প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ-বিকেএমইএ নেতাদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।




দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বে তুলে ধরবে ওপেন সাপ্লাই হাব

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেন সাপ্লাই হাব (ওএস হাব)।

এজন্য সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার উৎপাদন খাতের তথ্য একটি ওপেন-সোর্স বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে।

 

বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রোববার (১০ মে) এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বিজিএমইএয়ের পক্ষে সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং ওপেন সাপ্লাই হাবের পক্ষে সিনিয়র ডাইরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএয়ের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ট্রেড ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান এম সাজেদুল করিমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য- একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি পোশাক কারখানার অবস্থান, উৎপাদিত পণ্য তালিকা ও বিশেষ সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ বৈশ্বিক সোর্সিং এবং ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিজিএমইএয়ের সদস্য কারখানাগুলোর তথ্য ও অবস্থান ওএস হাবের গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও গবেষকরা সহজেই কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য খুঁজে পেতে পারবেন।

এছাড়া, প্রতিটি কারখানাকে ওএস হাবের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে একটি ‘ইউনিভার্সাল ওএস আইডি’ দেওয়া হবে। এই ইউনিক আইডির মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে কারখানাগুলোকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তথ্যের স্বচ্ছতা ও মানসম্মত উপস্থাপন নিশ্চিত হবে।

পাশাপাশি, কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অনলাইন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেদের ডিজিটাল প্রোফাইল আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।

চুক্তির অধীনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বা ইন্টারঅপারেবিলিটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। এর ফলে নিরীক্ষা প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।

বিজিএমইএয়ের সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, ‘স্বচ্ছ ও ট্রেসেবল সাপ্লাই চেইন তৈরিতে ওপেন সাপ্লাই হাবের সঙ্গে বিজিএমইএয়ের এই অংশীদারত্ব একটি মাইলফলক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাসটেইনেবিলিটি-বিষয়ক কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত শর্তাবলীর প্রেক্ষাপটে নির্ভরযোগ্য ডাটা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অপরিহার্য ব্যবসায়িক প্রয়োজন। এই সমঝোতা স্মারকটি বিশ্ববাজারে আমাদের সদস্য কারখানাগুলোর দৃশ্যমানতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে একটি টেকসই সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।’

অনুষ্ঠানে ওপেন সাপ্লাই হাবের সিনিয়র ডাইরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট বলেন, ‘বিজিএমইএয়ের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কারখানাকে একটি ইউনিক ডিজিটাল প্রোফাইল দিচ্ছি, যা কেবল তথ্যের সঠিকতাই নিশ্চিত করবে না, বরং কারখানাগুলোর সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের চিত্র বিশ্বদরবারে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং রিটেইলারদের জন্য সঠিক সোর্সিং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক ও দায়িত্বশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।’

বিজিএমইএয়ের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতাই টেকসই বাণিজ্যের মূল ভিত্তি। ওপেন সাপ্লাই হাবের সঙ্গে এই উদ্যোগ আমাদের উৎপাদন খাতের সঠিক তথ্য বিশ্বজুড়ে সহজে পৌঁছে দেবে। সিএসথ্রিডির মতো আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো যে ধরনের স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিশ্চয়তা দাবি করে, বাংলাদেশ তা পূরণে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।




ঈদযাত্রায় সড়ক নিরাপত্তায় দায় এড়ানোর সুযোগ নেই : সেতুমন্ত্রী

আসন্ন ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে সড়ক নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়; হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে।

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩৮৪ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ঈদুল ফিতরের ১১ দিনে সারা দেশে ১৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে হাইওয়েতে নিহত হন ৪৩ জন।

 

তিনি বলেন, দেশের মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, ব্যাটারিচালিত যানবাহন এবং ছোট রাস্তা থেকে সরাসরি ৯০ ডিগ্রিতে মহাসড়কে ওঠা দুর্ঘটনার বড় কারণ। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসব সংযোগ পথকে ‘লেফট লেন’ পদ্ধতিতে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তা ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত বিষয়। আমি মহাসড়ক তৈরি করি, এলজিআরডি স্থানীয় সড়ক তৈরি করে। আবার রুট পারমিট দেয় কমিটি, বিআরটিএ গাড়ির ফিটনেস দেয়, হাইওয়ে পুলিশ তদারকি করে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলেই সব দায় এসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপর পড়ে।

তিনি বলেন, দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে।

 

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কুমিল্লায় একটি দুর্ঘটনায় স্থানীয় সড়ক ৯০ ডিগ্রি কোণে মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের নকশাগত ত্রুটি এলজিআরডির আওতায় হলেও প্রশ্নের মুখে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কেই পড়তে হয়।

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআই ক্যামেরা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সবকিছু একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে করতে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ৬৯টি মোবাইল টিম, হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএর বিশেষ টিম মাঠে থাকবে। ভাড়া আদায়ে অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে এলজিআরডি ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও ভালো ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি। আমরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছি।




অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সরকারের আপসহীন অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় আপনাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাবের মুখোমুখি হতে হয়। আমি আজ পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করবেন না। যে অপরাধ করবে তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। আইনের প্রয়োগ সবার জন্যই সমান। আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে।’

আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ- ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের সঙ্গে কোনো আপস করতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে সারাদেশের মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনারা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। সুতরাং আপনারা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালনে সক্ষমতার পরিচয় দিলে বর্তমান সরকারও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে একধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সক্ষমতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারলে আমরা সফল হবো।’

প্রযুক্তির কারণে অপরাধের ধরন বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু অপরাধের ধরন পরিবর্তন হয়েছে,ফলে পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমের পরিধিও ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়েছে। সুতরাং, বর্তমানে পুলিশি কার্যক্রম এখন আর কয়েকদশক আগের মতো শহর নগর কিংবা জেলার মধ্যে সীমবদ্ধ নয়। ‘

তিনি বলেন, বর্তমানে ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম’ বৈষয়িক বাস্তবতা। এ কারণে বিশেষ করে আমাদের প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে বহুমুখীভাবে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। এটি এখন সময়ের দাবি। এমন বাস্তবতায় পুলিশ প্রশাসনে নির্দিষ্ট কিছু পদ নয় প্রতিটি ‘পদ’ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, প্রশাসনের সকল পদেই কাজ করার পেশাদারী মানসিকতা থাকা জরুরি।’

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হয়তো সাময়িক তুষ্টি লাভ করেন, তবে সেটি পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করা হয়। সুতরাং, আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহবান, পুলিশ প্রশাসনে আপনাদের ওপর যার যেখানে দায়িত্বভার অর্পিত হয় সেই কাজটি গুরুত্বসহকারে পালন করবেন। তাহলেই আমরা অবশ্যই একটি দক্ষ গতিশীল এবং পেশাদার পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো। ‘

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার পাঁচ বছরের জন্য। একইভাবে জনপ্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। এ কারণে আমি আজকের এই সভাটিকে কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখতে চাই না। বরং এই সভাটি হয়ে উঠুক দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আগামী দিনের পথ নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের মুহূর্ত।’

একটি সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ, সাহসী, সৎ এবং নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিপদে পড়লে মানুষ কিন্তু প্রথমে পুলিশের কাছেই যায়। আমি বিশ্বাস করি, পুলিশ আন্তরিকভাবে চাইলে আইনি এবং কৌশলী ভূমিকা নিয়ে অনেক ঘটনা শুরুতেই নিষ্পত্তি করতে পারে।’

চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছরে বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি পুলিশ কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।’

সরকার পুলিশকে সত্যিকারের জনবান্ধব বাহিনীতে রূপ দিতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, এই সরকার এমন একটি পুলিশ প্রশাসন চায় যেটি হবে জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থাভাজন। কারণ, যে কোনো দেশেই জনগণ সাধারণত পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের আয়না হিসেবেই বিবেচনা করে। সুতরাং, পুলিশ প্রশাসন সফল হলে সেটি কার্যত সরকারের সফলতা হিসেবেও বিবেচিত হয়। ‘

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত এবং মানবিক। অন্য সকল কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও আপনাদের পুলিশি কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। এটিও আপনাদের দায়িত্বের একটি অংশ। বর্তমান সরকার অবশ্যই জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত রাখতে চায়। তবে, কেউ যেন সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কিংবা কোনো রকমের নাশকতামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে না পারে এটিও আমাদের সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে একটি বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার, সেটি হলো বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এ নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয়ের কারণ নেই।’

দল-মত নির্বিশেষে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসা সরকারের উদ্দেশ্য এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ সদস্যদের সবার আগে বিবেচনায় রাখতে হবে। এ জন্য তাদেরকে যেখানে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটি গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে। তাহলেই আমরা একটি দক্ষ, গতিশীল ও পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রে নানা কারণে মানুষ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এর অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক বৈষম্য। এ কারণেই দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং নাগরিকদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবলয় নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।’

পুলিশ বাহিনীর কল্যাণেও সরকার কাজ করে যাবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের মূলনীতি। আমরা জানি, পুলিশের দায়িত্ব কখনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।’

সরকারকে জনগণ কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তার অনেকটাই পুলিশের আচরণ ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পুলিশের কাছে সততা, দক্ষতা, সেবা, ন্যায়পরায়ণতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা প্রত্যাশা করে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি এসব গুণ যথাসম্ভব ধারণ করতে পারেন, তাহলে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানটি সত্যিকার অর্থে সফল ও সার্থক হবে। আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ, জাতি ও মানুষের জন্য যতটুকু সম্ভব ছাড় দিয়ে সামনে এগিয়ে যাই।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আউলাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তত বলেও জানান তারা।

অনুষ্ঠানে পুলিশের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সংকটে পুলিশ কর্মকর্তাদের ত্যাগ, কর্মকাণ্ড এবং পুলিশ বাহিনীকে উন্নত করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নানা উদ্যোগের চিত্র নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হলো- ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান শেষে টাইগার গেইটের সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন ।




আগামী ৫ বছরে ১ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান হবে: ত্রাণমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী।

সোমবার (১১ মে) সকালে লালমনিরহাট স্টেডিয়ামে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আয়োজনে এক বিশাল চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় অভিশাপ এবং এটি দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ​সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

​দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির মতো প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

​চাকরি মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন।




‘হেয়ার কাট’ বাতিলসহ তিন দাবিতে চট্টগ্রামে গ্রাহকদের অবস্থান

‘হেয়ার কাট’ বাতিল, লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং কষ্টার্জিত আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা।

সোমবার (১১ মে) নগরীর এনায়েত বাজার এলাকার গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন শাখায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমাকৃত অর্থ তুলতে না পেরে তারা মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। সকালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখায় অবস্থান নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তারা। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন। পরে আরও কয়েকটি একীভূত ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার কথাও জানান তারা।

ভুক্তভোগী আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

তাদের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতকারীদের মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে লাখ লাখ আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এক ভুক্তভোগী আমানতকারী বলেন, আমাদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রেখে আজ আমরা বিপদের মধ্যে আছি। বাংলাদেশ ব্যাংককে এর দায় নিতে হবে। আমরা চাই সরকার আমাদের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে কথা বলুক।

আরেক আমানতকারী বলেন, তিন-চার মাস নয়, প্রায় এক বছর ধরে আমরা ব্যাংকে ব্যাংকে ঘুরছি। কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না। সন্তানদের সেমিস্টার ফি দিতে পারছি না, ঈদের কেনাকাটা করতে পারছি না। আমাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাই। আমরা ব্যাংক ছেড়ে যেতে চাই না। ধীরে ধীরে টাকা দিলেও হবে, কিন্তু লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে। আমাদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ার কাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমা টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ।

প্রসঙ্গত, তিন দফা দাবিতে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শাখায় শাখায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যাংকের গ্রাহকেরা। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে, ‘হেয়ার কাট’ বাতিল করতে হবে এবং সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।




শিপবিল্ডিং খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ : বিডা

বাংলাদেশের শিপবিল্ডিং খাত দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিতেও এগিয়ে যাচ্ছে। খাতটির পরবর্তী ধাপের প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেদারল্যান্ডসের লজিস্টিকস, টেকসই পরিবহন এবং বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

সোমবার (১১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিডা জানায়, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কুস ডাইকস্ট্রার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্রতিনিধিদলে টেকসই পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে কাজ করা প্রতিষ্ঠান নেসট্রা বি.ভি. এর জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিডার নির্বাহী সদস্য এয়ার কমোডর (অব.) মো. শাহরারুল হুদা। এছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি, মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

বৈঠকে জাহাজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত মানের সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপদ ও টেকসই শিপ রিসাইক্লিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচনায় সামুদ্রিক, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিও উঠে আসে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের বিস্তৃত নদীপথকে অধিকতর ব্যবহার করে সময় ও ব্যয় কমানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়।

বন্দর ও অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোর মধ্যে সংযোগ জোরদারের মাধ্যমে একটি দক্ষ লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নেদারল্যান্ডসের সামুদ্রিক খাতের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জ্ঞান ও সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে বিডার পক্ষ থেকে স্মার্ট ও গ্রিন লজিস্টিকস করিডর ভিত্তিক সম্ভাবনার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সংস্থাটি জানায়, লজিস্টিকস, সংযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই সামুদ্রিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে তারা।




৭৩১ শিক্ষার্থীকে ৯২ লাখ টাকার শিক্ষা বৃত্তি দিলো ডিএনসিসি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) শিক্ষা ও মেধা বৃত্তি নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী ৭৩১ শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৯২ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) গুলশান-২ নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার প্রসারে এ বৃত্তি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিভিন্ন পেশায় দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে সন্তানদের সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া এবং তাদের মেধাবিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।

তিনি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাসাবাড়ি, আঙিনা, ফুলের টব, বালতি ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তিনি নাগরিকদের নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি “শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা ঘর করি পরিষ্কার”—এই স্লোগান বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের নীতিমালার ভিত্তিতে শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গত বছর ৬৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হলেও এ বছর তা বৃদ্ধি করে ৭৩১ জনে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে না, বরং পরিবার ও অভিভাবকদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই তাদের বিকাশ সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো সন্তানদের সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া, যাতে তারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।




কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে ব্যাংকের বুথ বাধ্যতামূলক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের আগে পশু কেনাবেচায় বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন হওয়ায় জাল নোটের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) জারি করা এক সার্কুলারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। একইসঙ্গে প্রতিটি ব্যাংককে একজন করে সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭ মের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে কোন ব্যাংক দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস ঠিক করবে। যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের কাজ করবে সোনালী ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের আগের রাত পর্যন্ত রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বিরতিহীনভাবে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সুষ্ঠুভাবে বুথ পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পশুর হাটে দায়িত্ব পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংক। এছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে দায়িত্ব পালন করবে ১৯টি ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক। এছাড়া মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বিভিন্ন হাটে বুথ পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনও জাল নোট শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে কোরবানির পশুর হাটে নিরাপদ ও সুষ্ঠু লেনদেন নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




টিসিবির কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে কার্যকর হতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সরবরাহ, শৃঙ্খলা, পর্যবেক্ষণ এবং টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”

সোমবার (১১ মে) ঢাকার আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বৃদ্ধি করে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রী বলেন, “দেশের যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করবে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “টিসিবির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে।”

বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে, যাতে সরকার বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি বলেন, “নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু বড় ব্যবসায়ী এ খাতে সক্রিয় থাকেন। তবে সরকার এমন একটি অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে আরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে অংশ নিতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।”

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “এই সরকার জনগণের পক্ষে বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য—বাজার হবে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল এবং কারসাজিমুক্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্রেতাদের কাছে নায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।




প্রথম প্রান্তিকে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে 

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মুনাফা অর্ধেকে নেমেছে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের। আলোচিত তিন মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৩৩ পয়সা। শতকরা হিসাবে বছরের ব্যবধানে তিন মাসের মুনাফা কমার হার ৪৮ শতাংশের বেশি।

রোববার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচিত প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়। সোমবার (১১ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে ওই প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়।

সার সংক্ষেপ অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন মাসে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ১৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ধনাত্মক ৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৫৯ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে মুনাফা তলানীতে নামায় বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ আলোচিত বছরে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বঞ্চিত হয়েছেন।