যুদ্ধের প্রভাব পড়লেও দেশে তেলের সংকট নেই : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশে বর্তমানে তেলের কোনো সংকট নেই।

তিনি বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে অন্তত এক মাসের জন্য পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী চালানবাহী জাহাজও এরইমধ্যে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ফলে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা স্টেডিয়াম জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা, ইফতার ও দোয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি আসন্ন ঈদ মৌসুমে মার্কেটগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এমন কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে দায়িত্ব পালন করে কুমিল্লার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন।

কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মো. মোস্তাক মিয়া, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল খন্দকার।




ঈদের ছুটিতে কাস্টমস ও ব্যাংক খোলা রাখার দাবি পোশাক রপ্তানিকারকদের

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ দেশের সব কাস্টমস স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।

রপ্তানি বাণিজ্যের গতি সচল রাখা এবং নির্ধারিত ‘লিড টাইম’-এর মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ওই দাবি জানানো হয়েছে। দাবিতে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত খোলা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সম্প্রতি পাঠানো চিঠিতে এমন অনুরোধ করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

 

সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক চিঠিতে ওই অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাক খাত সম্পূর্ণভাবে ফ্যাশন ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি ক্রেতাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ করতে ব্যর্থ হলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে উদ্যোক্তারা যেমন বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, তেমনি দেশ হারায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রপ্তানি বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে বন্দর, কাস্টমস ও ব্যাংকের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চিঠিতে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সব সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ দেশের অন্যান্য কাস্টমস স্টেশন, ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কার্যক্রম চালু রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ছাড়া এই খাতের রপ্তানি সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট করতে না পারলে শুধু রপ্তানি আদেশই বাতিল হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ভয় থাকে। এই সংকটকালীন সময়ে এমন ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিগত বছরগুলোতেও ঈদের ছুটিতে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম চালু রেখে পোশাক রপ্তানিতে যে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবারও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বিজিএমইএ।