নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৪ মে) রবিবার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)’ আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো আমাদের সহ্যসীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।”

রামিসা হত্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘রামিসার ঘটনায় মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আজই দাখিল করা হবে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সংলাপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণের জন্য আগেই বারবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ‘এক্সট্রাডিশন ট্রিটি’ বা প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী ভারত সরকার তাকে ফেরত পাঠাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই তিনি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হোন।”

 




প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে রেলওয়ে

প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে। সোমবার (২৫ মে) থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে।

রোববার (২৪ মে) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ রেলওয়েকে দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবীণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে বয়স অবশ্যই ৬৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য থেকে বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। শুধুমাত্র মূল ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ আগের নিয়মেই দিতে হবে।

এই সুবিধা অনলাইন ও কাউন্টার— দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। এজন্য যাত্রীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধিত থাকতে হবে। একজন প্রবীণ যাত্রী সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার এ ছাড় পাবেন। তবে টিকিট ফেরত দিলে সেই যাত্রা সাপ্তাহিক হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং একই সপ্তাহে আবারও ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কোনো প্রবীণ যাত্রী সহযাত্রী নিয়ে টিকিট কাটলে সহযাত্রীর জন্য স্বাভাবিক ভাড়া প্রযোজ্য হবে। তবে সহযাত্রীও যদি প্রবীণ হন, তাহলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ সহযাত্রী ছাড় সুবিধা পাবেন। এজন্য তাকেও নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফাইড হতে হবে।

প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে বিদ্যমান ৫০ শতাংশ ছাড় বহাল থাকবে। পাশাপাশি সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিতে নতুন করে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে আপাতত প্রতিবন্ধী যাত্রীরা শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাবেন। ভবিষ্যতে অনলাইনেও এ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের ইউনিফায়েড পরিচয়পত্র চালুর পর তাদের জন্যও ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রেল পরিবহনকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ ভাড়ার ছাড়ের ঘোষণা ছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই প্রথম ধাপে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য এ সুবিধা চালু করা হলো।




ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও কোরবানির পশুর হাটকেন্দ্রিক যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদকে কেন্দ্র করে ২৫-২৭ মে এবং ২৯-৩১ মে, মোট ছয় দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের সময় আনুমানিক এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়েন এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেন। এ কারণে ঈদযাত্রা ও পশুর হাট সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ছয় দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, পঁচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

এছাড়া রুট পারমিটবিহীন বাস চলাচল করতে পারবে না। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী নিয়ে সরাসরি গন্তব্যে যাবে এবং সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা-নামানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ মে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক একমুখী করা হবে। এ সময়ে এই পথে শুধু ঢাকা থেকে বের হওয়া যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ঢাকায় প্রবেশকারী যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

একইভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিআরটি প্রকল্পের এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুরমুখী লেনও ২৫-২৭ মে একমুখীভাবে কেবল ঢাকা ছাড়ার যানবাহনের জন্য ব্যবহার হবে। ঢাকামুখী যানবাহনকে অন্য লেন ব্যবহার করতে হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যানজট কমাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে রয়েছে বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ সড়ক।

কোরবানির পশুর হাটকেন্দ্রিক নির্দেশনায় ডিএমপি বলেছে, হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে সড়কের ওপর পশু ক্রয়-বিক্রয়, লোড-আনলোড করা যাবে না। পশুবাহী ট্রাক বা ক্রেতাদের গাড়ি হাট সংলগ্ন সড়কে পার্কিং করলেও তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশুর হাট সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি নগরবাসী, যানবাহনের মালিক-চালক এবং পশুর হাট সংশ্লিষ্টদের এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়।




১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

 

রাজধানীর যানজট নিরসন, অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রধানমন্ত্রী ঈদের পর রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিগন্যালিং সিস্টেম নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

 

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীতে অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করতে ধাপে ধাপে কাজ চলছে। এরইমধ্যে নির্ধারিত কাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের ছুটির পর আবারও কাজ শুরু হবে এবং এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক এলাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হবে।

তিনি জানান, নগরীতে মোট ২২টি পয়েন্টে অটো ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর সুফলও এরইমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করছে। তবে যানজট পুরোপুরি কমাতে রিকশা ও গণপরিবহনকে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অনেক স্থান থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে, বাকি এলাকাগুলোতেও ঈদের পর অভিযান চালানো হবে। এসব কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর ট্রাফিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঢাকার নয়, সারা দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও চিন্তা করছেন। বিশেষ করে গাবতলী থেকে পোস্তা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ দেখিয়েছেন। ঈদের পর তিনি এ প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা গেলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনকে আর যাত্রাবাড়ী হয়ে যেতে হবে না। একইভাবে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গমুখী যানবাহনও ঢাকা শহরের ভেতরে প্রবেশ না করেই চলাচল করতে পারবে। এতে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।

 

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন ঢাকা শহরের কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করা হয়। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর সুবিধার্থে লাখ লাখ বস্তা বিতরণ করা হয়েছে, যাতে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা যায়।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন কোরবানির বর্জ্য ড্রেনে বা যত্রতত্র ফেলা না হয়। সবাই সহযোগিতা করলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব হবে।




দোহার পৌরসভার কার্যকলাপে বিভাগীয় কমিশনারের ক্ষোভ

ঢাকার দোহার পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন-মূলক, প্রশাসনিক ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দীন চৌধুরী।

আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে দোহার পৌরসভা অডিটোরিয়ামে পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে পৌরসভার নিজস্ব আয় ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে আরও গতিশীল এবং কঠোর হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।

পৌরসভার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খাতের আয় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার চিত্র পর্যালোচনার সময় বিভাগীয় কমিশনার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বাণিজ্যিক দোকানপাট ও আবাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স (কর) আদায়ের ধীরগতি, বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার থেকে বকেয়া ও নিয়মিত কর আদায়ে গাফিলতি এবং যত্রতত্র গড়ে ওঠা সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডের লাইসেন্স ফি আদায়ের ক্ষেত্রে পৌরসভার শিথিলতার বিষয়টি তিনি শক্তভাবে তুলে ধরেন।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পৌরসভার নিজস্ব তহবিল শক্তিশালী করতে কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে কঠোরভাবে রাজস্ব আদায়ের তাগিদ দেন তিনি।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ মাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দীন চৌধুরী।

একটি পৌরসভা তখনই স্বাবলম্বী ও আদর্শ হিসেবে গড়ে ওঠে, যখন তার রাজস্ব আদায়ের খাতগুলো স্বচ্ছ ও নিয়ম-তান্ত্রিক থাকে। আবাসিক, বাণিজ্যিক কিংবা মোবাইল টাওয়ারের মতো বড় খাত-গুলো থেকে কর আদায়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতি বাড়াতে হবে এবং সাধারণ নাগরিকরা যেন কোনো প্রকার হয়-রানির শিকার না হন, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

উক্ত গুরুত্ব-পূর্ণ মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-বৃন্দ। এছাড়া দোহার পৌরসভার সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের উত্থাপিত সকল বিষয় দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সভার পর থেকে পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে কাজের জবাবদিহিতা ও কর আদায়ে নতুন তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।




ঈদ-উল-আযহা ২০২৬: নৌপথে যাত্রী ও পশু পরিবহনে নিরাপত্তায় তৎপর নৌ পুলিশ — অতিরিক্ত আইজিপি

নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার সম্মেলন কক্ষে নৌ পুলিশের সম্মানিত অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মো: রেজাউল করিম মহোদয় এর সভাপতিত্বে “আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা-২০২৬” উপলক্ষে নৌ পথে যাত্রী, পণ্য ও কোরবানীর পশু পরিবহনে নিরাপত্তা এবং নৌ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা” সংক্রান্তে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার শুরুতেই নৌ পুলিশের পক্ষ হতে নৌ ঘাটের নিরাপত্তা, ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত, পণ্য ও পশুবাহী পরিবহনের নিরাপত্তায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় লঞ্চ/নৌযান, স্পীডবোট ও বাল্কহেড চলাচল, চাঁদাবাজী প্রতিরোধে করণীয়সহ নদী তীরবর্তী কোরবানীর পশুরহাট, পশুর চামড়া পরিবহন সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিত প্রতিনিধি ও অনলাইনে সংযুক্ত নৌ পুলিশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুলিশ সুপারবৃন্দের সাথে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় নিরাপদ নৌপথ সংক্রান্তে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। নৌপথ ব্যবহারকারী ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবং পণ্যবাহী পশু পরিবহন সহজ ও নিরাপদ করতে সরকারি সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়নে নৌ পুলিশ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উল্লেখযোগ্য হলো- লঞ্চ/নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনে বিরত থাকা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নৌযান চালানো, চাঁদাবাজি, চুরিসহ যেকোন হয়রানি বন্ধে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা, নৌপথে টহল জোরদার করা, টার্মিনাল ব্যতীত নদীর যেকোন জায়গায় অন্য কোন ছোট নৌযান হতে যাত্রী উঠানো বা নামানো বন্ধ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বলেন,”আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রী ও কোরবানীর পশু পরিবহনে নিরাপত্তায় আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে নৌ পুলিশ। ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ রাখতে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়াসহ অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হতে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহবান জানান তিনি। ওই সময় নৌ পুলিশ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সিনিয়র অফিসারদের নৌ পথে থাকার নির্দেশনাসহ নদীতে ত্রুটিযুক্ত যানবাহন চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ প্রদান করেন। অবশেষে তিনি নৌপথ নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে অগ্রীম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে মতবিনিময় সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় নৌপথের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, অতিরিক্ত ডিআইজিবৃন্দ, পুলিশ সুপার ঢাকা রেঞ্জ অফিস, পুলিশ সুপারবৃন্দ নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (কোস্ট গার্ড), এডিসি(ট্রাফিক) লালবাগ, এসি ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর প্রতিনিধি এবং নৌ পুলিশের সকল অঞ্চলের পুলিশ সুপারসহ নৌ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ সরাসরি ও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।



মিয়ানমারে বাড়ছে ইয়াবা কারখানা, পাচারের ৪৫ রুট চিহ্নিত করল বিজিবি

দেড় বছরে ৭০০ কোটি টাকার মাদক জব্দ, গ্রেফতার ১৩০৫
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকারী ইয়াবা-আইসের মূল ৪৫টি রুট চিহ্নিত করেছে বিজিবি। এই রুটগুলো কক্সবাজার সীমান্তের মাধ্যমে দেশে মাদক আনার প্রধান চ্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৩ মে পর্যন্ত কক্সবাজার সীমান্ত ও এর আশপাশে সনাক্তকৃত এই রুটগুলোতে নিবিড় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৩০৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় প্রথম দিকে ৩৫টি স্থানে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা থাকলেও এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৫০টি কারখানায় পৌঁছেছে। মংডু, বুচিডং ও রাথেডং এলাকায় সর্বাধিক সংখ্যক উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিজিবি এই ৪৫টি পাচার রুট চিহ্নিত করার পর থেকে সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।



২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা টোল আদায়

সিরাজগঞ্জ: ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে স্বাভাবিকের তুলনায় দিগুণ যানবাহন চলাচল করছে যমুনা সেতু দিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করেছে।

বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি। 

রোববার (২৪ মে) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শনিবার (২৩ মে) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন চলাচল করেছে।

বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা। 

এর মধ্যে সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী লেন) ১৬ হাজার ৭৫৩টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ সাত হাজার ১৫০ টাকা।

অপরদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজায় ১৫ হাজার ৮৯৬টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা। 

ঈদের সরকারি ছুটি সোমবার (২৫ মে) শুরু হলেও আগের শুক্রবার (২২ মে) বিকেল থেকেই যানবাহনের চাপ বেড়েছে যমুনা সেতুতে।

যানবাহনের চাপ সামলাতে আজ আরও চারটি অতিরিক্ত টোল বুথ চালু করা হয়েছে। 

এসআই