ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাউবির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ঢাবি উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানান, ওই দিন সকালে উপাচার্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ড. নিয়াজ আহমদ খান। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে নির্বাচনের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিয়াজ আহমদ খান বলেন, আপৎকালীন পরিস্থিতি অনেকটাই দূর হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দায়িত্ব পালনের এই পর্যায়ে এসে তিনি মনে করছেন, এখন সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

তবে তিনি তখন আরও বলেন, যেন কোনো ধরনের শূন্যতা তৈরি না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সরকারের প্রয়োজন হলে তিনি আরও কিছু সময় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিনি সরে দাঁড়াতে চান যাতে রাজনৈতিক সরকার তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসন সাজিয়ে নিতে পারে। প্রয়োজনে তিনি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন বলেও উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি তিনি সরকারকে অনুরোধ জানান, যেন দ্রুত তাকে ডেপুটেশন থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ বিভাগে শিক্ষকতার কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।




প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবলম্বন করা হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে আসছেন এবং প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবলম্বন করা হবে। আপনারা দেখছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ সকল নাগরিকের সমান সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পৌনে ২টার দিকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এরআগে কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের মুড়াইল গ্রাম এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি মুরালী-ভাবকি খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সাথে তিনি ওই এলাকায় একটি নারিকেল গাছ রোপণ করেন।

তিনি বলেন, এখানে কোনো ধরনের অপচয় বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। শুধু এখানেই নয়, কোনো ক্ষেত্রেই দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। সরকার এই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে, আইনের শাসন নিয়ে আসবে এবং মানুষকে মানুষের যে মানবিক মূল্যবোধ সেটি থাকবে। সাংবাদিকবৃন্দদের অনুরোধ করব, আপনারা যেকোনো অনিয়মের তথ্য আমাদের দিন। আমরা প্রতিটি তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মো. আব্দুল বারী বলেন, আজ সারা দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সকলে জানি, এই খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। উনার সেই দীর্ঘ ভিশনের অংশ হিসেবে আজ দেশের নদী ও খাল সচল থাকত, তাহলে আমাদের জলাবদ্ধতা এবং খরার সময় পানির সংকটের সমাধান হতো। সেই দূরদৃষ্টি থেকেই তিনি এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই কর্মসূচি চালু রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর থেকেই উনার ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী মানুষের কল্যাণের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। এই রমজান মাসেও তিনি দীর্ঘ সময় অফিস করছেন এবং প্রতিটি কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা দেখেছেন, ভোট হয়ে গেছে, ভোটের কালির দাগ এখনও আমাদের আঙুল থেকে মুছে যায়নি, এর মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষি কার্ডের কার্যক্রমও চলছে, যা আগামী মাসেই পাইলট পর্যায়ে চলে যাবে।

মো. আব্দুল বারী বলেন, একইসাথে খাল, নদী-নালা ও জলাধার খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও আজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা কালাই উপজেলার ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুরাইল খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলাম। জয়পুরহাট জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির অধীনে যতগুলো খাল আছে, সবগুলোই পুনঃখননের আওতায় আনা হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এই কাজ করা সম্ভব হবে। এটি সম্ভব হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, খরা মৌসুমে মানুষ পানি পাবে এবং মাছের চাষ করাও সম্ভব হবে। এটি একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি, এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের লক্ষ-কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতিবৃষ্টির ফলে আমাদের এলাকায় আলুর জমিতে যে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে, তার মূল কারণ পানি প্রবাহিত না হওয়া। এই খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এমন সংকট থাকবে না। এখানে উপস্থিত স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে আমাদের সাধারণ জনগণ, কৃষক ভাই, আমাদের মা-বোন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মিলে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করব এবং সাফল্যমণ্ডিত করব।

খান পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের সময় জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আল-মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার (এসপি) মিনা মাহমুদা, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আরা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ ওহাব, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এটিএম শাহনেওয়াজ কবির শুভ্রসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




লাইলাতুল কদর ব্যক্তি ও রাষ্ট্রজীবনে কল্যাণ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

রবিবার (১৫ মার্চ) পবিত্র লাইলাতুলকদর উপলক্ষে বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কোরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলীর জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।

তিনি এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।