এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

আগামী এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত) অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে বর্তমান দামই বহাল থাকবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বার্তায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এপ্রিল মাসেও এই দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

এর আগে সকালে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

যুগ্ম সচিব আরও জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে ১৫ থেকে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।

এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।




উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে কর বসাতে চায় এনবিআর

দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সারচার্জের পরিবর্তে ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ (সম্পদ কর) ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ওপর ‘ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স’ (উত্তরাধিকার কর) আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এ পরিকল্পনার কথা জানান।

সকালে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রাক বাজেট আলোচনায় নোয়াবের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান।

স্বাগত বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা আবার ওয়েলথ ট্যাক্স অ্যাক্ট (সম্পদ কর) নিয়ে আসতে পারি কি না, যদি ওয়েলথ ট্যাক্স অ্যাক্টটাকে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে ওয়েলদি পিপলদের (সম্পদশালী ব্যক্তিদের) থেকে আমরা ইনকাম ট্যাক্সের বাইরে আরও কিছু ওয়েলথ ট্যাক্স (সম্পদ কর) পাবো সারচার্জের পরিবর্তে। দ্যাট উইল বি হেল্পফুল।

উত্তরধিকার কর আদায়ের পরিকল্পনা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আরেকটা আইডিয়া এসেছে আমাদের। আমাদের অনেক লাকি চিলড্রেনরা তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে অনেক প্রপার্টি ইনহেরিট (উত্তরাধিকার) করে। বিভিন্ন দেশে ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স আছে। আমরাও কি ইনহেরিটেন্স ট্যাক্সটা (উত্তরাধিকার কর) বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারি কি না। আমরা হয়তো শুরু করবো ধরুন যে অত্যন্ত দামি প্রপার্টি অথবা আমাদের সিটি করপোরেশন এলাকাতে যেসব প্রপার্টি আছে, এগুলো যখন ট্রান্সফার হবে নেক্সট জেনারেশনের কাছে মিউটেশন হবে, তার আগে ওদের এই ইনহেরিটেন্স ট্যাক্সটা বসাতে হবে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে দুর্নীতির পথ বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ওভারঅল যে রেভিনিউ এটা আমরা বাড়াতে পারি। আর লিকেজ বন্ধ করতে হবে। আমাদের এই কাজটা আমরা শুরু করেছি। আমরা যদি সুশাসন এস্টাবলিশ করতে পারি প্রত্যেকটা জায়গায়, আমরা যদি আমাদের যারা সৎ, দক্ষ এবং পরিশ্রমী কর্মকর্তা আছে তাদের যদি নার্সিং করতে পারি, এনকারেজ করতে পারি, তাহলে অটোমেটিক্যালি আমাদের রেভিনিউ লিকেজটা কমবে এবং আমরা রেভিনিউ কালেকশন বাড়াতে পারবো।

ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে এনবিআরের উদ্যোগ তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, কাস্টমস সাইডে আমরা যেটা করতে চাই সেটা হচ্ছে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন। আমরা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো শুধু চালু না, এটাকে কম্পালসরি করে দিয়েছি ও এটা খুব ভালোভাবে ফাংশন হচ্ছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের আরেকটা প্রবলেম ছিল তাদের বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে। গত জানুয়ারি থেকে আমরা এটা কম্পালসরি করে দিয়েছি। বিশেষ করে গার্মেন্টসের যে এক্সেসরিজ এবং যারা ডিভ এক্সপোর্টার তারা যে ইউটিলাইজেশন পারমিট ইস্যু করে সেটা এখন অনলাইনে হয়ে যাচ্ছে এবং টোটাল বন্ড ম্যানেজমেন্টটা আমরা অটোমেটেড করতে পারছি।

 

অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করার কথা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগে অডিট সিলেকশন প্রসিডিউরের মধ্যেই সবচেয়ে বড় ঝামেলাগুলো পাকানো হতো। আমরা ম্যানুয়াল সিলেকশন বন্ধ করে দিয়েছি। ভ্যাটের ক্ষেত্রে ২০টা রিস্ক বেজড অডিট ক্রাইটেরিয়া আমরা সিলেক্ট করেছি। ইনকাম ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ এ শতভাগ অনলাইন রিটার্ন হবে। ফলে ডাটার আর কোনো প্রবলেম থাকবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা গত বছর থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করেছি। আমরা ইনকাম ট্যাক্স, কাস্টমস এবং ভ্যাটের তিনটা আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করেছি। আমরা আশা করছি যে, এই বছরে আমাদের বিগত দিনগুলোর যে কালেকশনের গ্রোথ ছিল সেই গ্রোথগুলোকে আমরা এক্সিড করতে পারবো।




মুসা খান মসজিদ সংস্কারে অনুদান দেবে মার্কিন দূতাবাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অবস্থিত মুঘল আমলের স্থাপত্য মুসা খান মসজিদ সংস্কারের জন্য ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান ঘোষণা করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এই মসজিদ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক সাবিনা আলম।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের আওতায় বাংলাদেশের ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিচ্ছে আমেরিকা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটি ৩৬ মাসে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় মসজিদটিতে আধুনিক ও উপযোগী সংরক্ষণপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরুদ্ধার কাজ করা হবে। একইসঙ্গে মূল মুঘল স্থাপত্যরীতি ও নির্মাণসামগ্রীর স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিস্তারিত স্থাপত্য নথি প্রস্তুত, ফটোরিয়ালিস্টিক থ্রিডি মডেল তৈরি, হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (এইচআইএ), দর্শনার্থীসুবিধা উন্নয়ন এবং আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মসজিদ সংরক্ষণ উদ্যোগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই প্রকল্প একদিকে যেমন একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, তেমনি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি শুধুমাত্র একটি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি জ্ঞান ও প্রেরণার একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে।

ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস জানায়, আজ রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মুঘল যুগের মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন-এর একটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে, যুক্তরাষ্ট্র মসজিদটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করবে এবং একটি স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তুলবে।

এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে গত ২৫ বছরের সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী করবে।




জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ক্যাবের ১৩ দাবি

জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যুব সংসদ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে গোলটেবিল আলোচনায় এই ১৩ দফা দাবি উত্তাপন করা হয়।ক্যাবের ১৩ দফা দাবি

• বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত থেকে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ কস্ট প্লাস নয়, কস্ট ভিত্তিক নিশ্চিত করা।

• জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি গড়ে বর্তমান সরকারের ৫ বছর মেয়াদে কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমানো নিশ্চিত করা।

• সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধি দ্বারা ওই ৫ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং ছোট শিল্প হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া।

• এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ৫ বছরের জন্য রহিত করা এবং কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা।

• গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গণশুনানির ভিত্তিতে স্থলভাগের শতভাগ গ্যাস বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা।

• গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত মজুত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিশ্চিত করা।

• আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করানো এবং আদানির বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা।

• ‘স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪’ এর অন্তর্ভুক্ত ২(ক) এবং ২(খ) অনুচ্ছেদ বাতিলের জন্য ক্যাবের দায়েরকৃত রিট দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি রিভিউক্রমে লাইসেন্স বাতিলসহ সব ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা।

• ওই সব চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে আদায় নিশ্চিত করা।

• জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা।

• (ক) লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো এবং (খ) এলপিজির বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আমদানিকারকদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স প্রদান করা, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টারমিনাল ও ওয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০ শতাংশ আমদানি ও স্টোরেজ ক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

• বিইআরসির জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসির বিরুদ্ধে আনিত ক্যাবের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা, ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সেই সঙ্গে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি, ২০২৪ এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা।

• আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত রাখা।




সোনার দাম ফের বাড়ল

দেশের বাজারে ফের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বেড়েছে দাম। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি বেড়ে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় উঠেছে। গতকাল (সোমবার) ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি ছিল দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।

বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার দামের সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে চলতি মাসের শুরু থেকে বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এরপর মূল্য সমন্বয় দর ওঠানামা করতে থাকে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ৫৬১ ডলার উঠেছে।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।

এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ড পরিমাণ বাড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায় বাজুস। এতে করে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একসঙ্গে সোনার দাম আর কখনোই এতটা বাড়ানো হয়নি।




জানুয়ারিতে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কমেছে

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ সময়ে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৬৩ কোটি টাকা, যা আগের মাস ডিসেম্বরের তুলনায় কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘অ্যান ওভারভিউ অব কার্ড ইউজেজ প্যাটার্নস উইদিন অ্যান্ড আউটসাইড বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ব্যয় ছিল ৪৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

দেশভিত্তিক ব্যয়ের তালিকায় জানুয়ারিতে শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ড। ওই দেশে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় করেছেন ৬৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ডে এই ব্যয় ছিল ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

ব্যয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে জানুয়ারিতে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয় হয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে দেশটিতে এই ব্যয় ছিল ৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। জানুয়ারিতে দেশটিতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা ডিসেম্বরের ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার তুলনায় কম।

এদিকে, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয় সামান্য বেড়ে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে ভারতে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিসেম্বর মাসে ভারতে ক্রেডিট কার্ড ব্যয় ছিল ৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা জানুয়ারিতে কমে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের শীর্ষ গন্তব্য ছিল ভারত। তবে ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে ভারতে যাতায়াত কমে যাওয়ায় এখন অন্যান্য দেশে ব্যয় বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বিদেশে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জানুয়ারিতে বিদেশে ডেবিট কার্ড ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, চীনে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভারতে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বাংলাদেশিরা।