পথচারী-যান চলাচল নির্বিঘ্ন রেখেই হকার পুনর্বাসন হচ্ছে : ডিএসসিসি প্রশাসক

পথচারী চলাচল ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন নিশ্চিত করেই হকারদের সুশৃঙ্খল পুনর্বাসনের কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

শনিবার (২ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ এর আওতাধীন হক আবাসিক সোসাইটি এলাকায় রাস্তা উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে লেন ও বাই-লেনের পাইপ নর্দমাসহ প্রায় ১ দশমিক ১ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সিটি করপোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা সমাধান ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে।

ফুটপাতে হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, অতীতে হকাররা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করার ফলে জনভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। এখন থেকে ফুটপাত বা রাস্তার নির্ধারিত স্থানে, নির্দিষ্ট সংখ্যক হকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসতে পারবেন। আমরা পথচারী ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা নিশ্চিত করেই হকারদের সুশৃঙ্খল পুনর্বাসনের কাজ করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা, ডিএসসিসি তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে তা পূরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। উন্নয়নমূলক কাজে নতুন সংযুক্ত এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ায় তিনি প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, যানজট-ভোগান্তি

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন আজিম গ্রুপের কয়েকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিক। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে নগরের সিএন্ডবি চত্বরে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন, অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। ২০২০ সাল থেকে তাদের টিফিন বিল বকেয়া রয়েছে, ২০২২ ও ২০২৫ সালের ওভারটাইমের পাওনা দেওয়া হয়নি এবং নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি। তারা ওভারডিউটি কমানো, প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পরিশোধ, শ্রমিকবান্ধব ইউনিয়ন গঠন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, টিফিন বিল বৃদ্ধি ও হাজিরা বোনাস চালুর দাবি জানান।

মো. মাহফুজুর রহমান লিমন বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতন এখনো পাননি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন সম্পূর্ণ দেওয়ার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার কেবল এক মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে।

আকলিমা খাতুন বলেন, বছরের পর বছর তাদের মাতৃত্বকালীন বিল বকেয়া রাখা হচ্ছে। শুধু আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো সমাধান মিলছে না। এতে তারা ঘরভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছেন না।

হাসান শরিফ অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ওভারটাইমের প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সিগনেচার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। খাতায় তাদের নামও নেই। এছাড়া গত পাঁচ বছর ধরে নাস্তার বিলও পরিশোধ করা হয়নি।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক অবরোধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। হাবিবুল হক নামে এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে বের হলেও দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে শেষ পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য হন।

অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা পথ ছেড়ে দিলেও যানজটের কারণে সামনে এগোনো যাচ্ছে না।

তবে শ্রমিকদের দাবি আদায়ে এখনো পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বেতনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। যানজট নিরসনে শিল্প পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।




হাইব্রিড-ইভি গাড়িতে শুল্ক কমানোর দাবি বারভিডার

জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোটরযান আমদানির শুল্ক-করহার যৌক্তিকীকরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে আমদানি নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হক বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বিদ্যমান শুল্ক হ্রাস করা জরুরি। একই সঙ্গে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর কর কমানোর দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইলেকট্রিক গাড়ি শিল্পে সরকারের বিদ্যমান প্রণোদনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে কর ছাড় দিলে বাজারে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে।

বারভিডা সভাপতি জানান, প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে গাড়ির দাম মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। ফলে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে মোটরযান খাতে যুক্তিসংগত শুল্ক কাঠামো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশে মানসম্মত, নিরাপদ ও স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে ৪৬৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন

সিলেটে সুরমা নদী তীর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

 

আজ শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) জানায়, প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি টেকসই বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ

প্রকল্প উদ্বোধনের আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বিকেল ৩টায় তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন।