আগের সরকারের ১৩০০ প্রকল্প পর্যালোচনা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অপচয় ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আগের সরকারের নেওয়া এক হাজার ৩০০ প্রকল্প রিভিউ (পর্যালোচনা) করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি জানান, এসব প্রকল্পের মধ্যে ৫০০টিরও বেশি এখনো ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আর নতুন সরকার যে প্রকল্পগুলো নিচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়ার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক হাজার ৩০০ প্রকল্প রিভিউ করছি। অনেকগুলো প্রকল্পের মধ্যে এখানে অপচয়, দুর্নীতির ইস্যু রয়েছে। এ জন্য এক হাজার ৩০০ প্রকল্প রিভিউয়ের আওতায় আছে। আমি যেটা বললাম এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রকল্প এখনো ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়নি। সুতরাং এটা আমরা যেটা রেকর্ড আমি সেখান থেকে করলাম। আর যেহেতু এটা বিগতদিনের সরকারগুলোর প্রকল্প এগুলো নিয়ে আমার এর বেশি বলার কোনো সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, আমরা যে প্রকল্পগুলো এখন গ্রহণ করছি সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। গ্রামীণ মানুষের জীবনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। যদি গ্রামের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হয় গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যদি উন্নয়ন করতে হয়, তাহলে আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি হবে গ্রামীণ অবকাঠামগুলো উন্নয়ন। এ জন্য আমি আশা করি আগামী দিনে আপনাদেরকে আরো বেশি ভালো খবর, সুখবর এই সরকারের পক্ষ থেকে দিতে পারবো।




‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে অন্তত ৮ বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন’

গত সাত থেকে আট বছরে একটি লাভজনক ব্যাংককে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হকের (অব.) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানা থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব থেকেছে। অথচ এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যাংকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি।

মাহমুদুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সই করিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। জীবননাশের ভয়ে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের আশা ছিল অতীতের লুটপাট বন্ধ করে ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অসহযোগিতার কারণে তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও ব্যাংকটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে তারা ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন। একদিনে এত বড় দায় পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তার দাবি, আইডিবিসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো ছাড়াই পর্যাপ্ত সময় পেলে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে তারা আশা করছেন।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হক (অব.) বলেন, গত দেড় বছরে যারা স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডে ব্যাংকটি আরও সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে শেয়ার শূন্যে নামিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এস আলম গ্রুপের দুর্নীতির দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংককে মার্জার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলে তারা ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না।

 

এ সময় তিনি ব্যাংক রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২৫ পাস না করারও আহ্বান জানান। তার দাবি, নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যাংকের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং লুটপাটের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাই তারা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের হাজার হাজার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তাদের ব্যবসা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অনেকেই শ্রেণিকৃত হয়ে পড়ায় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিতে পারছেন না এবং ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।




১০ মাস ধরে বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর, আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত

নিরাপত্তা শঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। যার ফলে দুই দেশের মধ্যকার আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, এই রুটে বেড়েছে চোরাচালান। এমন অবস্থায় স্থলবন্দরটি পুরোদমে চালু করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) উদ্যোগ নিতে বলেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।

কমিশনারেট থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া এক চিঠিতে এভাবে সংকটের চিত্র তুলে ধরে বন্দরটি দ্রুত সচল করতে ৬টি সুপারিশ করেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পরিচালিত এই বন্দর দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামের অধীনে জারি করা বিভিন্ন আদেশ অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে এখানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান ছিল।

বর্তমান আমদানি নীতি আদেশ (২০২১-২০২৪) অনুযায়ী, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এলসি ছাড়াই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চাল, ডাল, ভুট্টা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হতো। তবে মিয়ানমার অংশে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বন্দরনির্ভর শ্রমজীবী মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন। একই সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সীমান্তে চোরাচালান বেড়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও পরের বছর তা কমে ৪০৪ কোটিতে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাণিজ্য স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আরও কমে প্রায় ১১০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ৬.৫ লাখ মার্কিন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২.২৫ লাখ মার্কিন ডলার ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ১০ লাখ মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করেছে।

চিঠিতে বলা হয়, আমদানিকারকরা এই বন্দর থেকে একক চালানে অনধিক ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে একক চালানে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যে পণ্য আমদানি করে থাকে।

নিবন্ধিত আমদানি-রপ্তানিকারকরা তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তির অধীনে ব্যাংক ড্রাফট (বৈধ ব্যাংক ট্রানজেকশন) পদ্ধতিতে আমদানি-রপ্তানি আদেশ মোতাবেক পণ্য আমদানি করেন। এছাড়া প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করে থাকেন।

চিঠিতে বলা হয়, এক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশ অংশে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু মিয়ানমার অংশে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে বিধায় নিরাপত্তার স্বার্থে আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে রাজস্ব বিভাগ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বন্দর কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারের অংশের সমস্যা চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জনিত সমস্যা নিরসন করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে।

বৈধপথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী লক্ষাধিক জনগণ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনৈতিকভাবে চোরাচালানে জড়িয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে মিয়ানমারে পণ্য সরবরাহের উপস্থিতিতে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার দরুন রাজস্ব ক্ষতি দিন দিন বেড়েই চলছে। কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও সমন্বিত টাস্কফোর্সের মাধ্যম চোরাচালান নিরোধের পাশাপাশি নিরাপত্তার নিশ্চিত করণের মধ্যদিয়ে ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান রাখা যেতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছয়টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করা, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং অনুমোদিত পণ্যের তালিকা হালনাগাদ করা। এছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে বন্দর চালু করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাথমিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা প্রচার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করে চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বন্দরের অনেক অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো সংস্কার করা জরুরি। অতি দ্রুত বিগত বছরগুলোতে ইস্যু করা ব্যাংক ড্রাফটের বিপরীতে মিয়ানমারে আটকে থাকা পণ্যগুলো নিরাপদে দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা দরকার।




দুই প্রতিষ্ঠানের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন

সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের মোট ১ হাজার ৪৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সিকিউরড জিরো কুপন বন্ড এবং সাজিদা ফাউন্ডেশন দেশের প্রথম ‘অরেঞ্জ বন্ড’ হিসেবে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড ইস্যু করার অনুমতি পেয়েছে। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় পরিশোধ এবং নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিসহ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে ১০০৬তম জরুরি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে এই সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে।

বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানন হয়েছে, কমিশন অদ্যকার সভায় সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের ০৩ বছর মেয়াদী শতভাগ সিকিউরড মর্টগেজ ব্যাকড নন কনভার্টিবল ফুললি রিডিমেবল জিরো কুপন বন্ডের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার ডিসকাউন্ট রেট প্রায় ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি, স্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানির কাছে ইস্যু করা হবে। এই বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১৩ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, বন্ড ইস্যুর অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান দায় পরিশোধে ব্যবহৃত হবে। উক্ত বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। এছাড়া বন্ডটি অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

একই সভায় কমিশন বাংলাদেশের প্রথম অরেঞ্জ বন্ড হিসেবে সাজিদা ফাউন্ডেশনের ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদী নন কনভার্টিবল ফুললি রিডিমেবল আনসিকিউরড অরেঞ্জ জিরো কুপন বন্ডের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার ডিসকাউন্ট রেট ৭ দশমিক ০ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বন্ড প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা।

উল্লেখ্য, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ সাজিদা ফাউন্ডেশন তাদের মাইক্রোফাইন্যান্স পোর্টফোলিও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণে ব্যবহার করবে। অরেঞ্জ বন্ডের অর্থ বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়নে ব্যবহৃত হবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ সেকেন্ড পার্টি মতামত প্রদান করেছে। উক্ত বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। বন্ডটি অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

 




৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

আজ (সোমবার) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।

 

তারেক রহমান বলেন, যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তিনি যাতে তার পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।




এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাবে হামের টিকা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে হামের টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতেও নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের মাধ্যমে কাজ চলছে। একইসঙ্গে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থাকলেও ২০১৮ সালের পর আর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি।

বিভিন্ন টিকা নেওয়ার জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে।

সচেতন হওয়ার জন্য কোন বার্তা দিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

কবে থেকে টিকা কার্যক্রম চালু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের টিকা আসবে। আসার সাথে সাথে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমাদের জনগণকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই আমাদের সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এই মিজলসের আক্রমণের ভিতরে আমরা যে রেপিডলি ভেন্টিলেটর এবং আইসি ইউনিট এবং ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি অতীতে কোনদিন হয়নি।

এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের এই টিকার যে পেমেন্টটা এটা কিন্তু আমরা ইউনিসেফকে পেমেন্ট করে ফেলেছি, টাকাটা ইউনিসেফের কাছে আছে। এখন পারচেস কমিটির অনুমোদন পেয়ে গেলে আমরা তাদের শুধু অর্ডার দেব এবং আমাদের চলে আসবে ইনশাল্লাহ। আশা করছি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা টিকা নিতে থাকব। টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এ সময় জানানো হয়েছে।