শাহজালাল বিমানবন্দরে অর্ধকোটি টাকার সিগারেট জব্দ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অভিযানে প্রায় ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ শলাকা অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, দুবাই থেকে আগত ফ্লাইট এফজেড-৫০১, বিজি-১৪৮ ও বিএস-৩৪২-এর যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় সাত যাত্রীর কাছ থেকে এসব সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এসব সিগারেটের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫৩ কার্টুন।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৫ এপ্রিল দুবাই থেকে আগত ফ্লাইট এফজেড-৫২৩-এর একটি পরিত্যক্ত লাগেজ, যা বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে সংরক্ষিত ছিল, সেখান থেকে আরও ২৪৪ কার্টুন অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ৪৯৭ কার্টুন সিগারেট পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টম হাউস ঢাকায় জমা দেওয়া হয়েছে।

 

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আরও জানায়, অর্থপাচার, অবৈধ আমদানি, চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান রাজস্ব ফাঁকি রোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বৈধ বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন

সংস্থাটি আরও জানায়, ভবিষ্যতেও চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন সৈয়দ আশিকুর রহমান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছেন ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান, এসপিপি, পিবিজিএম, এনডব্লিউসি, পিএসসি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডিএসইর ১ হাজার ১১২তম পর্ষদ সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

এর আগে গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় তাকে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্তমান দায়িত্বে যোগদানের আগে তিনি ২০২২, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৬ সালে তিনটি পদাতিক ব্রিগেডে কমান্ডার হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

স্টাফ পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি একটি পদাতিক ব্রিগেডে জেনারেল স্টাফ অফিসার (অপারেশনস)-৩ এবং ব্রিগেড মেজর (চিফ অপারেশন অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে পরিচালক (পরিকল্পনা), একটি পদাতিক ডিভিশনে কর্নেল স্টাফ (চিফ অপারেশন অফিসার) এবং রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে মাননীয় রাষ্ট্রপতির সহকারী সামরিক সচিব (এএমএসপি) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি), মিরপুরে ডিরেক্টিং স্টাফ এবং সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (ক্লাস ‘এ’) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি ডিএসসিএসসি, মিরপুর থেকে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স, চীনের নানজিং আর্মি কমান্ড কলেজ থেকে আর্মি কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল ওয়ার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে আইভরি কোস্টে BANBAT-4-এ কোম্পানি সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে একবার এবং সিরিয়ার UNSMIS ও আইভরি কোস্টের UNOCI মিশনে দুবার মিলিটারি অবজারভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরাতে বিশেষ স্কিম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত নিয়মে ধাপে ধাপে ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ আমানতকারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছেন। এ ছাড়া উত্তোলনে বাধা পেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার সুযোগও থাকছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এসব কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী।

অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকে আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আন্দোলন করেন প্রায় অর্ধশত মানুষ। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

এসব বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। এ স্কিমে প্রথম দিন থেকেই সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপর তিন মাস পর ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি তিন মাস পর আরও ১ লাখ টাকা করে ধাপে ধাপে প্রায় ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলন করা যাবে।

শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আমানত হিসাবের পাশাপাশি এফডিআর ও ডিপিএস হিসাবধারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব আমানত মেয়াদপূর্তির পর প্রথমে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। অবশিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়নের মাধ্যমে তোলা যাবে। প্রতিবার নবায়নের সময় মুনাফা উত্তোলনের সুযোগও থাকবে।

বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিডনি রোগী বা গুরুতর অসুস্থ আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সীমাহীন অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হবে। অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এর বেশি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়মে টাকা উত্তোলনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানানো যাবে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আবেদন সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ায় প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সমন্বয়ের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক শাখা একীভূত করে একটি শাখায় রূপান্তর করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ভাড়া করা প্রধান কার্যালয় ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সমন্বয়ের কাজ চলছে এবং ভিন্ন ভিন্ন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।




১০ বছরে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ

২০২৪ সালে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। এ হিসাবে ১০ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি, অর্থাৎ ৪৯.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুমারি অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে নিয়োজিত মোট জনবল এখন ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। অর্থাৎ জনবল বেড়েছে ২৫.০৩ শতাংশ।

মোট জনবলের মধ্যে ৮৩.২৮ শতাংশ পুরুষ এবং ১৬.৭১ শতাংশ নারী। এছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) অংশগ্রহণ (০.০১ শতাংশ) রেকর্ড করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ ২৭.০৮ শতাংশ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম (১৭.৫১ শতাংশ) এবং রাজশাহী (১৪.৩৬ শতাংশ)। সবচেয়ে কম অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে (৪.৬৭ শতাংশ)। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুরে ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.৬৩ শতাংশ এবং বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে।

দেশের মোট ইউনিটের মধ্যে বড় অংশই মাইক্রো ও কুটির শিল্প। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাইক্রো শিল্পে রয়েছে ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি (৫৬.৬৭ শতাংশ), কুটির শিল্পে ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি (৩৮.৭৪ শতাংশ), ক্ষুদ্র শিল্পে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩২৩টি (৪.২০ শতাংশ), মাঝারি শিল্পে ৩৬ হাজার ১১২টি (০.৩১ শতাংশ) এবং বৃহৎ শিল্পে ৯ হাজার ২৮৬টি (০.০৮ শতাংশ)।

দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি। অন্যদিকে শিল্প খাতের ইউনিট মাত্র ৯.৯৮ শতাংশ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত’ খাত সর্বোচ্চ ৪১.৮২ শতাংশ দখল করে আছে।

 

মালিকানার ভিত্তিতে দেখা যায়, দেশের ৮৭.৩৬ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে ১.৮২ শতাংশ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে ১.৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

শুমারির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পল্লী এলাকায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি এবং শহর এলাকায় ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি। ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় এলাকাতেই উল্লেখযোগ্য হারে ইউনিট বেড়েছে।

এদিকে, মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, ৪.৯১ শতাংশ অস্থায়ী এবং ৪১.৫২ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসম্পন্ন খানা।

অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে পণ্য উৎপাদন বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয়সংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক সত্তাকে বোঝায়। যেখানে অর্থনৈতিক কাজ হয় সেটাই অর্থনৈতিক ইউনিট। অর্থনৈতিক ইউনিট হতে পারে—একজন ব্যক্তি (যেমন: ফ্রিল্যান্সার, দর্জি), একটি দোকান বা ব্যবসা, একটি কোম্পানি বা কারখানা, যে কোনো প্রতিষ্ঠান, যেখানে পণ্য তৈরি হয় বা সেবা দেওয়া হয় এবং এর মাধ্যমে আয় হয়।




দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানির সঙ্গে ২৪.০৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করলো বেপজা

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) বহুমুখী শিল্প উৎপাদনে আরেকটি বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান এ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান পিএইচ ক্রিয়েটিভ (বিডি) লিমিটেডের সঙ্গে বেপজার এ চুক্তি সই সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন এ বিনিয়োগের আওতায় ২৪ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ এবং ব্যাগ ও লাগেজ উৎপাদন করা হবে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৯৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জিন হো বে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত থেকে চুক্তি সই কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

 

প্রতিষ্ঠানটি স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও আয়রন ফ্রেম, ফাইবারগ্লাস পোল, তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাম্পিং সামগ্রী উৎপাদন করবে। পাশাপাশি পিভিসিওয়্যার কভার, ক্যাপ, চেয়ার প্যাচ, হ্যাঙ্গার, হ্যামারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হবে।

এছাড়া ট্রলি ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ এবং গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ যেমন টগল ও বিড উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় পিএইচ ক্রিয়েটিভ (বিডি) লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক পণ্যের মতো উচ্চপ্রযুক্তি খাতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।