উন্নত নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবহন ও পানি খাতে নতুন ভাবনা

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতে অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এ আলিম।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক মতবিনিময়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৯ বছরের পেশাগত জীবনে পরিবহন প্রকৌশল, জলবায়ু-সংবেদনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কাজ করেছেন। তার মতে, এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়।

প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণের আহ্বান তাকে দেশে অবদান রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করেছে। তিনি ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশে এসে স্থানীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি ২০৫০ সাল পর্যন্ত একটি ধারণামূলক মাস্টারপ্ল্যানও তুলে ধরেন। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলদূষণ, জলবিদ্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় সুরক্ষা অবকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনে পেশাদার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। এর আগে ভার্জিনিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে সড়ক ও পরিবহন অবকাঠামো, পানি ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভয়ার এবং ঝড়ের পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

মোহাম্মদ এ আলিম আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।




কাজের মানে ছাড় নয়, সময় মতো উন্নয়নকাজ শেষ করতে হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, টেন্ডারে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক কাজে সেসব শর্ত যথাযথভাবে মান্য করে কাজ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। চলমান সব কাজের মান নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করবেন, প্রয়োজনে আমি নিজেও আসবো। কাজের মান নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ চলবে না, এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে মিরপুরে ৫ নম্বর ওয়ার্ড ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৃথক দুটি প্রকল্পের সড়ক ও ড্রেনেজ লাইন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, বাউনিয়া বাঁধের এই এলাকায় যারা বাস্তুহারা হয়েছেন আপনাদের জমির মালিকানা বা কাগজপত্র সংক্রান্ত যে দাবি রয়েছে, আমরা তা দ্রুত পূরণের জন্য কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা শ্মশানের জন্য জায়গার দাবি জানিয়েছেন। কোথায় শ্মশান করা হলে ভালো হবে, আপনারা জায়গা নির্ধারণ করে দেখিয়ে দিন, আমরা দ্রুত সেখানে শ্মশানঘাট নির্মাণ করে দেবো।

এলাকাবাসীর পানির সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার মানুষের পানির খুব সমস্যা হচ্ছে— আমি বিষয়টি জানি। এ সমস্যা সমাধানের জন্য পানির পাম্প নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

গ্যাস সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের আরেকটি সমস্যা আছে, সেটি হলো গ্যাসের সমস্যা। এ সমস্যা রাতারাতি সমাধান হবে না। আপনারা ধৈর্য ধরবেন। আমরা ধাপে ধাপে এই সমস্যারও সমাধান করবো।

মিরপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থিত সেকশন-১১, বাউনিয়া বাঁধ এলাকার ব্লক-এ থেকে ব্লক-ই (২৬০০ বাস্তুহারা পরিবারের পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত) পর্যন্ত বিভিন্ন বাইলেনের নর্দমা নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমার-আপনার টাকায় এই কাজ হচ্ছে, আপনারা এই কাজে সহযোগিতা করবেন। ঠিকাদার যেন নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করতে পারে, সেজন্য সবাই সহযোগিতা করবেন। কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না খোঁজ রাখবেন, মনিটরিং করবেন।

এসময় বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় ট্রাক স্ট্যান্ডে নির্ধারিত স্থানের বাইরে ট্রাক পার্কিং করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার গাড়িই হোক, প্রধান সড়কে কোনো অবস্থায়ই গাড়ি রাখা যাবে না। গাড়ি রাখলে নম্বর প্লেট দেখে দেখে জরিমানা করা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৭.৮৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক উন্নয়ন এবং সমপরিমাণ নর্দমার লাইন নির্মাণ করা হবে। এতে ১০৫০ মি.মি. ও ১৫২৪ মি.মি. ব্যাসের আরসিসি পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।




টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, বেসরকারি খাত সুরক্ষায় অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে বেসরকারি খাতকে সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক অবস্থান বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অতীতে এমন নীতির কারণে সুদের হার বেড়েছে এবং বেসরকারি খাত ‘ক্রাউড আউট’-এর মুখে পড়েছে, যা টেকসই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সদস্যসহ অর্থ মন্ত্রণালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে চায় না। বরং এমন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ না পড়ে। এটিই বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান নির্দেশনা।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’-এর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিক সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছায়।

এ প্রসঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা পরিবারে সাশ্রয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এসএমই খাত। পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারায় আনতে কাজ করছে সরকার। এসব পণ্যের ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীত খাতকেও অর্থনীতির অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত কর্মক্ষমতা দেখাতে পারছে না। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো না হলে কর আদায়ও বাড়ে না। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বাড়ে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারকে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে দিতে হবে। এজন্য সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসার পথে অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতা থাকলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না।




জব্বারের বলীখেলায় আবারও চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে রানারআপ হয়েছে একই জেলার রাশেদ বলী। তার দু’জনই গত আসরের চ্যাম্পিয়ন-রানারআপ ছিলেন। এবারের আসরের তৃতীয় হয়েছেন সার্জের দিপু।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অংশ নেন প্রায় ১০৮ জন বলী। প্রতিটি লড়াই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। একের পর এক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সবার নজর কাড়েন বাঘা শরীফ ও রাশেদ বলী। দীর্ঘ ৩০ মিনিটের লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখেন বাঘা শরীফ।

বলী খেলা উপলক্ষ্যে লালদীঘি মাঠজুড়ে হাজারো দর্শকের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে পরিণত করে এক উৎসবমুখর পরিবেশে।

ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা বাঘা শরীফ কি শিরোপা ধরে রাখবেন, নাকি গতবারের হার শোধ করে চ্যাম্পিয়ন হবেন রাশেদ বলী– সেই অপেক্ষায় ছিল সবাই। তবে শেষ পর্যন্ত গতবারের মতোই থাকলো ফলাফল।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে এই বলীখেলার সূচনা হয় ১৯০৯ সালে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতার প্রচলন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় লোকজ উৎসবে পরিণত হয় এবং আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলছে।




পোশাক খাতের উৎপাদন খরচ ২০% বেড়েছে: বিকেএমইএ সভাপতি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ফলে দেশের তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬) উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকেরা জানান, প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শক এতে অংশ নেবেন। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণে ২৯ এপ্রিল শুরু হয়ে ২ মে পর্যন্ত চলবে এই মেলা।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যবসার পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই খারাপ। ব্যাংকিং খাতের নানা অসহযোগিতার কারণে অনেক কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, আরও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলসি খোলা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং ঋণসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কাস্টমসের জটিলতা ও কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও করেন তিনি, যা বাণিজ্য কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানান।

জ্বালানি সংকটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, বাস্তবে শিল্প-কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশন থেকে কনটেইনারে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাগুলো বিপাকে পড়ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক; লোডশেডিং গড়ে ২-৩ ঘণ্টা, কোনো কোনো এলাকায় ৬-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হচ্ছে, যা উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো রপ্তানি করা যাচ্ছে না, ফলে এয়ার শিপমেন্ট বা ডিসকাউন্টের মতো অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় আরও বাড়ছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে এতে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, বিপিসি নির্দেশনা দিয়েছে যে কনটেইনারে করে তেল সরবরাহ করা যাবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন মনিটরিং করছে এবং প্রয়োজনে জরিমানাও করছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, কারখানা থেকে কি জেনারেটর ফিলিং স্টেশনে নিয়ে গিয়ে সেখানে তেল ভরে আনা সম্ভব? বাস্তবে তা সম্ভব নয়।

সবমিলিয়ে উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি। তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে এই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করা যাচ্ছে না, কারণ আগেই মূল্য নির্ধারিত থাকে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং শিল্প-কারখানাগুলো বর্তমানে মোট সক্ষমতার মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ ব্যবহার করে চলছে, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।

এসময় ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সব স্থানে কার্যকরভাবে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও অনেক জায়গায় এখনো ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা ব্যয় কমেছে, যার প্রভাব পড়ছে পোশাকখাতে। ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিকভাবেই ক্রয়াদেশ কমে গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী মৌসুমে অর্ডার প্রবাহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য এ খাতের কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ বছর ‌‌‘ভেটেরিনারিয়ান্স: গার্ডিয়ান্স অব ফুড অ্যান্ড হেলথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২৬।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ আজকের বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভেটেরিনারি পেশাজীবীরা মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে। একসময় ভেটেরিনারি পেশাকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া না হলেও বর্তমানে এ খাতে মানুষের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে ভেটেরিনারি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

তিনি বলেন, প্রাণীরা তাদের সমস্যা প্রকাশ করতে পারে না। তাই তাদের চিকিৎসা ও সুস্থ রাখা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ খাতে যারা কাজ করছেন তারা অত্যন্ত মেধাবী ও যোগ্য। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সরকারও এই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ও ভেটেরিনারি সায়েন্স বর্তমানে একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করবো। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব এবং সবাই সমানভাবে উপকৃত হবে।

সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত কৃষক কার্ডের আওতায় আসছে, ফলে কৃষকদের মতো এ খাতের খামারিরাও সমান সুবিধা পাবেন।

তিনি দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ দেশ আমাদের, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভ্যাব) সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান, অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান। সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ভ্যাব-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ড. এম. আরিফুল ইসলাম, যেখানে ভেটেরিনারি পেশার সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভেটেরিনারিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী এর আগে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও উদ্বোধন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।




ছুটির দিনেও চালু থাকবে বিএসটিআই সেবা

আমদানি করা পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে এবং বন্দরে ড্যামারেজ খরচ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে আমদানি করা পণ্যের ছাড়পত্র প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ড্যামারেজ খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প সচিব বলেন, সরকার সরাসরি ব্যবসা করে না; বরং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতিগত সহায়তা দেবে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ব্যবসায়ীদের যেকোনও সমস্যায় সরকার পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে সিটিজেন চার্টারে নির্ধারিত সময়ের আগেই আমদানি করা পণ্যের ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এম এ কামাল বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, সিটি গ্রুপ, ওয়ালটন, এসিআই, পোলার আইসক্রিম, অলিম্পিক বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি লিমিটেড, অলিম্পিয়া বেকারি, ট্রাস্ট ইনফিনিটি ফার্মস ও পিয়ারলেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড উল্লেখযোগ্য।

গণশুনানিতে নকল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, পণ্যের মান নির্ধারণে এসআরও জারির সময় কমানো, ফুড গ্রেড কালার ব্যবহারের আগে পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা, সুগার ও নন-সুগার বেকারি পণ্যের মান একীভূতকরণ এবং লাইভ বেকারিগুলোতে তদারকি জোরদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বিএসটিআই মহাপরিচালক বলেন, ব্যবসায়ীরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের সেবায় কোনও ঘাটতি থাকলে প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি জানান, সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করতে বিএসটিআই কাজ করছে এবং গণশুনানিতে আলোচিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য, বায়োইকোনমি রেজুলেশন গৃহীত

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ৮২তম অধিবেশন গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে টেকসই বায়োইকোনমি বা জৈব অর্থনীতি বিষয়ক একটি যুগান্তকারী রেজুলেশন গ্রহণে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ।

আজ শনিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অর্জন আঞ্চলিক উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বকে আরো সুদৃঢ় করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাপোর্টিং দ্য ট্রানজিশন টুওয়ার্ডস এ সাসটেইনেবল বায়োইকোনমি ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক রেজুলেশনটি বাংলাদেশের উদ্যোগে উত্থাপিত হয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে গৃহীত হয়, যা এ অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রেজুলেশনটি বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার-টেকসই, উদ্ভাবননির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সার্কুলার অর্থনীতি, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেকসই বায়ো-ইকোনমি ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অধিবেশনে বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বায়োইকোনমি শুধু একটি নতুন ধারণা নয়; এটি জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পথ।’

বাংলাদেশের এ উদ্যোগে সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, চীন, মঙ্গোলিয়া, আর্মেনিয়া ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ সমর্থন দিয়েছে। যা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক ঐকমত্যের প্রতিফলন।

অধিবেশনে আরও ‘সব বয়সের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সামাজিক উন্নয়ন জোরদার’ বিষয়ে বাকু-ব্যাংকক ঘোষণা গৃহীত হয়েছে। এতে অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।




বাংলাদেশকে এডিবির ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ সহায়তা সরকারের চলমান সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এডিবির ‘সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর সাবপ্রোগ্রাম-২-এর আওতায় এ অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা, আওতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ঝুঁকিপূর্ণতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রূপে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক স্কিম চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

কর্মসূচির আওতায় নতুন অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি রাজস্বের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত নারীকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এছাড়া জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ ক্ষুদ্র পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।