সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকÑ সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

রোববার (১০ মে) ডিএসসিসির বুড়িগঙ্গা হলরুমে আয়োজিত কর্মী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া মোকাবিলায় সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন।
কোথাও কাজের ঘাটতির বিষয়ে অভিযোগ বা রিপোর্ট পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আবদুস সালাম বলেন, মশকনিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ওষুধ একাধিকবার পরীক্ষা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষায় ওষুধ কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বলে মত দেওয়া হয়েছে। এরপরও নতুন ওষুধ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ে কীটতত্ত্ববিদদের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। সিটি কর্পোরেশন একা কখনোই এ সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, জরিপের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রাণহানি কমিয়ে আনতে আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, নর্দমা ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হবে। যেকোনোভাবেই আবর্জনামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ কাজে দলীয় পরিচয় নয়, পরিচ্ছন্নতাই প্রধান বিষয়।




বছরে ৮ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

দুর্বল নীতিসহায়তা এবং সীমিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতিতে রূপান্তর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলারের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, পোশাক খাতের বর্জ্য রিসাইক্লিং বা পুনর্প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।
সতর্ক করে তারা বলেন, দ্রুত সংস্কার না করলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান চাপে পড়তে পারে।

বিশেষ করে প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো যখন কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড এবং ট্রেসেবিলিটি (উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস জানার প্রক্রিয়া) নিশ্চিতের দিকে এগোচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইনি পরিবর্তন আসছে।

এর ফলে পণ্য কোথা থেকে আসছে তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব সরবরাহ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) যৌথভাবে একটি সেমিনারের আয়োজন করে।
‘অ্যাক্সিলারেটিং সার্কুলার ট্রানজিশন ইন বাংলাদেশ’ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি : ইনসাইটস ফ্রম সুইচ টু সিই পাইলটস’ শীর্ষক এই সেমিনারে বক্তারা এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএ এর পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ বলেন, বৈশ্বিক আইনি পরিবর্তনগুলো পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে। এটি এখন টেকসই কমপ্লায়েন্স এবং বৃত্তাকার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইইউ-এর গ্রিন ডিল এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট (ডিপিপি) এর মতো উদ্যোগগুলোর জন্য এখন অধিক স্বচ্ছতা, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় রিসাইক্লিং প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে। এটি নির্মাতাদের পুনর্প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিতে যেতে বাধ্য করবে। এর ফলে রিসাইকেল করা উপকরণের ব্যবহার বাড়বে, নতুন কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সামগ্রিকভাবে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে টেক্সটাইল বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে এখন বছরে প্রায় ৬ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। এই বর্জ্যের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহৃত বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তবে এটি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, এই খাতকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনলে দুটি প্রধান সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রথমত, তদারকির অভাবে সৃষ্ট আগুনের মতো স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে এবং দ্বিতীয়ত, একটি সুসংগঠিত ও নিরাপদ শিল্প ভিত্তি তৈরি হবে।

পরিত্যক্ত ফাইবার বা তন্তু এবং টেক্সটাইল বর্জ্য কাঁচামাল হিসেবে পুনরায় ব্যবহারের শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে। শতভাগ সুতি বর্জ্য যান্ত্রিকভাবে রিসাইকেল করা সম্ভব হলেও, রাসায়নিকভাবে রিসাইক্লিং করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনো সীমিত।

বর্তমানে রিসাইক্লিং মূলত তুলা-নির্ভর। মিশ্র ফেব্রিক এবং কৃত্রিম তন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তবে সঠিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এই উপকরণগুলোকে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব।

তিনি সতর্ক করেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পদের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের সীমিত সরবরাহের কারণে তুলা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রিসাইকেলযোগ্য বিকল্পের দিকে যেতে হবে।

২০২২-২৩ সাল থেকে বৃত্তাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমি গড়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে একে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। তবে ব্যাপকভিত্তিক নীতি এবং আইনি কাঠামোর অভাবে এর অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যদিও কিছু নীতি নির্দেশিকা চালু করা হয়েছে, তবে বর্জ্য ব্যবহারের জন্য একটি স্পষ্ট জাতীয় নীতি এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর অভাব এখনো রয়ে গেছে। বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই এবং রিসাইক্লিং যাচাই করার জন্য বর্তমানে পাইলট প্রকল্প চলছে। তবে বাংলাদেশের টেক্সটাইল বর্জ্যের মাত্র সামান্য একটি অংশ আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে রিসাইকেল করা হচ্ছে।

একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি বিদ্যা অমৃত খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের সম্পূর্ণ বর্জ্য রিসাইকেল করা সম্ভব হলে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তাকার অর্থনীতি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ তুলা-ভিত্তিক পোশাকের বর্জ্যের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রিসাইকেল করতে পারে, যার মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার। তবে এই বর্জ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভারত ও পাকিস্তানে রপ্তানি করা হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো আবার রিসাইকেল করা সুতা হিসেবে আমদানি করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৭টি কারখানা পাইলট প্রকল্পের আওতায় কাজ করছে, যার আনুমানিক মূল্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলার।
সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা যাই হোক না কেন, দেশটিকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, রিসাইক্লিং ক্ষমতা এবং পরিবেশবান্ধব দক্ষতা বাড়াতে হবে।

তিনি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের আহ্বান উল্লেখ করে বলেন, আমাদের ‘পণ্য নাও-বানাও-ফেলে দাও’ মডেল থেকে সরে এসে পুনর্ব্যবহার এবং স্থায়িত্বের দিকে যেতে হবে। রিসাইক্লিং, বিকল্প উপকরণের ব্যবহার এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মতো পদ্ধতিগুলো খরচ কমাতে পারে এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে পারে।
টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, এর বিশাল পরিধি এবং বর্জ্যের পরিমাণের কারণে এটি অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বছরে ৫০ লাখ টনের বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য উৎপাদন করে, যেখানে বাংলাদেশ উৎপাদন করে প্রায় ৬ লাখ টন।

তিনি এলডিসি পরবর্তী সময়ে ইইউ বাজারে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে অগ্রিম পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




৯ দিনেই রেমিট্যান্স এল ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ বা ১ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা প্রায় (ডলার প্রতি ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। প্রবাসী আয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরেকবার সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করতে পারে চলতি মে মাস।

সাধারণত ঈদ-রোজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। গত মার্চ মাসের ২০ তারিখ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়। সে মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই প্রথম ও একমাত্র সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় অতিক্রমকারী মাস। চলতি মাসের ২৭ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। এ মাসের প্রথম ৯ দিনে প্রবাসীরা প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন; যা গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে আবারও সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করবে প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একক মাস হিসাবে ছয় বার ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসে দেশে প্রথমবারের মতো বৈধ পথে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। পরবর্তীতে গত ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ডলার। এরপর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ও এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় আসে দেশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের এ প্রবাহের উপর ভিত্তি করে দেশের রিজার্ভের ভিতও মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বর্তমান গ্রস রিজার্ভ (১০ মে পর্যন্ত) ৩৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী এটি ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।




ট্রাকসেলে তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ালো টিসিবি

বাজারের উত্তাপ থেকে খানিকটা স্বস্তি দিতেই ভর্তুকি মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে পণ্য বিক্রি করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে প্রতিষ্ঠানটি এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে। প্রতি লিটার তেলে ১৫ টাকা দাম বাড়িয়ে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠান।

এর আগে বেসরকারি সরবরাহকারীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে, যা ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

 

টিসিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করবে। পণ্যের তালিকায় রয়েছে, ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল। প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অথচ গত রোজার আগে টিসিবি প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১১৫ টাকায় বিক্রি করেছে। তবে চিনি ও মসুর ডালের দাম বাড়ায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

 

জানা গেছে, টিসিবি প্রতিদিন ঢাকা মহানগরে ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি, অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্রয় কার্যক্রম চলবে ২১ মে পর্যন্ত।

টিসিবি বলছে, একেকটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণে ৪০০ জন মানুষ পণ্য কিনতে পারবে। এই সময়ে মোট ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কাছে ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিকটন পণ্য বিক্রির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

একেকজন ক্রেতা ট্রাকসেলের মাধ্যমে একসঙ্গে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবে।




‘এসআইবিএলকে একীভূত নয়, প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিন’

‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) মারাত্মক ক্ষতি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর’-এমন অভিযোগ ঢাকা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের। তার মতে, প্রায় দেড় বছর ধরে অনভিজ্ঞ পর্ষদ দিয়ে এসআইবিএল পরিচালনা করা হয়। এতে গ্রাহক অনাস্থায় প্রায় অর্থশূন্য হয়ে পড়ে ব্যাংকটি। সে কারণে এসআইবিএলকে একীভূত না করে দখলের আগে যাদের হাতে ছিল সেই মূল মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানান। চিঠির একটি অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংসদ-সদস্য চিঠিতে দাবি করেন, ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি সরকারি গোয়েন্দা বাহিনীর সহায়তায় অস্ত্রের মুখে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সাইফুল আলম (এস আলম)। এর আগে ধারাবাহিকভাবে ভালো আর্থিক পারফরম্যান্স ছিল এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি বছর ২০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেওয়া হতো। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এস আলম নিয়ন্ত্রিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি প্রকৃত মালিকদের হাতে ব্যাংক ফেরত না দিয়ে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং মাত্র একজন উদ্যোক্তা পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। যা ছিল ব্যাংকটিতে আর্থিক দুরবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অনেক উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারের পরিচালক হওয়ার যাবতীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদে তাদের যুক্ত করা হয়নি। তাদের যুক্ত করতে বারবার অনুরোধ করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিষয়টি আমলে নেননি। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করলেও প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের অন্তর্ভুক্ত না করায় গ্রাহকদের আস্থা কমে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ায় আরও অনাস্থা সৃষ্টি হয়। এতে জমানো টাকা তুলতে শুরু করেন আমানতকারীরা। ফলে গভীর সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট অর্থের জোগান দিলেও ব্যাংকটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

চিঠিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যাদেরকে পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছে, তারা কেউ এর আগে কোনো ব্যাংক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। প্রায় দেড় বছরে ধরে অনভিজ্ঞ পর্ষদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ব্যাংকটি পরিচালনা করেছেন। এতে ব্যাংকটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংসদ-সদস্য অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটিকে অকার্যকর ঘোষণা করে ব্যাংক রেজ্যুলেশন স্কিমের আওতায় নেওয়া হয়। যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আদালত রুল জারি করলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষ তার জবাব না দিয়েই একতরফাভাবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকটির প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে দিলে এবং নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত করা হলে এসআইবিএল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং আবারও একটি লাভজনক ব্যাংকে পরিণত হবে। এসআইবিএলকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর শরিয়াহভিত্তিক দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে এসআইবিএল কার্যক্রম শুরু করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস ব্যাংকটি উদ্বোধন করেন। যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ব্যাংকটি মূলত যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে অন্যতম হলেন-সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান; নাইজারের সাবেক অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসির সাবেক মহাসচিব ড. হামিদ আল গাবিদ; সৌদি পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এবং ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগের মহাসচিব ড. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ। আরও যুক্ত ছিলেন সৌদি আরবের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আহমেদ এম সালাহ জামজুম। যুক্ত ছিল সৌদি আরবের রিলিফ ফান্ড- ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ড, ইসলামিক চ্যারিটেবল সোসাইটি এবং হামদর্দ ল্যাবরেটেরিজ বাংলাদেশসহ দেশি-বিদেশি নামি দামি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ব্যাংকটি। বর্তমানে এই ব্যাংকের ১৮১টি শাখা, ২৪০টি উপশাখা এবং ৩৭০টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত না হলে এমন সংকট আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।




মেঘনা ব্যাংকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মেঘনা ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি তাদের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের সব শাখা ও উপশাখায় কেক কাটা হয়। পাশাপাশি নানান আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

 

এসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের সব শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি তাদের অব্যাহত সহযোগিতা, আস্থা ও সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 




আসছে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’

নরসিংদীর মনোহরদীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থান বজায় রাখার লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি আদর্শ উপজেলা গড়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
​গত শনিবার (৯ মে) সকালে মনোহরদী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) আয়োজিত ত্রৈমাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পিস অ্যাম্বাসেডর ও বিএনপি নেতা মো. আরিফুল ইসলাম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং কোঅর্ডিনেটর সাংবাদিক নেতা কাজী আনোয়ার কামালের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর রিপন আচার্য।
​ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান: সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী জুন মাসে মনোহরদীর সর্বস্তরের অংশীজনদের নিয়ে একটি ‘আন্তঃধর্মীয় নাগরিক সংলাপ’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সংলাপের মাধ্যমেই শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় শক্তিশালী ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।
​আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ: সভায় বক্তব্য রাখেন পিস অ্যাম্বাসেডর ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইদুর রহমান তসলিম, রাজনীতিবিদ এমদাদুল হক টিটো, পিস অ্যাম্বাসেডর নারগিছ সুলতানা, জনপ্রতিনিধি এম সুলতান উদ্দিন এবং শিক্ষক নেতা এ. টি. এম. আশ্রাফুল আলম।
​এছাড়াও আলোচনায় মতামত তুলে ধরেন আতাহার আলী, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সনজন কুমার রায়, মো. বোরহান উদ্দিন, সরকার মো. ফারুক হোসেন, সাংবাদিক মীর ছালেহা (কাঞ্চি) এবং মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
একই দিনে পৃথক অধিবেশনে ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি) এবং ওমেন এগেইনস্ট ভায়োলেন্স অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম (ওয়েভ)-এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শান্তি ও অহিংসা প্রসারে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই নাগরিক প্ল্যাটফর্ম মনোহরদীর সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।




জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় পাঁচ আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও (আইডি রিকন) মো. সাঈদ হোসেন।

এ মামলায় একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরেক আসামি আবু বকর সিদ্দিকীর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

দুদক চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচ আসামিকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় পাঁচ বছর, ৪২০ ধারায় দুই বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

তিনি আরও জানান, আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় বিশেষ পরিদর্শন দলের তদন্তে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ওই শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কাসেম মিয়া নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।




প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ১৩ মে বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-২৬ থেকে মার্চ-২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।




ঈদুল আজহায় নৌপথে মনিটরিংয়ে গাফিলতি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল আজহা ও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রী, কোরবানির পশু ও কার্গো পরিবহনে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, নৌযানের কাগজপত্র সঠিক রেখে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং মনিটরিংয়ে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিবসভিত্তিক আয়োজনগুলো অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায় না। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি কাজ হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নৌপথ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক মাধ্যম। দেশে নৌ দুর্ঘটনার হার অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় কম হলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগে দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

নদীগুলোর নাব্যতা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অনেক নদী সংকুচিত হয়ে আসছে এবং কোথাও কোথাও চর জেগে উঠছে। তাই নৌপথ টিকিয়ে রাখতে নিরাপত্তার পাশাপাশি আধুনিক নৌযান ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

নৌযানের রুট পারমিট ও সার্ভে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও পরবর্তীতে তদারকি করা হয় না। এমনকি পরিদর্শনের সময় নৌযান সাময়িকভাবে প্রস্তুত করে উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে নিয়মিত ও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকবে, তাই যাত্রীবাহী নৌযানগুলোকে কাগজপত্র হালনাগাদ রেখে চলাচল করতে হবে। মন্ত্রণালয় নিয়মিত পরিদর্শন করবে এবং অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছোট নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, মালিক, নাবিক ও শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করলে দেশের নৌপরিবহন খাতে পূর্বের ঐতিহ্য ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।




সিএসইর প্রস্তুতি শেষ হলেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু : বিএসইসি কমিশনার

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ফারজানা লালারুখ।

 

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভস বাজারকে এগিয়ে নিতে কমিশন কাজ করছে। যেহেতু এটি একটি নতুন ধারণা, তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১০ মে), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ : বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর বিজয় নগরস্থ সিএমজেএফ কার্যালয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।

 

ফারজানা লালারুখ বলেন, কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর আগে এর ভিত্তি শক্তিশালী করা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের চ্যালেঞ্জগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কভাবে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মিউচুয়াল ফান্ড অনেক শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশে কিছু কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শুরুর পর যেন তেমন কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়, সেজন্য আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েই শুরু করতে চাইছি।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান জানান, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে টিম গড়ে তোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কিছু কমপ্লায়েন্স ও নীতিগত কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে চলতি বছরের মধ্যেই এটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি কোনো সরাসরি পণ্য বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম নয়। এখানে ফিউচার কন্ট্রাক্ট সেটেলমেন্ট হবে। প্রথম ধাপে ক্যাশ সেটেলমেন্ট চালু করা হবে, পরে ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ডেলিভারি যুক্ত করা হবে।




পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন

চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের কর্মসূচি শুরু হয়। চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য—‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে খোলা জিপে চড়ে তিনি সালাম গ্রহণ করেন।

এবারের বার্ষিক প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।

সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।