সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ৮টায়

দেশের আকাশে হিজরি শাবান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক মো. এমাদুল হক এ তথ্য জানিয়েছে।

ঈদের জামাতে সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। এ বছর নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে জামাতে শরিক হওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জামাতে অংশগ্রহণকারী সব মুসল্লিকে অজুসহ নামাজের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে জায়নামাজ, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনে ছাতা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাগ বা বস্তু সঙ্গে না আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।




বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি এ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রকৌশলীদের কাজে লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহানগর (ঢাকা) নিয়ে খুবই সিরিয়াস। তিনি সব সময় ওনার নলেজে রাখতে চান যে আমরা কী কাজ করছি, কোথায় কী কাজ বাকি আছে এবং কোথায় কী কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে আমাদের দুইজনকে মহানগরের দায়িত্ব দেওয়ার পর আগে যে শহরের অবস্থা ছিল, তার চেয়ে কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে, বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত কর্মীদের বোনাস পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দিনরাত যারা কাজ করে, প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য ঈদের উপহার দিয়েছেন, বোনাস দিয়েছেন। সেটা আমরা আজকে দিয়েছি। কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছে, ধন্যবাদটা আমরা ওনাকে পৌঁছে দিয়েছি।’

তবে প্রধানমন্ত্রী এই অগ্রগতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, এতে আমি খুশি না, যতটুকু হয়েছে আরও আরও কাজ করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-নর্দমা যা আছে এগুলোকে কীভাবে আরও আধুনিকীকরণ করা যায়, এ সমস্ত বিষয়ে উনি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ এ সমস্ত বিষয়ে আরও কাজ হবে।’

দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান, বিদেশ থেকে আমরা কেন আমদানিনির্ভর হবো? আমাদের এখানে লোকাল যারা স্টুডেন্ট আছে, ইঞ্জিনিয়াররা আছে, মহানগরকে ক্লিন করার জন্য যে সমস্ত ভেহিক্যালস (যানবাহন) বা ডাম্পিং ট্রাক দরকার, সেগুলোর ব্যাপারে উনারা কতটুকু সাহায্য করতে পারবে, লোকালি বানিয়ে দিতে পারবে কি না– এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই সিরিয়াস। আমরা আমদানিনির্ভর না হয়ে আমাদের দেশের ওপর নির্ভর হতে চাই, এটাই ওনার ইচ্ছা। উনি চান লোকাল স্পেয়ার পার্টস বা লোকাল ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করুক।’

ঈদকেন্দ্রিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঈদকেন্দ্রিক নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন। এটা নিয়ে আমরা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রেরা সাথে সাথে দুই-তিনটা মিটিং করে ফেলেছি। ঈদের সময় যারা শহর ছেড়ে যাবে, তারা যাতে নির্বিঘ্নে যেতে পারে, সে জন্য বিভিন্ন বাস টার্মিনালগুলো যেখানে আছে, সেখানকার রাস্তাঘাটগুলো কিছুটা সংস্কার করে দিয়েছি।’

তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহেই তাদের কাছে জানতে চান এবং সেই ধারাবাহিকতায় আজ তাদের এখানে আসা।

মশার উপদ্রবে সৃষ্ট অস্বস্তিকর পরিবেশ এবং এ বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মশা নিয়ে কাজ করতে গেলে একটু সময় লাগে। আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে তা সবাই বলছে। আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অলরেডি উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কি না, এটি তদারকির জন্য একটা কমিটি করে দিয়েছি। আমাদের যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে, তা দিয়ে কাজ করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই লোকাল ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে কাজ করার জন্য আমরা সহযোগিতা করছি।’

মশা নিধনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মশা শুধু ওষুধ দিয়ে নিধন করা যায় না। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফলে যে সমস্ত খাল, নর্দমা এবং ড্রেন রয়েছে– ওষুধের পাশাপাশি সেগুলো পরিষ্কার করার ক্রাশ প্রোগ্রাম আমরা হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো খাল ও নর্দমা পরিষ্কার করেছি এবং এটা অব্যাহতভাবে চলমান থাকবে। অনেক জায়গায় খালগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে গেছে, সেটা খনন করার ব্যবস্থা করেছি। পরিকল্পনামতো দ্রুতই আগামী বর্ষার আগেই যাতে আমরা মোটামুটিভাবে শতভাগ না হলেও তার কাছাকাছি যেতে পারি। ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব, এটা আমাদের করতেই হবে।’

নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান সাংবাদিকদের জানান, বর্জ্য অপসারণে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বুয়েট উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার বাস্তবায়ন এবং দেশেই প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি উন্নয়নের বিষয়েও কাজ চলছে। তবে এখনো এর কোনো সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি।




সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠনকে মোট ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ চলতি মাসে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্যানুসারে, বিএসইসির একটি পরিদর্শন দল ইনডেক্স এগ্রোর চারটি কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির জমা দেয়া নথি ও রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকার একটি সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়েছে। যেখানে ইনডেক্স এগ্রোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) উভয়েই ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এ ধরনের লেনদেন প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, আলোচ্য হিসাব বছরে ইনডেক্স এগ্রোর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়নি। কিন্তু পরিদর্শনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া নির্মাণ ও সিভিল ওয়ার্ক-সংক্রান্ত কিছু কাজের আদেশ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। যেসব কাজের আদেশ ইনডেক্স এগ্রোর অনুমোদিত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে হওয়ার কথা ছিল, তার কিছুতে ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির এমডি মাহিন বিন মাজহারকে ৫ লাখ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল আহমেদকে ১ লাখ ও সেক্রেটারি আবু জাফর আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন।

অন্যদিকে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির একটি চিঠির পর ব্রোকারেজ হাউজ প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডের অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। চিঠিতে রবি আজিয়াটার এক লাখ শেয়ারের ক্ষেত্রে ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী হিসাব এবং ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাক-অফিস সিস্টেমের মধ্যে গরমিলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের মাধ্যমে আভা দত্ত নামে এক বিনিয়োগকারীর জন্য ওই শেয়ার কেনা হয়। পরে শেয়ারগুলো আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীর অধীনে একটি বিও হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) রেকর্ড পর্যালোচনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মনিটরিং টিম দেখতে পায়, প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের অধীনে আভা দত্তর নামে বিও হিসাব খোলা হয় ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ, যা শেয়ার কেনার প্রায় দুই মাস পরে। এটিও সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল ইসলামকে ৫ লাখ এবং সাবেক কমপ্লায়েন্স অফিসার এওয়াই জোবায়েরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়ে।

এছাড়া সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় নাভানা সিএনজি লিমিটেড ও কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, তিন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুই স্বতন্ত্র পরিচালক, কোম্পানি সেক্রেটারি ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে সতর্ক করে বিএসইসি। তবে তাদের কোনো জরিমানা করা হয়নি।




পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী পয়লা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী দিনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।

টাঙ্গাইল ছাড়া অন্য উপজেলাগুলো হল- পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ি।

বৈঠক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরো স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ব্যাংক-এমএফএস কোম্পানিতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে এই ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা দেয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে এসব প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠন করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা ইউনিটটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

ইউনিট প্রধান ছাড়াও ব্যাংকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা এবং এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুজন কর্মকর্তাকে এই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে উপমহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন।

 

সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিটকে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), অনলাইন ও কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণ, দেশব্যাপী বাংলা কিউআর চ্যানেলে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং জোরদার করা এবং শাখা পর্যায়ে গ্রাহক নিবন্ধন কার্যক্রম তদারকি করা।

এছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজও এই ইউনিটের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে সাপ্লাই চেইনভিত্তিক পেমেন্ট মডেল উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি বছর একটি স্বতন্ত্র প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন
Jagonews24 Google News Channel

আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে ইউনিটসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।




উত্তরখানে ঈদগাহ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর উত্তরখানবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত হলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ঈদগাহ ও খেলার মাঠ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান উত্তরখান মধ্যপাড়া এলাকায় এই নবনির্মিত স্থাপনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

প্রায় ২৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মাঠে একসঙ্গে সহস্রাধিক মানুষের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় শিশুদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ঈদগাহটি ঈদের নামাজের পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীরা এই মাঠ নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবে।’

এ সময় নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডিএনসিসির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু মশার ওষুধ দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখলে এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের উদ্যোগে অঞ্চল-৮-এর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এতে ব্যয় হয়েছে ২৭৯.৪২ লাখ টাকা।

প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের এই মাঠে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া এখানে জানাজার নামাজ আদায়েরও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাঠটিতে ১৫০ মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ৫ ফুট চওড়া ও ১৫০ মিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) এবং ১.৭ মিটার উচ্চতার নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।

সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ডিএনসিসি জানায়, ঈদগাহে পুরুষ, মহিলা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও অজুখানা রয়েছে। মাঠটি সবুজ ঘাস ও গাছে আচ্ছাদিত।

শিশুদের খেলাধুলার জন্য ফুটবলসহ বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি মাঠে পানি সরবরাহের জন্য পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য রয়েছে দুটি বড় গেট ও একটি পকেট গেট। এ ছাড়া হাঁটার পথের পাশে দর্শনার্থীদের বসার জন্য ১২টি আসন ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ৬টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।




মঙ্গলবারেও বাতিল মধ্যপ্রাচ্যের ২৬ ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

এরপর বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মোট ২৮ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি, ১১ মার্চ ২৭ টি, ১২ মার্চ ২৮ টি, ১৩ মার্চ ২৫ টি, ১৪ মার্চ ২৪ টি, ১৫ মার্চ ২৩ টি, ১৬ মার্চ ২৮ টি এবং কাল ১৭ মার্চ) ২৬ টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

মঙ্গল্পবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৬টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ২টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি। এছাড়া সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিলকৃত ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৭ টি।