মালয়েশিয়ায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদর্শনী ‘এসইএকেয়ার ২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের সক্রিয় উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্প‌তিবার (২১ মে) কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ‌্য জা‌নি‌য়েছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়, ২০–২২ মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ দাতো হাজা হানিফা হাজার তৈয়ব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বের নয়টি দেশের ১০৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

ডেপুটি মিনিস্টারকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বুথে স্বাগত জানান হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

 

হাইকমিশনার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ওষুধপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের বুথে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনীর ব‍্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া, এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেড পৃথক বুথে ওষুধপণ্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করছে।

মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

পরবর্তী সময়ে হাইকমিশনার এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেডের বুথ পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি বলেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে পণ্যের বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, এ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বাজারে প্রবেশাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

মেলার প্রথম দিনে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ঔষধশিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অংশীজন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিগণ বাংলাদেশের বুথসমূহ পরিদর্শন করেন।

এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মালয়েশিয়াসহ সমগ্র আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধপণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানির নতুন বাজার সম্প্রসারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫% কর আরোপের চিন্তা সরকারের

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর হতে পারে এবং পরবর্তী তিন বছর তা বলবৎ থাকবে।

দেশে বাড়তে থাকা আয় বৈষম্য কমাতে আগামী জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ আয়কারীদের জন্য সরকার আয়করের সর্বোচ্চ হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করেন—অর্থাৎ মাসে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয়—এমন করদাতারা নতুন এই উচ্চ করহারের আওতায় পড়বেন। বর্তমানে বছরে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করহার প্রযোজ্য রয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর হতে পারে এবং পরবর্তী তিন বছর তা বলবৎ থাকবে। আগামী জুনে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো অতি ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা। এর উদ্দেশ্য ধনী-দরিদ্রের বিদ্যমান বৈষম্য কমানো।”

তিনি বলেন, বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন ব্যক্তিরা ‘সুপার রিচ’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই তাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, এ শ্রেণিতে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি করদাতা রয়েছেন। নতুন করহার কার্যকর হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মার্চে বাজেটসংক্রান্ত আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান অতি ধনীদের ওপর ৩৫ শতাংশ করহার আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “অতি ধনীদের ওপর করহার বাড়ানো সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। যাদের আয় বেশি, তাদের করও বেশি দেওয়া উচিত।”

তবে তিনি বলেন, শুধু করহার বাড়ালেই হবে না, কর ফাঁকি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে হবে। তা না হলে শুধু করহার বাড়িয়ে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না এবং ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাতও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, সরকারের এ উদ্যোগ কেবল নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো টেকসই হবে না।”

তিনি বলেন, “এনবিআরের উচিত করের আওতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি বন্ধ করা, যাতে বড় পরিসরে রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়। তা না করে বছরের পর বছর নিয়মিত করদাতাদের ওপরই চাপ বাড়ানো হচ্ছে।




বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) গুরুত্বপূর্ণ ৯০তম বৈঠক। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত চলবে।

বৈঠকে অংশ নিতে গত বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশের একটি ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কলকাতায় পৌঁছেছেন

বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের এক প্রধান প্রকৌশলীর।

এবারের বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল মুর্শিদাবাদে যাবেন

সেখানে বৈঠকের ফাঁকে ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ পরিমাপ করবেন তারা। পরে প্রতিনিধিদল কলকাতায় ফিরে একটি অভিজাত হোটেলে মূল বৈঠকে অংশ নেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে, এই শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বণ্টনের বিধান রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।

পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।




বাড্ডায় নকশাবহির্ভূত ভবনে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান

রাজধানীর বাড্ডার এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজউক। অভিযানের সময় কয়েকটি ঘরের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় ভবনের বিদ্যুতের লাইনও কাটা হয়।

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান চলে।

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভিন বিথী জানান, নাগরিক জীবন ও সুপরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট অভিযান চলমান থাকবে।