ঈদে ৩৪ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ ও ঈদের কেনাকাটা মেটাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটু বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে মার্চ মাসজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব তৈরি হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে এসেছে ২৮৩ কোটি (২.৮৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) ধরে যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে দেশে পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি খরচের চাপ থাকে। এ সময় প্রবাসীরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অর্থ পাঠান। এর প্রভাবই এখন রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রতিফলিত হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলমান এই ধারা অব্যাহত থাকলে মার্চ শেষে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০২ কোটি (৩.০২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।

এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ডলার।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

এক বছর আগে, অর্থাৎ গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।




কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে জাদুঘর নির্মাণ করা হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রকে সংরক্ষণ ও সেখানে জাদুঘর নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাঁথা তুলে ধরতে উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস—১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর দেশে যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে।

নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা নিয়েছে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়ার স্মৃতি জাদুঘর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়টি বিবেচনাধীন। এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড যেমন জাতির জন্য বেদনাদায়ক অধ্যায়, তেমনই মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই ঐতিহাসিক দিক যথাযথভাবে উপস্থাপন ও সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।




শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ চট্টগ্রামে

বাংলাদেশে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ রেজকি এবং সোভারচেনি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এসব জাহাজ বন্দরে ভিড়লে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

জাহাজগুলোর আগমনের সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক, কর্মকর্তা ও নাবিকদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত, মিলিটারি, এয়ার ও নেভাল অ্যাটাশে এবং নৌবাহিনীর স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জাহাজ দুটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা ওমর ফারুক তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায়।

 

সফরকালে রাশিয়ান জাহাজগুলোর অধিনায়ক এবং রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, ডকইয়ার্ডের এরিয়া সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এছাড়া সফরসূচির অংশ হিসেবে রাশিয়ান নাবিকরা বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে অবস্থিত রাশিয়ান নাবিক ইউভি রেডকিনের সমাধিস্থল রেডকিন পয়েন্টে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তারা নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ও জাহাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন। একই সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকরাও রাশিয়ান জাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, চার দিনের সফর শেষে রাশিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ দুটি আগামী ২৭ মার্চ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।




জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশে একমত সংসদীয় বিশেষ কমিটি:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে জারি করা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে সুপারিশের বিষয়ে একমত হয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইবাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার যে অধ্যাদেশ রয়েছে, তার সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি পূর্ণ একমত পোষণ করেছে। এই বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।’




জ্বালানি আমদানির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলাপ চলছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিং, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।”

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আইএমএফ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে এক দশমিক তিন বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলে বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। ধারণা করছি, জুলাইয়ে ঋণের কিস্তি পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “চলমান প্রোগ্রাম পুনর্মূল্যায়ন হবে। তবে, সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অনুযায়ী শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে সরকার একা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। দেশবাসীকে সংযমী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। দেশের পরিবহন ও গার্মেন্টস খাতে কোনও সমস্যা হয়নি। তেলের অভাবে কোনও পরিবহন বন্ধ হয়নি।”

বৈঠকের পর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, “ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে।”

 




কুয়াকাটা সৈকতে উল্লাসে মেতেছেন হাজারো পর্যটক

সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ছুটির আমেজ আর অনুকূল আবহাওয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো পর্যটক সৈকতে নেমে গোসল, খেলাধুলা ও উল্লাসে মেতে উঠেছেন। এ ছাড়া, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান ও গঙ্গামতিসহ সব দশর্নীয় স্থানে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। পর্যটকদের ভীড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বুকিং রয়েছে শতভাগ হোটেল-মোটেল। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সূর্যোদয় দেখতে ভোর থেকেই সৈকতে জড়ো হন পর্যটকরা। এরপর সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের নীল জলে নেমে পড়েন নানা বয়সী দর্শনার্থীরা। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে লাফালাফি করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বালুচরে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং লাইফগার্ড কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও কাজ করছেন পর্যটকদের নিরাপত্তায়।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, কুয়াকাটার মতো জায়গা খুব কমই আছে যেখানে একইসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। সমুদ্রে গোসল করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। পরিবার নিয়ে সময়টা খুব উপভোগ করছি। এখানকার পরিবেশ অনেক শান্ত। বাচ্চারা নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারছে। তাই বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে।

পর্যটকদের আগমনে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন দোকানপাটে বেড়েছে বেচাকেনা। কুয়াকাটার এক হোটেল ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন পর্যটক অনেক বেশি। আমাদের প্রায় সব রুমই বুকড। এতে ব্যবসা ভালো হচ্ছে।

কুয়াকাটার চুলা রেস্তোরাঁর রাকিবুল ইসলাম বলেন, সামুদ্রিক মাছ ও স্থানীয় খাবারের চাহিদা বেড়েছে। পর্যটকদের ভিড়ে আমাদের কর্মব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কুয়াকাটার রেস্টুরেন্ট মালিকরা চেষ্টা করছেন পর্যটকদের সুস্বাদু এবং ভালো খাবার পরিবেশন করার।

হোটেল ডিমোরর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ রুম আগে বুকিং হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সামনে পুরো সপ্তাহজুড়ে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছি। পর্যটক বাড়লে আমাদের ব্যবসা আরও ভালো হবে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আয়-রোজগারও বাড়ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আমরা সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত করেছি। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।




আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ মার্চ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। হাতে আছে আর মাত্র সাত দিন। এর মধ্যেই করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এবার বেশিরভাগ করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই সহজে ই-রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনেও এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন সিস্টেম চালু থাকছে।

সাধারণত প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকে ৩০ নভেম্বর। তবে এবার তিন দফায় এক মাস করে সময় বাড়িয়ে শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়েছেন।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন

ই-রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনও কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই হয়। একই সঙ্গে অনলাইনেই কর পরিশোধ করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

শেষ সময়ে তাড়াহুড়া নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করদাতাকে জরিমানাসহ আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রিটার্ন দেওয়ার আগে করণীয়

রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে— আগে থেকেই আয়–ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা, জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।

কর প্রশাসন বলছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধাও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন।