‘শাহজালাল বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। সোমবার (২০ এপ্রিল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, “আমরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে চাই। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণ হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা আপনাদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের শুভ উদ্বোধন করছি, যা আমাদের আকাশসীমাকে আরও নিরাপদ, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।” এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৮০ সালে এই কুর্মিটোলায় ঢাকার নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভিত্তি রচনা করেছিলেন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পরিসরের সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”




জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে প্রশ্নবাণে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অত্যন্ত মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জানতে চান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ছিল, যা এখনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের উপরে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আছে কি না।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে, সেটি আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে সেটি অনেক কম। আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি।

তিনি বলেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের সেই ৭-৮ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে, যা খুব বড় কোনো অভিঘাত নয়।

পরিবহন খাতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে। এতে খরচ বেড়েছে ৪৫০ টাকা। এই ৩০ লিটার ডিজেলের জ্বালানি দিয়ে যে ট্রাকটি পণ্য পরিবহন করে, সেটি ১০ হাজার কেজি পণ্য বহন করতে পারে। অর্থাৎ, এই ৪৫০ টাকার প্রভাব ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর পড়ে। শুনলে মনে হতে পারে দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের ভিত্তিতে হিসাব করলে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড)। সেখানে সরকারের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে সেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট থাকলেও তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আপনি অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যে জায়গায় ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্স ইমব্যালেন্সে পৌঁছে যায়। সেই ভারসাম্য রক্ষার্থে পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরাও সেই নীতি অবলম্বন করে মডারেটভাবে মূল্যবৃদ্ধি করেছি।