গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই এই খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণকে অবাধ ও সঠিক তথ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘আমাদের পলিসি হচ্ছে এনালগ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল।’

তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং ‘ফেসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে।তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সুস্থ ঐকমত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ এই কমিশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে।সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ, সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রাস্টি সদস্য রেজোয়ানুল হক, তালাত মামুন ও নূর সাফা জুলহাজ উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিনিধি দলের নেতারা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংকটের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিক তুলে ধরেন।

 

তথ্যমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।




আইন ভেঙে বিনিয়োগ করায় ভ্যানগার্ডকে জরিমানা, টাকা ফেরতের নির্দেশ

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে বিনিয়োগ করায় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানার মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বুধবার (৬ মে) বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এসব তথ্য জানান। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০১২তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৩ সালে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড তাদের পরিচালিত ‘ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড’ থেকে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডের ৬ লাখ শেয়ারে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে, যা সিকিউরিটিজ আইন পরিপন্থি।

এ ঘটনায় কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। এই অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে কোম্পানিটিকে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

 

একইভাবে, ২০১৭ সালে একই ফান্ড থেকে এএফসি হেলথ লিমিটেডের শেয়ারে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভ্যানগার্ডকে ৩০ দিনের মধ্যে ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এতে ব্যর্থ হলে ১৬ কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে আরোপিত জরিমানা নিজস্ব দায় হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এরপরও জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা হারে জরিমানা আরোপ করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) যথাযথ তদারকিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেছে বিএসইসি। ফলে ইউনিটধারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিনিয়োগের ওপর হঠাৎ ৯৯ শতাংশ প্রভিশন রাখার বিষয়টি যথাযথ ব্যাখ্যা না করায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান মালেক সিদ্দিকী ওয়ালি অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




কুরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী

আসন্ন কুরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলি পশুর হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পশু পরিবহন ও হাট ব্যবস্থাপনায় চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “কুরবানির পশু আনা-নেয়ার সময় সড়কে চাঁদাবাজি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগেভাগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রেললাইন ও সড়কের পাশে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবে।

হাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে বলেও জানান তিনি। এসব ভলেন্টিয়ার হাটে শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের সহযোগিতায় কাজ করবে।

মীর শাহে আলম বলেন, বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাট এলাকায় ওয়াচটাওয়ার স্থাপন এবং নকল টাকা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর-এ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হতে আবেদন করেছেন সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। শুনানিতে তার পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার জামিন আবেদন করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ রাতে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি শাপলা চত্বর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাবন্দি আছেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘটনায় আবদুল জলিল মণ্ডলসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তিনি এ মামলার দ্বিতীয় আসামি।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, আবদুল জলিল মণ্ডল দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তবে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।