বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরির তদন্তে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরির তদন্তে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

আজ (মঙ্গলবার) ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলে তাকে এ আহবান জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী ফিলিপাইন সরকারের প্রতি বাংলাদেশের তরুণ নাগরিকদের ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়ায় সমাধান নিশ্চিত করার জন্যও অনুরোধ জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ফিলিপাইন-সম্পর্কিত আইনগত ও বিচারিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারকে ফিলিপাইন সরকারের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বৈঠকে দুই পক্ষ শান্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযান ও দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

উভয় পক্ষ শ্রম সহযোগিতা, জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফিলিপাইনের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজের বিষয়েও আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব ও নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ফিলিপাইনে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ার গিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং খাতে দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উভয় পক্ষ বাতিল বা প্রক্রিয়াধীন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যেমন বিমানসেবা, দুর্নীতি বিরোধী সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সমঝোতা স্মারকের অবস্থা পর্যালোচনা করে এগুলো চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য শক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ফিলিপাইনের বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন।

উদীয়মান খাত যেমন সৃজনশীল অর্থনীতি, গেমিং শিল্প, যুব বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশসমূহের সংস্থা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় ফিলিপাইনের সমর্থন কামনা করেন।

বৈঠক শেষে দুই পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে ফিলিপাইনের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণভিত্তিক সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।




ঈদযাত্রায় স্বস্তি দিতে অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদে কঠোর হচ্ছে ডিএসসিসি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এ সংক্রান্ত জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসন এবং যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সমন্বিত এ সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিক কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালসহ এর আশপাশের এলাকার যানজট নিরসনে সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত সড়কের পাশের সব অবৈধ টিকিট কাউন্টার সময় নির্ধারণ করে নোটিশ দিয়ে অপসারণ করা হবে। এছাড়া টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা সব অবৈধ দোকান উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

টার্মিনালের অভ্যন্তরে প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর অনুকূলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে টিকিট কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাউন্টার বরাদ্দে কাজ করবে। টার্মিনাল ও বাস-বে ব্যবহার নিশ্চিতে বাসগুলোকে ডিপো হিসেবে টার্মিনাল ব্যবহার না করে নির্ধারিত ৫টি বাস-বে ব্যবহার করতে হবে। যাত্রী ওঠানোর জন্য বাসগুলো মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে পারবে।

এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে নতুন তথ্য কেন্দ্র এবং মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কক্ষ স্থাপন করা হবে। ঈদযাত্রা শুরুর আগে টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ, শৌচাগার মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সমাগম বাড়ার সুযোগে কোনো পরিবহন যাতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতিকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ইদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসনে সিটি করপোরেশন, পুলিশ, বাস মালিক ও শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করবো। যাত্রীদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য সমন্বিত সিদ্ধান্তসমূহ যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।




এসইএমএল লেকচার ইকুইটিকে বেমেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের অনুমোদন

এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডকে (SEML Lecture Equity Management Fund) ১০ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে ইউনিট হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে একটি বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ ভ্রমণ

বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এর সভাপতিত্বে ১০০২তম কমিশন সভা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কমিশনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বর্ণিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অদ্যকার সভায় কমিশন মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ‘এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ (SEML Lecture Equity Management Fund) এর মেয়াদ ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় ইউনিট হোল্ডারদের মতামত সহ ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি (Bangladesh General Insurance Company PLC) এর আবেদনের প্রেক্ষিতে, ‘এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ কে মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

একই সাথে কমিশন ফান্ড সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দলিলাদিও অনুমোদন প্রদান করেন। রূপান্তরিত বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ‘এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ এর প্রাথমিক আকার হবে ৫০.০০ কোটি টাকা। উক্ত ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (Strategic Equity Management Limited) এবং এর ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করছে যথাক্রমে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি এবং কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলন পিএলসি (Commercial Bank of Ceylon PLC)।




ইসলামিক ফাইন্যান্স উইন্ডো চালুর অনুমোদন পেল ইউনাইটেড ফাইন্যান্স

শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক সেবা চালু করতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাত প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড। এরইমধ্যে কোম্পানিটিকে উইন্ডো চালুর জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য ‍জানা গেছে।

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউনাইটেড ফাইন্যান্সকে ‘ইসলামিক ফাইন্যান্স উইন্ডো’ চালুর জন্য নীতিগত অনুমোদন (ইন-প্রিন্সিপ্যাল অ্যাপ্রুভাল) প্রদান করেছে।

তবে এই অনুমোদনের সঙ্গে কিছু শর্তও যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কোম্পানির মেমোরেন্ডাম এবং আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন হওয়ার পর কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

কোম্পানি জানিয়েছে, এই ইসলামিক ফাইন্যান্স উইন্ডোর মাধ্যমে তারা শরিয়াহসম্মত আর্থিক সেবা প্রদান করবে, যা তাদের বিদ্যমান প্রচলিত (কনভেনশনাল) আর্থিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচালিত হবে। এর ফলে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স ভবিষ্যতে একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক—দুই ধরনের আর্থিক সেবা দেওয়ার সুযোগ পাবে।




শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিউম্যান অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক জি সুন সং-এর সাথে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এডিবির চলমান সহযোগিতা প্রশংসার দাবিদার৷ আমরা আশা করছি ভবিষ্যতেও এসব সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে এডিবির চলমান ও সম্ভাব্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির সঙ্গে এডিবির সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এডিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচি‌র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশজুড়ে নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন করা হবে। এটি বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। একই দিনে আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ কর্মসূচি হবে চার বছর মেয়াদি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি অঙ্গীকার ঘোষণা অনুযায়ী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করব ইনশাআল্লাহ।’

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটির ওপর জোর দিয়েছেন সেটি হচ্ছে যে খাল খননে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হয়। এক্সকাভেটর বা যন্ত্রাংশের মাধ্যমে খননটা যেন কম হয়। ৫০ পার্সেন্টের ওপর, কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট যাতে সাধারণ মানুষ এবং সাধারণ শ্রমিক তারা সম্পৃক্ত হয়ে এ খালটা খনন করা হয়।’

‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে এবং হাইস্কুল এবং কলেজ লেভেলের ছাত্র-ছাত্রীদেরও যাতে এ জাতীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা যায় এ ব্যাপারে উনি (প্রধানমন্ত্রী) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিবদের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

মীর শাহে আলম বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার, আর জনবান্ধব কর্মসূচি।’

 

এর আগে খাল খননের নামে বেশ কিছু লুটপাটের চিত্র আমরা দেখেছি- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই জন্যই তো আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছি, লেবার দিয়ে কাজ করানোর কথা বলছি। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কথা বলছি এবং মাঠে নিজে স্থানীয় মন্ত্রী এবং এমপিরা থাকবেন।’




ঈদের আগে ছুটিতে দুদিন পোশাক শিল্প এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ঈদের ছুটি রয়েছে। এসময় বন্ধ থাকবে ব্যাংকও।

তবে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তা‌নি বিল বিক্র‌য়ের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় ১৮ ও ১৯ মার্চ সী‌মিত প‌রিস‌রে ব্যাংক খোলা রাখ‌তে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দুইদিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে লেনদেন চলবে নির্ধারিত সময়ে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরিপােশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপােশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে, আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে।

ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবে তাদের বিধি অনুযায়ী ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।




ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে এই নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করে প্রমাণ করেছে যে, নেতৃত্ব ঠিক থাকলে সব সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড একটি স্মার্ট কার্ড। ভবিষ্যতে জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্ডের মতো আরও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরের ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, আমাদের সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দ্বিধায় ও স্বাধীনভাবে কাজ করে হতদরিদ্রদের খুঁজে বের করেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী না করলে আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মহিলারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করলেও তাদের এই সেবার যথাযথ মূল্যায়ন আগে কখনো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের জন্য গৃহকর্তীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, যা তাদের হাতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।