লন্ডনে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত কুইন এলিজাবেথ-২ সেন্টারে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত শিক্ষা সম্মেলন ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম-২০২৬’-এর সাইড লাইনে মঙ্গলবার (১৯ মে) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে গুগলের পক্ষে ‘গুগল ফর এডুকেশন’ প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কলিন মারসন এবং সলিউশনস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অলি ট্রাসেল অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠককালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে গুগল কীভাবে বৈশ্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা শিক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন গুগলের কর্মকর্তারা।

এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ব্যবহারে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পরিকল্পনা ও মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গুগল কীভাবে কৌশলগত ও কারিগরি সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বিশেষ করে, দেশের শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের চলমান ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে গুগলের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে বৈঠকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। গুগলের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের এই রূপান্তরে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।




আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী সফিপুরের সমাবেশস্থলে পৌঁছালে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানের সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুসজ্জিত প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় বাহিনীর চৌকস দলগুলো  প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

সমাবেশ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি একাডেমি বর্ণিল সাজে সেজেছে। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত কর্মকর্তাদের পদক প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।




পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

বিশ্বরেকর্ড গড়ে জয়ের হাতছানি ছিল পাকিস্তানের সামনে। গোটা দুই দিন আর ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছোঁটা পাকিস্তান সেপথে এগুচ্ছিলোও। তবে সেই স্বপ্নে ধাক্কা দিয়ে উল্টো ইতিহাসের হাতছানি পাচ্ছে বাংলাদেশই। প্রথম দুই সেশনে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পর তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের ভোগাচ্ছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এমন সময় ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন তাইজুল ইসলাম। শেষবেলায় নতুন বল হাতে নিয়ে সালমানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের শতরানের জুটি ভাঙার পর হাসান আলীকেও সাজঘরে ফেরালেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙাই শুধু নয়, পরের ওভারে তাইজুল এনে দিলেন আরও একটি উইকেট। শেষ বিকেলের মরে আসা আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। পাকিস্তানের সান্ত¡না বলা চলে, ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিতে পারা।

সিলেট টেস্ট জিতে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৩ উইকেট। অবিশ্বাস্য কিছু ঘটিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিতলে হলে সফরকারীদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছুটে পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করে রানে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে। অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজমের ৯২ এবং রিজওয়ান ও সালমানের ১৩৪ রানের দুটি জুটির সৌজন্যে লড়াইয়ে টিকে আছে। শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মাদ রিজওয়ান দিন শেষে অপরাজিত ৭৫ রানে। সাজিদ আছেন ৮ রানে। শান মাসুদ ও সালমান আগা দুজনেই আউট হন ৭১ রান করে। এদিন স্বাগতিকদের বোলিংয়ের মূল নায়ক টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তাইজুল। ৩১ ওভারে তিনটি মেডেনসহ ১১৩ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। গতিময় তরুণ পেসার নাহিদ রানা ১৪ ওভারে দুটি মেডেনসহ ৫৮ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাকিটি গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারেই আসে সাফল্য। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দলকে কাক্সিক্ষত ব্রেক থ্রু পাইয়ে দেন তাইজুল। তার আর্ম বল সালমানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ২২৪ বল স্থায়ী পাকিস্তানের ১৩৪ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। সালমান ১০২ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৭১ রানে আউট হন। তেতে ওঠা তাইজুল নিজের পরের ওভারেই ধরেন আরেক শিকার। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বল হাসানের ব্যাট ছুঁয়ে যায় সিøপে। সেখানে ক্যাচ লুফে নিতে কোনো ভুল হয়নি শান্তর। ৬ বল খেলে হাসান রানের খাতা খুলতে পারেননি। দিনের বাকি ওভারগুলো কাটিয়ে দেন রিজওয়ান ও সাজিদ।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনে ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের হয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়েন সালমান ও রিজওয়ান। ৭০ বলে এই জুটির রান স্পর্শ করে পঞ্চাশ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রিজওয়ানের পর সালমানও পৌঁছে যান ফিফটিতে। মাঝে দুজনের জুটির শতরান পূর্ণ হয় ১৬৭ বলে। এরপর যখন তারা ক্রিজে অটল দুর্গ গড়ে তুলেছেন বলে মনে হচ্ছিল, তখনই তাইজুল উইকেট শিকারে নেমে উল্লাসে মাতান বাংলাদেশকে।
জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিয়েছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। টেস্টের দেড়শ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের কীর্তি টিকে আছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। এ ছাড়া যে তিনবার টেস্টে চার শর বেশি রান তাড়া হয়েছে, সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনাটিও ১৮ বছর আগের। সাদা পোশাকের সংস্করণে পাকিস্তানের চারশর বেশি রান তাড়ায় সফলতার কোনো নজির নেই। সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে দলটি জিতেছিল ২০১৫ সালে, পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতেও চারশ ছাড়ানো লক্ষ্যের পেছনে ছুটে জয়ের ঘটনা কখনও ঘটেনি। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান করে জয়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৬১ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে ইনজামাম-উল-হকের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান সেই রান তাড়া করেছিল। পাশাপাশি এই পাকিস্তান দেশের বাইরে জিততেও ভুলে গেছে। সর্বশেষ দেশের বাইরে পাকিস্তান জিতেছে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, কলম্বোয়। এরপর হেরেছে টানা ৬ ম্যাচে।