বিভিন্ন আম উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং ব্যবস্থা এবং রপ্তানি প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

আজ (মঙ্গলবার) কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ‌্য জানায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হ‌য়, রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর ২০২৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি তাজা আম রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। হাইকমিশন বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ পেস্ট রিস্ক অ্যানালাইসিস (পিআরএ) রিপোর্ট প্রেরণ করেছে।

এই লক্ষ্যে হাইকমিশন মালয়েশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি বিভাগসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক চেম্বার, আগ্রহী আমদানিকারক ও সুপারশপের সঙ্গে একাধিক সভা করেছে। মালয়েশিয়ার বাজারে আমের ব্যাপক চাহিদা এবং বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর কারণে, এই বাজারের প্রতি আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সক্রিয় প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের আম বাগান এবং তাজা ফল প্যাকিং সুবিধাগুলোতে নিয়ম-কানুন যাচাইকরণ (ভেরিফিকেশন অব কমপ্লায়েন্স বা ভিওসি) পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। মালয়েশিয়ান সরকারের নিয়ম অনুযায়ী তাজা আমের জন্য কীটপতঙ্গ ঝুঁকি বিশ্লেষণ (পিআরএ) সম্পন্ন করার পূর্বশর্ত হিসেবে এই যাচাইকরণ পরিদর্শন অপরিহার্য।

মালয়েশিয়ার পরিদর্শন প্রস্তাবে সম্মত হয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের দুই সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল, আগামী ৭ থেকে ১৩ জুন বাংলাদেশের বিভিন্ন আম উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি-প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।

উল্লেখ্য, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প এই পরিদর্শনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।

প্রয়োজনীয় মান ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করা সম্ভব হলে, চলতি আম মৌসুমেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের তাজা আম রপ্তানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ায় আমের বাজার উন্মুক্ত হলে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে আম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কমলো ৫৫ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমেছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এছাড়া প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল ১২ কেজিতে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৭ টাকা করেছিল বিইআরসি। অর্থাৎ দুই দফায় ১২ কেজিতে ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।




তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা : বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংক খাতে গত তিন মাসে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া দেশে চলতি মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। নীতি সহায়তা ও নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ঋণ পুনঃতপশিল করে নেওয়ার পরেও খেলাপি ঋণ বাড়ার ঘটনা ঘটল।

মার্চ শেষে দেশে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপির হার বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপির হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

 




রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নরওয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি-সহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের প্রারম্ভিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে, নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে। মন্ত্রী নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন।

তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরফান্ড-এর ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব ও কম-কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির আওতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।

বৈঠকে নরওয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর চমৎকার ভূমিকার প্রশংসা করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করেন যে, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে।

সাক্ষাৎকালে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




আদালতে রামিসার বাবা-মা, উঠে এলো ঘটনার করুণ বিবরণ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তারা সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ার বসে সাক্ষ্য দেন তিনি।

আদালতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। ক্যান্টনমেন্ট হয়ে বনানী কাকলীতে পৌঁছে অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রী পারভীন আক্তারের ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, বাসায় এসে দেখেন ভবনের সামনে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছে। পরে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে স্ত্রী জানান, রামিসা পাশের ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকা রয়েছে। আশপাশের লোকজন দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভেতর থেকে দরজার মূল লক খুলে দেন আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। পরে সবাই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে তিনি টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান। স্বপ্না খাতুন তখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।




আদালতে এসে ন্যায়বিচার চাইলেন রামিসার বাবা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তিনি এ দাবি জানান।

এদিন আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

এদিকে সকাল পৌনে নয়টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে। এসময় তাদেরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ ঘটনায় ২০ মে ভুক্তভোগীের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।




তাপে পুড়ছে ৪০ জেলা, বিপর্যস্ত জনজীবন

রাজধানী ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। প্রচণ্ড রোদ আর তাপমাত্রা বেড়ে সর্বত্রই বিরাজ করছে তীব্র গরম।

ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথঘাট সবকিছুই উত্তপ্ত। তীব্র এই গরমে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ। রাস্তাঘাটে লোকজন কম বের হওয়ায় আয় কমেছে তাদের।
ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শুধু তাই নয়, গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রাণিকুলও।মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ৪০ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া চার বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

পাশাপাশি তিন বিভাগে ভারি বর্ষণ হতে পারে।আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীবায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে— এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কুমিল্লায় ৫৪ মিলিমিটার।