ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ে চাঙাভাব

চলছে পবিত্র রমজান মাস। আসছে খুশির ঈদ। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র ক‌রে বাড়‌ছে বিভিন্ন কেনাকাটা। তাই পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি কেনাকাটা ও খরচ মেটাতে দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে ২ কো‌টি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) ধ‌রে এই অঙ্ক ২৭ হাজার ১২১ কোটি টাকার বেশি। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গেল ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে দুই হাজার রেমিট্যান্স এসেছে ৬৫৮ কোটি মার্কিন ডলার; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ১১ কোটি মার্কিন ডলার।




ডেসকোর ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিকে ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ক্রেডিট রেটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ক্রেডিট রেটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এ-’। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-৩’।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত পাশাপাশি গুণগত তথ্য অনুযায়ী এই রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৬ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৪টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, সরকারের হাতে ৬৭.৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৩.৪৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৮.৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ক্রেডিট রেটিং হলো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি, যা বিশেষ এজেন্সি দ্বারা নির্ধারণ করা হযয়ে থাকে। এটি মূলত ‘এএএ’ (সর্বোচ্চ নিরাপত্তা) থেকে ‘ডি’ (খেলাপি) পর্যন্ত স্কেলে রেটিং প্রদান করা হয়। ভালো রেটিংয়ের মাধ্যমে সহজে ও কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়।




ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে হরমুজ প্রণালি থেকে ফিরে গেল বাংলাদেশি জাহাজ

বাংলাদেশে ফিরতে যাত্রা করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে ফের পারস্য উপসাগরে আগের অবস্থানে ফিরে গেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়েছিল জাহাজটি।

গত বৃহস্পতিবার জাহাজটি বাংলাদেশে আসার জন্য হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গত ১১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতে জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ করে যুদ্ধের কারণে আটকা পড়ে। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

বৈশ্বিক জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিএসসির মালিকানাধীন জাহাজটি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারস্য উপসাগরের শারজা উপকূলের বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা শুরু করে।

এরমধ্যে গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ করে বাংলার জয়যাত্রা। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্যবোঝাই করার সূচি ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে জাহাজটি নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। এজন্য জাহাজটি হরমুজ প্রণালি হয়ে বাংলাদেশের দিকে যাত্রা শুরু করে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছায়। এ সময় প্রণালি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পান জাহাজের নাবিকরা। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডও নিরাপত্তার কারণে প্রণালি অতিক্রম না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর জাহাজটি ফিরে যায়।

এর আগে জাহাজটি যেন নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর উদ্যোগ নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএসসি।

এ বিষয়ে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় নোঙর করে। এটি এখনো হরমুজ অঞ্চলের মধ্যেই আছে। তাই পরবর্তী ট্রিপে কাতার থেকে নতুন করে পণ্যবোঝাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়লো

কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক দফা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার (১৫ মার্চ) এক আদেশে কোম্পানির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় ১৫ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল করা হয়েছে।

করনীতির দ্বিতীয় সচিব একরামুল হকের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন, ২০২৩ এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি করদাতাদের ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ানো হলো।

কোম্পানি করদাতারদের রিটার্ন জমার সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। তবে পরে তা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সম্প্রতি কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়াতে এনবিআরে চিঠি পাঠায় ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন। এরপর আরও এক দফায় সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলো।

এর আগে ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতার জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে এনবিআর।




ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার সিদ্ধান্ত স্থগিত

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পা‌নি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমক্যাশ লিমিটেডে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ যথাযথ আলোচনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র সম্পন্ন করার জন্য এমক্যাশ লিমিটেডে কৌশলগত ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসির অন্তর্ভুক্তি করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার হয়েছে। গত ১২ মার্চ দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৩৯৬তম সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায়, এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছিল। সে সময় জানানো হয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ পর্ষদ সভায় বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া না পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকের হাতে ০.১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৫.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭.৯১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬.৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।