হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য দোষীদের বিচার পরে, আগে চিকিৎসা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতিকে দায়ী হলেও এ মুহূর্তে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার চেয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাকেই সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) আয়োজিত স্বাস্থ্য সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকারের গাফিলতির কারণেই সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। কিন্তু এ ঘটনায় যারা দোষী, এখন তাদের বিচারের ব্যবস্থা করার চেয়ে এই মুহূর্তে হামে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়াই সরকারের কাছে বেশি জরুরি।’

হামের চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের আসন্ন ঈদে ছুটি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেশন, আইসিইউ ও এনআইসিইউ সংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংকট নিরসনে রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন মিটার, নেবুলাইজার ও প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ করা হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আইএফআরসি বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ২ হাজার ৪০০ রোগীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে। এতে হামে আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত শিশুদের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নেওয়া বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া থেকে আপাতত বিরত থাকতে হবে।




মহাসড়কে ৭ দিন বন্ধ থাকবে পণ্যবাহী যান চলাচল

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে পণ্যবাহী মোটরযান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

শনিবার (২৩ মে) বিআরটিএর সদর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ঈদের আগের ৩ দিন এবং ঈদের পরের ৩ দিনসহ মোট ৭ দিন—অর্থাৎ ২৫ মে ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংকলরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও গৃহস্থালী সামগ্রী, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

যানবাহন চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে যেকোনো প্রয়োজনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬, ০১৫৫০০৫৬৫৭৭, ০১৫৫০৭২২০৬৫, ০১৫৫০৭২২০৬৬ ও টেলিফোন নম্বর +৮৮-০২-৫৫০৫৮১৮১, +৮৮-০২-৫৫০৫৮১৮২-এ যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুসহ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল পুনঃঅর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

 

তিনি জানান, গত তিন বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, পরে তা ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে এটি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতে চাপ বেড়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে ও আমানতকারীদের আস্থা কমে গেছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এ বিশেষ স্কিম নেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দেওয়া হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মধ্যে রয়েছে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই (কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ) খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা থাকছে। সেই সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব সহায়তা তহবিলের মধ্যে রয়েছে- প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে ৫ হাজার কোটি টাকা, কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২ হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও মাছ রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে ১ হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা।

গভর্নর জানান, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য দেওয়া ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। এটি ঋণ নয়।
২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ তহবিল পুরোপুরি কার্যকর হলে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে। এতে আনসার ও ভিডিপির লাখো সদস্য উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়।
সুদের হার কত হবে?

গভর্নর বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। ফলে বড় ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ছোট ঋণগুলোর ক্ষেত্রে এ হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু হবে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে।




গাবতলী পশুর হাটে দুম্বা, দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ৪-৫ লাখ

রাজধানীর গাবতলীতে কোরবানির পশুর হাটে উঠানো হয়েছে ৫টি দুম্বা। রংপুরের বিসমিল্লাহ এগ্রোর মালিক মো. নাসিম আলী দুম্বাগুলো নিয়ে এসেছেন হাটে।

নাসিম আলী জানান, দুম্বাগুলোর মধ্যে দুইটির দাম চাওয়া হচ্ছে পাঁচ লাখ টাকা করে এবং বাকি তিনটির দাম সাড়ে চার লাখ টাকা। ক্রেতাদের অনেকেই তিন লাখ টাকার নিচে দাম প্রস্তাব করছেন।

তিনি আরও জানান, গতকাল এসেছি। ক্রেতা আছে, অনেকে দাম বলছেন, হয়তো সময় বাড়লে বিক্রি করতে পারবো।

আজ (শনিবার) আনোয়ার হোসেন নামে একজন ক্রেতা একটি দুম্বার দরদাম করেন। তিনি ২ লাখ ৮০ হাজার পর্যন্ত দিতে রাজি হন। তবে বিক্রেতা আরও দাম বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, হাটে এখনও তেমন দুম্বা ওঠেনি। তিনি পাঁচটা দুম্বা নিয়ে এসেছেন, যে কারণে দাম কমছে না। সময় গেলে হয়তো আরও দুম্বা আসবে, তখন দামাদামি করে নেওয়া যাবে।

এদিকে হাটে গরু ও মহিষের পাশাপাশি ছাগল, খাসির বিক্রিও জমে উঠেছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখানে ভিড় করছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার খামারি ও ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দরদাম করছেন। ১৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা দামের খাসিও রয়েছে এই হাটে। এখনো ঈদের কয়েক দিন বাকি থাকায় আরও বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন খামারিরা। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।




হামের রোগীদের জন্য দায়িত্বরত ডাক্তার-নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল

হামের রোগী ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সদের ঈদে ছুটি হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

যেসব হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি আছে, সে হাসপাতালে ঈদের ছুটির মধ্যে চিকিৎসকরা থাকবেন কি না, নাকি ছুটিতে চলে যাবেন- এ প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, থাকবেন ইনশাল্লাহ। আমরা অলরেডি সার্কুলার দিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে এটা বলাতে, এটাও আপনারা আশ্বস্ত হতে পারেন, আমরা সতর্ক করছি। হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবাতে কোনো ডাক্তারের, নার্সের ছুটি হবে না। থাকতে হবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কথা আপনাদেরকে বলি। ভ্যাকসিন নিলেই যে ১০০ পার্সেন্ট একটা বাচ্চা হাম হবেই না, এটা কিন্তু বলা যায় না। স্মল পক্স ইজ ফুল্লি ইরাডিকেটেড, কলেরা ইজ ইরাডিকেটেড, এখন কিন্তু কলেরা হচ্ছে। আপনার যদি রেসিস্ট্যান্স মাত্রাটা কেউ ক্রস করে যান, পচা-তিতা খাবার খেয়ে যান, তাহলে তো কলেরা হবে। ঠিক একই জিনিস কিন্তু এটাও।

তিনি আরও বলেন, যদি বেশিভাবে ভাইরাসটা ছড়িয়ে যায়, ক্ষেত্র বিশেষে হতেও পারে। এটা কতটুকু গ্যারান্টি আমি জানি না, আই অ্যাম নট এ সায়েন্টিস্ট, যার কারণে আমি জানি না।

ঈদের সময় মায়েরা যেন আক্রান্ত শিশুদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে না যায় সে অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাচ্চাগুলো যেন অনেক ভিড় আছে এমন জায়গায়ও নিয়ে না যায়।

তিনি বলেন, কারণ এটা হাইলি ছোঁয়াচে রোগ। এটা তো সংস্পর্শে গেলেই, শ্বাস-প্রশ্বাসে, দৈনিক মানে সংস্পর্শ লাগলে এটা ছড়ায়। কাজেই এটা থেকেও সবার চেষ্টা করতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা প্রেডিক্ট করছেন যে, ফ্রি মিক্সিংয়ের ফলে এই ঈদে বাস যাত্রা, ট্রেন যাত্রা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, এভাবে যদি হাম রোগীর সংস্পর্শে ভালো মানুষগুলো আসে, সুস্থ বাচ্চারা, তাহলে দেয়ার ইজ এ পসিবিলিটি, একটা সম্ভাবনা থাকবে আরেকটু বেড়ে যাওয়ার।




শেষ হলো হজ ফ্লাইট, সৌদি পৌঁছেছেন নিবন্ধিত সব হজযাত্রী

বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শেষ হয়েছে। সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধিত সব হজযাত্রী।

শুক্রবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত হজ ফ্লাইটে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী।

হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন সৌদি আরবের মক্কা থেকে জানান, নিবন্ধিত সব হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

হজ বুলেটিনে বলা হয়েছে, এবার মোট ২০১টি ফ্লাইটে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯২৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

হজ শেষে ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ৩০ জুন।

অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত ২৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে মারা গেছেন। মারা যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, ৭ জন নারী। মক্কায় ১৫ জন ও মদিনায় ৯ জন মারা গেছেন। সবশেষ ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।




কুষ্টিয়ায় ট্রাক-বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২৫

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা শিমুলিয়া কুঠিপাড়া এলাকায় বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রাফিয়া (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর মণ্ডলপাড়ার রুহুল আমিনের মেয়ে। বাকি দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

 

শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বালুভর্তি ট্রাকটি দ্রুতগতিতে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে বাসটি খাদে পড়ে যায়।

খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।




ভারতীয় গরুশূন্য হাটে দেশি পশুর আধিপত্য

ভারতীয় সীমান্তঘেরা উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এবার কোরবানির পশুর হাটের চেনা চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিগত বছরগুলোতে কোরবানির ঈদে যেসব হাটে ভারতীয় গরুর একচেটিয়া আধিপত্য থাকত। এবার সীমান্তে কড়া নজরদারির কারণে ভারতীয় গরুর দেখা নেই বললেই চলে। ফলে জেলার ছোট-বড় সব হাট এখন সম্পূর্ণ দেশি গরুর দখলে। ভারতীয় গরু না আসায় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা।

তিন দিকে ২৮৪ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত থাকা পঞ্চগড়ে অতীতে ঈদের আগে অবৈধ পথে প্রচুর গরু আসত। এবার চোরাচালান বন্ধ হওয়ায় নিজেদের লালন-পালন করা পশু নিয়ে হাটে আসছেন খামারিরা। পঞ্চগড় সদরের রাজনগর হাট, বোদার নগরকুমারি, দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ, আটোয়ারীর ফকিরগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়ার শালবাহান পশুর হাট ঘুরে এখন শুধু দেশি গরুর বড় বড় সারি চোখে পড়ছে।
খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ না থাকায় এবার তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
গো-খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বগতির কারণে সীমান্তে এই নজরদারি সবসময় বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবার পঞ্চগড়ে কোরবানির পশুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। জেলায় এক হাজার ২৩৬টি খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এক লাখ ৩০ হাজার ৩৩০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে স্থানীয় চাহিদা এক লাখ তিন হাজার ৪৫০টি পশুর। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ২৬ হাজারেরও বেশি গরু বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
রাজনগর গরুর হাটের ইজারাদার আব্দুস সামাদ পুলক জানান, হাটে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার দেশি গরু উঠেছে এবং কোনো ভারতীয় গরু নেই। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুরক্ষায় হাটে বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরী, লাইটিং এবং মলম পার্টির হাত থেকে সচেতন থাকতে নিয়মিত মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বাজার আরও জমজমাট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভালো দামের আশা খামারি ও ব্যবসায়ীদের
হাটে আসা হাড়িভাসা এলাকার খামারি আব্দুল গফুর জানান, এক বছর ধরে লালন-পালন করা গরুর মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন, আরও তিনটি হাটে এনেছেন। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খরচ বাড়লেও ভারতীয় গরু না থাকায় এবার ভালো লাভ করার আশা করছেন তিনি। একই কথা বলেন স্থানীয় গৃহস্থ আবদুর রহিম। দেড় বছর ধরে বাড়িতে পালন করা দুটি ছোট ষাঁড়ের দাম পাইকাররা বাড়িতেই এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হেঁকেছেন। হাটে এনে এক লাখ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
বগুড়ার সাতমাথা থেকে আসা ব্যবসায়ী ময়ন উদ্দিন মিজান জানান, তিনি গত তিন হাট ধরে পঞ্চগড় থেকে গরু কিনে বগুড়ায় পাঠাচ্ছেন। দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় চলতি হাটেই তিনি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ১৭টি গরু কিনেছেন।
পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, তিন দিকে সীমান্ত থাকায় অসাধু চক্র যাতে কোনোভাবেই ভারতীয় গরু নিয়ে আসতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। খামারিরা যাতে তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন পান এবং লাভবান হন, সেটি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।




ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন এবং খাল পুনঃখননের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালের পথে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে সড়কপথে রওনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুরে সেখানে গিয়ে প্রথমে ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টায় ত্রিশালের নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।

এরপর বিকেল ৫টায় স্থানীয় নজরুল অডিটরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ঘিরে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন।




গরু কোরবানি দেওয়া ঈদ বা ইসলামের অংশ নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার গত ১৩ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বলা হয়, উন্মুক্ত জনপরিসরে কোনো প্রাণী জবাই করা ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’ থাকবে।

গরু কোরবানি দেওয়া ঈদুল আজহা উৎসবের অংশ নয় এবং ইসলামের বিধানে এটি বাধ্যতামূলকও নয় বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এর পাশাপাশি উন্মুক্ত বা জনপরিসরে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন আদালত।

আসন্ন ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ মে) হাইকোর্ট এই রায় দেন।

আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর খবর অনুযায়ী, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জনপরিসরে গরু ও মহিষ জবাই করার ওপর এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

রায়ের আদেশে বলা হয়, ‘কোনো উন্মুক্ত পরিসরে গরু ও মহিষসহ অন্যান্য প্রাণী জবাই করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়ত, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট “মো. হানিফ কোরেশি ও অন্যান্য বনাম বিহার রাজ্য” মামলায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে গরু কোরবানি দেওয়া ঈদুল আজহা উৎসবের অংশ নয় এবং ইসলামের অধীনে এটি কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় বিধানও নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পশু জবাই নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রসহ বেশ কয়েকজন ওই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন।

পিটিশনকারীরা আসন্ন ঈদুল আজহায় ধর্মীয় আচার পালনের জন্য ‘প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’-এর ১২ ধারার অধীনে ছাড় চেয়েছিলেন।

তবে আদালত রায়ে বলেন, ‘কয়েকজন পিটিশনকারীর চাওয়া এই ছাড়ের বিষয়ে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ ধারার আওতায় রাজ্য সরকারকে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।’

পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার গত ১৩ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে বেশ কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল—কর্তৃপক্ষের দেওয়া ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ বা সুস্থতার ছাড়পত্র ছাড়া কোনো প্রাণী জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সরকার ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায় যে উন্মুক্ত জনপরিসরে কোনো প্রাণী জবাই করা ‘কঠোরভাবে নিষিদ্ধ’ থাকবে।




বড় ছাড়েও ক্রেতা নেই: ঢাকায় ঈদের কেনাকাটায় মন্থর গতি

রাজধানীর প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, এবারের ঈদের কেনাকাটার চিত্র বেশ ধীর গতির। বিক্রি কম হওয়া, ক্রেতাদের ব্যয় করার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং সন্ধ্যার পর লোকসমাগম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

দোকানের সামনে ঝুলছে ‘ফ্ল্যাট ৫০% ছাড়’-এর জমকালো ব্যানার। সুসজ্জিত পোশাকের র‍্যাকগুলোর পাশে অলস দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রয়কর্মীরা। এক সময় ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকা ঢাকার শপিং মলগুলোতে এখন জনসমাগম লক্ষণীয়ভাবে কম। দেশের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো আকর্ষণীয় সব ছাড় দিলেও এবারের ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের উপস্থিতি আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, এবারের ঈদের কেনাকাটার চিত্র বেশ ধীর গতির। বিক্রি কম হওয়া, ক্রেতাদের ব্যয় করার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং সন্ধ্যার পর লোকসমাগম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও অনেক বিক্রেতা লোকসান এড়িয়ে চলছেন, তবে মুনাফার প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এটি সরাসরি ভোক্তা আচরণ পরিবর্তন এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেইলি রোডের ‘ইনফিনিটি’ শোরুমের ম্যানেজার শাহরিয়ার সুলতান বলেন, এবারের ঈদের বাজার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা অনেক কম। দিনের তুলনায় সন্ধ্যায় ভিড় কিছুটা বাড়লেও বিক্রি খুব বেশি লাভজনক নয়। আমাদের এই শাখাটি তুলনামূলক ভালো করলেও অন্যান্য শোরুমের অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়।’

ব্যবসায়ীদের মতে, এক সময় ঈদের কেনাকাটা মানেই ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং গভীর রাত পর্যন্ত ভিড়। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মানুষ এখন অনেক ভেবেচিন্তে খরচ করছে।

‘আর্টিজান’-এর ভেতরে পাঞ্জাবি ও উৎসবের পোশাকগুলো সাজানো থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা হাতেগোনা। ম্যানেজার দীপ্ত দাস এই মন্দার পেছনে পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক উভয় কারণকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রচণ্ড গরম এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিই ক্রেতা কমে যাওয়ার মূল কারণ। কয়েক দিন আগেও রাত ৭টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল, ক্রেতারা এখনো সেই রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেননি।’

তিনি আরও জানান, বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পরেও রাত ৮টার পর ক্রেতার প্রবাহ গত বছরের তুলনায় অনেক কম, যা ঈদের কেনাকাটার চিরাচরিত ছন্দকে ব্যাহত করছে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ‘জেন্টল পার্ক’-এর বিক্রয়কর্মী জিসান একই ধরণের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘রাতে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও আমাদের রাত ১০টার মধ্যে সব বন্ধ করে দিতে হয়। অধিকাংশ ক্রেতা সন্ধ্যার পর আসেন। ঈদের সময় কেনাকাটার সময়সীমা বাড়ানো হলে সবার জন্যই ভালো হতো।’

বিক্রেতারা লক্ষ্য করেছেন যে, গত বছরের তুলনায় বেশি ছাড় দেওয়া সত্ত্বেও মানুষ উৎসবের কেনাকাটার চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। কিছু ক্রেতা শুধু দাম যাচাই করতে আসছেন, আবার অনেকে ঈদের একদম আগমুহূর্তে আরও বড় ছাড়ের আশায় কেনাকাটা পিছিয়ে দিচ্ছেন।