ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদকে ডিএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রোববার (১৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

উল্লেখ্য যে, গত ২৬ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার। পুলিশ সদরদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, নতুন কমিশনার যোগদান না করা পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এর একদিন আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। যদিও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ছিল।

সরকারি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অবসরে যান ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। শেষ কর্মদিবস শেষ করে তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। যাকে আবার একই সপ্তাহে পৃথক প্রজ্ঞাপনে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বদলি করেছিল সরকার। তবে নতুন কর্মস্থলে তিনি যোগ দেননি। ১৪ মে আইজিপি ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেন নজরুল ইসলামকে। আজ সরকারি প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির কমিশনার হলেন সিআইডি প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন।

গত ১৬ মার্চ সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান ১৫তম ব্যাচে বিসিএস দিয়ে পুলিশে যোগ দেওয়া মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিআইডিতে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পেশাগত জীবনে জাতিসংঘের আফ্রিকান ইউনিয়ন-ইউনাইটেড নেশনস হাইব্রিড অপারেশন ইন দারফুর-এ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠিত হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।




সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বৈঠকে অংশ নেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং করতোয়ার সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।




প্যাকেজের নামে মোবাইল অপারেটরদের অর্থ হরণ নজিরবিহীন : ক্যাব সভাপতি

দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের নামে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নজিরবিহীনভাবে অর্থ হরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

রোববার (১৭ মে) বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ক্যাব সভাপতি অভিযোগ করেন, আমি যখন ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলাম, তখন গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ডিজিটাল জীবনযাত্রা যেমন আমাদের কাজ সহজ করেছে, তেমনি সমাজ থেকে দূরেও সরিয়ে দিয়েছে। সব নাগরিকের ওপর নজরদারি করা সম্ভব হলে দেশে অনলাইন জুয়া কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, গ্রাহকের ১৮০ টাকা খরচের মধ্যে ১০০ টাকাই সরকার ভ্যাট হিসেবে আদায় করে। এই ভ্যাটের অর্থ সরকার ও কমিশন কোথায় ব্যয় করে, তা জানার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ বলেন, দেশের টেলিকম সেক্টরে প্রতিযোগিতা আইনের কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। মাত্র একটি বেসরকারি অপারেটরকে যেভাবে একচেটিয়া সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রীয় অপারেটরের পাশাপাশি অন্য অপারেটরগুলো খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।

এ সময় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, প্যাকেজের নামে অপারেটরদের নৈরাজ্য কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সরকারের ৫৬ শতাংশ ভ্যাট আদায় করাও উচিত হবে না। সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সরকারকে আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, আমরা মুখে ডিজিটাল উন্নতির কথা বললেও নিজেরা উন্নত হতে পারছি না। আমরা যদি প্রযুক্তি-বান্ধব দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারতাম, তবে দেশ আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারত।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ আর বিলাসিতা নয়, এটি এখন মৌলিক অধিকার ও ডিজিটাল লাইফলাইন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকেরা এখনো নেটওয়ার্কের নিম্নমান, ধীরগতির ইন্টারনেট, মূল্য বৈষম্য, অযৌক্তিক চার্জ এবং প্যাকেজ জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। একটি সংযুক্ত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ সময় টেলিকম খাতের সার্বিক উন্নয়নে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ, গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের বৈষম্য দূর করে শক্তিশালী অবকাঠামো ও দুর্যোগ-সহনশীল নেটওয়ার্ক তৈরি, লুকানো চার্জ বন্ধ করে সহজবোধ্য প্যাকেজ নির্ধারণ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রাহক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করা।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিউল ইসলাম, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহফুজ।




বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক করা হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের অডিও ভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ঢাকায় আলোচনা অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।

চলচ্চিত্রকে একটি জাতির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে অত্যন্ত আন্তরিক। চলচ্চিত্র সংরক্ষণ, ডিজিটালাইজেশন এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।




মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন করেছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল চালকরা এনবিআর ভবনের সামনের সড়কে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল রেখে কর্মসূচি পালন করেন।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকরা জানান, আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম কর (এআইটি) বা বাড়তি শুল্ক আরোপের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

তাদের দাবি, মোটরসাইকেল এখন আর কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

 

এ কে এম ইমন নামের একজন চালক বলেন, ‘একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই আমাদের মোটা অঙ্কের শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। এরপর নতুন করে আবার কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই এই সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুক।’

চালকরা জানান, গত কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নতুন করে কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তাই মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।




বন্ড ছেড়ে ঋণ শোধ করতে চায় টেকনো ড্রাগস

ঋণের চাপ কমাতে বন্ড ছেড়ে অর্থ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। কোম্পানিটির বন্ড ছেড়ে ৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে বিশেষ সাধারণ সভাও (ইজিএম) আহ্বান করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৭ মে) দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ১৯৬তম সভায় পাঁচ বছর মেয়াদি ৫০ কোটি টাকার কুপন বেয়ারিং বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। কোম্পানির বিদ্যমান ঋণ পুনর্গঠন (লোন রিস্ট্রাকচারিং) এবং আর্থিক দায় ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিটি জানায়, প্রস্তাবিত বন্ডের মধ্যে ২৫ শতাংশ রিডিমেবল এবং ৭৫ শতাংশ কনভার্টেবল থাকবে। অর্থাৎ বন্ডের একটি অংশ নির্দিষ্ট সময় শেষে নগদে পরিশোধ করা হবে, আর বড় অংশটি নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে ভবিষ্যতে কোম্পানির শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি সরাসরি ঋণের চাপ কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মূলধন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।

তবে এ বন্ড ইস্যু কার্যকর হওয়ার আগে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ২৪ জুন সকাল ১১টায় বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ জুন ২০২৬। রেকর্ড ডেট-এ যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে কোম্পানির শেয়ার থাকবে, তারাই ইজিএমে অংশগ্রহণ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এদিকে প্রস্তাবিত বন্ড ইস্যুর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডকে ইস্যু ম্যানেজার এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

টেকনো ড্রাগস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২৪ সালে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৩১ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট শেয়ার মালিকানার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৬২ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশের অংশীদারিত্ব রয়েছে।




৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি, খরচ কমানোর আহ্বান

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ড্রাইভার নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছে দুবাইয় ট্যাক্সি কোম্পানি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ তথ্য জানায় দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধি দল। রবিবার (১৭ মে) মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী দুবাই থেকে আগত প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ড্রাইভার নিয়োগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও কর্মী নিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

দুবাই গমনের পর প্রশিক্ষণকালীন সময়ে কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রতিষ্ঠানটিকে অনুরোধ জানান আরিফুল হক চৌধুরী। একইনঙ্গে তিনি চালকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার ও নার্সদের মতো ‘হোয়াইট কলার’ বা পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের জন্য প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকারে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাদের কোম্পানিতে ট্যাক্সি ও লিমুজিন ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত আছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি। বাংলাদেশি কর্মীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী হওয়ায় তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি দুবাই এয়ারপোর্টে বাংলাদেশি নারীরাও সফলতার সঙ্গে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত আছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

প্রতিনিধি দলটি আরও জানায়, আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যোগ্য বাংলাদেশি ড্রাইভারদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে এবং এই দফায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৫০০ ড্রাইভারসহ এ বছর ৬ হাজার ড্রাইভার নিয়োগ দিতে তারা আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে একজন ড্রাইভারের দুবাই যেতে বর্তমানে অনেক টাকা খরচ হয়। এই কর্মীরা অত্যন্ত দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ, যারা অনেক কষ্ট করে বা ঋণ নিয়ে এই অর্থ সংস্থান করেন। তাই তাদের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই অভিবাসন খরচ কমিয়ে ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানিতে কর্মী পাঠানোর একমাত্র অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আল আনাস ওভারসিজের’ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ড্রাইভার ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক হিসেবে কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি দলসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ঈদের আগে চামড়া শিল্প নগরীতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ শিল্পমন্ত্রীর

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্প নগরীতে পুলিশের বাড়তি টহলদারির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

রোববার (১৭ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাভারে চামড়া শিল্প নগরীর ২০০ একর জমিতে কোনো বাউন্ডারি নেই। এখানে প্রায়ই চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ আসে। শিল্প অঞ্চলের নিরাপত্তা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়োজনে আর্ম ব্যাটালিয়ন আনসার বাহিনীর দুই-একটা ইউনিটকে কাজে লাগাতে হবে। ঈদের আগে আরও কিছু বাড়তি টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। ওখানের ব্যবসায়ীরা চান নিরাপত্তা জোরাদার করা হোক। প্রয়োজনে তারা প্রশাসনের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।

সভায় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেজা, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (রেপিড) এবং চামড়া শিল্পের মালিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




দেশের অধিকাংশ ব্যাংকে টাকা রাখলে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম

সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের জন্য লিজিং কোম্পানি, শেয়ারবাজার, বিমা ও সমবায়ের মতো ব্যাংক খাতও এখন অনিরাপদ। বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নেই। হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বেশিরভাগে টাকা রাখলে মুনাফা তো দূরের কথা, আসলই ফেরত পাওয়া নিয়ে বেড়েছে শঙ্কা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ।

বহু ব্যাংক বছরের পর বছর প্রকৃত তথ্য গোপন করেছে। হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। ১২টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭০ শতাংশের উপরে উঠে গেছে। অনেক ব্যাংকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। ৬২টি ব্যাংকের মধ্যে ৬৬ শতাংশই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৩টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যাংক খাতে আমানতকারী কিংবা ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের আস্থা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. এমকে মুজেরী বুধবার বলেন— ব্যাংক, এনবিএফআই, শেয়ারবাজার এবং বিমাসহ আর্থিক খাতের সবই এখন আস্থার সংকটে। এসব খাতে মানুষ টাকা রাখতে ভয় পায়। ব্যাংকগুলোতে লুটপাট এবং ব্যাপক জালজালিয়াতি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর ফলে কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থা খারাপ। এখানে মানুষ টাকা রাখতে সাহস পান না। এটি অর্থনীতির জন্য ভালো সংকেত নয়।

তিনি বলেন, চিহ্নিত কিছু গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারাই আবার ব্যাংকের মালিক। আবার ব্যাংক থেকে টাকা লুটের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থারও যোগসাজশ রয়েছে। তিনি বলেন, এনবিএফআইর অবস্থা আরও খারাপ। একই অবস্থা শেয়ারবাজার এবং বিমা খাতে। ফলে সামগ্রিকভাবে পুরো আর্থিক খাতের ওপর বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

আস্থার সংকট দূর করার দুটি করণীয় সম্পর্কে বলেছেন মুজেরী। প্রথমত, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা যেসব অর্থ লুট করেছে, তা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আর্থিক খাতের এই আস্থা সংকট সাধারণ বিষয় নয়। এই সংকট অনেক গভীরে। পুরো খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এখান থেকে সহজে উত্তরণ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই দেশের আর্থিক খাতে ভালো চর্চা না হলে সমস্যা আরও বাড়বে। ড. মইনুল ইসলাম বলেন, আগামীতে ভালো নীতির চর্চা হবে, সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে যেভাবে সরানো হলো, তা শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, সাধারণ মানুষও এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। আমি মনে করি এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও নষ্ট করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আর্থিক খাতের সমস্যা সমাধানে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো জরুরি। আর এই আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। যেমন বড় অঙ্কের যেসব অর্থ পাচারের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো উদ্ধারে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি কাজ করছে। এছাড়াও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। পর্ষদে পর্যবেক্ষক দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে আর যাতে বেনামি ঋণ তৈরি না হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু বড় গ্রাহক নয়, ছোট গ্রাহকদের মধ্যেও অনেকে খেলাপি হয়েছে। খেলাপি হওয়ার পেছনে তারা বিভিন্ন কারণ বলছেন। কিন্তু তাদের এই খেলাপি ঋণ যৌক্তিক কিনা সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক তার সাধ্য অনুসারে চেষ্টা করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। ২০টি প্রতিষ্ঠান রেড জোনে আছে। এর মধ্যে ৯টির অবস্থা এতই খারাপ, যা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দেওয়া হয়েছে। ৬টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের ঘোষণা আসতে পারে।

আমানতের অর্থ ফিরে পেতে এ ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১২ হাজারের বেশি আমানতকারী আন্দোলনে নেমেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-এফএএস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। সূত্র বলছে, বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৬ শতাংশ খেলাপি।




ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা শান্তির পথ খুলতে পারে: শাহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে বলে।

দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য-বিবৃতি বাড়লেও পাকিস্তান এখনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান, মার্কিন প্রশাসন থেকে শুরু করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো—সব পক্ষেরই আস্থা পাকিস্তানের ওপর রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘শান্তি সহজে অর্জিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।’

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দুই দেশের চলমান আলোচনা মূলত ‘বিশ্বাস সংকটে’ ভুগছে।  ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস না করার সব কারণই ইরানের আছে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আমেরিকানদের রয়েছে।’

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের চলমান আলোচনা মূলত ‘বিশ্বাস সংকটে’ ভুগছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই




দুর্নীতির আখড়া ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেট

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর-দক্ষিণ) মার্কেট ঘিরে চলছে দুর্নীতির উৎসব। অনুমোদিত নকশা নীতিমালা অমান্য করে মার্কেটের ছাদজুড়ে ১৭০টির বেশি অবৈধ দোকান ও গুদামঘর তৈরি করেছে দোকান মালিক সমিতির প্রভাবশালীরা। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে ভাড়া ও জামানতের নামে বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালীদের ক্ষমতার অপব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে মার্কেটের ব্যবসায়িক পরিবেশ। তাদের ‘ছাদ বাণিজ্য’ রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। যদিও মার্কেট সমিতির প্রভাবশালী নেতারা বলছেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে ছাদে কোনো দোকান-গুদাম নির্মাণ করা হয়নি।

জানা গেছে, মার্কেটের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক আরিফ আহম্মদ যুগান্তরকে বলেন, মোজাম্মেল হক মজুর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় সত্য। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর-দক্ষিণ) মার্কেটের ছাদে অস্থায়ী দোকান-গুদাম নির্মাণ করে মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ করা হয় ১৭০টির বেশি দোকান-গুদামঘর। এসব ঘর নির্মাণে নেতৃত্ব দেন ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু, সাধারণ সম্পাদক বাসেত মাস্টার, দক্ষিণের সভাপতি মীর আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন রানা। কেবল ছাদে ঘর নির্মাণই নয়; মার্কেটের ভেতরে অবৈধ দোকান নির্মাণ ও ভাড়াসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোট অঙ্কের টাকা। আর এসব কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোজাম্মেল হক মজু-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তরের সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু যুগান্তরকে বলেন, ছাদের ওপরে অবৈধ কোনো গোডাউন বা দোকান তৈরি করা হয়নি। মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ডদের (নিরাপত্তাকর্মী) সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করে টিনের কিছু ঘর তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, ছাদে যেসব ঘর তৈরি করা হয়েছে সেগুলো মূলত গোডাউন ও দোকান। সেখান থেকে তারা মাত্র দুটি রুম ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের দাবি, দোকান-গুদাম তৈরির পরিকল্পনায় এসব ঘর তৈরি করা হয়েছে। তাদের বিশ্রাম ও ঘুমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র দুটি রুম। দায়িত্বপালন শেষে সেখানেই বিশ্রাম, ঘুম, খাওয়া, গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেন তারা। বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর-দক্ষিণ) মার্কেটের ছাদে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলো দোকান ও গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করতে ভাড়া নিয়েছে মার্কেটের বেশকিছু ব্যবসায়ী। ভাড়ার এসব গোডাউনে জুতা, জামা, প্যান্ট, কম্বলসহ দোকানের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীও রাখছেন তারা। তাদের এসব ঘর ভাড়া নিতে জামানত হিসাবে দিতে হয়েছে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা। এছাড়া মাসিক ভাড়া হিসাবে দিতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেজমেন্টসহ ছয়তলা পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের বরাদ্দকৃত স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। অথচ মার্কেটে ছোট-বড় সব মিলিয়ে দোকান সংখ্যা প্রায় তিন হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে ৯৫১টি স্থায়ী ও ২১০ অস্থায়ীসহ মোট ১১৬১টি দোকান। আর উত্তরে ৯৭১টি স্থায়ী ও ২৩৭টি অস্থায়ীসহ মোট ১১০৮টি দোকান। এছাড়া মার্কেটের অতিরিক্ত দোকান সংখ্যা প্রায় ৭০০। অনুমোদনের বাইরে এসব অতিরিক্ত দোকান নিয়ন্ত্রণ করে মার্কেট কমিটির নেতারা। তারা সিটি করপোরেশনকে ফাঁকি দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে মার্কেট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। যদিও মার্কেটে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন তারা। তাদের এসব অভিযান অল্পকিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে মার্কেটের ছাদে অবৈধ দোকান-গুদামঘর নির্মাণ হলেও তার বিরুদ্ধে এখনো অভিযান করা হয়নি বলে দাবি সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেট কমিটির দায়িত্বশীল এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ছাদে অবৈধ দোকান তৈরির ঘটনা সত্য। নিরাপত্তাকর্মীদের বিশ্রমের জন্য ঘর তৈরির নাম করে সেখানে অনেকগুলো অবৈধ ঘর তৈরি করা হয়। পরে সেখান থেকে দুটি রুম দেওয়া হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।

ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক বাসেত মাস্টার যুগান্তরকে বলেন, সিকিউরিটিদের সুবিধার জন্য ছাদের ওপর ঘর তৈরি করা হয়েছে। আর বক্তব্য নেওয়ার জন্য মার্কেট দক্ষিণ অংশের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন রানার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।




মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ কবে, জানা যাবে আজ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা আজ রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় জানা যাবে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগেই জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ১৪৪৭ হিজরির ২৯ জিলকদ অর্থাৎ জিলহজ মাসের চাঁদ অনুসন্ধান করা হবে।

গত শুক্রবার (১৫ মে) সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতন রোববার সাধারণ মানুষকে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদির সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যদি কেউ চাঁদ দেখতে পান তাহলে দেশে গঠিত চাঁদ দেখা কমিটিকে যেন অবহিত করেন।

গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সৌদি আরবে জিলকদ মাসের ২৯তম দিন। যদি এদিন সন্ধ্যায় দেশটির আকাশে চাঁদ দেখা যায় তাহলে সোমবার (১৮ মে) থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ২৭ মে হবে ঈদুল আজহা। তবে ১৭ মে সৌদির আকাশে চাঁদ দেখা না গেলে একদিন পিছিয়ে ঈদুল আজহা হবে ২৮ মে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ অধিকাংশ ইসলামি দেশগুলোয় রোববার যুলহিজ্জাহ বা জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে এবং মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং আমেরিকার বেশিরভাগ অংশে খালি চোখেই চাঁদ দেখা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত ওদেহ বলেছেন, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী আগামী সোমবার (১৮ মে) যুলহিজ্জাহ বা জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। এই হিসেবে আগামী বুধবার (২৭ মে) সৌদি আরবসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।