সরকারিভাবে ৮৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নেবে ব্রুনাই

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে ব্রুনাইয়ে ৮৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৫ মে (শুক্রবার) পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবে।

সোমবার (১১ মে) বোয়েসেল এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিটি বোয়েসেলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করা হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত ও সুযোগ-সুবিধা

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্রুনাইয়ের ‘এয়ারটেক কন্ট্রাক্টর’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ‘কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার’ পদে এই কর্মীদের নেওয়া হবে। নির্বাচিত কর্মীদের দৈনিক বেতন হবে ২০ ব্রুনাই ডলার। সপ্তাহে ৬ দিন এবং প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ডিউটি করতে হবে।

 

দুই বছরের নবায়নযোগ্য চুক্তিতে যাওয়া এই কর্মীদের থাকা, চিকিৎসা এবং বিমান ভাড়ার খরচ নিয়োগকারী কোম্পানি বহন করবে। এছাড়া নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা ব্রুনাইয়ের শ্রম আইন অনুযায়ী অন্যান্য সব সুবিধাও পাবেন।

যোগ্যতা ও বয়স

আবেদনকারীদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, যা স্বল্পশিক্ষিত ও সাধারণ কর্মীদের জন্য একটি বড়ো সুযোগ।

 

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীদের বোয়েসেল-এর নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ১৫ মে ২০২৬। আবেদনের সময় পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে এবং বিকাশের মাধ্যমে নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় মূল পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি সঙ্গে রাখতে হবে।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিচালিত বোয়েসেলের এ বিজ্ঞপ্তিতে, কোনো প্রকার দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে আগ্রহী কর্মীদের কোনো যোগাযোগ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের কোনো এজেন্ট বা শাখা অফিস নেই। তাই সরাসরি সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়।




পুঁজিবাজারকে অনেক শক্তিশালী করবে সরকার: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

শেয়ারবাজারসহ দেশের বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ বাজার এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতে সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাঁর মতে, আর্থিক খাতে কোনো ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবও প্রযোজ্য হবে না—এটি সরকারের নীতিগত অবস্থান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে এটি নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

আয়োজনে জানানো হয়, বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




সরকার ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে : প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার ঘোষিত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচি, তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি একটি অত্যন্ত জনকল্যাণমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সরকারের দলীয় কমিটমেন্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যারা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা যেন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের জনগণের প্রতি যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক ও পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকারের এ কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, কর্মসূচির প্রতিটি কার্যক্রমের ন্যূনতম তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে জনগণের সামনে বাস্তব অগ্রগতি উপস্থাপন করা যায়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কী ধরনের সুবিধা পেয়েছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সহজভাবে অবহিত করতে হবে। শুধু ওয়েবসাইটভিত্তিক তথ্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ও জনবান্ধব তথ্যপ্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, যাতে জনগণ আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই এমন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারবো-সরকারের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং জনগণ তার সুফল পাচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মন্ত্রণলয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান।




দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘‘আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে কোয়ান্টিটিতে অনেক এগিয়ে, তবে কোয়ালিটি কতটুুকু জানা নেই। তাই ‘নীড বেসিস এডুকেশন’ নিয়ে ভাবা সময়ের দাবি।’’

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও শতাধিক। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকার নতুন কারিকুলাম ও আউটকামভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। একসময় বিদেশি শিক্ষকরা বাংলাদেশে এসে পাঠদান করতেন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়তে আসতেন। এখন সেই অবস্থান আর নেই।সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালায় দিনব্যাপী পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব অধিবেশনে গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা, সফট স্কিল উন্নয়ন, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সাক্ষরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণায় উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিকীকরণ, সুশাসন ও মান নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

 




ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি

দেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সংঘবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে, যার ফলে সাধারণ আমানতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক বক্তব্যে সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে অনেক সংকটের মধ্যে রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন, আবার অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের কোনো টাকাই দিতে পারছে না।’

 

তিনি বলেন, ‘একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নিতে বলেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তবে তাদের স্মারকলিপি গভর্নরের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়োগ দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। সেই সিন্ডিকেট ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে।

তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়। এরপর ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

 

তার দাবি, ‘প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার করা হয়েছে। সেই অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এরও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তারা আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানান।

 

এসময় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অকার্যকর করার জন্য দেশীয়-আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা চান ইসলামী ব্যাংকিং খাত আগের মতো স্বাভাবিক হোক, আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারুক এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলুক।

স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।




গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আজ সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কি না এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরো চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।’

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এসব উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকুরীর বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে যেমন তেমনি তৈরী করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানও।’

তারেক রহমান বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদেরকে মুখস্ত বিদ্যা এবং সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।

কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’

শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,’বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।’

বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশীপ, ইন্টার্নশীপ এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবে না ‘

তিনি বলেন, ‘কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে তিনি আর চাকুরীর জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আরো কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সস্টিটিউট’, সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ এ ধরণের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ‘

প্রধানমন্ত্রী বৃটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ লেখক ‘টম উইন’ যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ‘বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট এন্ড এনালিস্ট’ হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। তিনি বলছেন, বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই। বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া ‘ফেসবুক’ নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম ‘আলিবাবা’র কোনো ‘মজুদ পণ্য’ নেই।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার ‘এয়ারবিএনবি’র নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।’ অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত: এক একটি ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।

শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবন’ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও অর্থ-বিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেসব এলামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা’ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহবান জানাই।’

মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামর্থ সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। ‘

ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।’

তিনি বলেন, ‘জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।’

তিনি বলেন, ‘তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী তথা সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।




শিক্ষিত বেকার কমাতে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বেকারত্ব নিরসন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না।

সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ হাতে নিয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।

এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়।

ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।