মার্চে এলো পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স

দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে। এ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার। একক মাসে এতো পরিমাণ প্রবাসী আয় ইতিহাসে কখনো আসেনি।

বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভালো প্রভাব ফেলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) অনুযায়ী, এর পরিমাণ ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটিই দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৪ শতাংশ। গত বছর মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ২ হাজার ৬২১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি ডলার।

এদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায়, বিভিন্ন আমদানির দায় পরিশোধের পরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দিন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।




বিরোধীদলের ওয়াকআউট সংসদ সংস্কৃতির অংশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদল চাইলে ওয়াকআউট করতে পারে, সংসদের সংস্কৃতিতে এমন সুযোগ রয়েছে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব ও সংবিধান পরিষদ গঠন বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় ওয়াকআউটের কথা জানান। এ সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা ওয়াকআউট করতে চাইলে তা সংসদের প্রচলিত সংস্কৃতির অংশ এবং তাদের সে অধিকার রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, আলোচিত বিষয়ে সরকারের বক্তব্যও সংক্ষেপে রেকর্ডে থাকা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মুলতবি প্রস্তাবটি ডেপুটি স্পিকার গ্রহণ করেছিলেন এবং তখনই তিনি ৬৮ বিধির আওতায় আপত্তি তুলেছিলেন। কারণ, যে বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, তা মুলতবি প্রস্তাবে আলোচনার বিধান নেই।

 

তিনি বলেন, স্পিকারের বিবেচনায় বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আলোচনায় আনা হয়েছে এবং এ নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। তবে সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, এ ধরনের আলোচনার পর ভোটাভুটির কোনো বিধান নেই।

মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন হবে কি হবে না— এ বিষয়ে ভোটাভুটির বিধান রয়েছে। তবে সে সময় ভোটাভুটি হলে প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীতই হতো না। তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকার চাইলে কোনো মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনা করবেন কি করবেন না—এটি তার এখতিয়ার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী বিরোধীদল কখনও কখনও সরকারি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করে, যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নজির অনুসরণে করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাব গৃহীত না হলেও সেটি উত্থাপনের সুযোগটিই বিরোধীদলের একটি অধিকার।

 

তিনি দাবি করেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, একই বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী কোনো বেসরকারি সদস্যও একই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপনের দাবি করতে পারেন, যা স্পিকারের বিবেচনার বিষয়।




বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ শ্রমিকদের আরও দুই ঘণ্টা ওভারটাইমের অনুমতি

কারখানা শ্রমিকদের আরও দুই ঘণ্টা ওভারটাইম করানোর অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

এই অনুমতি চলতি মাসের ১৭ এপ্রিল আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, অর্থাৎ এটি মোট ছয় মাসের জন্য প্রযোজ্য হবে। গত ৩০ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জারি এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

প্রজ্ঞাপনে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের জন্য শ্রম আইনের ১০০, ১০২ ও ১০৫ ধারার প্রয়োগ ছয় মাসের জন্য স্থগিত (ওয়েভ) করা হয়। ফলে তৈরি পোষাক শিল্পের মালিকরা এ ধারার যে বিধিনিষেধ রয়েছে তার বাইরে থাকে।

শ্রম আইনের ১০০ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানে দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করতে বলা বা অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, ১০৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোনো শ্রমিককে একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো যেতে পারে।

অন্যদিকে শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে বলা বা অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে ১০৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যেতে পারে, শর্ত থাকে যে কোনো সপ্তাহে মোট কাজের সময় ৬০ ঘণ্টার বেশি হবে না, এবং বছরে গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টার বেশি হবে না।

আরও উল্লেখ্য, সরকার যদি জনস্বার্থ বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করে, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে লিখিত আদেশের মাধ্যমে কোনো কোনো শিল্পে এই ধারার বিধান শিথিল করতে বা একবারে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য এ ধারার প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।




লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি

লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে দেশে ফিরেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১১৩ জন এবং বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৬২ জনসহ মোট ১৭৫ জনকে প্রত্যাবাসন করা হয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সকলের সাথে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।




বীমা খাতে প্রফেশনালিজম নেই, আছে শুধু অব্যবস্থাপনা ও তদবির : এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের বীমা খাতের নানাবিধ দুর্বলতা তুলে ধরে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বীমা খাতে পেশাদারত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘মোটর বীমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনও বহু লোক তদবির করছেন।’

বীমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বীমা কোম্পানি আছে অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচুয়ারি’ (বীমা গাণনিক) নেই— পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন ইয়ং, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?’

আবদুর রহমান খান অভিযোগ করেন, অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এনবিআর চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না। সুশাসন নিশ্চিত না হলে মানুষ ভাববে, সরকার জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।




পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বাজেটে ডিবিএর একগুচ্ছ প্রস্তাব

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (১ এপ্রিল) সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সাইফুল ইসলাম।

চিঠিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত করনীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়বে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।পণ্যবাজার প্রতিবেদন

ডিবিএর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর কাটার পর আবার আয়কর রিটার্নে কর দিতে হয়, ফলে কার্যকর করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০.৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। এতে স্পন্সর-পরিচালকরা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরাও লভ্যাংশভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এতে কর কাঠামো সহজ হবে এবং দ্বৈত করের বোঝা কমবে বলে মনে করছে তারা।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কর বৈষম্য দূর করার ওপরও জোর দিয়েছে ডিবিএ। বর্তমানে কর রেয়াত সুবিধার জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ সীমা থাকায় খুচরা বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই সীমা তুলে দিয়ে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগকে কর রেয়াতের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীল তহবিল প্রবাহ নিশ্চিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করহার থাকলেও মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে ভিন্ন করহার প্রযোজ্য হওয়ায় বিনিয়োগে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করে সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ও ফান্ড ইউনিটের ক্ষেত্রে একই করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ।

শেয়ার লেনদেনের টার্নওভারের ওপর কাটা উৎসে কর (TDS) বর্তমানে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে গণ্য হওয়ায় লোকসান হলেও ব্রোকারেজ হাউসকে কর দিতে হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে ডিবিএ বলেছে, TDS-কে মিনিমাম ট্যাক্স না ধরে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করা হোক, যাতে প্রকৃত আয় অনুযায়ী কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকে। এতে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর চাপ কমবে।

লোকসানগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টে কর ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। ইন্টারেস্ট ওয়েভার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি এবং বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে সক্রিয় হতে পারবেন বলে মনে করছে ডিবিএ।

পুঁজিবাজারে বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড কোম্পানি’ কাঠামো চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন, টার্নওভার বা ব্যাংক ঋণ থাকা কোম্পানিগুলোকে এই কাঠামোর আওতায় আনা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট শর্তে নীতিগত প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিষ্ক্রিয় তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডিবিএ। যেসব কোম্পানি টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) করেনি বা লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি, তাদের অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমান করহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিবিএ মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও গভীরতা বাড়বে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে আস্থা ফিরবে।




সরকার আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে :  প্রধানমন্ত্রী

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭,৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এর পাইলটিং করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই ৩২৯৫ জন ইমাম, ২৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত, বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষসহ সর্বমোট ৯১০২ (নয় হাজার একশত দুই) জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানী প্রেরণ করা হয়েছে। ই-হেলথ কার্ড প্রদান বিষয়ের পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় খুলনা জেলায় ২৫ লক্ষ ই-হেলথ কার্ড প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২০,০০০ কি.মি. খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ, ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা ও টিআর-এর মাধ্যমে ১৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন বা সংস্কার করবে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।

এ অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে, ৩৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে এবং ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়া ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুন, ২০২৬-এর মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাই-টেক বা সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে Paypal- (পেপাল) এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই Certificate of Eligibility (CoE)-এর ভিত্তিতে এই ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হয়েছে।




বৃক্ষরোপণ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আন্দোলনে রূপ দিতে চায় সরকার

বৃক্ষরোপণ কেবল প্রথাগত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং একে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আন্দোলনে রূপ দিতে চায় সরকার। প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তিকে নিজ নিজ জায়গা থেকে গাছ লাগানোর দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বুধবার (১ এপ্রিল) সরকার ঘোষিত আগামী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ আওতায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সংযোগ সড়কে (জলসিঁড়ি আবাসনসংলগ্ন) এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেবল একটি সূচনা মাত্র। এটি যেন কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং আজ থেকেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দেশের সব সড়ক ও মহাসড়কে বাস্তবভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক পরিহার করে সাশ্রয়ী, অনাড়ম্বর ও কার্যক্রমবান্ধব পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে।’

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, কার্যক্রমবান্ধব বলতে যে এলাকায় যে গাছ ভালো জন্মায়, সেই গাছ নির্বাচন করা, উপযুক্ত মানের চারা ব্যবহার করা এবং রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করাকে বোঝায়। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হোক; বরং আমরা চাই ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ যেন টিকে থাকে এবং পূর্ণতা পায়।’

জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচিকে সফল করতে হলে এটিকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন কিংবা যেকোনো আনন্দঘন মুহূর্তে যদি প্রতিটি পরিবার গাছ লাগায়, তবে দ্রুতই সবুজে ভরে উঠবে দেশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকেও এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এ বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, সংযোগ সড়ক ও নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসমূহের খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা টেকসই বাংলাদেশ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উদ্যোগকে সফল করতে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 




টানা চারবার বাড়ল সোনার দাম

দেশের বাজারে টানা চারবার সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ এপ্রিল) প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি বেড়ে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯শ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যা ছিল দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা।

সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।

বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে চলতি মাসের শুরু থেকে বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এরপর মূল্য সমন্বয় দর ওঠানামা করতে থাকে। বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে ৪ হাজার ৬৭৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।

এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাজুস। এতে করে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে একধাপে সোনার দাম আর কখনোই এতটা বাড়ানো হয়নি।