বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু উপলক্ষ্যে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংহাই, চাংক্রান ও পাতা। এসব উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর পাহাড়ে তৈরি উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজ নিজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় মেতে ওঠে, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো বলি খেলা।

‎শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে রাঙামাটির চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে বিজু উৎসব উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী এই বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বলি খেলা শেষে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‎খেলা দেখতে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকরা খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে জড়ো হন। পাহাড়ি- বাঙালি, নারী-পুরুষ, কিশোর- বয়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিততে স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

‎ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন বিভাগে অনুষ্ঠিত বলি খেলায় তিন পার্বত্য জেলা থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নেন। বড়দের বলিখেলায় টানা ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন খাগড়াছড়ির সৃজন বলিকে পরাজিত করে রাঙামাটির দিপু বলি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

‎অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহিত সমিতি (জেএসএস) এর সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংহাই, চাংক্রান ও পাতা ২০২৬ উদযাপন খেলাধুলা উপ কমিটির আহ্বায়ক শুক্র কুমার চাকমা।

‎ঊষাতন তালুকদার বলেন, বলি খেলা আমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা যা আমরা ধরে রাখতে চাই। তিনি বলেন, নিয়মিত আয়োজন না হলে নতুন বলি খেলোয়াড়রা উঠে আসবে না। বলি খেলোয়াড় উঠে আসার জন্য একটি ক্ষেত্র প্রয়োজন, তাই আমাদের এই প্রচেষ্টা।

‎গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে চির দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিন বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা ও ভাষা প্রতিযোগিতা দ্বিতীয় দিন চিত্রাংকন এবং তৃতীয় দিন ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১২ এপ্রিল পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি হবে।

‎আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই মৈত্রী জল উৎসব (জলকেলি-২০২৬) আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের বর্ষবরণের এবারের আয়োজন শেষ হবে।




বৈশ্বিক সংকটের আঁচ বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এ মুহূর্তে জ্বালানি তেল বৈশ্বিক সংকট। সেই সংকটের আঁচ বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। কিন্তু জনগণ যাতে ভোগান্তির শিকার না হয়, সেজন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর পরিদর্শনকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেই কাজের অগ্রগতি দেখতে এসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, এখন ইরিগেশন চলছে, কৃষক যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি। কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোরে আগমন বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এই আগমন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মাধ্যমে বিগত ১৭ বছর যশোরে যে উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছিল তা নতুন করে সচল হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা উলাশী খাল পুনঃখননের জন্য আগামী ২৭ তারিখ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। যেটা যশোরবাসীর জন্য অনেক বড় সুসংবাদ।

প্রধানমন্ত্রী যশোর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উলাশী গিয়ে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন। এরপর সেখান থেকে ফিরে মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে তৈরি যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি জনসভায় যোগ দেবেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শনিবার সকালে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে দপ্তরপ্রধানদের সাথে সভা করেছেন। সভায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধনী স্থল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শার্শার উলাশী খাল পুনঃখননস্থল পরিদর্শন করেন।




সিটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১৫ শতাংশ বোনাস। আগের বছর ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, এর মধ্যে ছিল ১২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১২.৫০ শতাংশ বোনাস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিদায়ী বছরে সিটি ব্যাংকের নীট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয়ে বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৭১ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা আয় হয়েছিল। তার আগের বছর ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।

বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

সর্বশেষ বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪৭ টাকা, যা আগের বছর ৫৮ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪০ টাকা ৬৭ পয়সা।

আগামী ৭ জুন, রোববার বিকাল ৩ টায় ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৩ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।




ঢাকায় টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী নিয়ে সমঝোতা স্মারক

ঢাকায় যৌথভাবে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী আয়োজনের লক্ষ্যে শাংহাই টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন, লিংক ওয়েল এক্সিবিশন কোম্পানি লিমিটেড এবং ইকো এক্সপো বাংলাদেশ-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকায় এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এই সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে বিটিএমএ’র সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিটিএমএ’র ঢাকা আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন সই করেন। অন্য তিনটি পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে যথাক্রমে ফ্যান শেং বিন, লু শাও ইং এবং এমডি রাজওয়ানুর রহমান সই করেন।

দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যৌথভাবে প্রদর্শনীর পরিকল্পনা, আয়োজন, প্রচার এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে কাজ করবে।

জানা গেছে, এই সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে প্রতি বছর যৌথভাবে এই প্রদর্শনী আয়োজন করা হবে। প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের যন্ত্রপাতি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সর্বশেষ উদ্ভাবনসমূহ উপস্থাপন করা।

এই কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ঢাকা আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীকে একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা শিল্পখাতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে, বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন দেবে।

আগামী ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর এই প্রদর্শনী ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বিটিএমএ দেশীয় প্রস্তুতকারকদের বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের আধুনিকায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।




সংসদে পাস হওয়া শ্রম বিল সংশোধনের আহ্বান বিকেএমইএর

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে সময় স্বল্পতার কারণে আইনের কিছু ধারায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, সেগুলো ভবিষ্যতে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সই করা এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শ্রম আইনের কিছু ধারায় কৌশলে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিকেএমইএর মতে, এসব পদক্ষেপ শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদে শ্রম অসন্তোষের বীজ বপন করতে পারত।

সংগঠনটির দাবি, ওই ধরনের অস্পষ্টতা অব্যাহত থাকলে শিল্প কল-কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারত।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু ধারা পরিবর্তন করে আইনটি পাস করলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে শ্রম অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিকেএমইএ।
সংগঠনটির মতে, এসব অস্পষ্টতা দূর না হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

শিল্প কারখানায় শান্তিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে শ্রমবিধি ও শ্রম আইনের পরবর্তী সংশোধনের সময় এসব অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

বিবৃতিতে শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করার বিধানকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি শ্রমিকের পরিচয়ে আইনবহির্ভূত দাবি তুলে শিল্প কারখানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করা, অবৈধ ধর্মঘট বা অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে সেগুলোও অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার ও সংশোধনে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাস নির্দেশনামূলক ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতি সংগঠনের আহ্বান—আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের ন্যায্য ও নৈতিক মূল্য (ফেয়ার অ্যান্ড এথিক্যাল প্রাইস) দিচ্ছেন কি না, সেটিও যেন তারা নজরদারিতে রাখেন।

অন্যথায়, দিন শেষে শিল্প কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

 




ব্র্যাক ব্যাংকের চলতি-সঞ্চয়ী হিসাবে আমানত বেড়েছে ২১০০ কোটি টাকা

ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চলতি হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাব (সিএএসএ) খাতে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার নিট আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ব্যাংকটির ইতিহাসে এ খাতে এটি অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ব্যাংকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা, সম্পর্কভিত্তিক ব্যাংকিং এবং একটি স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় তহবিল কাঠামো গড়ে তোলার কৌশলের ফলেই এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত ৩১০টি শাখা ও উপ-শাখার নেটওয়ার্ক এবং নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাও এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এই সিএএসএ আমানত প্রবাহের ফলে স্বল্প খরচের তহবিল সংগ্রহে ব্যাংকের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর মাধ্যমে শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ সাফল্য উদ্‌যাপন উপলক্ষে সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক প্রধান শেখ মোহাম্মদ আশফাক এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহানীয়ুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জোনাল হেড (নর্থ) এ কে এম তারেক, সিনিয়র জোনাল হেড (সাউথ) তাহের হাসান আল মামুনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রিজিওনাল, ক্লাস্টার ও শাখা ব্যবস্থাপকরা।

অনুষ্ঠানে সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, শক্তিশালী সিএএসএ প্রবৃদ্ধি একটি স্থিতিশীল ব্যালান্স শিট গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এই অর্জন গ্রাহকদের আস্থা এবং ব্যাংকের টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে তহবিল ভিত্তি আরও শক্তিশালী করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক টিমের পেশাদারিত্ব, গ্রাহককেন্দ্রিকতা ও সেবার উৎকর্ষ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই এ সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।