প্রিমিয়ার ব্যাংকের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ পোশাক কারখানা

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জ শাখার বিরুদ্ধে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি জালিয়াতি, অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং গ্রাহকদের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন ২৬টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার মালিকরা। তাদের দাবি, ব্যাংকের এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডয়েস ল্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে জাল সেলস কন্ট্রাক্ট তৈরি করেন। পরে এসব কৃত্রিম কন্ট্রাক্টের বিপরীতে একাধিক ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়, যদিও বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ হয়নি। এলসির দায় নিষ্পত্তির নামে চলতি হিসাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে ডলার কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবি, বাজারদরের তুলনায় প্রতি ডলারে ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার কিনতে বাধ্য করা হয়, ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে চলতি হিসাবে অর্থ জমা দেখিয়ে পরে সেই অর্থ দিয়ে কথিত এলসির দায় সমন্বয় করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক গ্রাহকদের অজান্তে ফোর্সড লোন ও ডিমান্ড লোন সৃষ্টি করে বিপুল সুদ আরোপ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, bb.org.bd⁠-এর ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইন লঙ্ঘন করে চলতি হিসাব, নগদ জমা ও ঋণের মাধ্যমে এলসি সমন্বয় করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাওয়া হলেও ব্যাংক তা দেয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ফাঁকা চেক ব্যবহার করে অর্থঋণ আদালতে মামলাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুনঃতফসিলের শর্তে স্বাক্ষর না করলে এলসি ও অন্যান্য ঋণ সুবিধা বাতিলের হুমকি দেওয়া হতো। এতে কারখানার কার্যক্রম, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং সামগ্রিক উৎপাদন কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে পুনঃতফসিলে রাজি হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা বাতিল করে দেয়। এর ফলে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যাংকের চাপ ও ঋণসংক্রান্ত মানসিক উদ্বেগে দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারা গেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসিবউদ্দিন মিয়াকে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর একদিনে ৩৭ বার ফোন করে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মানসিক চাপে তিনি ২৭ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া ওয়েস্ট অ্যাপারেল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকও দুদকে অভিযোগ ও ঋণচাপজনিত মানসিক অস্থিরতায় ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে দাবি করেন তারা। আরও একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি স্ট্রোক করে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, ব্যাংকের দেখানো ঋণের পরিমাণ প্রকৃত দায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত কোনো বড় অস্বাভাবিক দায় না থাকলেও ২০২৪ সালে হঠাৎ করেই বিপুল অঙ্কের ঋণ দেখানো হয়, যা অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে ঋণ পরিশোধের পথও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে এবং দেশের রপ্তানি আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ব্যবসা সচল রেখে প্রকৃত দায় পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

একই সঙ্গে bb.org.bd⁠, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং স্বনামধন্য অডিট ফার্মের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে গত ৬ এপ্রিল গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহরাব বিন হাসিব এবং জননী ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম পোদ্দারসহ।




নারী উদ্যোক্তাদের সফল্যই বাংলাদেশের সাফল্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নারী উদ্যোক্তাদের সফল্যই বাংলাদেশের সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, কী ভয়ংকরভাবে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পেয়েছে। আমাদের সরকারের সময়ও এমন সংকট দেখেছি। তখন আমাদের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেখিয়েছেন সংকটকে কীভাবে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হয়।

 

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘একসেলেরাটিং ওমেনস এন্টারপ্রেনিউরশিপ ফর ইনক্লুসিভে গ্রোথ: রেকমেন্ডেশন রিপোর্ট শেয়ারিং ফর ন্যাশনাল বাজেট ২৬-২৭’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নারী উদ্যোক্তারা যেসব নীতি উপস্থাপন করেন তা শুধু আলোচনা করলে হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কৃষিবান্ধব ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সময় কৃষকদের ১২ লাখ পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছিল। তেমনি আমাদের বর্তমান সরকার মনে করে নারীবান্ধব হতে হবে, নারীর মাধ্যমেই অগ্রগতি পরিমাপ করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বজনীন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিকার্ড চালু করা হয়েছে, যা শুধু এশিয়া না পুরো বিশ্বে প্রথম। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সহজ লাইসেন্স পাস, সহজ এসএমই লোনের জন্য নতুন নীতিমালা করবে সরকার। কারণ সরকার মনে করে, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি কুটিরশিল্প হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাণ। এদের সাফল্য মানেই বাংলাদেশের সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সরকার দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করছে।

ওয়েব-এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল হাই সরকার এবং জাতীয় সংসদের সদস্য হেলেন জেরিন খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যও রাখেন নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।




লুটপাটের ঋণ আলাদা শ্রেণিতে রাখার পরামর্শ, কমতে পারে খেলাপি ঋণ

ব্যাংকিং খাতে যেসব ঋণ সরাসরি লুটপাট বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে, সেগুলোকে সাধারণ খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে আলাদা করার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ ধরনের ঋণ পৃথক শ্রেণিতে রাখলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের চাপ কমবে এবং দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়, প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ মত তুলে ধরেন। ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

 

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাক ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, যেসব ঋণ লুটপাটের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোকে খেলাপি হিসাবের বাইরে রাখা গেলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে নতুন করে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়বে এবং তারা পুনরায় কার্যকরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো থেকে তুলনামূলক বেশি ঋণ বিতরণের সুযোগ থাকায় লুটপাটকারীরা এসব ব্যাংককে টার্গেট করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে ১৯৯৩ সালেই খেলাপি ঋণসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের আইন এসেছে অনেক পরে, ২০২৩ সালে। তার ভাষ্য, দেশের বিদ্যমান খেলাপি ঋণ আইনে এখনো বিভিন্ন দুর্বলতা রয়ে গেছে, যা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।

 

ফারুক মঈনউদ্দীনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, লুট হওয়া ঋণকে সাধারণ খেলাপি ঋণের তালিকায় না রেখে আলাদা স্লটে নেওয়া হলে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের চাপ কমবে। তিনি এটিকে ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি “উদ্ভাবনী সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম হায়দার বলেন, গত ১৫ বছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংক থেকেই ব্যাপক লুণ্ঠন হয়েছে, যার প্রভাব এখন পুরো ব্যাংকিং খাতে স্পষ্ট। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তার দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের কিছু শিল্পগ্রুপ বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুললেও সেই অর্থের বড় অংশ এসেছে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে লুটপাটের মাধ্যমে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। গত দুই বছরে নতুন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হয়নি, বরং পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও কলামিস্ট ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ইসলামী ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ওই সময় থেকেই ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাংক খাতে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের দুর্বলতা, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ ও ব্যবসায়িক প্রভাব বাড়তে থাকে।

তার মতে, ২০০১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে পারিবারিক মালিকানা, স্বজনপ্রীতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং করপোরেট-রাজনৈতিক দখলদারিত্ব বেড়ে যায়। আর চতুর্থ প্রজন্মে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান, তারল্য সংকট, অর্থপাচার, আস্থাহীনতা ও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ইসলামী ব্যাংকগুলোও ব্যাপকভাবে দখলদারিত্বের শিকার হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।




মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি-স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করবো: প্রধানমন্ত্রী

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো এবং ইনশাআল্লাহ আমরা এই যে মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি আছে, এটাকে আমরা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত আমরা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করবো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে ইনশাআল্লাহ তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো।’

শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়তে চাই, তাহলে এই নারীদেরকে যদি আমরা স্বাবলম্বী না করি, শিক্ষিত না করি, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করি তাহলে আমাদের এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।’

বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশের তরুণদেরকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং দিতে, যাতে করে তারা দেশে কোনও একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি করতে পারে। যাতে করে দরকার হলে তারা বিদেশেও যেতে পারে এবং বিদেশে যাতে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন যে রকম অদক্ষ শ্রমিক যায়, আমরা চাই আমাদের শ্রমিকদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে যাতে বিদেশে গিয়ে তারা বেশি ইনকাম করতে পারে, যাতে করে তারা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাতে পারে।’

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এই এলাকার সন্তান চাঁদপুরের সন্তানই হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। আপনাদের সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে আমি এখনই বলে যাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব সেই টেকনিক্যাল কলেজের বিষয়ে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

জনগণকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি নেমে আসে, এই ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করা ধরে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপির শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সবাই বলি— জনগণই হচ্ছে আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।’

‘করব কাজ, সবার আগে’ স্লোগান তুলে উপস্থিত জনতাকে দেশ গড়ার শপথ নিতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প: অর্থ উপদেষ্টা

সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তাকে গালগল্প হিসেবে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, ‘সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প। এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় ও সরকারে আয়ের টান পড়েছিল। সেই টান এতটাই ব্যাপক ছিল যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, যা খুবই মর্মান্তিক। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ভাঙন ধরেছে। সে সময় ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে গিয়ে পুঁজি পায়নি।’

আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে শনিবার (১৬ মে) প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করতো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার এরকম কোনো সিন্ডিকেটের কাছে কোনো খাতকেই ইজারা দিতে চায় না, বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়। বিগত সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ঋণ করে লুটপাট করেছে। অতীতে ধমকাধমকির মাধ্যমে তথ্য জালিয়াতি করে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সব তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।’

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি জানান, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়া ছাড়াও আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সীমিত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ।

‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্কে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নিটার) বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম ও গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।




দেশপ্রেমিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুন করে মেরামত করতে চায়। সেই কার্যক্রমের প্রতিটি পর্বে সংশ্লিষ্ট দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতেই করণীয় নির্ধারণ করা হবে। আমরা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই পরিবর্তনের কথা বলছি না; রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ আয়োজিত ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলনের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃভূমির ৫৫ বছরের ইতিহাসে আমরা যেমন গৌরবগাথা দেখেছি, তেমনই বিপর্যয়ও দেখেছি। গৌরব ও দুঃসময়ের সেসব অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত প্রজ্ঞা দিয়েই আমরা বিশেষজ্ঞদের জ্ঞানের সঙ্গে একটা সংযোগ তৈরি করতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা জানি, চলচ্চিত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কার্যকর মতবিনিময় এবং চিন্তার সংযোগ ঘটাতে না পারলে গুণগত মানের উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। মন্ত্রী বলেন, যারা বিত্তবান হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে কেবল প্যাশন, দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণের তাগিদে চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, রাষ্ট্রকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে এই ‘সফট পাওয়ার’ বা মেধার শক্তি অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও আইনের বিধি-বিধানের মধ্যে থেকে চলচ্চিত্রকর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ উন্মুক্ত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে চমৎকার সব শব্দের আড়ালে চলচ্চিত্র মাধ্যমকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা মেশিন বানানোর করুণ অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। কিন্তু যারা কোনো গোষ্ঠীর বা মতবাদের দাস, তাদের পক্ষে মুক্ত চিন্তা করা সম্ভব নয়।

তিনি চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনকে কোনও বিশেষ নেপথ্য রিমোট কন্ট্রোলের হাতিয়ার না বানিয়ে, সমাজ পরিবর্তনের প্রকৃত স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তার আন্দোলনে রূপান্তরিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্প সমালোচক ও চলচ্চিত্র বোদ্ধা মঈনুদ্দিন খালেদকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিনিধি, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষকরাও সম্মেলনে অংশ নেন।

সূত্র: বাসস




টেক্সটাইল খাতের টেকসই রূপান্তরে উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে : পাটমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং পণ্য বৈচিত্র্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

তিনি বলেন, “সাসটেইনেবিলিটি এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি শিল্পের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।”

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে অনুষ্ঠিত “গ্রান্ড লঞ্চিং ইভেন্ট অব টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি– সবকিছুই অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। তাই শিল্পে শক্তি সাশ্রয়, পানি পুনঃব্যবহার, সার্কুলার উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প গত কয়েক দশকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করলেও এখনো রপ্তানি মূলত সীমিত কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। স্পোর্টসওয়্যার, ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইলসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যে দ্রুত অগ্রসর হতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)-এর বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এবং সম্ভাব্য এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, নকশা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে টেক্সটাইল খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম পুঁজিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাত দেশের শিল্পায়ন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনার দিগন্ত এখনও অনেক প্রসারিত।

 

সরকারের বন্ধ শিল্পকারখানা পুনঃব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো যন্ত্রপাতি অপরিবর্তিত রেখে অকার্যকর কারখানায় অর্থ ব্যয় করা হবে না। বরং শিল্পভেদে উপযোগী সমাধানের মাধ্যমে কোথাও শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে, কোথাও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথবা লিজের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, শিপবিল্ডিংসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্প আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।




প্রথম প্রান্তিকে ৩ বীমা কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের চার কোম্পানি চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আলোচ্য সময়ে তিনটি কোম্পানির মুনাফা বাড়লেও একটির কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

যেসব কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেগুলোর মধ্যে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে। মুনাফা বেড়েছে- বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির (বিজিআইসি), প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ও ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের।

রূপালী ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিটির জানুয়ারি থেকে মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে ইপিএস কমেছে ৭ পয়সা বা ১৮ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৭০ পয়সা।

বিজিআইসি
কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৬৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৬৭ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটর ইপিএস বেড়েছে ২ পয়সা বা ৩ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৩১ পয়সা।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৭৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৬১ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ১৮ পয়সা বা ৩০ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৫৫ পয়সা।

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ৬৩ পয়সা। আলোচ্য সময়ে ইপিএস বেড়েছে ১১ পয়সা বা ১৭ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ৭১ পয়সা।




ওয়ান ব্যাংকের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ওয়ান ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৩৪ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৬১ পয়সা আয় হয়েছিল।
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো ছিল ১ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২১ পয়সা।

গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২২ টাকা ৮৫ পয়সা।