মার্চে ৬১৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮

মার্চ মাসে দেশজুড়ে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৬১৯ জন নিহত এবং ১৫৪৮ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে।

এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০ দশমিক ৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০ দশমিক ৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। এছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০ দশমিক ৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে— দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব এবং রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা; সড়কে মিডিয়ানে ডিভাইডার না থাকা ও অন্ধ বাঁকে গাছপালার কারণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা; মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য; উল্টো পথে চলাচল, চাঁদাবাজি এবং পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন; বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ও দীর্ঘসময় ধরে চালানো এবং ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ এবং যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। আরও সুপারিশের মধ্যে রয়েছে— বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা; পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ; গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু; সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ ও চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ; মহাসড়কে ফুটপাত, পথচারী পারাপার, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন; আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি; মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট চালু; সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন।

একই সঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, ঈদযাত্রায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানো জরুরি।




জ্বালানি সংকট-অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা দেবে এআইআইবি

দেশের জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎ শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এআইআইবি বাজেট সাপোর্ট দেবে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করবে।

তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, মোট বিদ্যুতের ২০-৩০ শতাংশ সৌর শক্তি থেকে উৎপাদন করা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিকসময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরোনো প্রকল্পগুলো সচল করেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, দেশীয় সম্পদ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জ্বালানির দাম বা আসন্ন বাজেটের আকার নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।




কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইটার কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোল চত্বর এলাকার গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আজ শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১টা ১১ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এর আগে রোজিনা আক্তার বলেন, দুপুর ১টা ১০ মিনিটে কেরানীগঞ্জের একটি গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানায় আগুন লাগে। আমরা ১টা ১১ মিটিটে তথ্য পেয়ে ১টা ১৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে আরও দুই ইউনিট কাজ শুরু করে।

আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।




বাউল গানসহ দেশীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন

বাউল গানসহ দেশীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, ‘আগে বিভিন্ন এলাকায় নাটক, যাত্রা, বাউল গান হতো। কিন্তু আজ সেই সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। এই সংস্কৃতি যদি ফিরিয়ে আনতে চাই, সামাজিকভাবে আমরা যদি সেই আন্দোলনটা করতে পারি, তাহলে কিন্তু সেটা সম্ভব।’

 

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও সেই সঙ্গে প্রতিবাদী সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাউল দলের আহ্বায়ক আরিফ দেওয়ানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, বাউল দলের উপদেষ্টা কণ্ঠশিল্পী মজিব পরদেশী, তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আজকে যে কৃষ্টি, যে সংস্কৃতি, এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি আমরা ফিরিয়ে না আনতে পারি, তাহলে জনগণের মধ্যে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেই সংকট আমরা মোকাবিলা করতে পারবো না।’

‘বিভিন্ন এলাকায় আমরা দেখেছি, সে সময় নাটক হতো, যাত্রা হতো, বাউল গান হতো। কিন্তু আজকে সেই সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। আগে মেলা মানেই বাউল গান ছিল। কিন্তু আজকের মেলাগুলোর মধ্যে বিদেশি কালচার চলে আসছে। আজকে নৃত্য বলতে যা বুঝায় সেগুলো কি নৃত্য? সেগুলো দিয়ে হয়তো আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আজকে বিভিন্ন জায়গায় মেলা মানেই অন্য কিছু। সেই কারণে মেলাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে আমাদের সবার সচেষ্ট হতে হবে, উদ্যোগী হতে হবে, যারা সংস্কৃতিবান মানুষ,’ যোগ করেন তিনি।

নাটক, বাউল গান, মেলা ও যাত্রা করতে হবে জানিয়ে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আরও বলেন, ‘এর জন্য যে পরিবেশ, পরিস্থিতি সেটা কিন্তু আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য সামাজিকভাবে আমরা যদি আন্দোলন করতে পারি তাহলে কিন্তু সেটা সম্ভব।’