আমরা বদলালে ঢাকা বদলাবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরকে যদি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চাই, তাহলে আগে নিজেদের বদলাতে হবে। আমরা বদলালে ঢাকা বদলাবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ডিএসসিসির নগর ভবনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত “ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি” কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়।

প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, আমরা চাই না পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় ঢাকা থাকুক। আমরা চাই পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সবুজ শহরের তালিকায় ঢাকা এক নম্বরে থাকুক।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন, আজও তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডাকে ঢাকা শহরকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ করতে তারা রাজপথে নেমেছেন।

আবদুস সালাম বলেন, আমরা একদিন চলে যাব, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে দেশের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান নগর ভবন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট হয়ে বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।




কোরবানির চামড়া সংরক্ষণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়- এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু, সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদে খতিব ও ইমামরা যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে । পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদরাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে তা যেন সফল হয় সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

এছাড়াও, বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন। সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও যেন সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার এরইমধ্যে দেশব্যাপী মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-

• কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ;
• প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার;
• বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ;
• স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান;
• পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ;
• অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ;
• সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।




অনলাইন জুয়ার ফাঁদ: ‎৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জন রিমান্ডে

‎অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচারের মামলায় ৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।‎অপর আসামি রোকন উদ্দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

‎‎রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন-এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল-কারিম (২৮)। ‎রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

‎ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ‎গত ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে আমাদের সাইবার টিম রাজধানী উত্তরা এলাকা অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় চীনা সদস্য সহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

‎‎তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমটি নিয়মিত সাইবার মনিটরিংকালে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রুপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।

‎‎গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিকট থেকে এই অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এসময় তাদের নিকট থেকে ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং এনআইডি ও ১টি টয়োটা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

‎‎এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।




২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি থেকে। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭।

এ দিকে আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন ২০২৭ থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী বছরের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেন। বিস্তারিত আসছে…




কর্মী নিয়োগ দিয়ে দিনরাত ছাপানো হচ্ছিল জাল টাকা, গ্রেফতার ৩

রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদিসহ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি বলছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তিনটি মেশিনে জালটাকা ছাপছিল চক্রটি। ঈদ সামনে রেখে এই ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট মজুত করেছেb তারা। আর এই টাকা ছাপানোর জন্য ছাপাখানায় কর্মরত একজন কর্মীকে নিয়োগও দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া চক্রের তিন সদস্য হলেন- শরীয়তপুরের মো. মজিবুর রহমান (৩৮), পটুয়াখালীর মো. দুলাল মৃধা (৪০) ও নেত্রকোনার মো. মামুন (২৫)।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরাপূর্ব থানাধীন সমবায় বাজার (বিডিআর) মার্কেটের সামনে এবং পরে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় ডিবির উত্তরা বিভাগ।

অভিযানকালে উত্তরাপূর্ব থানার সমবায় বাজার এলাকায় জালটাকা কেনাবেচার সময় মজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকার জালনোট এবং জালটাকা বিক্রির ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে মজিবুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুলাল মৃধা ও মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে আরও ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, তিনটি কালার প্রিন্টার, ফয়েল পেপার, সিকিউরিটি ট্যাগ ও জলছাপযুক্ত কাগজ, আংশিক প্রিন্ট করা এক হাজার টাকার নোট, তরল গাম, কাটার এবং জলছাপ বসানোর ডাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জালটাকা তৈরি করে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ও বিপণিবিতানে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

ডিবি জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চক্রটি ঈদ সামনে রেখে জালটাকা বাজারে ছড়িয়ে দিতে তিনটি মেশিনের মাধ্যমে অনর্গল টাকা ছাপছিল। এসময় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। চক্রটি এরই জালটাকা ছাপাতে প্রেসে (ছাপাখানায়) কর্মরত এক কর্মীকেও নিয়োগ দেয়।

এ ঘটনায় উত্তরাপূর্ব থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।




অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ফুচকা তৈরি, চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ফুচকা তৈরি ও সংরক্ষণের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নগরের এনায়েতবাজার এলাকার গোয়ালপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

 

অভিযানে দেখা যায়, ভাঙা মেঝেতে নিম্নমানের আটা-ময়দার সঙ্গে কুড়া-ভুসি মিশিয়ে ফুচকা তৈরি করা হচ্ছিল।

 

অভিযানে সাহেদ ফুচকা কারখানাকে ২০ হাজার টাকা, নুর নবী ফুচকা কারখানাকে ১৫ হাজার টাকা এবং ভাই ভাই ফুচকা কারখানাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা বরেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।




২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৯.৩৬ শতাংশ

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এফডিআই জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশের নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে পুনঃবিনিয়োগকৃত আয় এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ। ২০২৪ সালে পুনঃবিনিয়োগকৃত আয়ের পরিমাণ ছিল ১০৩ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালে ৩১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৪৩৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে আন্তঃকোম্পানি ঋণ ৬২১ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ২৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৭৮১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইক্যুইটি মূলধনও ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে উন্নীত হয়েছে ৫৫৪ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলারে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিকভাবে গ্রিনফিল্ড প্রকল্প ঘোষণার সংখ্যা ১৬ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহের এই বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এফডিআই পরিস্থিতিকে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বৈশ্বিক ধাক্কা এবং অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৫ সালে বাংলাদেশে এফডিআই বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের ঘোষণা কমেছে এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো এ চাপ বেশি অনুভব করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নিট এফডিআই প্রবাহে ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক সংকেত।

 

তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো দেশের সম্ভাবনার তুলনায় কম। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে এই প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত থাকলেও বাংলাদেশ নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করছে, যেন ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে পারে।

বিডা জানিয়েছে, ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।